ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়ের আউড়ে

১ম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া আক্তার শিলা

#প্রণয়ের_আউড়ে

#পার্ট১

#লেখনীতে_সুমাইয়া_আক্তার_শিলা

আসসালামু আলাইকুম আমার কলিজার পাঠকেরা!

​সবাই কেমন আছো? আজ তোমাদের সাথে একটা গোপন কথা শেয়ার করতে এলাম। এতদিন তোমরা আমাকে উম্মে ফুল নামে চিনতে। নামটা কি খুব মিষ্টি ছিল না? ঠিক যেন ফুলের মতো পবিত্র আর শান্ত! কিন্তু সত্যি বলতে, তোমাদের এই গাদা গাদা ভালোবাসা আর ‘প্রণয়ের আউড়ে’ উপন্যাসের প্রতি তোমাদের পাগলামি দেখে আমার কনফিডেন্স লেভেল এখন আকাশছোঁয়া!

​তোমরা আমাকে এতটাই ভালোবাসা দিয়েছ যে, এখন আমার আর ছদ্মনামের আড়ালে লুকোচুরি খেলতে ইচ্ছে করছে না। মনে হচ্ছে, এবার আসল মানুষটার সামনে আসার সময় হয়েছে। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম, ‘উম্মে ফুল’কে মনের মণিকোঠায় স্মৃতি হিসেবে রেখে এখন থেকে আমি আমার নিজের আসল পরিচয়েই তোমাদের গল্প শোনাব।

​এখন থেকে তোমাদের প্রিয় গল্পের লেখিকা হিসেবে আমি আমার আসল নাম— সুমাইয়া আক্তার শিলা ব্যবহার করব। ✍️

​আশা করি, উম্মে ফুলকে তোমরা যেভাবে মাথায় তুলে রেখেছিলে, এই শিলাকেও সেভাবেই আগলে রাখবে। (আর হ্যাঁ, শিলা নাম হলেও আমি কিন্তু একদমই শক্ত নই, বরং তোমাদের কমেন্ট পড়লে একদম গলে যাই! 😂)

উপরের নোটটা পড়ার অনুরোধ রইল।

——

সময়টা ডিসেম্বরের শেষ ও জানুয়ারির শুরুর দিকে। আজ মঙ্গলবার। শীতকালের কনকনে ঠান্ডা বাতাস এখনও অবহমান। নতুন বছরের শুরু আনন্দে সবাই মেতে থাকে। সবাই স্বপ্ন দেখে নতুন করে বাচাঁর,নতুন করে নিজেকে গড়ার, পুরনো ভুল গুলো শুধরে নতুন ভাবে এগিয়ে চলার।এবার গল্পে ফেরা যাক।

সন্ধ্যা পাঁচ'টা বাজে। গল্পের নায়িকা আরিয়ানা তিথি ও তার মা-বাবা এসেছে তিথির বাবা মারুফ আহম্মেদের একমাত্র ঘনিষ্ঠ বন্ধু আলতাফ রহমানের মেঝ মেয়ে প্রিয়ার বিয়েতে।

_______________​অরণ্য কুটির________________

সন্ধ্যায় বিশাল বাড়িটা আজ আর শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়—মনে হচ্ছে একটা জীবন্ত উৎসব।

আলতাফ রহমানের এই বিশাল অট্টালিকাটি মূলত তিন তলাবিশিষ্ট ডুপ্লেক্স। একটি রুমে কাবিরের বাবা মা থাকে।একাধিক গেস্ট রুম আছে।দুতলায় তিনটা রুম প্রমা,প্রিয়া আর কাবিরের। তিনতালায় মূলত লাইব্রেরি, জিম আর রুফ-টপ গার্ডেন সংলগ্ন একটি বিশেষ জোন।

প্রিয়া ও তার স্বামী ইমরান স্টেজে বসে আছে। বিশাল এই বিয়েতে তিথি ও তার পরিবার ভিড় ঠেলে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে।

তানিয়া মিথু এতো কোলাহল পূর্ণ পরিবেশে দেখে তিথিকে বলেন।

—"তিথি,তুমি প্রমার ঘরে গিয়ে বসো। এতো মানুষের মধ্যে তোমার থাকার প্রয়োজন নেই।"

তিথিরও অস্বস্তি লাগছে বিয়ে বাড়িতে ঢোকার পর থেকেই কেমন ভেপসা গরম লাগছে। দেখা করতে প্রিয়ার নাগালে যাওয়ারও উপায় নেই।

মারুফ আহম্মেদ নির্দেশ দিয়ে বলল।

—“তিথি মা,তোমার আম্মু যা বলেছে তাই করো। আমি আর তোমার আম্মু আলতাফের কাছে যাচ্ছি। কোনো সমস্যা হলে কল করো।"

তিথি চোখ টিপে হাসে—

—“হ্যাঁ যাচ্ছি যাচ্ছি, উফ কী যে গরম লাগছে না।টা টা আব্বু আম্মু,আমি গেলাম!"

মারুফ আহম্মেদ তানিয়া মিথুর দিকে তাকিয়ে মৃদু মুচকি হাসলেন, চোখে হালকা কৌতুক—

—“আমাদের মেয়েটা তো একদম ছোটবেলা থেকে পাগলাটে স্বভাবের, তাই না মিথু?একে সামলানোটা কাবিরের জন্য পুরো চ্যালেঞ্জ!”

তানিয়া মিথু হালকা হাসি দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন।

—“কাবিরের পক্ষে তিথিকে মেনে নেওয়া সহজ হবে কি না, জানি না। কিন্তু ছেলেমেয়েরা বড় হয়েছে,তাদের নিজের মতো করে থাকতে দেওয়া উচিত। আমি চাই না কারো ওপর চাপ তৈরি হোক।”

মারুফ আহম্মেদ ধীরে ধীরে তার কাঁধে হাত রাখলেন, হালকা কণ্ঠে আশ্বস্ত করে—

—“তুমি ঠিক বলেছো। তবে মনে রেখো, গত ছয় বছর আগে কাবির যে কারণে দেশ ছেড়ে গিয়েছিল, ঠিক সেই টানেই সে এবার বাংলাদেশেই থেকে যাবে। তিথি ছাড়া সে আর কোথাও যাবে না, তুমি সেটা নিজ চোখে দেখবে।”

তানিয়া মিথুর চোখে হঠাৎ উজ্জ্বলতা, মুখে খুশির ঝিলিক।

—“এটা যদি সত্যি হয়, তাহলে আমাদের চেয়ে খুশি কেউ হবে না! এবার চলো, আলতাফ ভাই আর সারা ভাবীর কাছে যাই, দেখতে হবে তারা আমাদের মেয়ের জন্য কতটা চিন্তাশীল।”

মারুফ হাসলেন, একহাত কাঁধে রেখে।

—“হ্যাঁ,চলো !”

★

আলতাফ রহমান এবং মারুফ আহম্মেদ কেবল বন্ধু নন, তারা ছিলেন একে অপরের ছায়া। তাদের এই গভীর বন্ধুত্বের শুরু সেই নব্বইয়ের দশকে, ময়মনসিংহ শহরের ধুলোবালি মাখা গলি আর স্কুল মাঠ থেকে।

তারা দুজনেই সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন। স্কুল থেকে কলেজ—সবখানেই তাদের একসাথে দেখা যেত। সাইকেলের এক সিটে বসে পুরো শহর ঘুরে বেড়ানো কিংবা এক কাপ চা ভাগ করে খাওয়ার সেই সাধারণ দিনগুলোতেই তাদের সম্পর্কের অসাধারণ ভিত গড়ে ওঠে।

তাদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোতে। একবার মারুফ আহম্মেদের পরিবার প্রচণ্ড অর্থকষ্টে পড়েছিল, এমনকি তার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। তখন আলতাফ রহমান নিজের টিউশনির জমানো সব টাকা নিঃস্বার্থভাবে বন্ধুর হাতে তুলে দিয়েছিলেন। আবার আলতাফ যখন কঠিন অসুখে পড়ে হাসপাতালে একা শয্যাশায়ী ছিলেন, তখন মারুফ দিনরাত জেগে তার সেবা করেছিলেন। সেই থেকে তারা একে অপরের কাছে শুধু বন্ধু নন, বরং হৃদয়ের স্পন্দনে পরিণত হন। সময়ের সাথে সাথে আলতাফ রহমান একটি বিলাসবহুল গাড়ির শোরুমের মালিক হন এবং উনার প্রভাবশালীতা বিস্তৃতি লাভ

করে। সারা ইয়াসমিন গৃহিণী।

আরিয়ানা তিথির বাবা মারুফ আহম্মেদ একজন আদর্শবাদী মানুষ হিসেবে শিক্ষকতায় তুষ্টি খুঁজে নেন। কিন্তু তাদের আর্থিক অবস্থার এই আকাশ-পাতাল পার্থক্য কখনো তাদের বন্ধুত্বের মাঝে দেয়াল হতে পারেনি। আলতাফ সবসময় চেয়েছিলেন তার এই রাজকীয় জীবনের প্রতিটি খুশিতে তার প্রিয় বন্ধু মারুফ যেন অংশীদার হয়।

একবার বর্ষার এক সন্ধ্যায় দুই বন্ধু যখন পুরনো স্মৃতিচারণ করছিলেন, তখন মারুফ আহম্মেদ রসিকতা করে বলেছিলেন—

—“আলতাফ, আমাদের এই বন্ধুত্বটা কি আমাদের সাথেই শেষ হয়ে যাবে?”

আলতাফ রহমান তখন বন্ধুর হাত শক্ত করে চেপে ধরে আবেগপ্রবণ হয়ে বলেছিলেন—

—“না বন্ধু, আমাদের এই রক্তহীন সম্পর্ককে আমরা রক্তের সম্পর্কে রূপান্তর করব। আমার বড় ছেলে কাবিরের সাথে তোর ছোট্ট মেয়ে তিথির বিয়ে হবে। আমাদের বন্ধুত্ব টিকে থাকবে আমাদের সন্তানদের মাধ্যমে।”

আলতাফ রহমান ছিলেন জবান দেওয়া মানুষ। তাই কাবির যখন ইতালিতে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে ব্যস্ত, তখন আলতাফ তার বন্ধু মারুফকে দেওয়া সেই পবিত্র কথা রাখতেই বিয়ের আয়োজন করেন। তিথি তখন মাত্র ১১ বছরের কিশোরী হওয়ায় মারুফ আহম্মেদ কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন, কিন্তু বন্ধুর প্রতি অগাধ বিশ্বাস আর আলতাফের জেদের কাছে তিনি না বলতে পারেননি।

কাবিরের কাছে এটি ছিল বাবার একগুঁয়েমি, কিন্তু

আলতাফ রহমানের কাছে এটি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুর প্রতি দেওয়া এক আজন্ম অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার রক্ষা করতেই দীর্ঘ ৬ বছর পর আজ কাবির আর তিথি একই ছাদের নিচে।

**********************************************

এদিকে তিথি এলোমেলো পায়ে সিঁড়ি দিয়ে যাবার সময় বারবার ফোন করে যাচ্ছিল প্রমাকে। প্রায় পাঁচবার কল করার পর অবশেষে প্রমা ফোন ধরে।

—“আস্ সালামু’য়ালাইকুম! এই ছেমড়ি, তুই কি বিয়েবাড়িতে লুকোচুরি খেলছিস? কই তুই?” তিথির গলা বিরক্তিতে কাঁপছে।

—“ওয়া আলাইকুম সালাম। আরে শান্ত হ! আমি আপুর কাছে আছি,” প্রমা নির্লিপ্ত গলায় বলে।

—“উফফ! দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে আমার পা দুটো এখন অবসর নিতে চাইছে। আমি এখন কী করব বল?” তিথি নাটকীয় স্বরে বলে।

—“আচ্ছা, এক কাজ কর। তুই আমার রুমে চলে যা,” প্রমা পরামর্শ দেয়।

—“রুমে যাবো কিন্তু সমস্যা একটাই—তোর লকের নাম্বার আমার মাথা থেকে পালিয়ে গেছে!” তিথি হুতাশ করে।

—“১৬৩৪। আর আমি না আসা পর্যন্ত ওখানেই বসে থাকবি, বুঝেছিস?” প্রমা নির্দেশ দেয়।

—“১৬৩৪… ঠিক আছে। দরজা না খুললে কিন্তু আমি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে সবার কাছে বলবো—এই রুমের মালিক আমাকে তালা মেরে রেখেছে!”

(আরিয়ানা তিথি—বয়স সতেরো বছর । এসএসসি পরীক্ষার্থী ।দেখতে অসম্ভব মিষ্টি। তার টানাটানা চোখ দুটো আর মুখে সবসময় লুকিয়ে থাকে দুষ্টু এক চঞ্চলতা। তিথি উপন্যাস পড়তে ভীষণ ভালোবাসে, কখনো নিজের কল্পনায় নিজেই হারিয়ে যায়।বাবা-মায়ের একমাত্র আদরের মেয়ে তিথি।বাবা মারুফ আহম্মেদ পেশায় শিক্ষক, মা তানিয়া মিথু,গৃহিণী।)

তিথি ফোন স্ক্রোল করতে করতে ধীরে ধীরে সিঁড়ি নামছিল, মনেপ্রাণে প্রমার ঘরের পাসওয়ার্ড মনে করার চেষ্টা করছিল। হঠাৎ কারও সঙ্গে ধাক্কা লাগল।

চলবে,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন