ফন্ট সাইজ:
থিম:
ছায়ার নজরে

যে সত্যটা লুকানো ছিল

লেখক: তাহমিনা

রাত ১টা ১৭ মিনিট।সাইফা বিছানায় বসে আছে।তার হাতে ফোন।স্ক্রিনে এখনও সেই মেসেজটা জ্বলছে— "তুমি এখনও সাইফকে বিশ্বাস করো।" "কিন্তু সত্যটা জানলে... তুমি সবচেয়ে বেশি ভয় পাবে তাকে।"বাইরে ঝড় শুরু হয়েছে।জানালার কাঁচে বৃষ্টির ফোঁটা আঘাত করছে।ঘরের আলো নিভিয়ে দেওয়া।শুধু ফোনের আলো তার মুখে পড়ছে।কিন্তু তার মাথায় এখন একটাই প্রশ্ন সাইফ কি সত্যিই কিছু লুকাচ্ছে?সকালে ঘুম থেকে উঠেও অস্বস্তিটা কাটল না।নাস্তার টেবিলে সবাই স্বাভাবিক।সাফোয়ান আবারও রিয়ানের সাথে যুদ্ধ করছে।

— "আমার কফি কে খাইছে?"

— "আমি না।"

— "তাহলে?"

— "তুমি নিজেই খাইছো।"

— "অসম্ভব।"

— "তুমি ভুলে গেছো।"

— "আমি কিছু ভুলে যাই না।"

— "গত সপ্তাহে ফ্রিজে ফোন রেখে পুরো বাড়িতে ফোন খুজছো।"সাইফা হেসে ফেলল।সাফোয়ান নাটকীয়ভাবে বলল

— "আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।"কিন্তু হাসির মাঝেও সে খেয়াল করল—সাইফ আজ বাড়িতে নেই।সকালে খুব ভোরেই কোথাও চলে গেছে।দুপুরে...সাইফা আবার লাইব্রেরিতে গেল।আজ সে লাল বইটা পুরো পড়বে।যা-ই থাকুক।ঘরের ভেতর অদ্ভুত নীরবতা।সে ধীরে ধীরে বইটা খুলল।প্রথম কয়েকটা পৃষ্ঠা আগেই দেখেছিল।আজ সে আরও ভেতরে গেল।হঠাৎ একটা পাতায় এসে থেমে গেল।সেখানে একটা সংবাদপত্রের কাটিং আটকানো।শিরোনাম—>"ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৩জন"তার হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।নিচে একটা ছবি।পোড়া বাড়ি।আর...ওই বাড়িটা।ঠিক ওই বাড়িটা যেটা সে বারবার স্বপ্নে দেখছে।তার মাথার ভেতর আবার ঝলকানি।আগুন।ধোঁয়া।চিৎকার।একটা ছোট ছেলে তার হাত ধরে দৌড়াচ্ছে।

— "সাইফা! দৌড়াও!"

— "আমি ভয় পাচ্ছি!"

— "আমি আছি!"ধপ!বইটা মেঝেতে পড়ে গেল।সাইফা হাঁপাতে লাগল।প্রথমবার...সে ছেলেটার কণ্ঠ শুনেছে।ঠিক তখনই কেউ দরজা বন্ধ করল।দড়াম!সাইফা চমকে উঠে পেছনে তাকাল।কেউ নেই।তার বুকের ধড়ফড়ানি বেড়ে গেল।সে দ্রুত দরজার দিকে এগোল।কিন্তু...দরজাটা বাইরে থেকে লক করা।

— "হ্যালো?"

— "কেউ আছেন?"কোনো উত্তর নেই।ঠিক তখনই ফোনে মেসেজ।Unknown Number

"সত্যের কাছাকাছি চলে এসেছো।"আরেকটা।>

"কিন্তু সাবধান..."

"তুমি একা নও।"সাইফার হাত কাঁপতে শুরু করল।সে চারপাশে তাকাল।পুরোনো লাইব্রেরি।বই।ধুলো।নীরবতা।---তারপর...একটা শব্দ।টক...টক...টক...বুকশেলফের পেছন থেকে।সাইফার নিঃশ্বাস আটকে গেল।শব্দটা আবার হলো।টক...টক...সে ধীরে ধীরে বুকশেলফটার কাছে গেল।হৃদস্পন্দন এত জোরে হচ্ছে যে নিজেরই শুনতে পাচ্ছে।বুকশেলফের এক কোণায় একটা বই একটু বের হয়ে আছে।অন্যগুলোর থেকে আলাদা।সে বইটা টান দিল।গড়গড়...পুরো বুকশেলফটা নড়ে উঠল।সাইফা হতবাক।তার সামনে ধীরে ধীরে একটা গোপন দরজা খুলে গেল।অন্ধকার সিঁড়ি নিচের দিকে নেমে গেছে।

— "এটা কী!"তার গলা শুকিয়ে গেল।নিচ থেকে ঠান্ডা বাতাস আসছে।আর...মনে হচ্ছে কেউ অনেক বছর ধরে এই জায়গাটা লুকিয়ে রেখেছে।ঠিক তখনই—বাড়ির বাইরে।একটা কালো গাড়ি এসে থামল।সাইফ দ্রুত নেমে এল।তার মুখ অস্বাভাবিক গম্ভীর।একজন লোক তার দিকে দৌড়ে এলো।

— "Boss!"

— "কি হয়েছে?"

— "সে লাইব্রেরিতে গেছে।"সাইফের মুখের রং বদলে গেল।

— "কখন?"

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে যে সত্যটা লুকানো ছিল শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন