ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি কারো নও

পর্ব 4

লেখক: মিশু

---

ভার্সিটিতে ঢুকেই তাসিফা সোজা তাসনিমের পাশে বসে পড়ল। এই একটা মানুষই তো আছে ওর এখানে।

-"এত তাড়াতাড়ি চলে এসেছো?" তাসনিম ভ্রু নাচালো।

তাসিফা হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, 
-"হ্যাঁ। তোমার কাছে পানি হবে? পানি আনতে ভুলে গেছি একদম।"

তাসনিম ব্যাগ থেকে বোতল বের করে দিলো। তাসিফা ঢকঢক করে তিন ঢোক খেয়ে জান বাঁচালো।

হঠাৎ পাশের সিটে ধপ করে দুইটা ছেলে বসে পড়ল।

একটা ছেলে হাত বাড়িয়ে দিলো, 
-"হেই, আমি সাদ। আর এই অভদ্রলোক হলো ইয়াশ।"

ইয়াশ সাথে সাথে সাদের হাত চাপড় দিলো, 
-"এই শালা, আমার পরিচয় আমি দিবো। তুই দিচ্ছিস কেন?"

-"তুই চুপ থাক।" 
-"তুই চুপ থাক শালা।"

তাসিফা আর তাসনিম হা করে ওদের ঝগড়া দেখছে। এ কেমন বিচ্ছু রে বাবা!

তাসনিম ভ্রু কুঁচকে বলল, 
-"ভাই, আপনারা কারা? এখানে কি চাই?"

সাদ সোজা হয়ে বসল একদম ভদ্র ছেলের মতো, 
-"তেমন কিছু না। ফ্রেন্ডশিপ করতে এসেছি। ভার্সিটিতে ফ্রেন্ড সার্কেল ছাড়া মজা হয় নাকি?"

ইয়াশ বলল, 
-"ইয়াহ। তাই ভাবলাম তোদের সাথেই করি।"

তাসিফা অবাক হয়ে বলল, 
-"আমাদের সাথে ফ্রেন্ডশিপ করবেন?"

দুইজন একসাথে চিল্লায় উঠল, 
-"শালা, ফ্রেন্ডশিপ করতে এসেছি আর তুই এখনো "আপনি আপনি" করছিস?"

তাসনিম ফিক করে হাসল, 
-"তাহলে এখন থেকে তুই তোকারি করতে হবে?"

সাদ-ইয়াশ একসাথে মাথা নাড়ল, "হ্যাঁ।"

তাসিফা হাসি চেপে বলল, 
-"ওকে ডান। আজ থেকে আমরা চারজন বন্ধু।"

সাথে সাথে সাদ-ইয়াশ হৈহৈ করে উঠল।

তাসনিম বলল, 
-"তাহলে আজ ট্রিট ইয়াশ দিবে।"

ইয়াশ পকেট চাপড়ে বলল, 
-"ওকে, ভাড়ার টাকা আমি দিবো। খাবারের বিল সাদ দিবে।"

সাদ লাফ দিলো, 
-"এই! ট্রিট তো তোকে দিতে বলেছে!"

তাসনিম পেট চেপে বলল, 
-"ভাই, এখন ক্ষুধায় মরছি। আপাতত ক্যান্টিন থেকে কিছু খাই। পরে না হয় বড় ট্রিট হবে।"

তাসিফা ঘড়ি দেখল, 
-"হুম চল। ক্লাস শুরু হতে ১৫ মিনিট বাকি।"

চারজন ক্যান্টিনের দিকে পা বাড়ালো।

---

ক্যান্টিনে ঢুকতেই তাসিফার চোখ আটকে গেল। জুয়িন বসে আছে বন্ধুদের সাথে। আজ হোয়াইট পলো টি-শার্ট আর ব্ল্যাক ফরমাল প্যান্ট পড়েছে। হাতে রোলেক্সের ঘড়ি, মুখ ক্লিন শেভ।  চুলগুলো কপালে এসে পড়ছে। দেখতে একদম চকলেট বয় লাগছে।

ইয়াশ কনুই দিয়ে গুঁতা দিলো, 
-"কিরে তাসিফা, কার দিকে তাকিয়ে আছিস?"

তাসনিম মুচকি হেসে ফিসফিস করে বলল,
-"আর কার দিকে তাকাবে? জুয়িন ভাইয়ের দিকেই তো।"

তাসিফা চোখ গরম করে তাকালো। তাসনিম সাথে সাথে চুপ হয়ে গেল।

সাদ বলল, 
-"জুয়িন কে আবার?"

তাসনিম বলল, 
-"চিনিস না? আমাদের ভার্সিটির ক্রাশ বয়। ফাইনাল ইয়ারের। ম্যাথ ডিপার্টমেন্টের ব্রাইট স্টুডেন্ট। তবে মানুষটা একটু গম্ভীর, রাগী। আর বেশি কিছু জানি না।"

ইয়াশ ভ্রু নাচিয়ে বলল,
-"বাপরে, এত খবর রাখিস কেমনে?"

-"পুরা ভার্সিটি জানে। শুধু তোরা বাদে।" তাসনিম নাক উঁচালো।

সবাই "ওহ" বলে মাথা নাড়ল।

ইয়াশ চারটা স্যান্ডউইচ আর কোল্ড ড্রিংকস অর্ডার করল।

হঠাৎ তাসিফার চোখ পড়ল জুয়িনের দিকে। জুয়িনও তাকিয়ে আছে। চোখে চোখ পড়তেই তাসিফা চোখ নামিয়ে ফেলল।

জুয়িন ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি দিলো। বিড়বিড় করে বলল, 
"আজ তোকে শায়েস্তা করবোই। আমার গাছ ছিঁড়ার শাস্তি পাবি তুই।"

---

ক্লাসে চারজন নিজেদের জায়গায় বসলো। স্যার ঢুকতেই সবাই সোজা হয়ে বসে পড়ল।

হঠাৎ একটা চিকন ছেলে দরজার কাছে এসে দাড়িয়ে ডাকল, 
-"এখানে তাসিফা কে?"

তাসিফা হাত তুলল,
-"জ্বি আমি। কেন?"

ছেলেটা বলল, 
-"আপনাকে একজন লাইব্রেরিতে ডাকছেন। তাড়াতাড়ি আসেন।"বলেই ছেলেটা হাওয়া হয়ে গেলো।

তাসিফা, তাসনিম, সাদ, ইয়াশ  চারজনের মুখই ফ্যাকাশে।  কে ডাকল তাসিফাকে লাইব্রেরিতে?

-
তাসিফা স্যারের অনুমতি নিয়ে লাইব্রেরির উদ্দেশে পা বাড়ালো।

লাইব্রেরিতে ঢুকে দেখল পুরো রুম ফাঁকা। একটা মানুষও নেই। হঠাৎ লাইব্রেরি রুমের লাইট নিভে গেল। তাসিফা ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠল।

পরমুহূর্তেই শক্তপোক্ত একটা হাত ওর মুখ চেপে ধরল। তাসিফার চোখ বড় বড় হয়ে গেল।

-"ইউ? পেয়েছি তোকে হাতে। এখন পালাবি কীভাবে?"

চেনা কণ্ঠস্বর শুনে তাসিফা যেন একটু স্বস্তি পেল।

ঝাড়া মেরে জুয়িনের হাত মুখ থেকে ছাড়িয়ে বলল, 
-"উফ! একটুর জন্য ভয়ে মরেই যেতাম। এভাবে মুখ ধরার কী আছে, ভাই?"

সাথে সাথে লাইব্রেরির লাইট জ্বলে উঠল।

জুয়িন প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে বলল, 
-"তোর সাহস দেখে আমি অবাক হচ্ছি।"

তাসিফা ভ্রু কুঁচকে বলল, 
-"কেন? আমি কী করেছি?"

জুয়িন ভ্রু নাচিয়ে বলল, 
-"এখন সাধু সাজা হচ্ছে? আমার গাছ কেন ছিঁড়েছিস?"

প্রশ্ন শুনে তাসিফা থতমত খেল, 
-"ক.. কী? কিসের গাছের কথা বলছেন আপনি?"

-"নাটক করলে লাইব্রেরি রুম থেকে বের হতে দেব না।"

তাসিফা একটু চেঁচিয়ে বলল, 
-"উফ! আপনার সমস্যাটা কী, বলবেন? আমার পিছে কেন পড়ে আছেন? আমি কেন আপনার গাছ ছিঁড়তে যাব?"

জুয়িন ওর দিকে এক পা এগিয়ে এসে বলল, 
-"কারণ ছাদে তুই ছাড়া আর কেউ যায়নি।"

-"আর কেউ যায়নি মানে?"

-"কারণ ছাদে তোর একটা কানের দুল পেয়েছি আমি।" বলেই পকেট থেকে কানের দুলটা ওর সামনে ধরল।

তাসিফা হতভম্ব হয়ে নিজের কান চেক করল। দেখল বাম কানের দুলটা নেই।

জুয়িন এবার ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল, 
-"এখন আবার বলিস না, এটা তোর দুল না।"

তাসিফা ছলছলে চোখে তাকিয়ে বলল, 
-"আমি শুধু ফুল ছিঁড়তে নিয়েছিলাম। হঠাৎ আপনাকে নিজের রুম থেকে বের হতে দেখলাম। তখন তাড়াহুড়ো করে ভুল করে ফুলের গাছসহ টেনে নিয়েছিলাম।"

জুয়িন শান্ত চোখে ওর দিকে তাকাল, 
-"এখন কী শাস্তি দেওয়া যায় তোকে, বল?"

-"সরি, আমার ভুল হয়ে গেছে। প্লিজ কোনো শাস্তি দেবেন না।"

জুয়িন এক মুহূর্ত চুপ করে রইল। তারপর বলল, 
-"এভাবে তোকে ছেড়ে দেব না। শাস্তি তোকে কাল দেব। এখন আমার হাতে সময় নেই।" বলেই হনহন করে বেরিয়ে গেল।

তাসিফার ভয়ে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেল। দ্রুত লাইব্রেরি রুম থেকে বেরিয়ে ক্লাসের দিকে দৌড় দিল।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 4 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন