ফন্ট সাইজ:
থিম:
স্বর্ণকোমল

১৬তম পর্ব

লেখক: পরিণীতা আরা হৃৎ

#স্বর্ণকোমল

#পরিণীতা_আরা_হৃৎ

#পর্ব_১৬

[ অনুমতি ব্যতিত কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫 ]

🕊️

অন্ধকার একটা জায়গা। আলোর ছিটেফোটাও নেই কোথাও। তূর্য সেই আঁধারের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে। আর ওর চারপাশ থেকে নবজাতক শিশুর কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে। আবার কোনো শিশু চিৎকার করে কান্না করছে আর বলছে,

“বাবা! বাঁচাও আমাকে। ওরা যে আমাকে মেরে ফেলবে।”

তূর্য কানে হাত দিয়ে চিৎকার করে উঠলো,

“থামো। আমি কারো বাবা নই। বন্ধ করো এই আওয়াজ। শুনছো তুমি? এই আওয়াজ বন্ধ করো।”

তবুও বন্ধ হওয়ার নাম নিলো না এই কান্না, হাহাকার। উল্টে বেড়ে চলেছে ডাকার মাত্রা।

“ বাবা! বাবা! বাবা! আমাকে বাঁচাও। ওরা মাম্মাকে কষ্ট দিচ্ছে। আমাকে মেরে ফেলতে চাইছে। তুমি কোথায় বাবা? আমাকে বাঁচাও বাবা। বাঁচাও বাবা! বাবাআআআআআ!”

ধড়ফড়িয়ে ঘুম থেকে উঠে বসলো তূর্য। কিছুক্ষণ আগেই হোটেল রুমে এসে শুয়েছে ও। এখনোও দুই তিনদিন সিঙ্গাপুর থাকতে হবে। তবে এই স্বপ্নের কোনো মনে খুঁজে পায় না ও। কিছুদিন ধরে এই একই স্বপ্ন প্রতিদিন দেখছে ও। কার বাচ্চা? কার মাম্মাম? ও তো এখনো বিয়েই….

বিয়ের কথা মাথায় আসতেই মনে পড়লো বিয়ে তো ও করেছিলো। একটা নিষ্পাপ মেয়ের জীবন নষ্ট করে দিয়েছে ও নিজেই। বুকের ভিতর চিন চিন ব্যথা অনুভব করতে লাগলো ওর। এক হাতে বুকের বা পাশ চেপে ধরলো। ঘন ঘন শ্বাস ফেলতে লাগলো। মাথার চুল খামচে ধরে চুল টানতে লাগলো। কোনো কিছুতেই এই অস্থিরতার মানে বের করতে পারছে না ছেলেটা।

এলিজার সাথে সিঙ্গাপুরের একটা শহরে বর্তমানে রয়েছে তূর্য। বেশ কিছুদিন ধরে বেশ নার্ভাসনেস কাজ করছে ওর মাঝে। রাইসার জন্য চিন্তা হয় ইদানিং ওর। মেয়েটা কেমন আছে এখন? ভালো তো রাইসাকে ও বেসেছিলো তবে কোমলের জন্য তখন কিছুই করতে পারেনি। মেয়েটিকে যে ও কোথা দিয়ে ছিলো সব পরিস্থিতিতে ওর পাশে থাকবে । সব কিছুতে ওকে সাহায্য করবে। সেই জন্যই রাইসাকে ও ওভাবে ফেলে এসেছিলো। এখন আবার এই অদ্ভুত স্বপ্ন ওকে জ্বালিয়ে খাচ্ছে। মেয়েটার কোনো বড় বিপদ হলো না তো? নাহ! এই যন্ত্রণা আর নেয়া যাচ্ছে না। সিঙ্গাপুর থেকে ফিরেই মেয়েটার খোজ নিতে হবে একবার।

_

খারাপ সত্ত্বার অধিকারী, অস্বাভাবিক একটা মেয়ে যদি কারো অধিক ভালোবাসার কবলে পরে নিজেও তার মায়ায় পরে তাকে ভালোবাসতে শুরু করে তাহলে কি খুব বেশি পাপ হবে?

কোমলের এই সুর চেনা ঠেকছে। অনেক নিজের কেউ হয়তো গাইছে এই গান। যাকে সে ভালোবাসেনা তবে কেনো জানি তাকে নিয়ে ভাবে ইদানিং। আবার হুট করেই সেই একটু খানি ভালোবাসা ঘৃণায় বিদ্বেষে পরিনত হয়।

ভিড় ঠেলে একদম সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে কোমল। গান ততক্ষণে থেমে গিয়েছে। কিয়ান গিটার নিয়ে বসে আছে একটা চেয়ারে। ও সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই উপস্থিত সকলে পিছিয়ে যেতে শুরু করলো। কোমল আর কিয়ান হয়ে গেলো উপস্থিত সকলের মধ্যবিন্দু। কিয়ান চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়ালো। এক পা এক পা করে পিছনে যেতে লাগলো। ওর থেকে দশ পনেরো হাত দূরত্বে গিয়ে থেমে গেলো। গিটার নামিয়ে রাখলো এক পাশে। তারপর হুট করে ঝড়ের গতিতে দৌড়ে এগিয়ে গেলো কোমলের দিকে। কোমল কিছু বুঝে ওঠার আগেই কিয়ান ওকে নিজের বুকে জড়িয়ে নিয়ে ঘুরানি দিলো। উপস্থিত সকল স্টুডেন্ট হই হই করে উঠলো।

কোমল এর হাত কিয়ানের গলা জড়িয়ে গেলো নিজে নিজেই। পা হাওয়ায় ভাসতে লাগলো কোমলের। চার পাঁচটা ঘুরানি দিয়ে আস্তে করে থামলো কিয়ান। তবে কোমল কে ছাড়লো না। কোমল ও যেনো স্তব্ধ হয়ে রইলো কিয়ান ের এহেন কাণ্ডে। নড়াচড়া করতে ভুলে গেলো যেনো মেয়েটি।

কিয়ান কোমল এর কপালে নিজের কপাল ঠেকিয়ে দুই হাতের আজলায় কোমল এর ছোট্ট মুখ খানি তুলে নিলো। দুজনের নিশ্বাস যেনো মিশে যেতে লাগলো একে অপরের সাথে। কো অস্থির শ্বাস প্রশ্বাস টের পেলো কিয়ান। হার্ট যেনো ফেটে বেরিয়ে আসবে বুক চিড়ে। তবুও মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই কোমলের। কিয়ান নিরুদ্বেগ স্বরে বললো,

“তুমিও আমাকে ভালোবাসো স্বর্ণ।”

“না।”

“তোমার হার্টবিট ফাস্ট হচ্ছে।”

“.........”

“তোমার এই অস্থির শ্বাস প্রশ্বাসই বলে দিচ্ছে আমার এভাবে তোমার কাছে আসা তোমার উপর প্রভাব ফেলেছে। তোমার হার্ট আমার স্পর্শে ফাস্ট হচ্ছে। তবুও বলবে তুমি আমাকে ভালোবাসো না?”

“..........”

এবারও কোনো কথা বললো না কোমল। কেমন যেনো ঘোরে আটকে গিয়েছে মেয়েটি। কোমলের ওই অনুভুতি শূন্য বেগুনী রঙের চোখের মনিতে তাকিয়ে এক মুহূর্তের জন্য হুশ হারালো যেনো কিয়ান। আলগোছে আঁকড়ে ধরলো কোমলের নরম গোলাপি ওষ্ঠদয়। মুহুর্তেই কোমলের ছটফটানি শুরু হয়ে গেলো। ছাড়া পেতে চাইলো কিয়ানের থেকে। কিয়ান একহাতে কোমল এর দুই হাত আঁকড়ে ধরলো। অন্যহাতে কোমল এর কোমর পেঁচিয়ে ধরলো যেনো ছটফট করতে না পারে। সকল স্টুডেন্টরা হইচই শুরু করে দিলো। অনেকে চিয়ার আপ করতে লাগলো।

আসলে বিদেশের মাটিতে এসব কোনো ব্যাপার না। এইসব তাদের কাছে ডাল ভাত।

এবার আর কোনো বাধা দিতে পারলো না কোমল। সম্পূর্ণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। বেশ কিছুক্ষণ পর কিয়ান ছেড়ে দিলো কোমলের ঠোঁট জোড়া। ফিসফিস করে বললো,

“আমাকে ধোঁকা দিয়ে বেঁচে যাবে ভেবেছো? এর শাস্তিস্বরুপ তোমাকে সারাজীবন আমার হয়ে থাকতে হবে। তুমি চাইলেও আর না চাইলেও। মৃত্যু ছাড়া আমার থেকে তোমার মুক্তি নেই। আমার পরিবার ধ্বংস করে পালিয়ে যাবে? তোমার মাধ্যমেই আমি আমাদের নতুন পরিবার গড়ে তুলবো।”

একটু ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো কিয়ান। দুষ্টু হেসে বললো,

“বাসর টাও তো করতে হবে বলো? নাহলে নতুন পরিবার গড়বো কিভাবে? তুমি তো আমার পুরো পরিবার টাকেই ধ্বংস করে দিয়েছো।”

“ পরিবারের ধ্বংসকারীকে ভালোবাসেন?”

কিয়ান উপর নিচ মাথা দোলালো নির্বিকার ভঙ্গিতে।

“ভাইয়ের খুনিকে ভালোবাসেন?”

এবারও কিয়ান উপর নিচ মাথা দোলালো।

“যে আপনাকে মারতে চেয়েছে তাঁকে ভালোবাসেন?”

তৃতীয় বারের ন্যায় এবারও কিয়ান কোমলের কথায় মাথা দোলালো।

কোমল অসহায় বোধ করলো যেনো এবার। এই ছেলেকে যাই বলে তাতেই মাথা দোলায়।

“তো কি বলো জান? ফ্যামেলি গড়ার প্রসেসিংটা শুরু করি তাহলে? তো বাসর কোথায় করতে চাও তুমি? আই মিন তোমার কোনো প্ল্যানিং আছে হানিমুন নিয়ে?”

কোমল কটমটিয়ে তাকালো কিয়ানের দিকে। চোখ দিয়েই যেনো ভস্ম করে দিবে ও কিয়ান কে।

“অসভ্য লোক। বাসর আপনি স্বপ্নেই করুন।”

“তা তো রোজই করি জান।”

“অসভ্য লোক। ছাড়ুন আমাকে। এভাবে সাপের মতো পেঁচিয়ে ধরে রেখেছেন কেনো আমাকে?”

কিয়ান কোনো উত্তর দিলো না। ও তো কোমলের ঠোঁট এর দিকে তাঁকিয়ে রয়েছে। যা কথা বলার কারণে নড়ে চলছে অনবরত। এক পর্যায়ে দ্বিতীয় বারের মতো কিয়ান ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো কোমলের ঠোঁটে। শুষে নিতে চাইলো যেনো সকল মিষ্টতা। কোমল এবার আর সহ্য করতে পারলো না কিয়ানের এই অত্যাচার। মিনিট দুয়েকের মধ্যেই জ্ঞান হারিয়ে ঢোলে পড়লো কিয়ানের বক্ষেই। কোমলের ঠোঁট জোড়া ছেড়ে দিলো কিয়ান। কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো কোমলের এই স্নিগ্ধ মুখশ্রীর দিকে। কতদিন ধরে দেখেনা ওকে? ওর কাছে তো বহু বছর লেগেছে এই কয়দিন। ওর পুরো মুখে একবার চোখ বুলিয়ে ওকে দু হাতে আগলে নিলো । পাঁজা কোলে তুলে নিয়ে হাঁটা ধরলো গাড়ির দিকে। একবার ঘাড় কাত করে পিছনে তাঁকিয়ে স্যালুট ঠুকলো সকলকে। সকলে হাত নাড়িয়ে বায় বললো।

#চলবে

[ #প্রণয়কাহনের_প্রিয়বতী দ্বিতীয় পর্ব আসবে এই সপ্তাহে ইনশাআল্লাহ্। আসলে মুই জনমের আইলসা বোজ্জেন। এই কারণে লিখবো লিখবো করেও আর লেখা হয়ে উঠে না। সকলের থেকে ভালো রেসপন্স আশা করছি। ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন