ফন্ট সাইজ:
থিম:
স্বর্ণকোমল

৩৩তম পর্ব

লেখক: পরিণীতা আরা হৃৎ

#স্বর্ণকোমল

#পরিণীতা_আরা_হৃৎ

#পর্ব_৩৩

[ অনুমতি ব্যতিত কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫 ]

🕊️

[ গল্প পড়ার শেষে নিচের নোটবার্তা টুকু পড়ার অনুরোধ রইলো। ]

বিকেল প্রায় সময়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলো বলে। তবে আবহাওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন এখন ঋতু অনুযায়ী। শীতকালে বৃষ্টিটা খুব কমই দেখা যায়।

কোমলকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কোর্টে। ওর সাথে পেছনে তিন জন কনস্টেবল। সামনে ড্রাইভারের পাশে একজন পুলিশ কর্মকর্তা বসে।

এখন ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে বাহিরে। রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে আছে। যার দরুন খুব একটা জোর স্পিডে গাড়ি চালানো সম্ভব না। গাছ হতে টুপটাপ করে বৃষ্টির ফোঁটা ঝরে পড়ছে রাস্তায়। গাছে বাসা বাঁধা পাখিরাও নিজেদের ঘিরে ঘাপটি মারে বসে রয়েছে। ঠাণ্ডা তাদেরও কাবু করে নিয়েছে।

গাড়ি যেই রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সেই রাস্তায় প্রায় পুরোপুরি অন্ধকার। মেঘে ঢেকে রয়েছে আকাশ। আবছা কুয়াশার মাঝে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি। খুব মন্দ নয় ওয়েদারটা। ভালোই লাগছে কিরণের। যদিও ঠান্ডাটা একটু বেশি লাগছে তবুও মন্দ না।

ড্রাইভার খানিক রাস্তা গাড়ি চালিয়ে এসে রাস্তায় মনোযোগী হয়ে পাশে বসা পুলিশ কর্মকর্তাকে বলল,

“স্যার বাহিরের আবহাওয়া কিন্তু অনেক ঠান্ডা বলেন? চলুন এক কাপ চা খাওয়া যাক।”

পুলিশটি এক পলক পিছনে তাঁকিয়ে আবার ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে বলল,

“এই নির্জন রাস্তায় তুমি চায়ের স্টল কোথায় পাবে?”

“দেখি স্যার। সামনে পেয়ে গেলেও পেতে পারি।”

আরও কিছুক্ষন পর দেখা মিললো একটা টং দোকান। দোকানে তেমন কেউ নেই শুধু এক ভদ্রলোককে দেখা গেলো দোকানে দাড়ানো। বাইক রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা। বোধহয় বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতেই এই ছোটো চায়ের টং দোকানে আশ্রয় নিয়েছে।

কনস্টেবল গাড়ির ডেস্ক বক্স থেকে একটা ছাতা বের করে গাড়ি থেকে নেমে ছাতাটা মাথায় দিয়ে এগিয়ে গেলো টং দোকানের দিকে। ছাতা মাথা থেকে নামিয়ে দোকানিকে বলল,

“ভাই পাঁচটা চা দাও তো।”

“জি ভাই।”

দোকানী চা বানাতে বানাতে কনস্টেবল দোকানে দাড়ানো লোকটিকে একবার পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখলো। কালো সু, কালো প্যান্ট, কালো ইন করা শার্ট পরনে লোকটির। সাথে মাথায় আবার একটা কালো হেলমেট জড়ানো। শুধু মাত্র চোখজোড়া দৃশ্যমান। লোকটিও তাঁকালো একবার কনস্টেবলটির দিকে। একবার তাকিয়েই চোখ ঘুরিয়ে রাখলো রাস্তার অপর পাশে দাঁড় করানো জিপ গাড়িটির দিকে। কিছুক্ষন তাকিয়েই রইলো। দৃষ্টির কোনো নড়চড় নেই দেখে কনস্টেবল লোকটি ভরকে গেলো। এমন দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে রয়েছে যেনো কোনো শিকারী জন্তু তার শিকারীকে চোখ দিয়েই নিজের ফাদের ফেলছে।

এভাবে তাকিয়ে থাকার কি আছে?

দ্রুত একটা ট্রেতে করে চা নিয়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে গেলো। প্রথমে পিছনে বসা তিন প্রহরীকে দিলো। তারপর সামনে বসা স্যারকে একটা দিয়ে নিজেরটা রাখলো সিটের উপর। আবার উল্টো ঘুরে দোকানিকে ট্রে ফেরত দিয়ে বিল পরিশোধ করলো।

গাড়িতে বসে পুলিশ কর্মকর্তা দেখলো কনস্টেবলটি সেই বাইকের স্যুট পরিহিত লোকের সাথে কিছু কথা বলছে।

কনস্টেবলটি বিল পরিশোধ করে এগিয়ে এলো জীপের কাছে। ছায়া বুঁজে জীপে বসে গ ঝিরি নিলো। পুলিশ কর্মকর্তা কিছুক্ষন কনস্টেবলটির দিকে তাকিয়ে থেকে চায়ের প্লাস্টিকের ওয়ান টাইম কাপে চুমুক দিলো। চায়ের স্বাদ দারুন লাগলো তার কাছে। তিনি কনস্টেবলকে জিজ্ঞেস করলো,

“ভদ্রলোকটি কি বলল?”

“এই তো কয়েদীর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলো। যে কয়েদী কি করেছে এইসব আর কি।”

“ওহহ!”

সকলে মিলে চা খাওয়া শেষ করলো। চা খেয়ে ফুরফুরে শরীর নিয়ে ড্রাইভার গাড়ি চালানো শুরু করলো। তবে কিছুদূর গিয়েই রাস্তায় বাঁধলো আরেক বিপত্তি। ঝড় ঝাপটা ছাড়াই রাস্তার উপরে একটা বিশাল বড় কড়ই গাছ পরে রয়েছে। সামান্য এই ঝড়েও ও গাছ ভেঙে পড়বে এটা অবিশ্বাস্বকর। ড্রাইভার পুলিশ কর্মকর্তার দিকে তাকিয়ে দেখলো তিনি গাড়ির সিটে হেলান দিয়ে চোঁখ বুঁজে শুয়ে আছে। তিনি হাত দিয়ে হালকা ধাক্কা দিয়ে ডাকলো তাকে,

“স্যার একটা ঝামেলা হয়ে গেছে। দেখুন রাস্তায় গাছ ভেঙে পড়ে রয়েছে।”

তবে পুলিশ কর্মকর্তা কোনো রেসপন্স করলো না কনস্টেবলটির ডাকা ডাকিতে। এবার কনস্টেবলটি খানিক জোরে ধাক্কা দিলো পুলিশ কর্মকর্তাকে। আর তাতেই এক পাশে হেলে পরে গেলেন তিনি। তা দেখে কনস্টেবলের মুখে তির্যক শয়তানি হাসি ফুটে উঠলো।

কনস্টেবল পিছনে তাকিয়ে দেখলো কোমলের সাথে থাকা কনস্টেবল গুলো ঘুমিয়ে ঢলে পড়েছে। কিরণ নিজেও তার দিকে তাকিয়ে একটা ক্রিপি স্মাইল দিলো।

দুজনেই নেমে দাঁড়ালো জ্বীপ থেকে। তখনই একতা বাইক উড়ে এসে দাঁড়ালো ওদের কাছে। এটা সেই বাইক জেতা টং দোকানের সামনে দার করানো ছিলো আর বাইক আরোহী সেই ব্যক্তি যে কিনা দোকানের ভিতরে দাড়ানো ছিলো। লোকটি নিজেও বাইক থামিয়ে দাঁড়ালো।

কোমল ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলো আগন্তুক ব্যক্তিকে। কিয়ান আলতো হেসে কোমলের ডাকে সাড়া দিয়ে নিজেও জড়িয়ে ধরলো। কনস্টেবলটি বিব্রত বোধ করে বলল,

“স্যার এবার আমাকে বিদায় দিন।”

কিয়ান আর কোমল দুজন দুজনকে ছেড়ে দাড়ালো। কিয়ান বাইকের সাথে ঝোলানো একটা ব্যাগ নিয়ে তুলে দিলেন লোকটির হাতে। লোকটি প্রসন্ন হেসে বলল,

“আজ তাহলে আসি স্যার। আবার কখনও দরকার পরলে জানাবেন।”

“জ্বী অবশ্যই।”

লোকটি ঘুরে দাড়ালো চলে যাওয়ার জন্য। তবে কোমল তাকে পিছনে ডেকে উঠলো,

“একটু দাঁড়ান।”

লোকটি কোমলের ডাকে পিছনে ঘুরে ওকে দেখে একটু নিজের সাথেই নিজে সেটে গেলো। এই মেয়েকে ওনার স্বাভাবিক লাগে না। নাহলে এই টুকু বয়সে এই মেয়ে কি করে ১০৩ টা খুন করতে পারে! অবাক হয়েছেন তিনি যখন এই ঘটনা শুনেছেন তখন থেকেই এই মেয়েকে ভয় পায় তিনি। কাপা কাপা স্বরে লোকটি বলল,

“জ্বী?”

কিরণ দুই পা এগিয়ে আসতে আসতে ব্যঙ্গাত্মক হেসে বলল,

“বখশিস তো নিয়ে যান। এতো বড় একটা উপকার করলেন।”

“তার দরকার নেই ম্যা….”

লোকটির কথা সর্ম্পূণ করতে পারলো না তার পূর্বেই কোমল একটা ছোট ছুরি একদম লোকটির কন্ঠনালী বরাবর গেঁথে দিলো। মুহূর্তেই লোকটি মাটিতে পরে গলা কাটা মুরগীর মতো ছটফট করতে লাগলো। কিছু মুহূর্তের মধ্যেই লোকটি নিজের প্রাণ হারালো।

এই কাহিনী দেখে নিজের জায়গায় থ হয়ে দাড়িয়ে রইলো কিয়ান। ও যেনো নিজের বাকশক্তি হারিয়েছে। ও ভেবেছিলো কোমল সুস্থ হয়ে গিয়েছে কিন্তু ও ভুল ছিলো কোমল নিজের মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করতে শিখে গেছে। তার মানে এই খুন নিজে থেকেই ইচ্ছে করে করেছে কোমল! কিয়ান নিজের ফাঁকা মস্তিষ্ক নিয়ে উত্তেজিত হয়ে বলল,

“এই লোকটা আমাদের সাহায্য করেছে নতুন জীবন দিতে। তাকে তুমি মেরে ফেললে? এটা কেনো করলে তুমি?”

কোমল নিজের হাত একটা রুমালে মুছে নিয়ে কেমন যেনো শীতল কন্ঠে বলল,

“সাক্ষীও থাকবে আর আর কোনো প্রমাণও থাকবে না।”

“আমরা তো চলেই যেতাম। তাহলে?”

“নিজের সতেরো বছরের মেয়েকে টাকার জন্য বিক্রি করে দিয়েছে এই লোক। রোজ রোজ মেয়েটাকে মারতো। বাহিরে পাঠাতো টাকা জোগাড় করার জন্য। মেয়েটা যদি টাকা না নিয়ে বাড়িতে ফিরতো তাহলে নিজের পৈশাচিক রূপ দেখাতেন নিজের একমাত্র মেয়েকে।”

ব্যস কোমলের এক কথায় কিয়ান চুপ হয়ে গেলো। মনে মনে দোয়া করলো যেনো লোকটার জাহান্নামেও ঠাঁই না হয়। কোমলের করা এই খুনটার জন্য কিয়ান মোটেও রাগ করলো না। আর কোনো সন্দেহও করলো না কেনো কোমল নিজের হাতে আইন তুলে নিলো?

কিয়ান তাড়াহুড়ো করে নিজের বাইক টাকে রাস্তায় পড়ে থাকা গাছ পার করে অপরপাশে নিয়ে গেলো। নিজে বাইকে বসে কোমলকেও একটা হেলমেট পরিয়ে দিলো। কোমল শক্ত হাতে জড়িয়ে ধরলো কিয়ানের বলিষ্ঠ কোমর। যেনো নিজের ভেতর ঢুকিয়ে ফেলবে। কিয়ান আলতো হাতে কোমলের জড়িয়ে রাখা হাতের উপর নিজের হাত রেখে আস্তে একটা হালকা চাপ দিয়ে আশ্বস্ত করলো। ও আছে, থাকবে নিজের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার সময় পর্যন্ত।

#চলবে

[ বিশেষ দ্রষ্টব্য :- আচ্ছা আপনাদের কি আমার লেখা গল্প ভালো লাগে না? মানে যেমন ভিউ হচ্ছে সেই অনুযায়ী রেসপন্স পাচ্ছি না। খুব হতাশ লাগে লিখতে বসলে। আগে স্বর্ণকোমল গল্পে কমপক্ষে ৫০+ রিয়েক্ট পরতো আর প্রণয়কাহনের প্রিয়বতী গল্পে ১০০+ । কিন্তু এখন প্রণয়কাহনের প্রিয়বতী গল্পে গত পর্বের রিয়েক্ট ৬০+ আর স্বর্ণকোমল গল্পের ৩০+ । গল্প কি আপনাদের মন মতো হচ্ছে না। কোথাও কোনো কমতি থাকলে বলবেন। আমি আমার কমতি এবং ভুলগুলো শুধরে নেয়ার চেষ্টা করবো। ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন