ফন্ট সাইজ:
থিম:
ছায়ার নজরে

ঠিকানার ওপাশে

লেখক: তাহমিনা

বাগানের ঘটনা ঘটার পর পুরো ম্যানশন যেন বদলে গেল।মাহাদি আর রিয়ানও বুঝতে পারছে এটা আর শুধু রহস্য না।কেউ তাদের নজরে রাখছে।আর সেই "কেউ" তাদের প্রতিটা পদক্ষেপ জানে।সাইফ নিজের রুমে দাঁড়িয়ে খামের ভেতরের কাগজটার দিকে তাকিয়ে আছে।একটা পুরোনো ঠিকানা।শহরের বাইরে।একটা পরিত্যক্ত গুদামঘর।সাইফ নামটা দেখেই বুঝে গেছে।সে জায়গাটা চেনে।খুব ভালো করেই চেনে।কারণ বহু বছর আগে...তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর রাতটার শুরু হয়েছিল সেখান থেকেই।

-পরদিন সকাল।ডাইনিং টেবিলে সবাই বসে আছে।সাফোয়ান টোস্ট খেতে খেতে বলল

— "আমার মনে হয় আমাদের সবাইকে বিদেশে চলে যাওয়া উচিত।"রিয়ান কফিতে চুমুক দিল।

— "কেন?"

— "কারণ এখানে মানুষ মারা যায়, হারিয়ে যায়, আবার ফিরে আসে।"

— "আমার মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে আছে।"সাইফা হেসে ফেলল।আর ঠিক তখনই...সাইফ প্রথমবারের মতো হালকা হাসল।এক সেকেন্ডের জন্য।খুব ছোট্ট একটা হাসি।কিন্তু সাইফা সেটা দেখে ফেলল।আর অদ্ভুতভাবে...তার বুকটা ধক করে উঠল।সে দ্রুত চোখ সরিয়ে নিল।সাফোয়ান সঙ্গে সঙ্গে ফিসফিস করে বলল

— "ধরা খাইছো।"

— "চুপ।"

— "আমি কিছু বলি নাই।"

— "তোর মুখই অনেক কিছু বলে।"

আজকের সারাদিন টা সবার ব্যস্তায় গেছে।

সন্ধ্যা।সবাই মিলে সেই ঠিকানার উদ্দেশ্যে রওনা দিল।সাইফ অবশ্য চেয়েছিল সাইফা না যাক।কিন্তু...সাইফাকে আটকানো ঝড়কে আটকানোর মতোই কঠিন।গাড়ি থামল।সামনে বিশাল এক পরিত্যক্ত গুদামঘর।চারদিকে মরিচা ধরা লোহা।ভাঙা কাঁচ।আর অদ্ভুত নীরবতা।মনে হচ্ছে জায়গাটা বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করছে।কার জন্য?সাইফা জানে না।ভেতরে ঢুকতেই...সবার পা থেমে গেল।কারণ মাঝখানে একটা বড় প্রজেক্টর।আর তার সামনে একটা চেয়ার।চেয়ারটার ওপর একটা খাম।খামের ওপরে লেখা

— "সাইফা।"সাইফা কাঁপা হাতে খামটা খুলল।ভেতরে একটা চাবি।আর একটা কাগজ।কাগজে লেখা—"যদি সত্য জানতে চাও...তাহলে বাম পাশের ঘরটা খুলো।"সাইফ সঙ্গে সঙ্গে বলল

— "না।"

— "কেন?"

— "কারণ এটা ফাঁদ হতে পারে।"সাইফা তার দিকে তাকাল।তারপর খুব শান্ত গলায় বলল

— "আর যদি উত্তরটা ওখানে থাকে?"সাইফ কিছু বলল না।কারণ সে জানে...সাইফার এই একগুঁয়েমিটা কারও কথা শুনবে না।ধীরে ধীরে তারা বাম পাশের দরজার সামনে গেল।চাবিটা তালায় ঢুকানো হলো।ক্লিক...দরজা খুলে গেল।ভেতরে অন্ধকার।পুরো ঘরটা ধুলোয় ভরা।কিন্তু দেয়ালে...শত শত ছবি।সবগুলো একই মানুষের।সাইফা ছোটবেলার।স্কুলের।বর্তমানের।এমনকি গত সপ্তাহেরও। সাইফার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।কে এতগুলো ছবি তুলেছে?কেন?ঠিক তখনই...ঘরের শেষ প্রান্তে থাকা একটা স্পিকারে শব্দ ভেসে এলো।একটা পরিচিত কণ্ঠ।গভীর।বিষণ্ণ।

—"হ্যালো, সাইফা।"সাইফার বুক কেঁপে উঠল।আরমান।

— "যদি তুমি এটা শুনছো...তাহলে তুমি সত্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছো।"সাইফের মুখ মুহূর্তেই শক্ত হয়ে গেল।

—"আর যদি সাইফ তোমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে...তাহলে তাকে জিজ্ঞেস করো—"হঠাৎ শব্দটা থেমে গেল।কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।তারপর আবার কণ্ঠ ভেসে এলো।

"সেই রাতে আগুন লাগার আগে সে কোথায় ছিল?"ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল।সাইফার মুখ ধীরে ধীরে সাইফের দিকে ফিরল।তার চোখে প্রশ্ন।অবিশ্বাস।আর ভয়।কারণ...এই প্রথমবার...আরমান সরাসরি সাইফকে অভিযুক্ত করল।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ঠিকানার ওপাশে শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন