ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি কারো নও

পর্ব 6

লেখক: মিশু

---

তাসিফা নিজের রুম থেকে চুপিচুপি বের হলো। ভালো করে দেখে নিলো তার মা-বাবা এখানে আছে কিনা। আয়রা বেগম আর আলমগীর আলম নিজেদের রুমে আছেন।

তাই তাসিফা ধীরে ধীরে বাসার দরজা খুলে বের হয়ে পড়ল আর দরজাটা বাহির থেকে আটকিয়ে এক দৌড়ে ছাদে এসে পৌঁছালো।

তবে তাসিফার সাথে একটা বিপত্তি ঘটল। তাড়াহুড়ো করে দৌড়ে আসতে গিয়ে ছাদে এসে উষ্টা খেয়ে পড়ল। তাসিফা ব্যথা পেয়েছে। তবে ব্যথার কথা ভুলে আশেপাশে তাকালো, কেউ তাকে এভাবে পড়ে যেতে দেখে নিলো কিনা। দেখে ফেললে তো একদম মান-সম্মান শেষ!

হঠাৎ হাসির শব্দ আসলো জুয়িনের রুমের পাশ থেকে। তাসিফা সেখানে তাকালো। দেখল, জুয়িন তার দিকে তাকিয়ে পেটে হাত দিয়ে হাসছে।

তাসিফা মনে মনে বলল, 
-"ইশ! আমার মানসম্মান শেষ একদম।" 
তাসিফা তাড়াতাড়ি মেঝে থেকে উঠে দাঁড়ালো।

আর জুয়িনের দিকে তেড়ে গেলো, 
-"এই, আপনি হাসছেন কেন?"

জুয়িন নিজের হাসি কন্ট্রোলে আনল এবং নিজের আসল রূপে ফিরে এলো। 
-"সরি? এখন কি হাসির কারণও তোকে বলতে হবে?"

তাসিফা বলল, 
-"আপনি আমাকে দেখে হেসেছেন। আমি লজ্জা পেয়েছি!"

জুয়িন ভ্রু কুঁচকে বলল, 
-"আব্বে, তোর লজ্জাও আছে?"

তাসিফা হতভম্ব হয়ে বলল, 
-"কেন, থাকবে না? আপনার নেই বুঝি?"

জুয়িন এবার তাসিফাকে ধমক দিয়ে বলল, 
-"চুপ থাক। বেশি কথা পছন্দ না আমার।"

তাসিফা বিড়বিড় করে বলল, 
-"বালের পছন্দ না তোর।"

জুয়িন বড় করে শ্বাস নিয়ে বলল, 
-"মেইন কথায় আসা যাক। তুই আমার গাছ ছিঁড়েছিস, তাই তুই-ই আমার সব গাছের যত্ন নিবি।"

তাসিফার মুখ ঝুলে গেলো, 
-"কী! এতগুলো গাছের যত্ন আমি নিবো?"

জুয়িন ভ্রু কুঁচকে বলল, 
-"হ্যাঁ।"

তাসিফা হতভম্ব হয়ে বলল, 
-"এখানে প্রায় ২০০টা ফুল গাছ আছে,আর এগুলোর সেবা করতে করতে আমারই সেবার প্রয়োজন পড়বে।"

জুয়িন নিজের দুই হাত বুকে গুঁজে নিলো। আর বলল, 
-"আমার কথা না মানলে তোর অবস্থা খারাপ হবে, নিশ্চিত থাক।"

তাসিফা মুখ ফুলিয়ে বলল, 
-"শুধু থ্রেট দেন! দূর।"

হঠাৎ জুয়িন তাসিফার চোখের দিকে তাকালো। আচমকা জুয়িন বলে উঠল, 
-"চোখ ঢেকে রাখো মেয়ে, 
আমার ধর্মে নেশা করা হারাম।"

তাসিফা জুয়িনের কথা শুনে অবাক হয়ে গেলো।

তাসিফা হতভম্ব হয়ে বলল, 
-"ক...কী বল...লেন?"

জুয়িনের হুঁশ ফিরল। গম্ভীর হয়ে বলল, 
-"কিছু না। এখন গিয়ে আমার সব গাছে পরিমাণ-মতো পানি দিয়ে আয়, ফাস্ট।"

তাসিফা মুখ লটকিয়ে ফুল গাছগুলোতে পানি দিতে এলো। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তাসিফার মনটা ফুরফুরে হয়ে গেলো। কারণ ছাদের সবগুলো ফুল গাছ ভীষণ স্নিগ্ধ। তবে তাসিফা খেয়াল করল, ছাদের প্রায় ৪০% গাছ-ই টিউলিপ ফুলের।

তাসিফা সবগুলো গাছে পানি দিয়ে এসে জুয়িনের সামনে এসে দাঁড়ালো। এতক্ষণ যাবত জুয়িন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাসিফার গাছে পানি দেওয়ার দৃশ্য উপভোগ করছিল।

-"আমার কাজ শেষ। আমি এখন যাচ্ছি আমার বাসায়।" বলেই ঢেংঢেং করে নিজের বাসায় চলে এলো তাসিফা।

আর অন্যদিকে জুয়িন তাসিফার যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে রইল। হঠাৎ জুয়িন বুকে হাত দিয়ে বলল, 
-"অথচ বুকে ব্যথার কারণটাও তুই হচ্ছিস দিন দিন।"

---

আজকে তাসিফা নাশতা না করেই ভার্সিটিতে চলে এসেছে। সে এসেই নিজের বন্ধুদের পাশে বসে পড়ল।

ইয়াশ বলল, 
-"শালা, আরো লেটে আসতি!"

তাসিফা বলল, 
-"তোর মুখ বন্ধ কর হাবা। গত কাল রাতে ঘুমাতে লেট হয়েছিল তাই আজ সকালে ঘুম থেকে উঠতে লেট হয়েছে, আর  ক্লাসে আসতেও লেট হয়েছে।"

সাদ ভ্রু নাচিয়ে দুষ্টু হেসে বলল, 
-"ওমা! রাতে ঘুমাতে লেট হলো কেন আপু?"

তাসনিম ও ইয়াশ হাসতে লাগল। আর অন্যদিকে তাসিফা বলল, 
-"আস্তাগফিরুল্লাহ! মামা, তোদের মাইন্ড এত পবিত্র কেন রে?"

সাদ বলল, 
-"মা শা আল্লাহ বল, শালার পুত।"

তাসিফা এবার বলল, 
-"গতকাল রাতে জুয়িন ভাইয়া আমাকে ছাদে ডেকেছিল।"

সাদ তওবা করতে করতে বলল, 
-"আল্লাহ! তুই আর জুয়িন ভাইয়া একসাথে রাতে কী করছিলি?"

তাসিফা বলল, 
-"আস্তে কথা বল, বা*ল। আমার কথা আগে শোন পুরোটা।"

তিনজন একসাথে মাথা নেড়ে বলল, 
-"হ্যাঁ, বল।"

তাসিফা গতকালের সম্পূর্ণ কাহিনী খুলে বলল তিনজনের কাছে।

ইয়াশ দাঁত কেলিয়ে বলল, 
-"বাহ, জুয়িন ভাই তো মাগনা মালি পাইছে।"

সাদ বলল, 
-"হুদাই বইন, তুই জুয়িন ভাইয়ের গাছ ছিঁড়তে গেলি! এখন বাঁশ খা।"

তাসনিম বলল, 
-"তোরা চুপ কর তো। পরেরটা পরে  দেখা যাবে।"

হঠাৎ ইয়াশ সামনের দিকে ফিরে  দেখল যে একটি মেয়ে অন্য একটি ছেলের হাত ধরে আছে।

ইয়াশ বুকে হাত দিয়ে নিজের বন্ধুদের বলল, 
-"ভাই, কাপল দেখলে বুকটা ফাইট্টা যায় কেন?"

তাসনিম বলল, 
-"আমগো কেউ নাই যে, এইজন্য।"

তাসিফা বলল, 
-"সাদ, তুই তো একটা রিলেশন করতে পারিস।"

সাদ নিজের কান ধরে বলল, 
-"ভালোবাসা! কানে ধরছি আর না... 
মারা আমি খাইছি, তোমরা না.."

সাদের কথা শুনে সবাই হো হো করে হেসে দিলো।

--
আজকে সবাই ভীষণ খুশি।তাসিফা আর তাসনিমের নাচতে ইচ্ছে করছে।কারণ আগামী কাল নবীন বরন উৎসব।

তাসিফা ও তার বন্ধুরা সবাই সিদ্ধান্ত নিলো যে তারা সবাই একসাথে  ডান্স দিবে।

তাসিফা বলল,
-"শোন একটা কথা।"

সবাই একসাথে বলল,
-"বল শুনছি।"

তাসিফা বলল,
-"আমরা সবাই একসাথে একটা ডান্স দিবো।তারপর আমরা কাপল ডান্স দিবো। যেমন, সাদ আর তাসনিম একসাথে নাচবে,তারপর আমি আর ইয়াশ নাচবো।"

তাসনিম বলল,
-"হ্যা তো।উখে ডিল ফাইনাল।"

ইয়াশ বলল,
-"আমরা রাজি আছি।"

সাদ বলল,
-"আমরা কোথায় ডান্স প্র্যাকটিস করব?"

ইয়াশ বলল,
-"আমার বাসায় করবি?"

তাসিফা বলল,
-"না, আমার বাসায় করব।তোরা সন্ধ্যায় আমার বাসায় চলে আসিস।আমি তোদের এড্রেস কল -এ জানিয়ে দিবো।

তাসনিম বলল,
-"এখন চল ডান্সে নাম দিয়ে আসি সিনিয়রদের কাছে গিয়ে।"

সবাই মাথা নেড়ে "হ্যা" জানালো আর সিনিয়রদের কাছে এলো।

---

তাসিফারা সহ আরো অনেকে ডান্সে নাম দিতে এসেছে। তাসিফারা নাম দিতে গিয়ে ঘটল এক বিপত্তি। কারণ জুনিয়রদের নাচ-গানের নাম লেখার দায়িত্ব পড়েছে জুয়িন ও তার বন্ধুদের।

প্রথমে তাসনিম এগিয়ে গেলো নাম দিতে। 
জুয়িন একবারও তাসনিমের দিকে চোখ তুলে তাকালো না।
শুধু বলল, 
-"নাম?" 
তাসনিম নিজের নাম বলে সরে এলো। একে একে ইয়াশ, সাদ দুজনও নাম দিয়ে এলো। এবার পালা তাসিফার। তাসিফা গুটিগুটি পায়ে জুয়িনের সামনে এসে দাঁড়ালো।

জুয়িন আচমকা তাসিফার দিকে তাকালো। আবার চোখ নামিয়ে ফেলল।

তাসিফার নাম জানা আছে জুয়িনের, তাই তাসিফাকে আর নতুন করে নাম জিজ্ঞেস করল না।

-"যেতে পারিস।"

-"আমার নাম দিয়েছেন নাকি?"

-"কাউকে কৈফিয়ত দিতে পছন্দ করি না।"

তাসিফা মুখটা ভেংচিয়ে নিজের বন্ধুদের কাছে ফিরে এলো।

অন্যদিকে রিদ আর সিয়াম এতক্ষণ যাবত নিজেদের হাসি কন্ট্রোল করে রেখেছিল। এবার দুজন হেসে দিলো।

সিয়াম জুয়িনের পিঠে চাপড় দিয়ে বলল, 
-"ভাই, সত্যি করে বলতো, তুই এই মেয়েটাকে পছন্দ করিস?"

জুয়িন চোখ গরম করে তাকালো সিয়ামের দিকে।

রিদ বলল, 
-"ভাই, এভাবে লুক দিলে চলবে না। তুই কখনো কোনো মেয়ের দিকে সরাসরি তাকাস না আর না ঝগড়া করিস। কিন্তু এই মেয়ের ক্ষেত্রে উল্টোটা তুই।"

জুয়িন ভ্রু কুঁচকে বলল, 
-"পছন্দ-টছন্দ করার সময় নেই আমার। আর আমার খেয়ে-দেয়ে অনেক কাজ আছে যে এই মেয়ের প্রেমে পড়বো, ছেহ।"

---

সন্ধ্যা নামতেই ভন্ডপার্টিরা তাসিফার বাসায় হাজির।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 6 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন