ফন্ট সাইজ:
থিম:
স্বর্ণকোমল

৩৪তম পর্ব

লেখক: পরিণীতা আরা হৃৎ

#স্বর্ণকোমল

#পরিণীতা_আরা_হৃৎ

#অন্তিম_পর্ব

[ অনুমতি ব্যতিত কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫 ]

🕊️

___বর্তমান___

দিনের শেষ সময়ের সূর্যের আলো জানালা গলে ঘরে আছড়ে পড়ছে। কোমলের মুখে এসে পড়েছে সেই লালচে আলো। গোলাপ ফর্সা সেই ত্বকে লালচে সূর্যের আলো পড়ায় আরো মোহনীয় হয়ে উঠেছে। স্নিগ্ধ লাগছে সেই মায়াবী মুখশ্রী।

ডায়েরিতে মুখ গুঁজে বসে রয়েছে মেয়েটা। দিন দুনিয়ার কোনো খোঁজ খবর নেই। অতীতে ডুবে রয়েছে।

নিজের ডান গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ির খোঁচা পেয়ে কোমলের মুখে হাঁসি ফুটলো। ডায়রী থেকে চোখ সরালো কোমল। কিয়ানকে দেখে কোমলের মুখে হাঁসি ফুটে ওঠা হাঁসি আরো দীর্ঘ হলো। ডায়েরি বন্ধ করে খুব যত্ন সহকারে রেখে দিলো টেবিলের এক কোনায়।

উঠে দাঁড়িয়ে কিয়ানের গলা জড়িয়ে ধরে ওর বা গালে একটা আর ডান গালে একটা গাঢ় চুমু দিলো কোমল। সাথে সাথে কিয়ানের সারাদিনের সকল ক্লান্তি যেনো দূর হয়ে গেলো। ভালো লাগায় ছেয়ে গেলো মন প্রাণ।

এটা রোজকার একটা রুটিন। কিয়ান কাজ থেকে ফিরলে ওর দুই গালে দুটো চুমু খেতেই হবে কোমলকে। নাহলে যেনো সারাদিনের একাকীত্ব ঘুচে না।

কাজের জন্য সারাদিন বাড়িতে থাকে না কিয়ান। যখন ফিরে তখন আর এক মুহূর্তের জন্যও ওকে নিজের চোখের সামনে থেকে সরাতে নারাজ কোমল। কিয়ান তো অবাক হয়ে মাঝে মাঝে কোমলের এসব পাগলামিতে। ও মনে করেছিলো ও নিজেই কোমলকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে। কিন্তু এখন কোমলের পাগলামি দেখে মনে হয় কিয়ানের চেয়েও কোমল ওকে বেশি ভালোবাসে।

কিয়ানের শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে কোমল ন্যাকামি সুরে বলল,

“আমি আজকে সারাদিন লুনার বাবাকে মিস করেছি।”

কোমল আলগোছে কিয়ানের শরীর থেকে শার্ট খুলে নিজের হাতে ভাঁজ করে রাখলো। শার্টের বোতাম খুটতে লাগলো। কিয়ান ঠোঁট চেপে নিজের হাঁসি সংবরণ করে বলল,

“লুনার বাবাও লুনার মাম্মাকে অনেক মিস করেছে। ইভেন রোজ করে।”

কোমল আত্মবিশ্বাসী কন্ঠে জোর দিয়ে বলল,

“লুনার মাম্মামের থেকে বেশি নয়।”

“হ্যাঁ লুনার মাম্মাই শুধু লুনার বাবাকে মিস করে লুনার বাবা বুঝি লুনার মাম্মাকে মিস করে না?”

“করে তো কিন্তু লুনার মাম্মামের থেকে কম।”

“হুমম বুঝলাম। তো লুনার মাম্মা কি লুনার বাবার দিকে একবার তাকাবে?”

কোমল নিচু মাথা করে রেখেছিলো এতো সময়। কিয়ানের কথা মাথা উচু করে তাকালো। একটু সময় নিয়ে কোমলের সারা মুখোশ্রীতে চোখ বুলিয়ে নিলো। দৃষ্টি গিয়ে স্থির হলো কোমলের পার্পেল রঙের চোখে। কিছুক্ষণ সেই চোখের দিকে তাকিয়েই রইলো কিয়ান। মুখ ফুটে বেড়িয়ে এলো,

“আমার ধ্বংসের সূচনা কিন্তু তোমার এই অদ্ভুত সুন্দর চোখ দিয়েই শুরু হয়েছিলো স্বর্ণকোমল।”

কোমল কিছু বলল না। তবে ভিতরে ভিতরে ঝড় বইতে শুরু করলো যেনো। ঠোঁট কেঁপে উঠলো সামান্য। চোখ চক চক করতে লাগলো।

কিয়ানের দৃষ্টি ঘুরে গিয়ে কোমলের গোলাপ রঙ্গা ঠোঁটে আটকালো। কোমল কিয়ানার দৃষ্টি বুঝতে পেরে লজ্জায় লাল হয়ে উঠলো। গাল দুটো লালচে রঙের আভায় ছড়িয়ে পড়লো।

মাথা নিচু করে নিলো কোমল। চিবুক গিয়ে ঠেকলো গলার সাথে। কোমলের এই লজ্জা দেখে কিয়ান ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো। কিরণকে আরো লজ্জায় ফেলতে বিছানার মাঝখানে শোয়া লুনার দিকে ইশারা করে বলল,

“সামান্য এই নজরেই তুমি এখনো কেমন লজ্জা পাচ্ছো। অথচ ওকে দেখো ও কিন্তু আমাদের ভালোবাসার ফসল। তোমার আর আমার পবিত্র ভালোবাসার উপহার আমাদের মেয়ে লুনা।”

কিয়ানের কথার ইঙ্গিত বুঝে আরো বেশি লজ্জা পেলো কোমল। মনে মনে ইচ্ছে পোষণ করলো মাটি ফেঁটে দুভাগ হয়ে যাক আর ও মাটির ভিতরে ঢুকে পড়বে।

কিয়ান কোমলের থুতনি চেপে ধরে মুখ উপরে তুললো। কোমল উপরের ঠোঁট দিয়ে নিচের ঠোঁট চেপে ধরে রেখেছে। কিয়ান বুড়ো আঙুল দিয়ে ওর চেপে রাখা ঠোঁট দুটো স্লাইড করতে লাগলো।

কোমলের ঠোঁট দুটো আলগা হতেই কিয়ান ধীরে ধীরে কোমলের ঠোঁটের দিকে এগিয়ে গেলো। স্বামীর আগ্রহকে সায় দিয়ে কোমলও চোখ দুটো বুজে নিলো। কিয়ান কোমলের ঠোঁটের একদম কাছাকাছি চলে এসেছে। মাত্র কয়েক মিলি তারপরই একে অপরের ঠোঁটে ডুব দিবে দুজনে। কিয়ানের ঠোঁট যখনই কোমলের ঠোঁট আঁকড়ে ধরবে ঠিক তখনই লুনা চিৎকার করে কাদতেঁ শুরু করলো।

দুজনই তড়াক করে তাকালো একে অপরের দিকে। কোমল তড়িঘড়ি করে কিয়ানের থেকে দূরে সরে গেলো। লজ্জায় লাল টমেটোর মতো রং ধারণ করেছে কোমলের গাল দুটো। কান গুলোও লাল টসটসে হয়ে রয়েছে।

কোমল বিছানার দিকে এগিয়ে গিয়ে লুনাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে গালে কপালে চুমু খেল। কান্না থামাতে কোলে নিয়ে হাঁটতে শুরু করলো। একবার কিয়ানের দিকে তাঁকিয়ে আবার লুনাকে থামানোর চেষ্টা করতে লাগলো।

“আমার সোনা মা। কাদে না বাবু। এই তো মাম্মা আছি তো তোমার কাছে। ওওওওও…”

কোমল ওকে থামানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে তবে মেয়েটা থামার নামই নিচ্ছে না।

কিয়ান ঘাড় চুলকে এদিক সেদিক তাকাতে লাগলো। লুনা আরেকটু পরেই ঘুম থেকে উঠলে একটা মিষ্টি মুখ হয়ে যেতো বেচারার।

এগিয়ে গিয়ে কোমলের থেকে মেয়েকে নিয়ে নিজের কোলে তুলে নিলো। এতক্ষন যেনো বাবার খোঁজই করছিলো মেয়েটা। বাবার কোলে চড়েই বোধহয় বাবার গায়ের ঘ্রাণ পেয়েছে। এই জন্যই চুপ করে গিয়েছে। বাবার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাঁকিয়ে আছে। চোখ তো না যেনো আমন্ড। হাত বাড়িয়ে বাবার গাল ছুঁয়ে দিচ্ছে বার বার। মেয়ের কান্ড দেখে হেঁসে ফেললো দুজনেই।

_

রাতের খাবারে খুব একটা ভারী খাবার কিয়ান কিংবা কোমল কেউই পছন্দ করে না। তাই হালকা পাতলা কিছু একটা দিয়েই রাত পার হয়ে যায়। তবে মাতা মাতিতে কমতি নেই তিনজনের। বাবা মার সাথে তাল মিলিয়ে লুনাও প্রাণ খুলে হাসে।

রাতের বেলা খাবারের টেবিলে বসে খুনসুটিতে মেতে উঠলো তিন জন। একটা গোল কাঠের টেবিলে তিনটে কাঠের চেয়ার দিয়ে কিচেনের পাশেই সেট করা।

কিয়ান আর কোমল দুজনে দুটো চেয়ারে বসে লুনাকে বসিয়ে দিলো টেবিলের উপরে মাঝখানে। মেয়ের জন্য পায়েস রান্না করেছে কোমল। লুনা পায়েস খেতে ভালোবাসে খুব। একটা বাটিতে পায়েস নিয়ে সেটাই মেয়ের সামনে রেখে চামচের সাহায্যে খাওয়াতে লাগলো কোমল। কিয়ান পাশেই বসে বসে নিজে একবার খাবার মুখে দিচ্ছে তো আরেকবার কোমলের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে। ব্যাপারটা এমন যে কিয়ান খাইয়ে দিচ্ছে কোমলকে আর কোমল খাইয়ে দিচ্ছে লুনাকে।

“দেখিতো মা হা করো।”

লুনা নিজের মুখের সামনে পায়েস ভর্তি চামচ দেখে হা করে মুখ খুলে দিলো। মুখে খাবার নিয়ে আবার খাবার শুদ্ধ মুখেই নিজের ডান হাত ঢুকিয়ে দিলো লুনা। এটা ওর একটা খারাপ অভ্যেস বলা যায়। খাবার খাওয়ার সময় খাবার শুদ্ধ মুখে নিজের হাত ঢুকিয়ে দেয়া। টেনে টুনে বের করলে আবার করবে। বেশি টানাটানি করলে মাঝে মাঝে কান্না করে দেয়। মুখে আর খাবার তুলে না।

লুনার মুখে খাবার দিতেই কিয়ান কোমলকে বলল,

“দেখি এবার তুমি হা করো।”

কোমল মেয়ের দিক থেকে চোখ সরিয়ে কিয়ানের দিকে তাকালো। হা করতেই কিয়ান ওর মুখে খাবার তুলে দিলো।

কোমল একটি দুষ্টুমি করে লুনার পায়েসের বাটি থেকে এক চামচ কিয়ানের মুখের সামনে ধরলো। কিয়ান এক পলক কোমলের মুখের দিকে তাকালো। কোমল একটা মন ভোলানো হাঁসি দিয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। কিয়ান মুখে পায়েস নিয়ে এক হাতে কোমলের গাল দুটো চেপে ধরলো। ঠোঁট মিলিয়ে দিলো কোমলের ঠোঁটের সাথে। কোমল পুরো হতবাক হয়ে গেলো। ও বুঝেনি কিয়ান এমন করবে। তাও আবার মেয়ের সামনে।

একটু বাদেই আবার ছেড়ে দিলো কোমলের ঠোঁট জোড়া। কোমল নিজের মুখের ভিতরে পায়েসের অস্তিত্ব টের পেলো। কিয়ানকে মেকি রাগ দেখিয়ে বলল,

“লুনা এখানেই আছে কিয়ান। কি করছো তুমি এটা?”

কিয়ান সেই কথার উত্তর দিলো না। কোমলের দিকে সামান্য ঝুঁকে ঘোর লাগা কন্ঠে বলল,

“তোমার এক হাঁসিতে আমি কিয়ান পুরো পুরো পৃথিবীর বিরুদ্ধে যেতে পারি জান আমার।”

মেয়ের দিকে দৃষ্টি পরতেই থতমত খেয়ে গেলো কিয়ান। লুনা ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে ওদের দিকে। কিয়ান মেয়ের দিকে তাকিয়ে খানিকমিছি মিছি রাগ নিয়ে বলল,

“ছিঃ মা। এভাবে বাবা মাম্মামের রোমান্স দেখতে নেই। চোখ বন্ধ করো।বাবা তোমার মাম্মাকে একটু আদর করবে।”

কোমল কিয়ানের বাহুতে হালকা থাপ্পড় দিয়ে বলল,

“ছিঃ, মেয়েকে কি বলছো এসব তুমি?”

লুনা ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইলো বাবা আর মাম্মামের দিকে। কিয়ান কোমলের কথা শুনে গা কাপিয়ে হেঁসে উঠলো। কোমল একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলো সেই নজর কাড়া হাসির দিকে। হাসলে লোকটাকে কি সুন্দর লাগে! অথচ হাসে কত কম!

কিয়ান এক হাতে লুনার চোখ চেপে ধরলো। অন্যহাতে কোমলের গাল চেপে ধরে ফের একটা শুকনো চুমু খেলো ওর ঠোঁটে। কোমল হতভম্ব হয়ে তাঁকালো কিয়ানের দিকে। কি শয়তান লোক ভাবা যায়! মেয়ে দেখবে বলে মেয়ের চোখ ঢেকে চুমু খাচ্ছে।

_

নিশুতি রাত।

চারপাশে অন্ধকারে ছেয়ে আছে। থেকে থেকে জানালা গলিয়ে ঘরে প্রবেশ করছে অজানা কিছু শব্দ।

লুনাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে কোমল। কিয়ান একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলো নিজের জীবনের শেষ সম্বলের দিকে। এই দুই জনই এখন ওর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ন অংশ। অক্সিজেন ছাড়া যেমন বেঁচে থাকা দায়। ঠিক তেমনি কিয়ানের জন্য লুনা আর কোমল ব্যতিত বেঁচে থাকা অসম্ভব।

কোমল লুনাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে। আর কিয়ান বিছানায় উঠে আধশোয়া হয়ে আস্তে করে কোমলের পিছন থেকে ওকে এক হাতে জড়িয়ে ধরলো। কোমলের গালের উপর নিজের গাল রেখে নির্মিশেষ তাকিয়ে রইলো সেই মুখ দুটোর দিকে।

লুনা মায়ের মতো গোলাপ রঙ্গা হয়নি। হয়েছে দুধের মতো ফর্সা। তবে চুলগুলো হয়েছে কোমলের মতো সোনালী আর ঘন, একটু বড়। এখনি এই মেয়ের চুল দেখে বলা সম্ভব মায়ের মতোই চুলগুলো হবে। কোমলের চুলগুলো এতদিনে অবশ্যই মাটিতে লুটিয়ে পড়তো। কিন্তু সেটা হয়না কারন ও প্রতি মাসে নিয়ম করে চুল কাটে। মাসখানেকের মধ্যেই ওর চুল হাঁটু ছাড়িয়ে যায়। ও আবার কেটে ফেলে সেই চুল।চোখ ব্যতিত মা মেয়ে যেনো একে অপরের কার্বন কপি।

কিয়ান মা মেয়ের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে নরম কন্ঠে বলল,

“তুমি আমার জীবনের একমাত্র চাঁদ মা। তোমার জন্যই তোমার মাকে পুরোপুরি সুস্থ ফিরে পেয়েছি আমি। তুমি চাঁদ, বাবা আর মাম্মাম সেই চাঁদের কলঙ্ক। তোমার কাছে বাবা ঋণী মা। ধন্যবাদ বাবার জীবনে তার স্বর্ণকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য। ধন্যবাদ তোমায় মাম্মামকে হাসি খুশি রাখার জন্য।”

কিয়ান এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখলো দুজনকে। সারারাত দেখলেও বোধহয় মন ভরবে না। জানালা গলিয়ে আসা চাঁদের রূপোলী আলোয় অপরূপ সৌন্দর্য ঘিরে রেখেছে এই ছোট সুখী পরিবারকে। চাঁদও যেনো চাইছে ওরা থাকুক একে অপরের সাথে মিশে। সারাক্ষণ, সারাজীবন।

#সমাপ্ত

[ তো! আজকে #স্বর্ণকোমল - এর সমাপ্তি টেনে দিলাম। যারা এতোদিন সাইলেন্ট ছিলেন আশা করবো তারাও আজকে কিছু মন্তব্য করে যাবেন। এটা আপনাদের কাছে তুলে ধরা আমার লেখা প্রথম গল্প। জানি অনেক ভুল ছিলো। বিশেষ করে আমার নিজের কাছেই কেমন একটা খাপছাড়া লেগেছে। ঠিক মতো গুছিয়ে টুকে ধরতে পারিনি আপনাদের মাঝে। তিয়ানের বিয়ে থেকে শুরু করে কোমলের অতীত পর্যন্ত আরো বাকি যেসব কাহিনী রয়েছে গুছিয়ে লিখতে পারলে গল্পটা মোটামুটি ৫০+ পর্ব হতো বলে আমি মনে করি। যাইহোক, কেমন ছিলো #স্বর্ণকোমল গল্পটা? জানাবেন সকলে। ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন