ফন্ট সাইজ:
থিম:
ছায়ার নজরে

R-13 বেজমেন্ট

লেখক: তাহমিনা

রাত ১১:৪০

পুরো ম্যানশন নিস্তব্ধ।কিন্তু আজ কেউ ঘুমাবে না।কারণ আজ...R-13 বেজমেন্টের দরজা খোলা হবে।সাইফ কালো জ্যাকেট পরে নিচে দাঁড়িয়ে আছে।রাশেদ চৌধুরী,রিয়ান,সাফোয়ান, সাইফা।সবাই প্রস্তুত।

— "শেষবার জিজ্ঞেস করছি।"সাইফ গম্ভীর গলায় বলল।

— "সবাই নিশ্চিত?"সাফোয়ান শুকনো মুখে বলল— "না।"রিয়ান তাকাল।

— "তাহলে এসেছিস কেন?"

— "কৌতূহল।"

— "তুই একদিন কৌতূহল নিয়েই মরবি।"সাফোয়ান মাথা নাড়ল।

— "সেটাও সম্ভব।"পরিস্থিতি যতই ভয়ংকর হোক, মাহাদি নিজের স্বভাব বদলায় না।পুরোনো করিডোর পার হয়ে সবাই নিচে নামতে লাগল।প্রতিটা সিঁড়ি যেন অতীতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।সাইফার হাত ঠান্ডা হয়ে গেছে।কেন জানি আজ ভয় লাগছে।ঠিক তখনই...একটা শক্ত হাত তার হাতটা ধরল।সাইফ।

— "ভয় লাগছে?"সাইফা ধীরে মাথা নাড়ল।

— "একটু।"সাইফ শান্ত গলায় বলল

— "আমি আছি তো।"কথাটা খুব সাধারণ।কিন্তু অদ্ভুতভাবে সাইফার বুকটা হালকা হয়ে গেল।দূরে দাঁড়িয়ে সাফোয়ান সব দেখছে।

— "আমি কিছুই দেখি নাই।"রিয়ান তাকে কনুই মারল।

— "চুপ।"অবশেষে তারা বেজমেন্টের শেষ প্রান্তে পৌঁছাল।সেখানে একটা লোহার দরজা।ধুলোয় ঢাকা।জং ধরা।দরজার গায়ে লেখা—R-13 সাইফ গভীর নিঃশ্বাস নিল।তারপর চাবিটা ঢুকাল।ক্লিক।দরজা খুলে গেল।ভেতরটা অন্ধকার।ঠান্ডা।আর বহু বছরের পুরোনো গন্ধ।টর্চের আলো ফেলতেই দেখা গেল—পুরোনো ফাইল।বাক্স।কিছু কম্পিউটার।আর দেয়ালের উপর বিশাল একটা ছবি।ছবিটা দেখে সবাই থমকে গেল।কারণ সেখানে—রেহান রহমান, এলিনা চৌধুরী, মাহবুব রহমান, রাশেদ চৌধুরী চারজন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে।ছবির নিচে লেখা—PROJECT AURORA সাইফার নিঃশ্বাস আটকে গেল।আবার সেই নাম।ঠিক তখনই...রাশেদ চৌধুরী ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে গেলেন।তার চোখে কষ্ট।অনুশোচনা।

— "আমরা ভুল করেছিলাম..."সবাই তাকাল।

— "পনেরো বছর আগে আমরা এমন একটা সত্য খুঁজে পেয়েছিলাম..."

— "যেটা আমাদের খুঁজে পাওয়া উচিত ছিল না।"পুরো ঘর নিস্তব্ধ।সাইফ গম্ভীর গলায় বলল

— "কী সত্য?"রাশেদ চৌধুরী উত্তর দেওয়ার আগেই...হঠাৎ একটা শব্দ।বিপ!সবাই চমকে উঠল।ঘরের এক কোণায় থাকা পুরোনো কম্পিউটার নিজে থেকেই চালু হয়ে গেছে।স্ক্রিনে ধীরে ধীরে একটা ভিডিও ভেসে উঠল।ভিডিওর মানুষটাকে দেখে সাইফ জমে গেল।কারণ...স্ক্রিনে দাঁড়িয়ে আছে—রেহান রহমান।সাইফের বাবা।ভিডিওটা সম্ভবত বহু বছর আগের।রেহানের মুখে ক্লান্তি।চোখে উদ্বেগ।তিনি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বললেন

—"যদি তোমরা এই ভিডিও দেখো...তাহলে বুঝবে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।"ঘরের সবাই নিঃশ্বাস বন্ধ করে শুনছে।

— "আর যদি অরোরা বেঁচে থাকে...তাহলে তাকে সত্যটা জানাতেই হবে।"সাইফার হাত কাঁপতে শুরু করল।কারণ এবার আর কোনো সন্দেহ নেই।Aurora নামটা তার সাথেই জড়িত।আর ঠিক তখনই...ভিডিওর পেছনে এক ছায়ামূর্তি দেখা গেল।একজন মানুষ।কালো পোশাকে।যাকে দেখে রাশেদ চৌধুরীর মুখের রং উধাও হয়ে গেল।তিনি ফিসফিস করে বললেন

— "অসম্ভব..."

— "সে তো মারা গেছে..."

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে R-13 বেজমেন্ট শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন