ঘরটা নিস্তব্ধ।এতটাই নিস্তব্ধ যে সবার নিঃশ্বাসের শব্দও শোনা যাচ্ছে।সাইফা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।তার চোখ সাইফের দিকে।আর স্পিকারে এখনও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে সেই প্রশ্ন
—"আগুন লাগার আগে সে কোথায় ছিল?"সাইফের মুখ শক্ত হয়ে গেছে।চোয়াল আঁকড়ে ধরেছে।মনে হচ্ছে সে নিজের ভেতরের ঝড়টা লুকানোর চেষ্টা করছে।
— "সাইফ..."সাইফার কণ্ঠ কেঁপে উঠল।
— "ও কি সত্য বলছে?"দীর্ঘ নীরবতা।
এক সেকেন্ড
দুই সেকেন্ড।কিন্তু সাইফ কোনো উত্তর দিল না।আর সেই নীরবতাই সাইফার বুকের ভেতর কাঁটার মতো বিঁধল।
— "উত্তর দাও!"প্রথমবার সে চিৎকার করে উঠল।সাফোয়ান আর রিয়ান একে অপরের দিকে তাকাল।কারণ তারা আগে কখনও সাইফা আর সাইফকে এভাবে দেখেনি।অবশেষে...সাইফ ধীরে ধীরে বলল— "আমি সেদিন সেখানে ছিলাম।"সাইফার বুক ধক করে উঠল।
— "কি?"
— "আগুন লাগার আগে আমি ওই বাড়িতে ছিলাম।"ঘরটা আবার নিস্তব্ধ হয়ে গেল।সাফোয়ান অবিশ্বাস নিয়ে তাকিয়ে আছে।রিয়ানও হতবাক।
— "কিন্তু..."সাইফা কষ্ট করে বলল
— "তুমি তো বলেছিলে..."
— "আমি অনেক কিছু বলিনি।"তার কণ্ঠ ক্লান্ত।খুব ক্লান্ত।ঠিক তখনই স্পিকার আবার চালু হলো।আরমানের কণ্ঠ।
— "দেখলে?সে কখনো পুরো সত্য বলে না।"সাইফের চোখ অন্ধকার হয়ে গেল।
— "চুপ কর, আরমান।"স্পিকারের ওপাশ থেকে হালকা হাসির শব্দ ভেসে এলো। —
"সত্য শুনতে ভয় পাচ্ছিস?"হঠাৎ প্রজেক্টরটা চালু হয়ে গেল।দেয়ালে একটা ভিডিও ভেসে উঠল।পুরোনো।ঝাপসা।কিন্তু বোঝা যাচ্ছে এটা বহু বছর আগের।আগুন লাগার রাতের।সবাই নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে আছে।ভিডিওতে দেখা গেল
একটা বাড়ি।মানুষ দৌড়াচ্ছে।চিৎকার করছে।ধোঁয়া।তারপর...একটা কালো গাড়ি এসে থামল।গাড়ি থেকে একজন নেমে এল।ভিডিও ঝাপসা।মুখ দেখা যাচ্ছে না।কিন্তু...সাইফ হঠাৎ জমে গেল।কারণ সে মানুষটাকে চিনেছে।খুব ভালো করেই চিনেছে।ভিডিওতে লোকটা বাড়ির দিকে দৌড়ে গেল।আর কয়েক সেকেন্ড পর পুরো ভিডিও বন্ধ হয়ে গেল।স্ক্রিন কালো।নিচে শুধু একটা লাইন ফুটে উঠল।
"আসল খলনায়ক এখনও ছায়ার আড়ালে আছে।"সাইফা ধীরে ধীরে বসে পড়ল।তার মাথা ঘুরছে।সে কাকে বিশ্বাস করবে?আরমান?---নাকি সাইফ?ঠিক তখনই সাইফ তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসল।প্রথমবার।তার চোখে সেই কঠিন দৃষ্টি নেই।শুধু ক্লান্তি।আর একরাশ সত্য লুকিয়ে রাখা কষ্ট।
— "আমার দিকে তাকাও।"সাইফা ধীরে ধীরে তাকাল।
— "আমি তোর কাছে মিথ্যা বলেছি।"তার বুক কেঁপে উঠল।
— "কিন্তু একটা জিনিসে কখনও মিথ্যা বলিনি।"
— "কি?"সাইফ কয়েক সেকেন্ড চুপ রইল।তারপর খুব আস্তে বললো
—"তোকে রক্ষা করতে চাই।"সাইফার হৃদয় অকারণে কেঁপে উঠল।আর ঠিক সেই মুহূর্তে
গুদামঘরের সব আলো নিভে গেলপুরো জায়গা অন্ধকারে ডুবে গেল।আর অন্ধকারের ভেতর থেকে একটা পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এলো
— "খেলা শেষের দিকে যাচ্ছে..."> "সাইফা, এবার সত্যিটা নিজের চোখে দেখার সময় এসেছে।"
কণ্ঠটা কার?আরমান।