সাইফা ভয় আর অদ্ভুত এক উত্তেজনার মিশ্র অনুভূতিতে ফিসফিস করে বলল,
—“এমন চিহ্ন চাই না আমি...”
সাইফের ঠোঁটের কোণে দুষ্টু এক হাসি ফুটে উঠল।
—“তুমি না চাইলেও আমি দিয়ে দেব, সেক্সি গার্ল।”
কথাটা শুনেই সাইফার গাল লাল হয়ে উঠল। লজ্জায় সে চোখ বন্ধ করে ফেলল। তার বুকের ভেতর তখন হৃদস্পন্দন যেন স্বাভাবিক ছন্দ ভুলে গেছে। সে বুঝতে পারছিল না, সাইফের পরের পদক্ষেপ কী হতে চলেছে।
সাইফ ধীরে ধীরে তার স্তনের দিকে ঝুঁকে এলো। দু'জনের মাঝের দূরত্ব কমতে কমতে এক অদ্ভুত নীরবতা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ল। যখন সাইফ এর ঠোঁটের ছোয়া লাগাতে। সাইফার শরীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও হালকা কেঁপে উঠল। কিছু বলতে গিয়েও যাবে। ঠিক তখনই সাইফ তার স্তনে কামড় বসিয়ে দেয়।মুহূর্তটা যেন সময়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছিল। লজ্জা, অস্থিরতা আর না-বলা অনুভূতিগুলো মিলে তাদের চারপাশে এক অন্যরকম আবহ তৈরি করেছিল। সাইফার চোখ খুলতেই মুখে বিরক্তির ছাপ ফুটে উঠল।
—"উফফ! এত জোরে কামড় দিছো কেনো?"
সাইফ দুষ্টু হেসে বলল,
—"তোমার অনুভূতিগুলোকে একটু বাইরে আনতে চেয়েছিলাম।"
কথাটা শুনে সাইফা চোখ ছোট করে তার দিকে তাকাল। সে খুব ভালো করেই বুঝে গেছে, আজ সাইফের দুষ্টুমির শেষ নেই।
—"তুমি একদমই অসহ্য!"
—"তবুও তো আমাকে সহ্য করেই চলছো।"
সাইফের উত্তর শুনে সাইফা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। বিরক্ত দেখানোর চেষ্টা করলেও ঠোঁটের কোণে লুকিয়ে থাকা হাসিটা আর আড়াল করতে পারল না।বাইরে রাত আরও গভীর হচ্ছিল। আর কবরের ভেতর ছড়িয়ে ছিল এক অদ্ভুত নীরবতা। সেই নীরবতার মাঝেই সাইফ সাইফার দিকে তাকিয়ে রইল, যেন তার চোখের ভেতর লুকিয়ে থাকা প্রতিটি অনুভূতি পড়ে ফেলতে চাইছে।
সাইফা ধীরে ধীরে দৃষ্টি সরিয়ে নিল।
—"এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?"
সাইফ মুচকি হেসে বলল,
—"কারণ তোমাকে দেখলে সময়টা একটু ধীরে চলে।"
কথাটা শুনে সাইফা আর কিছু বলতে পারল না। শুধু অনুভব করল, তার হৃদস্পন্দনটা আবারও অকারণে একটু বেড়ে গেছে।
সাইফের একগুঁয়েমি দেখে সাইফা ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকাল।
—"যাবা না তো?"
—"না।"
পরের মুহূর্তেই সাইফা ঝুঁকে তার স্তনবৃন্ত হালকা একটা কামড় বসিয়ে দিল।
—"আউচ!"
সাইফ হালকা করে হেসে বলল,
—"তোর যদি খাওয়ার ইচ্ছা ছিল, আগে বলতিস। তাহলে তোকে অন্য কিছু খাইয়ে দিতাম।"
কথাটা শুনে সাইফা এক মুহূর্ত থেমে গেল। তার চোখ ছোট হয়ে এলো, বিরক্তির ভান করলেও গালে হালকা লাল আভা ছড়িয়ে পড়ছিল।
—"ছি তোমার কি মুখে লাগাম নাই?"
সাইফ ধীরে ধীরে তার দিকে তাকাল। সেই চেনা দুষ্টু হাসিটা আবার ঠোঁটে ফিরে এলো।
—"আগে ছিল কিন্তু এখন আর নেই"
কথা শেষ হওয়ার পর সাইফ সরে গেল।
কিছুক্ষণ পর সাইফা নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছে।ধীরে ধীরে সাইফ ও তার নিজের কাপড় ঠিক করে পড়ে ফেলো। সাইফার মুখে তখনও বিরক্তির ছাপ, কিন্তু চোখে লুকানো এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছিল।
সাইফ পাশ থেকে তাকিয়ে ছিল।
—"এখন একটু শান্ত লাগছে তোমাকে।"
সাইফা ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকাল।
—"তুমি না থাকলে আমি আরও শান্ত থাকতাম।"
সাইফা এক পা এগোতেই হঠাৎ তার শরীরের ভেতর দিয়ে তীব্র এক ব্যথা ছড়িয়ে পড়ল।আগের অস্বস্তিটা যেন এক মুহূর্তে বেড়ে গিয়ে অসহনীয় হয়ে উঠল।তার মনে হলো, হাত-পায়ের ভেতরের হাড়গুলো পর্যন্ত কেউ যেন ভেঙে দিচ্ছে—এমন এক টানটান, তীক্ষ্ণ যন্ত্রণা পুরো শরীর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।সে দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না।পা দুটো যেন নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল।
— "আহ…"
চাপা একটা শব্দ বেরিয়ে এলো তার মুখ থেকে।
সে ধীরে ধীরে নিচের দিকে ঝুঁকে পড়ল, চোখে অন্ধকার ঘন হয়ে আসছে।ঠিক তখনই সাইফ দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে ধরে ফেলল।
— "সেক্সি গার্ল! তুমি কি ঠিক আছো?"
তার কণ্ঠে এবার আর আগের সেই ঠান্ডা ভাব নেই—পুরোটা জুড়ে উদ্বেগ।
সাইফা শ্বাস নিতে কষ্ট পাচ্ছিল।
— "আমি… জানি না… খুব ব্যথা করছে…"
তার কণ্ঠ কাঁপছিল।চারপাশের কবরস্থানের নীরবতা যেন আরও ভারী হয়ে উঠল।সাইফ এক মুহূর্তও দেরি করল না।
— "এভাবে দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না।তোমাকে এখান থেকে গাড়িতে নিয়ে বসাতে হবে।"তার চোখে তখন সিদ্ধান্তের দৃঢ়তা, আর ভেতরে চাপা আতঙ্ক—যা সে মুখে প্রকাশ করছে না।সাইফা ব্যথায় প্রায় ভেঙে পড়ছিল।এক মুহূর্ত দেরি না করে সাইফ তাকে সাবধানে কোলে তুলে নিল।
— "সাইফা, শোনো… ভয় পেয়ো না।"
তার কণ্ঠ এবার আর কঠিন নেই, বরং অস্বাভাবিক রকম নরম আর স্থির।কবরস্থানের সেই ভারী নীরবতা ভেঙে দ্রুত পা চালিয়ে সে তাকে গাড়ির দিকে নিয়ে গেল।সাইফার চোখ আধবোজা হয়ে আসছিল, শরীরের ব্যথা আর দুর্বলতায় সে ঠিকমতো কিছুই বুঝতে পারছিল না।কিছুক্ষণের মধ্যেই সাইফ তাকে গাড়ির ভেতরে বসিয়ে দিল।দরজাটা সাবধানে বন্ধ করে দিয়ে সে নিজেও ড্রাইভিং সিটে উঠে বসল।এক মুহূর্ত থেমে সে সাইফার দিকে তাকাল।তার চোখে স্পষ্ট চিন্তা, আর ভেতরে লুকানো অস্থিরতা।গাড়ির ভেতরের বাতাসও যেন ভারী হয়ে গেছে।রাত তখন আরও গভীর, আর কবরস্থানের অন্ধকার ধীরে ধীরে পিছনে মিলিয়ে যাচ্ছে।গাড়িটা রাতের ফাঁকা রাস্তা ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিল।সাইফা সিটে হেলান দিয়ে বসে ছিল, চোখে এখনো ব্যথার ছাপ, কিন্তু সেই ব্যথার মাঝেও কোথাও একটা নরম ক্লান্তি কাজ করছিল।ভেতরের নীরবতাটা আর আগের মতো ভারী লাগছিল না। বরং কোথাও যেন অভ্যাসের মতো একটা সান্ত্বনা এসে গেছে।সে ধীরে ধীরে সাইফের দিকে তাকাল।কণ্ঠটা একটু কাঁপা, একটু অভিমান মেশানো—
— “এইসবের জন্য… এত ব্যথা হবে?”
কথাটা শেষ করেই সে চোখ নামিয়ে নিল।
সাইফ স্টিয়ারিংয়ে একহাতে হালকা চাপ দিয়ে সামনে রাস্তার দিকে তাকিয়েই ছিল। কিছুক্ষণ চুপ। তারপর খুব শান্ত গলায় বলল—
— “ঊনত্রিশ বছরের সাধনা আমি আমার পছন্দের নারীর জন্যই জমিয়ে রেখেছিলাম। তাই হয়তো ঝড়টা একটু বেশিই হয়ে গেছে।”
সে একবার পাশ ফিরে সাইফার দিকে তাকাল।
চোখে কঠোরতা ছিল ঠিকই, কিন্তু তার ভেতরে লুকানো চিন্তা আর যত্নটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল।
সাইফা কিছু বলার আগেই সে আবার মৃদু স্বরে যোগ করল।
—"এখন না হয় একটু সহ্য করে নে,বিয়ের পরে অভ্যাস হয়ে যাবে"
কথাটা শুনে সাইফার বুকের ভেতরটা কেমন যেন কেঁপে উঠল।মানুষটা কথাগুলো এমনভাবে বলল, যেন তার ভেতরে আরও অনেক না বলা গল্প লুকিয়ে আছে।লজ্জায় সে দ্রুত মুখ ফিরিয়ে জানালার বাইরে তাকাল।কিন্তু ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠা ছোট্ট হাসিটা আর লুকাতে পারল না।ভেতরের ব্যথাটা যেন ধীরে ধীরে অন্য কিছুতে বদলে যাচ্ছিল—একটা নিরাপত্তার অনুভূতি, যেটা সে কাউকে আগে কখনও এভাবে অনুভব করেনি।আর সাইফের উপস্থিতি, তার শান্ত চালনা, আর সেই না বলা যত্ন—সব মিলিয়ে রাতটা হঠাৎ করেই একটু বেশি নিজের মতো লাগতে শুরু করল।গাড়িটা এগিয়ে যাচ্ছিল অন্ধকার রাস্তা ধরে।
সে ধীরে ধীরে সাইফের দিকে তাকাল।
— “অভ্যাস?”
তার কণ্ঠে প্রশ্ন ছিল, কিন্তু ভয় কমে এসেছে একটু।
সাইফ খুব শান্তভাবে বলল—
— “হ্যাঁ। যা প্রথমে অচেনা লাগে, সময়ের সাথে সেটাই পরিচিত হয়ে যায়।”
সে একটু থেমে আবার যোগ করল,
— “কিছু ব্যথাও… কিছু মানুষও।”
শেষ কথাটায় অদ্ভুত একটা নরমতা ছিল।সাইফা আর কিছু বলল না।সে শুধু মাথাটা হালকা সিটে হেলিয়ে দিল।বুকের ভেতর ব্যথাটা এখন আর আগের মতো তীব্র না—বরং সেখানে এক ধরনের নিশ্চুপ নির্ভরতা জমে উঠছে।জানালার কাঁচে রাতের শহরের আলো ভেসে যাচ্ছে, আর সেই আলো-অন্ধকারের মাঝখানে তার মনে হচ্ছিল—সত্যিই, কিছু অনুভূতি ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যায়…
আর কিছু মানুষ, না চাইতেও জীবনের অংশ হয়ে যায়।হয়তো ভালোবাসা ঠিক এভাবেই আসে—কোনো ঘোষণা ছাড়া, নিঃশব্দে, ধীরে ধীরে; যতক্ষণ না একদিন বুঝতে পারো, মানুষটা তোমার হৃদয়ের সবচেয়ে আপন জায়গাটায় নিজের নাম লিখে ফেলেছে।
তাদের গাড়িটা ধীরে ধীরে এসে থামল চৌধুরী ম্যানশনের বিশাল লোহার গেটের সামনে।
রাত তখন অনেক গভীর।চারপাশ নিস্তব্ধ। শুধু দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে।গাড়ি থামতেই সাইফ একবার পাশ ফিরে তাকাল।
সাইফা সিটে হেলান দিয়ে বসে আছে। ক্লান্তিতে চোখ দুটো আধবোজা। শরীরের ব্যথা আর রাতের দীর্ঘ যাত্রা তাকে পুরোপুরি অবসন্ন করে ফেলেছে।
— "চল, পৌঁছে গেছি।"
সাইফা চোখ খুলে তার দিকে তাকাল।
— "হুম..."
কিন্তু গাড়ি থেকে নামার চেষ্টা করতেই মুখটা কুঁচকে গেল।সাইফ সেটা খেয়াল করল।
কিছু না বলে সে গাড়ি থেকে নেমে সাইফার পাশের দরজাটা খুলে দিল।
— "নামতে পারবি?"
সাইফা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।তারপর মাথা নেড়ে না বোঝাল।দীর্ঘশ্বাস ফেলে সাইফ ঝুঁকে পড়ল।পরের মুহূর্তেই সাইফা নিজেকে তার শক্ত বাহুর মাঝে আবিষ্কার করল।হঠাৎ এমন হওয়ায় সে একটু চমকে উঠল।
— "ভাইয়া... আমি হাঁটতে পারব।"
— "মিথ্যা বলিস না।"
শান্ত গলায় বলল সাইফ।
— "আজ অনেক হয়েছে। চুপচাপ থাক।"
সাইফা আর কিছু বলল না।
মাথাটা অজান্তেই সাইফের কাঁধের কাছে হেলান দিয়ে দিল।
চৌধুরী ম্যানশনের লম্বা পথ পেরিয়ে সাইফ ধীর পায়ে ভেতরে ঢুকল।রাতের নিস্তব্ধতায় শুধু তাদের পায়ের শব্দই শোনা যাচ্ছিল।সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে সে সাইফার ঘরের সামনে এসে থামল।দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে খুব সাবধানে তাকে বিছানায় বসিয়ে দিল।
— "গোসল করে ঘুমিয়ে পড়িস।"
সাইফা ক্লান্ত চোখে তার দিকে তাকাল।
— "তুমি?"
— "আমি আছি।"
শুধু এতটুকুই বলল সে।
সাইফা আর কিছু জিজ্ঞেস করল না।কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ক্লান্তিতে তার চোখ বন্ধ হয়ে আসতে ছিল। কিন্তু সে এই ক্লান্তিকে পাত্তা না দিয়ে গোসলে যাবে ঠিক তখনই তার ব্যাথ্যা শুরু হয়। এর জন্য সাইফ তাকে গোসল করিয়ে দেয়। সাইফা নিস্পাপ শিশুর মতো সব বসে বসে দেখলো। তাকে সাইফ যত্ন করে কীভাবে গোসল করিয়ে দিলো।তারপর তাকে কোলে করে বিছানা কাছে নিয়ে আসলো।
সাইফ কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে রইল।তারপর শান্ত স্বরে বলে
—" কিছু খাবা আমার বনলতা"
—" না "
বলার পর সে ঘুমানোর জন্য শুয়ে পড়ে।
আর সাইফ তাকে দেখতে ছিল।
ঘুমন্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে তার চোখে অদ্ভুত এক কোমলতা ফুটে উঠল।তারপর ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরিয়ে দরজাটা টেনে দিল।নিজের রুমে ফিরে এসে সে সরাসরি ওয়াশরুমে ঢুকে গেল।ঠান্ডা পানি শরীরের ওপর পড়তেই দিনের সমস্ত ক্লান্তি ধীরে ধীরে ধুয়ে যেতে লাগল।কিন্তু তার মাথার ভেতর বারবার ভেসে উঠছিল একটাই মুখ।
সাইফা।
আর সেই চিন্তাটাই তাকে বুঝিয়ে দিচ্ছিল—আজকের রাতটা হয়তো তাদের দুজনের জীবনেই নতুন কোনো অধ্যায়ের শুরু হয়ে থাকবে।