ধাম!গুলির শব্দটা এখনও কবরস্থানের বাতাসে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।আরিফ মাটিতে পড়ে গেল।তার সাদা শার্ট লাল রক্তে ভিজে যাচ্ছে।এলিসা চিৎকার করে উঠল।নোভা ভয়ে সাফোয়ানের হাত শক্ত করে ধরল।রিয়ান দ্রুত সাইফার সামনে এসে দাঁড়াল।
— "আপু, পেছনে যাও!"কিন্তু সাইফ ইতিমধ্যেই নড়ে উঠেছে।বজ্রপাতের আলোয় তার চোখ দুটো ভয়ংকর দেখাচ্ছে।যে চোখ দেখে মানুষ সাধারণত দ্বিতীয়বার তাকানোর সাহস পায় না।সে সরাসরি অন্ধকারের দিকে দৌড়ে গেল।যেদিক থেকে গুলি ছোড়া হয়েছিল।অন্ধকার জঙ্গল।ভেজা মাটি।বৃষ্টির ফোঁটা।সাইফ দ্রুত ছুটছে।হঠাৎ...সে একটা ছায়া দেখতে পেল।কালো হুডি পরা একজন মানুষ।লোকটা পিছনে তাকাল।আর এক সেকেন্ডের জন্য মুখটা দেখা গেল।সাইফ থেমে গেল।কারণ...সে মানুষটাকে চিনেছে।
— "অসম্ভব..."তার ঠোঁট থেকে শব্দ বের হলো।এর মধ্যেই লোকটা অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।কবরস্থানে ফিরে...সাইফা আরিফের পাশে বসে আছে।আরিফ কষ্টে শ্বাস নিচ্ছে।তার ঠোঁটের কোণে রক্ত।
-— "আরিফ..."আরিফ কষ্ট করে চোখ খুলল।তারপর সাইফার দিকে তাকিয়ে হালকা হাসল।
— "তুই... ঠিক তোর মায়ের মতো।"সাইফার বুক কেঁপে উঠল।
— "আমার মা কে ছিল?"
— "একজন... খুব সাহসী মানুষ।"
— "আর তুমি?"আরিফ কয়েক সেকেন্ড চোখ বন্ধ রাখল।তারপর বলল
— "আমি তার সবচেয়ে বড় ভুল ছিলাম।"সবাই চুপ।শুধু বৃষ্টির শব্দ।হঠাৎ আরিফ কষ্ট করে নিজের পকেট থেকে একটা পুরোনো চাবি বের করল।চাবিটার গায়ে খোদাই করা—R-13
— "এটা রাখ।"সাইফা চাবিটা হাতে নিল।
— "এটা কী?"
— "রহমান ম্যানশনের... পুরোনো বেজমেন্ট।"সাইফা অবাক।
— "বেজমেন্ট?"-আরিফ মাথা নাড়ল।— "সত্যটা... ওখানে আছে।"ঠিক তখনই সাইফ ফিরে এল।কিন্তু তার মুখ দেখে সবাই থমকে গেল।কারণ সে ফ্যাকাশে।খুব ফ্যাকাশে।সাফোয়ান এগিয়ে এল।
— "কি হইছে?"সাইফ উত্তর দিল না।শুধু আরিফের দিকে তাকিয়ে রইল।আরিফ তাকে দেখে হালকা হাসল।
— "তুইও দেখছিস, তাই না?"সাইফের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।
— "সে বেঁচে আছে।"এই একটা বাক্যেই সবার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
— "কে?"সাইফা ফিসফিস করে বলল।সাইফ কয়েক সেকেন্ড চুপ থাকল।তারপর ধীরে ধীরে বলল— "যাকে আমরা পনেরো বছর আগে মৃত ভেবেছিলাম।"বজ্রপাত হলো।পুরো কবরস্থান আলোয় ভেসে উঠল।আর ঠিক তখনই...সাইফার মাথায় আরেকটা স্মৃতি ফিরে এল।আগুন।চিৎকার।একজন মানুষ।তার হাতে পেট্রোলের ক্যান।আর সেই মানুষটা আগুন লাগানোর আগে বলছে—"আজ থেকে কেউ সত্য জানবে না।"স্মৃতিটা এক সেকেন্ডেই মিলিয়ে গেল।কিন্তু এবার...সাইফা সেই মানুষের মুখের একটা অংশ দেখতে পেরেছে।আর সেটা দেখে তার চোখ বড় হয়ে গেল।কারণ...সে মানুষটাকে আগে দেখেছে।খুব কাছ থেকে।