ফন্ট সাইজ:
থিম:
ছায়ার নজরে

অন্ধকারের পদচিহ্ন

লেখক: তাহমিনা

পুরো ম্যানশন অন্ধকার।বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর যেন বাড়িটা আরও পুরোনো আর ভয়ংকর লাগছে।ঠক...ঠক...ঠক...উপরের তলা থেকে আবারও শব্দটা এলো।এলিসা ভিডিও কলে চিৎকার করে উঠল

— "ওখানে কেউ আছে!"সাফোয়ান গিলে বললো।— "আমি বলেছিলাম না, এই বাড়িতে ভূত আছে!"রিয়ান বিরক্ত হয়ে বলল

— "তোর জীবনে সবকিছুই ভূত।"

— "কারণ ভূত বাস্তব।"

— "চুপ কর।"সাইফ ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগল।তার হাতে একটা টর্চ।চোখে সেই পরিচিত ঠান্ডা দৃষ্টি।সাইফা নিচে দাঁড়িয়ে আছে।কিন্তু তার অস্থির লাগছে।কেন জানি মনে হচ্ছে...আজ কিছু একটা খারাপ ঘটবে।হঠাৎ...উপর থেকে একটা শব্দ।ধাম!যেন কিছু পড়ে ভেঙে গেল।"সাইফ!"অজান্তেই চিৎকার করে উঠল সাইফা।পুরো ঘর চুপ।কারণ সবাই প্রথমবার দেখল সাইফার কণ্ঠে কতটা ভয় ছিল।কতটা চিন্তা ছিল।সাফোয়ান ভ্রু নাচাল।

— "ওহহ..."সাইফা সঙ্গে সঙ্গে তাকাল।—

"একটা কথাও বলবি না।"

— "আমি কিছুই বলি নাই।"নোভা ভিডিও কলে হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছে।

— "সাফোয়ান, আমি সব বুঝতেছি।"সাইফা বালিশ ছুড়ে মারতে চাইল।ঠিক তখনই...উপরে আলো জ্বলে উঠল।বিদ্যুৎ ফিরে এসেছে।আর সাইফ সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামল।তার হাতে একটা পুরোনো কাঠের বাক্স।

— "এটাই শব্দ করছিল।"সবাই অবাক।

— "বাক্স?"সাইফ মাথা নাড়ল।বাক্সটার উপর ধুলো জমে আছে।কিন্তু মাঝখানে খোদাই করা একটা নাম E.C.।সাইফার বুক কেঁপে উঠল।

— "এলিনা চৌধুরী..."রাশেদ রাহমান ধীরে ধীরে দাঁড়িয়ে গেলেন।তার চোখে অদ্ভুত কষ্ট।

— "এটা তোমার মায়ের।"প্রথমবার...ঘরের সবাই রাশেদ রাহমানকে এতটা ভেঙে পড়া অবস্থায় দেখল।সাইফা ধীরে ধীরে বাক্সটা খুলল।ভেতরেকিছু ছবি।একটা রুপার লকেট।আর একটা চিঠি।চিঠির উপরে লেখা

—"আমার অরোরার জন্য..."সাইফার নিঃশ্বাস আটকে গেল।আবার সেই নাম।Aurora.তার হাত কাঁপছে।সে ধীরে ধীরে চিঠিটা খুলল।ভেতরে এলিনার হাতের লেখা।

— "যদি তুমি এই চিঠি পড়ো,তাহলে হয়তো আমি তোমার পাশে নেই।কিন্তু জেনে রেখো,তুমি সবসময় আমার আলো ছিলে, অরোরা।সাইফার চোখ ভিজে উঠল।

—"যদি কোনোদিন নিজের পরিচয় ভুলে যাও,তবুও মনে রেখো...তুমি সাহসী।তুমি শক্তিশালী।আর তুমি আমার মেয়ে।"চিঠির শেষ লাইনে লেখা

— "কাউকে সহজে বিশ্বাস কোরো না।এমনকি... আমাদের পরিবারের কাউকেও না।"পুরো ঘর নিস্তব্ধ।রাশেদ রাহমান মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।সাইফও চুপ।কারণ...এলিনা কেন এমন কথা লিখবেন?ঠিক তখনই সাইফার মাথায় আরেকটা স্মৃতি ফিরে এল।একজন মহিলা।আগুন।চিৎকার।আর সেই মহিলা তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলছেন— "দৌড়াও, অরোরা!"সাইফা হঠাৎ কেঁপে উঠল।আর ভারসাম্য হারিয়ে ফেলল।কিন্তু মাটিতে পড়ার আগেই...একজোড়া শক্ত হাত তাকে ধরে ফেলল।সাইফ।

— "সাবধানে।"তার কণ্ঠটা অদ্ভুত নরম।সাইফা কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইল।কেন জানি বুকের ভেতরটা আবার কেঁপে উঠল।আর দূরে দাঁড়িয়ে সাফোয়ান ফিসফিস করে বলল

— "এই গল্প অন্যদিকে যাইতেছে।"

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে অন্ধকারের পদচিহ্ন শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন