রাতটা অদ্ভুত শান্ত।গত রাতের হামলার পরও ম্যানশনের আকাশে আজ যেন অন্যরকম প্রশান্তি।তবুও কারও মন শান্ত নয়।বিশেষ করে রাশেদ চৌধুরীর।তিনি বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিচের বাগানের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। দূরে সাইফ আর সাইফা পাশাপাশি হাঁটছে। খুব বেশি কথা বলছে না, তবুও দুজনের মাঝের নীরবতাটাও যেন কথায় ভরা।ইমতিয়াজ ধীরে ধীরে তার পাশে এসে দাঁড়ালেন।
— "এলিনা থাকলে কী করত জানো?"রাশেদ মৃদু হেসে বললেন,
— "জানি। আমার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলত।"
— "তাহলে তুমি দেরি করছো কেন?"রাশেদ কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।তারপর ধীরে বললেন,
— "আমি শুধু চাই ওরা নিরাপদ থাকুক।"
— "সাইফের চেয়ে বেশি নিরাপত্তা অরোরাকে আর কে দিতে পারবে?"প্রশ্নটার উত্তর তার কাছে ছিল না।কারণ সত্যি বলতে, গত কয়েক সপ্তাহে তিনি নিজের চোখেই দেখেছেন—যখনই বিপদ এসেছে, সাইফ সবার আগে সাইফার সামনে দাঁড়িয়েছে।পরদিন সকাল।ডাইনিং টেবিলে আজ অস্বাভাবিক রকমের প্রাণচাঞ্চল্য।নোভা ভিডিও কলে।এলিসাও আছে।সাফোয়ান যথারীতি ঝামেলা শুরু করে দিয়েছে।
— "আচ্ছা, একটা প্রশ্ন।"রিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— "আবার কী?"— "যদি কেউ সারাক্ষণ একজনের ছবি আঁকে, তার খোঁজ রাখে, তার আঘাত লাগলে কাঁদে, তাহলে সেটা কী?"সাইফা পানিতে বিষম খেল।নোভা হো হো করে হেসে উঠল।এলিসা সরাসরি বলল,
— "প্রেম।"
— "একদম ঠিক উত্তর!"
— "সাফোয়ানের বাচ্চা!"সাইফার মুখ পুরো লাল।সাফোয়ান নিজের প্রাণ বাঁচাতে চেয়ার সরিয়ে দূরে চলে গেল।অন্যদিকে সাইফ শান্তভাবে কফি খাচ্ছে।কিন্তু তার ঠোঁটের কোণে লুকানো হাসিটা সাইফার চোখ এড়াল না।আর সেটাই তাকে আরও অস্বস্তিতে ফেলল।নাস্তার পর সবাই ড্রইংরুমে বসেছিল।কথা ঘুরতে ঘুরতে পরিবার, ভবিষ্যৎ আর নিরাপত্তার প্রসঙ্গে চলে গেল।ইমতিয়াজ হঠাৎ বললেন,
— "একটা সময় ছিল যখন পরিবারের বড়রা বিপদের সময় একটা সিদ্ধান্ত নিত।"
— "কী সিদ্ধান্ত?" রিয়ান জিজ্ঞেস করল।
— "যাদের একসাথে থাকার কথা, তাদের আর দেরি না করিয়ে দেওয়া।"ঘরটা কয়েক সেকেন্ডের জন্য চুপ হয়ে গেল।তারপর সাফোয়ান ধীরে ধীরে সাইফ আর সাইফার দিকে তাকাল।আবার ইমতিয়াজের দিকে তাকাল।তারপর নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল,
— "আমি কিছু বুঝি নাই, কিন্তু সব বুঝছি।"সাইফা এবার সত্যিই সোফার কুশন ছুড়ে মারল।হাসাহাসির মাঝেও রাশেদ চুপ ছিলেন।শেষ পর্যন্ত তিনি ধীরে বললেন,
— "হয়তো... কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের ভাবার সময় এসেছে।"সাইফ ভ্রু কুঁচকাল।সাইফাও অবাক হয়ে তাকাল।রাশেদ আর কিছু বললেন না।কিন্তু তার কথার অর্থ সবাই বুঝে গেছে।বিশেষ করে মাহাদি।ঘর থেকে বের হয়েই সে রিয়ানকে বলল,
— "ভাই, আমার মনে হয় খুব শিগগিরই বড় কোনো অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে।"
— "তুই সবসময় নাটক করিস।"
— "দেখিস, আমি ঠিকই বলছি।"সন্ধ্যার দিকে সাইফা একা বাগানে বসে ছিল।হালকা বাতাস বইছে।তার মাথায় ঘুরছে সারাদিনের কথাগুলো।হঠাৎ পাশের বেঞ্চে কেউ এসে বসল।সাইফ।কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ।তারপর সাইফ ধীরে বলল,
— "আজ সারাদিন তোমাকে অনেক বিব্রত করা হয়েছে।"সাইফা হালকা হেসে ফেলল।
— "অনেক?"
— "বিশেষ করে সাফোয়ান।"দুজনেই হেসে উঠল।কয়েক সেকেন্ড পরে আবার নীরবতা।কিন্তু এবার নীরবতাটা অস্বস্তিকর নয়।বরং শান্ত।সাইফ আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,
— "যাই হোক না কেন..."
— "আমি তোমাকে কিছু হতে দেব না।"সাইফার বুক কেঁপে উঠল।সে ধীরে ধীরে সাইফের দিকে তাকাল।আর প্রথমবার নিজের মনকে মিথ্যে বলার চেষ্টা করল না।হ্যাঁ।সে প্রেমে পড়েছে।খুব গভীরভাবে।আর ঠিক তখনই...ম্যানশনের বাইরে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা একজন মানুষ ফোন কানে নিয়ে বলল,