সকাল থেকেই ম্যানশনের পরিবেশ অস্বাভাবিক।গত রাতের সেই খাম।সেই হুমকি।আর R-13-এর রহস্য।সবাই বুঝতে পারছে—কেউ তাদের ওপর নজর রাখছে।ডাইনিং টেবিলে আজ অদ্ভুত নীরবতা।রাশেদ চৌধুরী গভীর চিন্তায় বসে আছেন।সাইফ ফোনে কারও সাথে কথা বলছে।তার মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে বিষয়টা গুরুতর।সাইফা চুপচাপ নাস্তা শেষ করে নিজের ঘরে চলে গেল।তার মাথায় এখনো গত রাতের ঘটনাগুলো ঘুরছে।কিন্তু সবকিছুর মাঝেও...একটা মুখ বারবার সামনে চলে আসছে।সাইফ।
— "উফ!"নিজের চুল টেনে বিরক্ত হলো সে।তারপর sketchbook বের করল।আজ সে দৃশ্য আঁকবে।শুধু দৃশ্য।কোনো মানুষ না।দশ মিনিট পর...সে ছবিটার দিকে তাকাল।তারপর নিজের মাথায় নিজেই চাঁটি মারল।কারণ দৃশ্যের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে—একজন লম্বা কালো শার্ট পরা লোক।
— "আমি শেষ!"ঠিক তখনই দরজায় টোকা।ঠক ঠক।
— "কে?"
— "তোর নানা।"সাফোয়ানের গলা।সাইফা দ্রুত sketchbook বন্ধ করল।
— "ভিতরে আস।"সাফোয়ান ঢুকেই সন্দেহজনক চোখে চারপাশ দেখল।
— "তুই কিছু লুকাইতেছিস।"
— "না।"
— "হ্যাঁ।"
— "না।"
— "হ্যাঁ।"দুজন কয়েক সেকেন্ড একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল।হঠাৎ সাফোয়ানবিছানার উপর রাখা sketchbook টেনে নিল।
— "সাফোয়ান!"কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে।পাতা খুলতেই...প্রথম ছবি।সাইফ।দ্বিতীয় ছবি।সাইফ।তৃতীয় ছবি।সাইফ।চতুর্থ ছবি।আবারও সাইফ।সাফোয়ান নির্বাক।তারপর ধীরে ধীরে মুখে শয়তানি হাসি ফুটল।
— "আচ্ছা..."
— "এইটা কি আর্টিস্টিক অবসেশন নাকি অন্য কিছু?"সাইফা বালিশ ছুড়ে মারল।
— "চুপ কর!"
— "আমি কিছুই বলি নাই তো।"
— "বের হয়ে যা!"
— "আমি রিয়ানকে ডাকতেছি।"
— "সাফোয়ান রহমান!"পুরো ঘর হাসিতে ভরে গেল।-ঠিক তখনই নিচ থেকে সাইফের গলা শোনা গেল।
— "সবাই নিচে আসো।"মুহূর্তেই পরিবেশ বদলে গেল।ড্রইংরুমে সবাই জড়ো হলো।সাইফ টেবিলের উপর একটা পুরোনো নকশা রাখল।
— "এটা রহমান ম্যানশনের পুরোনো ম্যাপ।"সাফোয়ান এগিয়ে এলো।
— "R-13?"সাইফ মাথা নাড়ল।
— "হ্যাঁ।"রাশেদ চৌধুরী গভীর নিঃশ্বাস ফেললেন।
— "আজ রাতে আমরা বেজমেন্টে যাব।"পুরো ঘর নিস্তব্ধ।কারণ সবাই জানে—এই দরজার ওপাশে হয়তো পনেরো বছরের পুরোনো সত্য লুকিয়ে আছে।সাইফার বুক ধকধক করছে।ভয়?হয়তো।কিন্তু তার চেয়েও বেশি একটা বিষয় তাকে শান্ত রাখছে।সে একবার পাশে দাঁড়ানো সাইফের দিকে তাকাল।অদ্ভুতভাবে...যখনই সে কাছে থাকে...সবকিছু একটু সহজ মনে হয়।আর দূরে দাঁড়িয়ে মাহাদি ফিসফিস করে বলল
— "হায় আল্লাহ, এ তো পুরাই প্রেমে পড়ে গেছে।"সাইফা এবার সত্যিই তাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করতে লাগল।