ফন্ট সাইজ:
থিম:
স্বর্ণকোমল

১৭তম পর্ব

লেখক: পরিণীতা আরা হৃৎ

#স্বর্ণকোমল

#পরিণীতা_আরা_হৃৎ

#পর্ব_১৭

[ অনুমতি ব্যতিত কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫 ]

🕊️

নিজের এপার্টমেন্টে কোমলকে নিয়ে এসেছে কিয়ান। নিজের ঘরে এনে বিছানায় ওকে শুইয়ে দিয়ে দুই হাত একসাথে করে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে নিলো আগে হাতে। কোমল এর গায়ের ড্রেস খুলে নিজের পরনের শার্ট পরিয়ে দিলো ওকে। নিজে ওর সাথে শুয়ে পড়লো বিছানায়। এক হাতে ওকে নিজের উন্মুক্ত বুকে জড়িয়ে নিয়ে অন্য হাতে একতা সেলফি তুললো নিজেদের অতপর সেটা সেন্ড করে দিলো এলিজার হোয়াটস অ্যাপ নাম্বারে। ম্যাসেজ সেন্ড হতেই ফোন বন্ধ করে রাখলো। শয়তানি হাসি দিয়ে বিড়বিড় করলো,

“এবার দাজ্জাল শাশুড়ি বুঝবে কত ধানে কত চাল।”

একটা নরম চুমু খেলো কোমলের কপালে। এবার একটা ঘুম দেয়া দরকার। কতদিন ধরে ঠিক মতো ঘুমানো হয় না। তাই শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো কোমলকে। ওর গলায় মুখ গুঁজে লম্বা শ্বাস নিয়ে পাড়ি জমালো ঘুমের দেশে।

_

অন্যদিকে,

এলিজা সিঙ্গাপুরে একটা ক্লাইন্ডের সাথে মিটিংয়ে ব্যাস্ত। তার ফোন রয়েছে তূর্যের কাছে। তূর্য বাহিরে গিয়েছিলো একটা জরুরী কাজে। তখনই এলিজার ফোনে একটা নোটিফিকেশন এলো। ফোনে লক থাকায় ও শুধু উপর দিয়েই দেখলো একটা ফটো এসেছে আননোন নাম্বার থেকে।

ভাবলো হয়তো কোনো ইম্পর্ট্যান্ট কিছু হবে। কেনোনা এলিজাকে দরকার ছাড়া কেউ মেসেজ দিবে বলে তো মনে হয় না। তখনই ওর ফোনে কোমল এর ড্রাইভার এর নাম্বার থেকে কল এলো। ও কল রিসিভ করে কানে ধরলো। কিছু বলবে তখনই অপর পাশ থেকে ভেসে এলো মিসিরের উতলা কন্ঠস্বর,

“সাহেব! কোমল ম্যাডামকে একটা ছেলে এসে তুলে নিয়ে গেছে। অসভ্যতামি ও করছিলো ম্যাডামের সাথে।”

তূর্যের ভ্রু কুঁচকে এলো সামান্য।

“তুমি কোথায় ছিলে তখন?”

“আমি তো গিয়েছিলাম ওনাকে আটকাতে। উল্টে আমাকে শাসিয়ে বললো, ‘ আমার বউকে আমি নিয়ে যাচ্ছি। বলে দিও তোমার বড় ম্যামকে।”

“ছেলেটাকে চেনো তুমি?”

“না। তবে ছেলেটাকে দেখে বাংলাদেশি মনে হলো।”

তূর্য একটু ভাবলো। অতপর বললো,

“হ্যাঁ ওটা তোমার ম্যামের হাজবেন্ড। এখন রাখো। আমি মিটিংয়ে রয়েছি।”

অতপর একটা মিচকে হাসি দিয়ে বললো,

“এই সুবাদে যদি আমার টাও ঠিক করে নিতে পারি তাহলেই হয়। আল্লাহ তুমি দেখো। আমিন।”

নিজেই দোয়া পরে নিজেও আমিন পড়লো।

মিটিং রুমে ঢুকে এলিজাকে তার ফোন দিয়ে বললো,

“ম্যাম, আপনার হয়তো ইম্পর্ট্যান্ট কোনো ম্যাসেজ এসেছে।”

এলিজা তূর্যের কথায় ভ্রু কুঁচকে নেয়। এই সময়ে তাকে আবার কে ইম্পর্ট্যান্ট ম্যাসেজ দিবে?

লক খুলে ফোন চেক করে আননোন নাম্বার থেকে আসা ছবিটি দেখে এলিজার চোখ ছানাবড়া হওয়ার উপায়। রাগে চোয়াল কটমট করে উঠলো এলিজার। রাগে চিৎকার করে উঠে নিয়েও চিৎকার করলো না। এখন তো সেই পরিস্থিতিতে নেই তিনি। তাই মিটিংয়ে উপস্থিত সকলকে বললো,

“এক্সকিউজ মি? একচুয়ালি আমার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাই আমাকে এক্ষুনি জার্মানী ফেরত যেতে হবে । প্লিজ ডোন্ট মাইন্ড।”

“ওহহ সিউর।। আজ নিজের চাইল্ড এর কাছে থাকাটা আপনার জন্য বেশি ইম্পর্ট্যান্ট। আপনি এখন আসতে পারেন।”

ওনাদের ধন্যবাদ বলে সেখান থেকে বেরিয়ে গেলো এলিজা। কনফারেন্স রুমের দরজা ঠেলে বেরিয়ে আসতেই পিছন থেকে উনাকে ডেকে উঠলো তূর্য।

“কি হয়েছে ম্যাম? এনিথিং রং?”

“নোপ।”

“আমার একটা কথা বলার ছিলো।”

“বলে ফেলো।”

“আমার কিছুদিন ছুটির প্রয়োজন।”

পা থেমে গেলো এলিজার। ভ্রু কুঁচকে তাকালো তুর্যের পানে।

“তোমার আবার কিসের জন্য ছুটি দরকার?”

“আমাকে একটু বিডিতে যেতে হবে।”

কুঁচকানো ভ্রু আরো খানিকটা কুচকে গেলো এলিজার।

“কেনো?”

“একটু দরকার ছিলো। ইমার্জেন্সী।”

হাটা শুরু করলো এলিজা। পিছনে না তাকিয়েই বললো,

“এক সপ্তাহের মধ্যে ফেরত আসবে।”

“ওকে ম্যাম।”

_

ওয়াশরুমের বেসিনে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাইসা। মাত্রই বমি হলো ওর। গত এক সপ্তাহ যাবৎ শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। কাউকে কিছু বলতেও পারছে। এই কথা যদি কেউ জানে তাহলে ওকে জানে মেরে ফেলতে দুইবার ভাববে না। তার উপর যদি ওর মার কানে যায় এই খবর তাহলে তো আজকে ও শেষ। পাশেই পরে রয়েছে প্রেগন্যান্সি কিট। যাতে পজিটিভ মার্ক উঠে রয়েছে। মানে ও মা হতে চলেছে। ওর কাছে এটা অস্বাভাবিক হলেও বাহিরের মানুষ এটা খারাপ ভাবে নেবে। কেউ তো আর জানে ও বিবাহিত।

চোখ মুখে একটু পানি ছিটিয়ে ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে আসলো ওয়াশরুম থেকে। তবে বাহিরে যে স্বয়ং ওর মা দাড়িয়ে রয়েছে সেটা ও অবগত নয়।

শরীর দূর্বল থাকার কারণে হাঁটতে বেশ বেগ পোহাতে হলো ওকে। তাও কোনো রকমে হেঁটে বাহিরে এসেই মায়ের মুখোমুখি হলো। মাকে দরজার বাহিরে দাড়িয়ে থাকতে দেখেই নিজের বাম হাত খানা নিজের পিছনে লুকিয়ে ফেললো রাইসা।

রাইসার মা রাফা বেগম ভ্রু কুঁচকে তাকালেন মেয়ের দিকে। ওনার চোখে স্পষ্ট দৃষ্টিগোচর হয়েছে মেয়ে তার নিজের পিছনে কিছু লুকিয়েছে। এমনিতেই কিছুদিন ধরে নিজের অবিবাহিত মেয়ের এই আজব কান্ডকারখানা তাকে বিস্মিত করছে। আবার আজকে কিছু লোকাতে চাইছে। এতদিন যেই সন্দেহ ছিলো সেই সন্দেহের পারদ এবার যেনো আরো হুর হুর করে বেড়ে গেলো। মেজাজটা খারাপ হলো ওনার। তাই তিরিক্ষি মেজাজ ধরে রেখে মেয়েকে ধমকে উঠলেন রাফা বেগম।

“কি হয়েছে তোর?”

মায়ের এমন বাজখাই কন্ঠে কেঁপে উঠলো রাইসা। নিজের পিছনে লুকানো হাতের মুষ্ঠি আর জোরালো, শক্ত হলো। অন্য হাতে পেঁচিয়ে রাখা জামার অংশ আরো জোরে চেপে ধরলো। আমতা আমতা করে বললো,

“ক..কই..নাতো..কি হবে?”

“তাহলে এমন দুর্বল লাগছে কেনো তোকে?”

“আসলে কিছুদিন ধরে পড়াশোনার অনেক চাপ যাচ্ছে তাই আর কি…”

ওকে থামিয়ে দিলো রাফা বেগম।

“এগুলো তো একটা অবিবাহিত মেয়ের জন্য ভালো লক্ষণ নয় রাইসা। সত্যি করে বল তোর কি হয়েছে?”

“সত্যি বলছি মা। আমার কিছুই হয়নি। জাস্ট এমনি আর কি…”

“কি লুকাচ্ছিস তুই তোর পিছনে? দেখি হাত বের কর।”

মায়ের কথায় রাইসার মুখের আলো ফুস করে নিভে গেলো। এখন আর নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে পারছে না। ভয়ে হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে ওর। কি বলবে এবার ও মাকে?

“ক…কই? কিছু নাতো।”

“কিছু না তাহলে হাত এভাবে পিছনে লুকিয়ে রেখেছিস কেনো? তুই বের করবি নাকি আমি জোর করবো?”

“মা…”

রাফা বেগম এক ঝটকায় টেনে ধরলো রাইসার হাত। ওর আর কোনো কথাই শুনলেন না তিনি। রাইসার সাথে এক প্রকার জোরাজুরি করে ওর হাত থেকে প্রেগন্যান্সি কিট টা নিলেন তিনি। কিটে পজিটিভ মার্ক দেখে সপাটে এক চর মেরে দিলেন মেয়ের গালে। চুলের মুঠি ধরে জিজ্ঞাসা করলেন,

“কার পাপ পেটে নিয়ে ঘুরছিস? সত্যি করে বল এই বাচ্চা কার? বল?”

চোখ থেকে অনবরত পানি ঝরতে লাগলো মেয়েটার। এখন কি বলবে ও। না ওর কোনো সাক্ষী আছে আর নাতো কোনো প্রমাণ। কি বলবে এবার মাকে? কিভাবে বলবে এটা পাপ নয়। ওর বাবুনীর বাবা আছে। রাফা বেগম চুলের মুঠি এমন ভাবে ধরে রেখেছে যে ব্যথায় কাকিয়ে উঠছে রাইসা। তবুও মুখ ফুটে কিছু বলছে না। মেয়ের এহেন নির্জীবতায় মেয়েকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিলো রাফা বেগম ফ্লোরে লুটিয়ে পড়লো রাইসা।

“খুব শীঘ্রই এই বাচ্চাটাকে এবয়েশন করে মেরে ফেলতে হবে। এই পাপকে কিছুতেই দুনিয়ায় আনা যাবে না।”

মায়ের এমন নিষ্ঠুর কথায় হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো রাইসা। মায়ের পা জড়িয়ে ধরে মিনতি স্বরে বললো,

“না মা! ওর বাবা আছে। এই বাবুনীকে প্লীজ কিছু করো না। এটা পাপ নয়। এটা আমাদের ভালোবাসার চিহ্ন। ও আমার বাচ্চা মা। প্লীজ এই নিষ্পাপ প্রানটাকে মেরে ফেলো না। আমি এবয়েশন করবো না মা।”

মেয়ের পা এক ঝটকায় ছাড়িয়ে নিলেন রফ বেগম। বললেন,

“ছাড় বলছি। আমি যখন বলেছি এই বাচ্চ থাকবে। মানে থাকবে না। আর আজকে থেকে তোর এই ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ। ততক্ষণে আমি কিছু করছি।”

রাফা বেগম বাহির থেকে দরজা আটকে দিয়ে হনহনিয়ে চলে গেলো কোথাও। রাগে গজগজ করছে তার চোয়াল। আর রাইসা বন্ধ দরজায় অনবরত ধাক্কা দিচ্ছে আর কান্না করে চলেছে। এটা ওর প্রথম বাচ্চা। মা হয়ে কিভাবে নিজের বাচ্চাটাকে মেরে ফেলবে ও ?

#চলবে

[ রেসপন্স অনেক কমে গেছে আগের তুলনায়। 😞 ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন