সাইফা সারারাত ঘুমাতে পারল না।বারবার তার মাথায় ঘুরছে একটা নাম।আরিফ।আর তার থেকেও বেশি...সাইফ।কেন জানি আজকাল সাইফকে দেখলেই তার বুকের ভেতর অদ্ভুত কিছু হয়।তার হাসি।তার রাগ।তার চুপচাপ খেয়াল রাখা।সবকিছু।সে বিরক্ত হয়ে বালিশ দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলল।
— "কি হচ্ছে আমার?"কিন্তু উত্তর তার জানা নেই।পরদিন সকাল।সাইফা বারান্দায় বসে স্কেচ করছিল।হালকা বাতাস বইছে।তার স্কেচবুকের পাতায় অজান্তেই একটা মুখ ফুটে উঠল।ধারালো চোয়াল।গভীর চোখ।কালো চুল।সাইফ।মুখটা সম্পূর্ণ হওয়ার পর সে নিজেই থমকে গেল।
— "ওহ না..."সে তাড়াতাড়ি স্কেচবুক বন্ধ করে ফেলল।ঠিক তখনই
— "কি লুকাচ্ছিস?"পেছন থেকে সাফোয়ান ।সাইফা চমকে উঠল।
— "কিছু না।"
— "আচ্ছা?"সাফোয়ান সন্দেহভরে তাকাল।
— "তাহলে মুখ টমেটোর মতো লাল কেন?"
— "সাফোয়ান!"
— "ওহহহ!"
— "আমি বুঝে গেছি।"
— "চুপ!"সাফোয়ান দৌড় দিল।আর সাইফা বালিশ ছুড়ে মারল।
সন্ধ্যা।চৌধুরী ম্যানশনের বাগান।বৃষ্টি পড়ার আগের সেই পরিচিত গন্ধ।সাইফ একা দাঁড়িয়ে ছিল।হাতে কফির কাপ।চোখ দূরে কোথাও।মনে হচ্ছে সে অনেক কিছু ভাবছে।ঠিক তখনই সাইফা এসে দাঁড়াল।
— "একটা কথা জিজ্ঞেস করব?"
— "হুম।"
— "সবাইকে তুমি এভাবে রক্ষা করো?"সাইফ ভ্রু তুলল।
— "মানে?"
— "মানে..."সাইফা ইতস্তত করল।
— "সবাইকে নিয়ে কি এত চিন্তা করো?"কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।তারপর সাইফ খুব শান্ত গলায় বলল
— "না।"
— "তাহলে?"সাইফ তার দিকে তাকাল।সেই গভীর বাদামি চোখ।যেটার দিকে বেশি সময় তাকিয়ে থাকা বিপজ্জনক।কারণ মানুষ ডুবে যেতে পারে।
— "কিছু মানুষ আলাদা হয়।"সাইফার হৃদস্পন্দন থেমে যাওয়ার উপক্রম হলো।
— "আমি কি সেই মানুষদের একজন?"বাতাস থেমে গেল যেন।বৃষ্টি নামার আগে পৃথিবী যেমন নিস্তব্ধ হয়ে যায়...তেমন।সাইফ কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল।তারপর খুব আস্তে বলল
— "হ্যাঁ।"মাত্র একটা শব্দ।কিন্তু সেই একটা শব্দেই সাইফার হৃদয় কেঁপে উঠল।প্রথমবার...সে নিজের অনুভূতিটা বুঝতে পারল।এটা শুধু পছন্দ না।শুধু শ্রদ্ধাও না।এর চেয়ে বেশি কিছু।অনেক বেশি।ঠিক তখনই ধাম!একটা গুলির শব্দ।বাগানের নীরবতা ভেঙে গেল।সাইফ মুহূর্তেই সাইফাকে নিজের দিকে টেনে নিল।আর পরের সেকেন্ডেই একটা গুলি তাদের পাশের গাছে গিয়ে লাগল।সাইফার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল।সাইফের হাত তার কাঁধে।শক্ত।সুরক্ষিত।বিপজ্জনকভাবে সুরক্ষিত।দূরে অন্ধকারের মধ্যে একটা ছায়া দাঁড়িয়ে।তার হাতে অস্ত্র।আর সে ধীরে ধীরে হেসে উঠল।
"খেলা এখন শুরু হলো..."লোকটা অদৃশ্য হয়ে গেল।কিন্তু যাওয়ার আগে মাটিতে একটা খাম ফেলে গেল।খামের ওপর লেখা