#স্বর্ণকোমল
#পরিণীতা_আরা_হৃৎ
#পর্ব_৫
[ অনুমতি ব্যতিত কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫 ]
🕊️
কিয়ান এসে করো সাথে কোনো বাক্য বিনিময় না করে স্বভাব সুলভ চুপচাপ খেতে লাগলো। কোমল অবশ্য কয়েকবার তাকিয়ে ছিলো ওর দিকে তবে ও একবারও তাকায়নি কোনো দিকে।খাওয়ার সময় কথা বলা একদম পছন্দ না কিয়ানের।তবে কোমল যেনো একদম বিপরীত ধর্মী ইনিয়ে বিনিয়ে কিছু না কিছু নিয়ে মুখ চালিয়েই যাচ্ছে। কিয়ান চাচ্ছে না ওইদিকে নজর দিতে কিন্তু খাওয়ার সময় এত ডিসটার্ব কি আর মেনে নেয়া যায়।তবুও মুখে কুলুব এটে বসে আছে।কোমল বার বার হাসফাস করছে কিয়ানের সাথে কথা বলার জন্য তবে এই লোক যেভাবে গম্ভীর মুখে বসে আছে মনে হচ্ছে এক্ষুনি হয়তো পারলে কাউকে কাঁচা চিবিয়ে খায়। কোমলের খাওয়াও প্রায় শেষের দিকে। রেহানা চৌধুরী, জাহরা বেগম আর রাফা বেগম রান্না ঘরে চলে গেলেন।কোমল এবার খাবার নিয়ে বসে আছে। চামচ দিয়ে প্লেটে টুংটাং আওয়াজ তুলছে কিন্তু মুখে তুলছে না। কিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে।একটু কথা বলবে বলে।ওর সব ভাইগুলো কত সুন্দর মিশুক তাহলে এই লোক এমন গোমরা মুখো কেনো ? এত কথা বললো ও সকলে হেঁসে লুটোপুটি খেলো অথচ এই লোককে দেখো। হাসতে জানে না নাকি? তাহলে তো বিরাট বড় সমস্যা। একটা কথা ভেবে কোমলের বড্ড হাসি পেলো এত বড় ছেলে এখনো বিয়ে করেনি । ঠিক বয়সে বিয়ে করলে হয়তো ওর মতো একটা মেয়ে থাকতো এতদিনে।এটা ভাবতেই একাই ফিক করে হেসে দিলো।মজার ছলে মিটি মিটি হেঁসে বললো ~
~কিয়ান ভাইয়ার তো বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেলো দাদুভাই।কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে বলো ডাক্তার দেখাতে।কত কাল আর আইবুড়ো থাকবে।বুড়ো হয়েছে এখনও বিয়ে দিলে না কেনো দাদুভাই?ঠিক বয়সে বিয়ে দিলে হয়তো আমার মতো বাবু থাকতো ভাইয়ার আর আমিও আরও আগেই ফুপি হয়ে যেতাম।
মজার ছলে বললেও শমসের চৌধুরী আর সাদমান চৌধুরীর মুখ জুড়ে অমাবস্যা নেমে এলো। সত্যি তো তারা তো এটা কখনও ভেবে দেখেনি। এসব কথা তো মুখ ফুটে বলার মত কথাও না।যে বলবে।তবে আপাদত তারা এই চিন্তা বেশিদূর এগোতে পারলো না।কেনোনা এখানে কিয়ানও উপস্থিত ।ও কেমন রিয়েক্ট করবে কোমোলের কথা শুনে সেটাই ওনাদের ভাবাচ্ছে।ওনারা এবার মাথা তুলে তাকালো কিয়ানের দিকে।
ও এই মুহূর্তে খাবার রেখে হাত মুঠো করে দাতে দাঁত চেপে বসে আছে।ওর শারীরিক সমস্যা আছে? ও বুড়ো হয়ে গেছে? এখনও কত শত মেয়ে তুরি বাজালেই হাজির হয়ে যাবে ওর সামনে।আর এই মেয়েটা ওকে ভাইয়া কেনো বললো? ভাইয়া ডাকটা কেনো জানি ওর মোটেও পছন্দ হলো না । চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। রাগে মাথার ভিতর আগুন দপ দপ করে জ্বলে উঠলো।কিছু মুহূর্ত নীরব, নিস্তব্ধ হলো।
ঝড়ের পূর্বাভাস যেনো ।যেকোনো সময় ঝড় হানা দিবে। শমসের চৌধুরী আর সাদমান চৌধুরীর ফেস দেখে আর কিয়ানের রিয়েকশন দেখে এবার কোমলের চোখ মুখেও আধার হয়ে গেলো।ও কি একটু বেশি বলে ফেললো? হ্যাঁ।ও একটু বেশিই বলে ফেলেছে সেই ধারণা বজায় রেখে কিয়ান সামনের প্লেট হাত দিয়ে ঠেলে ফেলে দিয়ে উঠে দাড়ালো ।সাথে সাথে কাঁচ ভাঙার আওয়াজে রান্নাঘর থেকে তিন গিন্নী এসে হাজির। শমসের চৌধুরী,সাদমান চৌধুরী আর কোমল ও দাড়িয়ে পরলো। না জানি এই ছেলে এবার কি করে বসে। কিয়ান কোমলের দিকে তেড়ে আসতে নিলে কোমল একলাফে গিয়ে রেহানা চৌধুরীর পিছনে লুকিয়ে দাঁড়ায়।রেহানা চৌধুরীর শাড়ির আচল খামচে ধরে চোখ খিঁচে বন্ধ করে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রয়। এখন গ্র্যান্ড মাই একমাএ ভরসা। কিয়ান সিংহের ন্যায় গর্জে উঠে ~
~হাও ডেয়ার ইউ। ননসেন্স। তোমাকে কে বলেছে আমার সমস্যা আছে।আর আমাকে দেখে তোমার বুড়ো মনে হলো কোন দিক দিয়ে।তুমি জানো এখনও কতো মেয়ে আমার পিছনে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ।
রাগে শরীর কাপছে কিয়ানের। রেহানা চৌধুরী বিচলিত কন্ঠে বললো ~
~আহহ ! শান্ত হও কিয়ান দাদুভাই।ও বাচ্চা মানুষ না বুঝে ভুল করে বলে ফেলেছে।মেয়েটা ভয় পাচ্ছে দেখো। ওর মা এসব শুনলে আবার বিয়ে শেষ হবার আগেই না চলে যায়।
রেহানা চৌধুরীর কথায় কোমল মোটেও পাত্তা দিলো না।কোমল তো মোটেও দমে যাওয়ার মেয়ে নয়।সে ও যতই ভয় পাক না কেনো। হুহ!
~কোনো সমস্যা না থাকলে তাহলে এখনও বিয়ে করছেন না কেনো। আর নাহলে হয়তো প্রেমে ছ্যাকা টেকা খেয়েছেন।আমরা..না মানে আমি নিজে গিয়ে মানবো মেয়েকে।আর আপনি তো সত্যি বুড়ো হয়ে যাচ্ছেন। তাই তো কেউ আপনাকে বিয়ে করছে না।
এবার যেনো সকলের চোয়াল ঝুলে পড়লো । আশ্চর্যের সপ্তমে পৌঁছে গেলো সকলেই। এই মেয়ের সাহস তো কম নয় । একেতো উল্টো পাল্টা কথা বলছে তাও আবার কিয়ানের সামনে।ভয়ে লুকিয়ে আছে তবুও মুখ চালানো চাই।তারা ওকে সিংহের মুখ থেকে বাঁচাতে চাইছে আর ও যেচে পরে সিংহের গুহায় ঢুকছে। সকলেই ভয়ে ভয়ে চাইলো কিয়ানের পানে।ওর চোখ দিয়ে যেনো আগুন ঝরছে।চোখের শিরা লাল হয়ে উঠেছে ইতিমধ্যে।রাগে থরথর করে কাপছে। চোখ বন্ধ করে দুই হাত মুষ্ঠিবদ্ধ করে মাথা নিচু করে ফোস ফোস করে শ্বাস ফেলে নিজেকে কন্ট্রোলে করার চেষ্টা চালালো।মাথা উঁচিয়ে কোমোলের দিকে আঙুল তাক করে চ্যালেঞ্জ ছুড়লো ~
~তিয়ানের বিয়ের আগে যদি আমি এই বাড়িতে আমার বউ না তুলেছি তবে আমার নামও কিয়ান নয়। আন্ডারস্ট্যান্ড?
বলেই আর এক মুহুর্ত অপেক্ষা না করে হন হন করে চলে গেলো নিজের রুমে।উপস্থিত সকলেই অবাক,স্তব্ধ। কিয়ান যা বলে সেটা করেই ছাড়ে। তাহলে এবার সত্যি সত্যি ও বিয়ে করবে? অবিশ্বাস্যকর ! একটা বাচ্চা মেয়ের বাচ্চামির পাল্লায় পড়ে কিনা শেষ পর্যন্ত বিয়ে করার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে গেলো ছেলেটা ।ও তো এমনেই মজার চলে বলেছিলো।এতক্ষণের ভয় সকলের মধ্যে থেকে পালালো যেনো ।সকলের চোখ চিক চিক করে উঠলো। চেহারায় ফুটে উঠলো ঝলমলে ভাব।এবার রেহানা চৌধুরীর পিছনে থাকা কোমল হু হা করে হেসে নিজের চেয়ারে বসে পড়লো।ওর হাসির কারণ কেউই বুঝতে না পেরে নিজেদের মধ্যে অবুঝ দৃষ্টি আদানপ্রদান করলো। রেহানা চৌধুরী কোমোলের মাথায় একটা গাট্টা মেরে বলেন ~
~হ্যাঁরে পাজি মেয়ে ওকে এভাবে চেতালি কেনো? যদি বড় কিছু করে বসতো তখন।
কোমল এখনও হেঁসে যাচ্ছে। পেটে হাত দিয়ে হাসতে হাসতে বললো ~
~কিছু করেনি তো।দেখলে কেমন কৌশলে তোমার নাতি টাকে বিয়ের জন্য মানিয়ে নিলাম।এবার দেখবে জেদ ধরে ঠিকই তিয়ান ভাইয়ার আগেই বউ নিয়ে হাজির হবে।তোমরা রেডি হয়ে থেকো।নতুন বউ বরণ করার জন্য।
ওর কথার আগা মাথা কিছুই বুঝতে পারলো না কেউ।কিসের কৌশলের কথা বলছে মেয়েটা। শমসের চৌধুরী অবুঝের মতো বলেন ~
~মানে ? তুমি কি বলছো দাদুভাই একটু বুঝিয়ে বলতো আমাদের।
কোমল এবার বিজ্ঞদের মত কথা বুঝিয়ে বলতে লাগলো।
~দেখো দাদুভাই বড় ভাইয়ের আগে ছোট ভাই বিয়ে করলে কেমন দেখায় বলতো। লোকে যখন আমাকে বলবে কিরে তোর বড় ভাইয়ের কি কোনো সমস্যা আছে নাকি, বুড়ো হলো এখনও বিয়ে দিলি না কেনো ? তারা তো আর ঘরের কথা জানবে না। তোমার কি কেউ কখনও কিয়ান ভাইয়াকে বুড়ো কিংবা কোনো সেক্স্যুয়াল প্রবলেম আছে কিনা বলেছো, বলোনিতো।একটা মেয়ে এইসব বললে একটা ছেলের প্রেস্টিজে গিয়ে খুব ভালো মতো লাগে বুঝলে।এই দেখো না এই যে এইসব বললাম বলেই তো এখন তোমার নাতি চ্যালেঞ্জ দিয়ে গেলো তিয়ান ভাইয়ার আগে বিয়ে করবে।এবং করবেই আমার কথা মিলিয়ে নিয়ো।
এবার এক মুহুর্ত নিস্তব্ধতা ঘিরে ধরলো চারিপাশ অতপর সকলে একসাথে হো হো করে হেঁসে ফেললো । সাদমান চৌধুরী অতি গর্বের সহিত বললো~
~আমার মেয়ের মাথায় তো বুদ্ধি আছে বলতে হবে।যেটা আমরা কেউ এত দিনে করতে পারলাম না সেটা তুমি মাত্র একদিনেই করে ফেললে । আই এম প্রাউড অফ ইউ মাই লিটেল প্রিন্সেস ।
#চলবে
(রেসপন্স করিও কিন্তু।)
Inspired by > বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের কাল্পনিক - অকাল্পনিক সকল কিছু।
Happy reading 🫰