---
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলো তাসিফা। আজ তার মন খুব ফুরফুরে, কারণ আজ ভার্সিটিতে ওর প্রথম দিন।
এক্সাইটমেন্টের কারণে রাতে ভালোভাবে ঘুমাতে পারেনি সে। তবে কিছুটা নার্ভাসও বটে। কারণ ঢাকার কোনো কিছুই তেমন চেনা নেই তাসিফার। চিনবেই বা কীভাবে? ওরা সবাই গ্রামে ছিল। তাসিফার জন্য সবাই ঢাকা এসে সেটেল হলো, আর তাসিফার বাবা নতুন দোকানের ব্যবসা দিলেন।
যাক গে, এখন গল্পে আসা যাক।
তাসিফা সবুজ রঙের চুরিদার পড়েছে। চুলে বেনি করে নিয়েছে। মুখে সামান্য সানস্ক্রিম মেখেছে। ঠোঁটে নুড কালারের লিপস্টিক। ব্যাস, এতেই তাসিফাকে পরির মতো লাগছে।
কাঁধে টোট ব্যাগ নিয়ে নিজের রুম থেকে বেরিয়ে দেখল আয়রা বেগম নাশতা সার্ভ করছেন।
-"কিরে বলদের মতো দাঁড়িয়ে আছিস কেনো? আয় বসে পড় খেতে।" বললেন আয়রা বেগম।
তাসিফা জলদি বসে পড়ল। তাড়াতাড়ি খেতে হবে, নাহয় ভার্সিটির জন্য লেট হয়ে যাবে।
আলমগীর আলম বললেন,
-"তাসিফা মামনী, সাবধানে যাবে। ভালো করে পড়াশোনা করবে, ঠিক আছে তো?"
তাসিফা ভদ্র মেয়ের মতো মাথা নেড়ে "হ্যাঁ" জানালো।
-"তোমাকে আজ আমি দিয়ে আসব?"
-"না বাবা। আমি একাই যেতে পারব। আমার সমস্যা হলে তোমাকে কল করব।"
আয়রা বেগম কাছে এসে দোয়া-দরুদ পড়ে তাসিফাকে ফু দিয়ে দিলেন।
-"সাবধানে যাবি। আর আয়াতুল কুরসি পড়ে বাসা থেকে বের হবি।"
তাসিফা আয়াতুল কুরসি পড়ে নিলো। অতঃপর সে মিষ্টি হেসে সবাইকে বিদায় দিয়ে বেরিয়ে পড়ল ভার্সিটির উদ্দেশ্যে ।
---
ভার্সিটির প্রথম দিন এসেই রেগিং-এর শিকার হলো তাসিফা।
সামনে দাঁড়িয়ে আছে তিনজন মেয়ে। সবাই ওয়েস্টার্ন ড্রেস পড়ে আছে।
হঠাৎ একটি মেয়ে বলল,
-"তোমাকে একটা কাজ দিবো, সেটা করতে হবে তোমাকে।"
তাসিফা বেশ ভয় পাচ্ছে।
-"কী কাজ আপু?"
পাশের মেয়েটি বলল,
-"একজনকে 'লাভ ইউ' বলতে হবে। ওইযে ব্রাউন কালারের পলো টি-শার্ট পড়া ছেলেটিকে।"
তাসিফা ছেলেটির দিকে তাকিয়ে চমকালো।
কী! এই খ্যাক খ্যাক ওয়ালা লোকটাকে 'লাভ ইউ' বলতে হবে? তারচেয়ে ভালো মরে যাওয়া। তবে এই লোক কি এই ভার্সিটিতে পড়ে?
-"হেই, তোমাকে যা বলেছি তা করো যাও।"
-"আমি পারব না আপু এটা করতে।"
মেয়েটি হুমকি দিল,
-"যদি না করো তাহলে তোমাকে ভার্সিটি থেকে বের করে দিবো। ইউ নো হোয়াট, আমার ড্যাড একজন এমপি। তাই তোমাকে বের করতে ১ সেকেন্ডও লাগবে না।"
পাশের মেয়েটি হাসতে লাগল,
-"থাক রিদি, এমন ভাবে বলিস না। পরে ভয়ে কেঁদে দিবে।"
বলে তিনজন মিলে হো হো করে হাসতে লাগল।
উপায় না পেয়ে তাসিফা জুয়িনের দিকে এগিয়ে গেল।
মেয়েগুলোর মুখে শয়তানি হাসি। কারণ তারা জানে, জুয়িন মেয়েটাকে রাম ধমক দিবে সবার সামনে।এর আগেও অনেক মেয়ে জুয়িনকে প্রপোজ করেছিলো আর জুয়িন সবার সামনে ধমক দিয়েছিল সে মেয়েদের।
তাসিফা ছোট ছোট পা ফেলে জুয়িনের সামনে এসে দাঁড়ালো।
জুয়িনের পাশে সিয়াম আর রিদ দাঁড়িয়ে আছে।
সিয়াম বলল,
-"কি গো আপু? সামনে খাড়াইয়া আছে ক্যান?"
জুয়িনও ফিরলো তাসিফার দিকে।
তাসিফা সরাসরি জুয়িনের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
-"লাভ ইউ।"
বলেই হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরল।
জুয়িন ভ্রু কুঁচকে তাকালো। তাসিফার চোখ দুটো দেখে থমকে গেল। এই মেয়েটার চোখ এতো সুন্দর কেনো?
সিয়াম হৈ হৈ করে উঠল,
-"আইছে আরেক রমনী, ধমক খাইতে!"
জুয়িন ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করল,
-"কে পাঠিয়েছে তোকে?"
তাসিফা তেজি স্বরে বলল,
-"এই আপনি আবারও 'তুই' বলে ডাকছেন আমায়।"
জুয়িন হাত দুটো বুকে গুজে বলল,
-"মাই উইশ। কাউকে কৈফিয়ৎ দিতে পছন্দ করি না।"
তাসিফা মনে গালি দিলো জুয়িনকে।
রিদ বলল,
-"দুজন দুজনকে চিনিস তোরা জুয়িন?"
-"কাল তোদের এই মেয়ের কথাই বলেছিলাম।"
সিয়াম ও রিদ হৈ হৈ করে উঠল।
আর তাসিফা বলদের মতো তাকিয়ে আছে।
-"আমার কি কথা বলেছেন আপনি?"
-"মুড নেই বলার। আর ক্লাসে যা, আমার সামনে আর আসবি না।"
অপমানিত হয়ে তাসিফা আর দাঁড়ালো না। দৌড়ে নিজের ক্লাসে চলে এলো।
ক্লাসে এসে জুয়িনকে হাজারটা গালি দিলো। কতো বড় বেয়াদব এই লোক! আমাকে বলেছে তার সামনে না পড়তে! হুহ, বয়ে গেছে আমার তার সামনে পড়তে।
হঠাৎ তাসিফার মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধি এলো। শয়তানি হাসিও দিলো ।
---
ক্লাস শেষে তাসিফা ক্যান্টিনে এসে বসলো।
হঠাৎ সকালের ঐ মেয়েগুলো আবার সামনে এসে দাঁড়ালো। তাসিফা মাত্রই স্যান্ডউইচ মুখে দিবে, এমন সময় রিদি বলল,
-"বলেছো 'লাভ ইউ'?"
তাসিফা সোজা হয়ে বসে বলল,
-"জ্বি।"
-"মিথ্যে কেন বলছ?"
-"মিথ্যে কেন বলব আপু?"
-"তুমি তাকে 'লাভ ইউ' বললে আর সে তোমাকে কিছু বলেনি?"
-"হ্যাঁ বলেছে।"
-"কি বলেছে?"
-"বলেছে আমাকে কে পাঠিয়েছে।"
-"তুমি কি বলেছো?"
-"আমি কিছু বলিনি।"
মেয়েগুলো যেন শ্বাস নিতে পারলো। তাড়াতাড়ি ক্যান্টিন থেকে বের হয়ে গেল।
তাসিফা এবার নিজের খাওয়ায় মনোযোগ দিলো। হঠাৎ একটি মেয়ে তাসিফার পাশে এসে বসলো..।