সাইফার হাত থেকে ফোনটা মেঝেতে পড়ে গেছে।তার চোখ স্থির হয়ে আছে স্ক্রিনের দিকে। "আরমান মারা যায়নি।"এই চারটা শব্দ যেন তার মাথার ভেতর বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
— "সাইফা?"সাফোয়ানের কণ্ঠ শুনে সে চমকে উঠল।
— "কি হয়েছে?"রিয়ানও উদ্বিগ্ন মুখে তাকিয়ে আছে।সাইফা ধীরে ধীরে ফোনটা তুলে নিল।তারপর স্ক্রিনটা সবার সামনে ধরল।এক মুহূর্তের জন্য সবাই স্থির হয়ে যায়।সাফোয়ানের মুখের রং ফ্যাকাশে হয়ে গেল।রিয়ান বিভ্রান্ত।আর...সাইফ।তার চোখ দুটো হঠাৎ বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গেল।
— "ফোনটা আমাকে দে।"
— "না।"প্রথমবার সাইফার কণ্ঠে এমন জেদ শোনা গেল।
— "সাইফা।"
— "না।"সে এবার সোজা সাইফের চোখের দিকে তাকাল।
— "সবাই আমাকে মিথ্যা বলছো।"ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
— "আজকে আমি সত্য জানব।"সাইফ কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।তারপর ধীরে ধীরে মুখ ফিরিয়ে নিল।মনে হলো...সে ভেতরে ভেতরে কোনো যুদ্ধ লড়ছে।ঠিক তখনই—উপরে বজ্রপাত হলো।সাথে সাথে পুরো বাড়ির বিদ্যুৎ চলে গেল।চারদিক অন্ধকার।
— "আহ!"রিয়ান চমকে উঠল।
— "আমি কিছু দেখি না!"সাফোয়ান সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— "ভয় পাস না।"
— "তুইও তো ভয় পাইছিস।"
— "আমি dramatic হচ্ছি।"এই অবস্থাতেও সাইফার মুখে হালকা হাসি ফুটে উঠল।কিন্তু পরের মুহূর্তেই—কেউ একজন উপরের তলায় হাঁটতে শুরু করল।ধাপ...ধাপ...ধাপ...
সবাই চুপ।এই সময়ে উপরে থাকার কথা কারও না।আবার শব্দ।ধাপ...ধাপ...ধাপ...সাইফ মুহূর্তেই সতর্ক হয়ে গেল।তার চোখ সরু হয়ে এলো।
— "তোমরা সবাই এখানে থাকো।"
— "কোথায় যাচ্ছো?"সাইফা জিজ্ঞেস করল।
— "দেখে আসছি।"
— "আমি যাব।"
— "না।"
— "কেন?"
— "কারণ আমি বলেছি।"সাইফার ভ্রু কুঁচকে গেল।লোকটা সবসময় এমন আদেশ দেয় কেন?তবুও...অদ্ভুতভাবে তার কথা শুনতে ইচ্ছে করে।সাইফ উপরে উঠে গেল।অন্ধকার করিডোর।বজ্রপাতের আলো মাঝে মাঝে চারপাশ আলোকিত করছে।কিন্তু...কেউ নেই।হঠাৎ—তার চোখ পড়ল করিডোরের শেষে।একটা ছায়া।লম্বা একজন মানুষ।কালো কোট পরা।দুই সেকেন্ডের জন্য সে দাঁড়িয়ে রইল।তারপর...অদৃশ্য।সাইফের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।
— "অসম্ভব..."কারণ...ওই হাঁটার ভঙ্গিটা সে চিনেছে।খুব ভালো করেই চিনেছে।নিচে—সাইফা একা একা ঘরটার ভেতর ঘুরছে।হঠাৎ তার চোখ পড়ল আরমানের ডায়েরির শেষ পাতায়।সে দ্রুত খুলল।সেখানে মাত্র এক লাইন লেখা।--- "যদি আমি হারিয়ে যাই...""সাইফ জানবে আমাকে কোথায় খুঁজতে হবে।"সাইফার বুক ধক করে উঠল।সাইফ জানে?তাহলে...ঠিক সেই মুহূর্তে—তার ফোনে একটা নতুন ছবি এলো।Unknown Number.কাঁপা হাতে সে খুলল।আর তারপর...তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল।ছবিটা আজকের।পুরোনো না।একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে বৃষ্টির মধ্যে।মুখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না।কিন্তু ছবির নিচে লেখা— "আমি ফিরে এসেছি।"— আরমান
সাইফার হাত কাঁপতে শুরু করল।আর একই সময়ে—উপরে দাঁড়িয়ে থাকা সাইফ ফিসফিস করে বলল, "না...""এটা হতে পারে না..."কারণ তার মনে হচ্ছে—যে মানুষটাকে সবাই মৃত ভেবেছিল...সে সত্যিই ফিরে এসেছে।