ফন্ট সাইজ:
থিম:
ছায়ার নজরে

স্কেচবুকের মানুষ

লেখক: তাহমিনা

রাত ২:১৭।পুরো চৌধুরী ম্যানশন নিস্তব্ধ।শুধু সাইফার ঘরের বাতিটা জ্বলছে।বিছানার উপর ছড়িয়ে আছে অসংখ্য কাগজ।পেন্সিল।রং।আর তার প্রিয় sketchbook।কিন্তু আজ সে কোনো ফুল আঁকছে না।কোনো দৃশ্যও না।সে আঁকছে...একজোড়া চোখ।গভীর।ঠান্ডা।রহস্যে ভরা।কয়েক মিনিট পর সে থেমে গেল।তারপর আঁকা ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইল।হঠাৎই তার চোখ বড় হয়ে গেল।

— "আবার!"কারণ ছবিটা আর কারও না।---সাইফের।এ নিয়ে গত দুই সপ্তাহে পাঁচবার এমন হয়েছে।সে যতবার আঁকতে বসে...কোনো না কোনোভাবে সাইফের মুখই উঠে আসে।সাইফা বিরক্ত হয়ে sketchbook বন্ধ করে দিল।

— "পাগল হয়ে যাচ্ছি নাকি?"ঠিক তখনই ফোন বেজে উঠল।সাফোয়ান।কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে চিৎকার।

— "ওই শিল্পী!"

— "কি?"

— "ঘুমাস নাই?"

— "না।"

— "কার ছবি আঁকতেছিস?"সাইফার বুক ধক করে উঠল।

— "তুই কেমনে জানলি আমি আঁকতেছি?"— "আমি সাফোয়ান রহমান, FBI আমার কাছে training নেয়।"সাইফা চোখ উল্টে ফেলল।

— "ফালতু।"

— "আচ্ছা সত্যি বল, ভাইয়ের ছবি আঁকতেছিস?"সাইফা প্রায় ফোন ফেলে দিচ্ছিল।

— "কোন ভাই?"

— "সাইফ ভাই।"কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।তারপর সাফোয়ানের বিকট হাসি।

— "ধরা খাইছস!"

— "চুপ কর!"

— "ওহহহ, শিল্পীর মনে বসন্ত!"

— "সাফোয়ান!"

— "ঠিক আছে, ঠিক আছে।"কল কেটে যাওয়ার পরও সাইফার গাল গরম হয়ে ছিল।পরদিন সকাল।ডাইনিং টেবিলে সবাই একসাথে বসে আছে।রিয়ান,সাফোয়ান,নোভা,সাইফা,আর...সাইফ।নোভা বিদেশ থেকে ভিডিও কলে আছে।স্ক্রিনে এলিসাও দেখা যাচ্ছে।

— "হাই ফ্যামিলি!"নোভা হাত নাড়ল।

— "আমাদের ছাড়া কি রহস্য সমাধান শুরু করে দিছো?"বলল,

— "তোমরা আসো আগে, তারপর করব।"এলিসা হেসে উঠল।

— "সাইফ ভাই কোথায়?"সাইফ তখন সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিল।কালো শার্ট।ঘড়ি।গম্ভীর মুখ।সাইফা অজান্তেই তার দিকে তাকিয়ে রইল।আর ঠিক তখনই...সাইফও তাকাল।

এক সেকেন্ড

দুই সেকেন্ড।চোখে চোখ পড়লো।সাইফা দ্রুত দৃষ্টি সরিয়ে নিল।কিন্তু তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা অনুভূতি কাজ করছে।এলিসা ভিডিও কলে হেসে বলল,

— "আচ্ছা, আমি কি কিছু miss করলাম?"-সাফোয়ান কাশতে লাগল।

— "অনেক কিছু।"সাইফা এবার সত্যিই সাফোয়ানকে খুন করতে চাইল।ঠিক তখনই...রাশেদ চৌধুরী ডাইনিং রুমে ঢুকলেন।সাইফা থমকে গেল।কারণ গত কয়েক সপ্তাহে তার বাবাকে এতটা চিন্তিত কখনও দেখেনি।রাশেদের হাতে একটা পুরোনো ফাইল।আর ফাইলের উপর লেখা R-13সাইফ সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে গেল।

— "আপনি এটা কোথায় পেলেন?"রাশেদ ধীরে ধীরে বললেন,

— "তোমার বাবা পাঠিয়েছেন।"পুরো টেবিল নিস্তব্ধ।সাইফের চোখ সরু হয়ে গেল।

— "বাবা?"এটাই প্রথমবার...রেহান রহমানের নাম সরাসরি আলোচনায় এলো।রাশেদ ফাইলটা টেবিলের উপর রাখলেন।

— "রেহান বলেছে এই ফাইল খোলার সময় হয়ে গেছে।"সাইফা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।কারণ সে প্রথমবার বুঝতে পারল এই রহস্যে শুধু তার পরিবার না...সাইফের পরিবারও জড়িত।আর ফাইলটার ভেতরে কী আছে?সেটাই হয়তো বদলে দেবে সবকিছু।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে স্কেচবুকের মানুষ শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন