সাইফা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।তার হাতের ফোনটা কাঁপছে।স্ক্রিনে এখনও সেই ছবিটা দেখা যাচ্ছে।ছোট্ট সাইফা।ছোট্ট আরমান।আর তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে তরুণ সাইফ।তার বুকের ভেতর কেমন একটা শূন্যতা তৈরি হলো।যদি সাইফ এতদিন সব জানত...তাহলে সে কেন কিছু বলেনি?ধীরে ধীরে সে মাথা তুলে সাইফের দিকে তাকাল।
— "তুমি জানো আরমান কে।"নীরবতা।
— "তুমি জানো আমি তাকে চিনতাম।"নীরবতা।
— "তাহলে আমাকে বলোনি কেন?"সাইফের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।তার চোখে এমন একটা কষ্টের ছায়া ফুটে উঠল যা সাইফা আগে কখনও দেখেনি।
— "কারণ আমি চাইনি তুই আবার কষ্ট পাস।"সাইফা হতবাক।
— "কষ্ট?"সাইফ কিছুক্ষণ চুপ রইল।তারপর ধীরে ধীরে বলল,
— "বারো বছর আগে যা হয়েছিল... সেটা শুধু একটা দুর্ঘটনা ছিল না।"সাইফার বুক কেঁপে উঠল।ঠিক তখনই—উপরে থেকে সাফোয়ানের চিৎকার শোনা গেল।
— "সাইফ ভাই!"
— "সাইফ ভাই!"কয়েক সেকেন্ড পর সাফোয়ান আর রিয়ান সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এল।সাফোয়ান চারপাশে তাকিয়ে বলল,
— "ওয়াও!"
— "এইখানে তো পুরো সিনেমার সেট বানানো যায়!"রিয়ান মাথা নাড়ল।
— "তুমি সবকিছুকে সিনেমা ভাবো কেন?"
— "কারণ আমার জীবন dramatic।"এই পরিস্থিতিতেও সাইফার মুখে হালকা হাসি ফুটে উঠল।কিন্তু সেই হাসি মিলিয়ে গেল যখন সাফোয়ান দেয়ালের একটা ফ্রেমের সামনে থেমে গেল।তার মুখের রং বদলে গেল।
— "না..."সে আস্তে বলল।
— "কী হয়েছে?"রিয়ান জিজ্ঞেস করল।সাফোয়ান কাঁপা হাতে একটা ছবি নামাল।ছবিটায় পুরো পরিবার।কিন্তু একজনের মুখ ছিঁড়ে ফেলা।নিচে লেখা—আরমান চৌধুরী
সাইফার বুক ধক করে উঠল।চৌধুরী?তাহলে আরমান বাইরের কেউ ছিল না।সে পরিবারেরই একজন।
— "সে কে?"সাইফা ফিসফিস করে বলল।ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল।অবশেষে সাফোয়ান নিচু গলায় বলল,
— "সে ছিল আমাদের পরিবারের সবচেয়ে প্রিয় ছেলে।"
— "তাহলে তার সব ছবি নষ্ট করা হয়েছে কেন?"কেউ উত্তর দিল না।ঠিক তখনই—একটা পুরোনো ডায়েরি মেঝেতে পড়ে গেল।সাইফা দ্রুত সেটা তুলে নিল।প্রথম পাতাটা খুলতেই তার নিঃশ্বাস আটকে গেল।সেখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা— "যদি আমি মারা যাই..."
"তাহলে জেনে রেখো, এটা দুর্ঘটনা ছিল না।"নিচে স্বাক্ষর আরমানের। ঘরের বাতাস যেন হঠাৎ ভারী হয়ে উঠল।দূরে বজ্রপাত হলো।আর সেই মুহূর্তে—বাড়ির বাইরে একটা কালো গাড়ি এসে থামল।গাড়ি থেকে নামল এক অচেনা লোক।লম্বা মনে হয় ৬ ফুট।কালো কোট পরা।তার ঠোঁটে অদ্ভুত হাসি।সে বাড়িটার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল—"অবশেষে...""খেলা শুরু হলো।"তার হাতে একটা পুরোনো ছবি।ছবিটায়—ছোট্ট সাইফা।লোকটা ছবির ওপর আঙুল বুলিয়ে মৃদু হেসে উঠল।আর ঠিক তখনই...সাইফার ফোনে আরেকটা মেসেজ এল। Unknown Number
"তোমার চারপাশে সবাই মিথ্যা বলছে।"