ফন্ট সাইজ:
থিম:
ছায়ার নজরে

ছবির পেছনের নাম

লেখক: তাহমিনা

রাত তখন প্রায় সাড়ে দশটা।বাইরে টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে।জানালার কাঁচে জমে থাকা পানির ফোঁটাগুলো ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসছে।কিন্তু সাইফার চোখ আটকে আছে সেই পুরোনো ছবিটার ওপর।ছোট্ট সাইফা।আর তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা।আরমান।নামটা পড়ার পর থেকে তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা অস্বস্তি কাজ করছে।মনে হচ্ছে—সে এই ছেলেটাকে চিনত।খুব ভালো করেই চিনত।কিন্তু কীভাবে?দরজায় নক পড়ল।টক... টক...সাইফা দ্রুত ছবিটা লুকিয়ে ফেলল।— "ভিতরে আসো।"দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল রিয়ান।হাতে এক বাটি আইসক্রিম।আর মুখে রহস্যময় ভাব।— "আমার মনে হয় বাড়িতে ভূত আছে।"

— "কী?"

— "আজকে আমার চিপস হারাইছে।"

— "তুই নিজেই খাইছিস।"

— "অসম্ভব।"

— "কেন?"

— "কারণ আমি মনে করতে পারতাম।"সাইফা হেসে ফেলল।

— "বের হও।"

— "আচ্ছা।"দরজার কাছে গিয়ে আবার ফিরে তাকাল সে।

— "আপু?"

— "হুম?"

— "তুমি ঠিক আছো তো?"প্রশ্নটা শুনে সাইফা থমকে গেল।

— "কেন?"

— "জানি না।"রিয়ান কাঁধ ঝাঁকাল।— "তোমাকে একটু অন্যরকম লাগছে।"রিয়ান চলে যাওয়ার পর সাইফা আবার ছবিটা বের করল।ছবির নিচের কোণায় একটা তারিখ লেখা।২০১৪তার বুক ধক করে উঠল।ঠিক সেই বছরটাই তো ডায়েরির পাতায় লেখা ছিল।হঠাৎ...দরজার বাইরে কারও পায়ের শব্দ।ধীরে ধীরে ভারী হইতেছে।সাইফা দ্রুত দরজা খুলল।করিডোর ফাঁকা।কেউ নেই।শুধু দূরে একটা ছায়া মোড় ঘুরে অদৃশ্য হয়ে গেল।পরদিন সকাল।পুরো বাড়িতে অদ্ভুত ব্যস্ততা।কারণ আজ পরিবারের সবাই একসাথে দুপুরের খাবার খাবে।নাদিয়া চৌধুরী রান্নাঘরে ব্যস্ত।সাফোয়ান সেখানে দাঁড়িয়ে রান্না "পরীক্ষা" করছে।

— "খালা, আমি খাবারের quality check করতেছি।"

— "সাফোয়ান, বের হও।"

— "আমি পরিবারের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতেছি।"

— "বের হও।"

— "আচ্ছা।"পাঁচ সেকেন্ড পর আবার একটা সিঙ্গারা নিয়ে পালাল।ডাইনিং টেবিলে বসে সবাই গল্প করছে।কিন্তু সাইফা খেয়াল করল—সাইফ আজ অস্বাভাবিক চুপ।সে বারবার ফোন দেখছে।কাউকে মেসেজ করছে।আর তার চোয়াল শক্ত হয়ে আছে।খাওয়ার মাঝখানে হঠাৎ সাইফার মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল

— "আরমান কে?"পুরো টেবিল নিস্তব্ধ।এক সেকেন্ড।দুই সেকেন্ড।তিন সেকেন্ড।সাফোয়ানের হাতের গ্লাস থেমে গেল।রিয়ানের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।নাদিয়া চৌধুরীর চোখ বড় হয়ে উঠল।আর...সাইফ।সে ধীরে ধীরে মাথা তুলল।তার চোখের দৃষ্টি এত ঠান্ডা ছিল যে সাইফার বুক কেঁপে উঠল।

— "এই নাম কোথায় শুনেছিস?"সাইফের গলা অস্বাভাবিক শান্ত।আর সেই শান্ত স্বরটাই সবচেয়ে ভয়ের।

— "আমি..."

— "উত্তর দে।"---ঠিক তখনই রাশেদ চৌধুরী কথা বললেন।

— "খাওয়ার টেবিলে এসব আলোচনা হবে না।"তার গলায় এমন দৃঢ়তা ছিল যে কেউ আর কথা বলল না।কিন্তু সাইফা বুঝে গেল।আরমান সম্পর্কে সবাই কিছু জানে।আর তারা সেটা লুকাচ্ছে।সেদিন রাতে...বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে যাওয়ার পর—একটা কালো বাইক গেট পেরিয়ে বের হয়ে গেল।বাইকের চালক—সাইফ।বৃষ্টি পড়ছে।রাস্তা ফাঁকা।শহরের আলো পিছনে পড়ে থাকছে।সাইফ একটা পুরোনো গুদামঘরের সামনে গিয়ে থামল।ভেতরে আগে থেকেই কয়েকজন লোক দাঁড়িয়ে।সবাই তাকে দেখেই সোজা হয়ে দাঁড়াল।

— "Boss."একজন এগিয়ে এল।

— "কোনো খবর?"

— "জি।"লোকটা একটা খাম এগিয়ে দিল।

— "যে নাম্বার থেকে মেসেজ আসতেছে..."

— "হুম?"

— "ওই নাম্বার তিন বছর আগে বন্ধ হয়ে গেছে।"সাইফের চোখ সরু হয়ে গেল।

— "আর?"

— "আরমান নামটা আবার সামনে আসতেছে।"কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।তারপর

—ঠাস!সাইফ মুষ্টি দিয়ে টেবিলে আঘাত করল।সবাই চুপ।

— "আমি বলেছিলাম..."সে ধীরে ধীরে বলল,

— "ওর নাম আর কেউ উচ্চারণ করবে না।"লোকগুলো মাথা নিচু করল।কিন্তু সাইফের মনে তখন অন্য চিন্তা।কারণ যদি আরমান সত্যিই ফিরে আসে...তাহলে ১২ বছর আগের দুঃস্বপ্নও ফিরে আসবে।ওদিকে...নিজের রুমে ঘুমানোর চেষ্টা করছে সাইফা।হঠাৎ—টিং!নতুন মেসেজ।Unknown Number কাঁপা হাতে সে খুলল।ভেতরে শুধু একটা লাইন।"তোমার সবচেয়ে বড় ভুল কী জানো, সাইফা?"আর নিচে— "তুমি এখনও সাইফকে বিশ্বাস করো।"সাইফার বুক ধক করে উঠল।তারপর দ্বিতীয় মেসেজ এল।"কিন্তু সত্যটা জানলে..."

"তুমি সবচেয়ে বেশি ভয় পাবে তাকে।"জানালার বাইরে বজ্রপাত হলো।আর প্রথমবারের মতো...সাইফার মনে প্রশ্ন জাগল

সাইফ কি সত্যিই সবকিছু বলছে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ছবির পেছনের নাম শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন