ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি কারো নও

পর্ব 15

লেখক: মিশু

---

তাসিফা চুপিচুপি নিজের রুমে এসে দরজা লাগিয়ে দিলো। বিছানায় গিয়ে আধশোয়া হয়ে "ভন্ডপার্টি" গ্রুপে ভিডিও কল লাগাল।

কল দেওয়ার সাথে সাথেই সবাই জয়েন হয়ে গেলো।

তাসিফা হাই তুলে বলল, 
-"কি করছিস তোরা?"

ইয়াশ চানাচুর চিবাতে চিবাতে বলল, 
-"খাইতেছি। আর কালকে বাসায় কুটনি মেহমানগুলা আসবো বা*ল। এই মেহমানদের বাচ্চাগুলা এক নাম্বারের চুন্নি।"

তাসিফা ভ্রু কুঁচকে বলল, 
-"কি চুরি করেছে?"

ইয়াশ কটমট করে বলল, 
-"গতবার আসছিলো, তখন আমার হেডফোন চুরি করে নিয়ে গেছে। এবার আসলে রুমেই ঢুকতে দিবো না।"

তিনজন কিছুক্ষণ হাসল।
হঠাৎ তাসিফা বলল, 
-"ছাদে গিয়েছিলাম কিছুক্ষণ আগে।"

সবাই একসাথে গোল গোল চোখ করে তাসিফার দিকে তাকালো।

তাসিফা থতমত খেয়ে বলল, 
-"এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন তোরা?"

সাদ বলল, 
-"ছাদে কেন গেলি?"

তাসিফা জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলল, 
-"জুয়িন ভাইয়া আমার সাথে রাগ করে আছে কিনা সেটা জিজ্ঞেস করতে গিয়েছিলাম। তারপর বাকিটা ইতিহাস।"

ইয়াশ দাঁত কেলিয়ে বলল, 
-"বাকিটা ইতিহাস কেন মাম্মা?"

তাসিফা তখন ছাদে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা খুলে বলল।
ঘুষি খেয়ে অজ্ঞান হওয়া থেকে শুরু করে পানি ছিটানো পর্যন্ত।

তাসিফার কথা শুনে ইয়াশ, সাদ আর তাসনিম হাসতে হাসতে শেষ। ইয়াশ তো বিছানা থেকে পড়েই গেলো।

সাদ হাসতে হাসতে বলল, 
-"ভাইরে ভাই! কি ঘুষিটাই না দিলো তোকে। তুই ডিরেক্ট অজ্ঞান হয়ে গেছিস।"

তাসিফা মুখ ফুলিয়ে বলল, 
-"কি বন্ধু আমার কপালে জুটলো! আমার দুঃখে এরা পেট চেপে হাসছে।"

তারপর আবার গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, 
-"আমি কালকে ঘুষির প্রতিশোধ নিবো, হুহ।"

সবাই আবার হাসতে লাগল।
ইয়াশ হঠাৎ সিরিয়াস হয়ে বলল, 
-"ভাই শোন, কালকে তিরান স্যারের ক্লাস আছে। সবাই ম্যাথ ভালো করে বুঝে ক্লাসে আসিস। ওই বেডার টার্গেটে আমরা পড়ে গেছি।"

তাসিফা অন্যমনস্ক হয়ে বলল, 
-"আর পারবো না কিছু করতে। এখন একটু ইনস্টাগ্রামে গিয়ে রিলস দেখব।"

তাসনিম লাজুক হেসে বলল, 
-"আমি ভালো করে প্রিপারেশন নিয়ে যাবো। তিরান স্যারের সামনে ভালো সাজতে হবে তো নাকি?!"

সাদ টিপ্পনী কেটে বলল, 
-"আরেক ঢঙ্গি আসছে! ক্লাস করতে যাবি নাকি স্যারকে পটাতে?"

তাসনিম চোখ টিপে বলল, 
-"দুটোই।"

দশ মিনিট আড্ডা দিয়ে সবাই কল কেটে দিলো।

---

পরের দিন~

আজ ভন্ডপার্টিরা তাড়াতাড়ি ভার্সিটিতে চলে এসেছে। সবাই গিয়ে মাঠের ঘাসের উপর বসে পড়ল। ক্লাস শুরু হতে এখনো ২০ মিনিট বাকি।

তাসিফা পা মেলে বসে ফিসফিস করে বলল, 
-"শোন, আজকে আমি জুয়িন ভাইয়ার গায়ে পানি ঢেলে দিবো।"

সাদ অবাক হয়ে বলল, 
-"কেন?"

তাসিফা কটমট করে বলল, 
-"ভুলে গেলি? গতকাল রাতে জুয়িন ভাইয়া আমাকে ঘুষি মেরে অজ্ঞান করে দিয়েছিল? আজ সেটার প্রতিশোধ নিবো।"

ইয়াশ সাথে সাথে বলল, 
-"শুধু পানি ঢালবি কেন? ডিরেক্ট ভার্সিটির ছাদ থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দে। কাম খাতাম।"

তাসিফা চোখ বড় বড় করে তাকালো, 
-"ওমাগো! থাক তোর সাহায্য লাগবে না আমার। তুই তো ডিরেক্ট আমার ক্রাশকে মেরেই ফেলতে চাইছিস।"

তিনজন হো হো করে হেসে উঠল।

তাসিফা হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, 
-"জুয়িন ভাইয়া মনে হয় এখনই আসবে। উনি ভার্সিটিতে প্রবেশ করতেই আমি দোতলায় চলে যাবো। আর তিনি ভেতরে ঢুকতে নিলেই আমি উপর থেকে উনার উপর পানি ঢেলে দিবো।"

বলেই শয়তানি হাসি দিলো তাসিফা।
ভন্ডপার্টি তিনজন একসাথে "বাহ বাহ" বলে তালি দিলো।

প্ল্যান অনুযায়ী তাসিফা জলদি দোতলায় চলে গেলো। রেলিং ধরে নিচে উঁকি দিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল।

কিছুক্ষণ পর জুয়িন তার বন্ধুদের সাথে গল্প করতে করতে ভার্সিটিতে প্রবেশ করল।
পরনে কালো লেদার জ্যাকেট,কালো টিশার্ট ও কালো প্যান্ট। চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে।

তাসিফা সুযোগ বুঝে  হাতে ধরা এক বোতল ঠান্ডা পানি  জুয়িনের মাথার উপর ঢেলে দিলো।

জুয়িন হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল।
লেদার জ্যাকেট ভিজে চুপচুপে হয়ে গেছে।

রাগে কপালের রগ ফুলে উঠল। চট করে উপরে তাকালো।

তাসিফা ধরা খাওয়ার ভয়ে দ্রুত সরে যেতে নিলো। কিন্তু ততক্ষণে জুয়িন তাসিফাকে দেখে ফেলেছে।

জুয়িনের ঠোঁটে বাঁকা হাসি ফুটে উঠল। ভেজা অবস্থাতেই কিছু না বলে ভেতরে ঢুকে গেলো।

নিচে দাঁড়িয়ে এতক্ষণ যাবত ভন্ডপার্টিরা তাসিফার কান্ড দেখছিলো।।তবে জুয়িনের বাঁকা হাসি দেখে  তিনজন ঘাবড়ে গেলো।ফিসফিস করে বলল,
-"এবার কি হবে রে?!"

---
জুয়িন দ্রুত পায়ে দোতলার সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগল। অন্যদিকে জুয়িনের বন্ধুরা আহাম্মকের মতো দাঁড়িয়ে রইল।

তাসিফা ধরা পড়ে গেছে বুঝতে পেরে তাড়াতাড়ি অন্য সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে নিচে নামল। আর জুয়িন দোতলায় এসে তাসিফাকে না পেয়ে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে আবার নিচে নেমে এলো।

তাসিফা ততক্ষণে নিজের বন্ধুদের পেছনে লুকিয়ে আছে। যাতে জুয়িন তাকে দেখতে না পায়।

জুয়িন সোজা ভন্ডপার্টির সামনে এসে দাঁড়ালো। ইয়াশ আর বাকি দুজন থতমত খেয়ে গেলো।

ইয়াশ আহাম্মকের মতো দাঁত কেলিয়ে বলল, 
-"আসসালামু আলাইকুম ভাই। ভালো আছেন তো?"

জুয়িন ভ্রু কুঁচকে সালামের উত্তর দিলো।
আর গম্ভীর গলায় বলল, 
-"তোমাদের বাঁদর বান্ধবীর জন্য আমি ভালো থাকতে পারছি না। এখন একটু সাইডে যাও তোমরা। তাকে একটু দেখে নিচ্ছি।"

ভন্ডপার্টিরা নড়লো না। তাসিফা ওদের পেছনেই কাঁপতে কাঁপতে লুকিয়ে আছে।

হঠাৎ জুয়িন গগন কাঁপিয়ে ধমক দিলো, 
-"সাইডে যাও বলছি!"

ধমক শুনে ভন্ডপার্টির তিনজন আঁতকে উঠল। নিজেদের জান বাঁচাতে তাসিফাকে রেখেই দৌড়ে ভেতরে চলে গেলো।

----

তাসিফা এখন যেনো "মাইনকার চিপায়" পড়ে গেলো। এই সময় শুধু তাসিফার মাথায় একটা গানই ঘুরছে,
"আমি ফাইসা গেছি,
আমি ফাইসা গেছি,
আমি ফাইসা গেছি মাইনকার চিপায়"

জুয়িন আস্তে আস্তে তাসিফার দিকে এগিয়ে এলো। ভেজা লেদার জ্যাকেট থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে।
চোখ দুটো লাল।

জুয়িন দাঁতে দাঁত চেপে বলল, 
-"তো? মিস তাসিফা আলম? খুব মজা পেয়েছেন পানি ঢেলে?"

তাসিফা ঢোক গিলে মাথা নিচু করে ফেলল।
কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, 
-"আ...আমি ইচ্ছে করে করিনি।"

জুয়িন বাঁকা হেসে বলল, 
-"ইচ্ছা করে করিসনি? তাহলে কি ঘুমের ঘোরে করেছিস?"

তাসিফা আর কিছু বলতে পারল না। চোখে পানি চলে আসার মতো অবস্থা।

জুয়িন ভ্রু কুচকে বলল,
-"বল এখন তোকে কি শাস্তি দেওয়া যায়?"

তাসিফা মুখ কাদো কাদো করে বলল,
-"সরি।এবারের মতো ক্ষমা করে দিন।"

জুয়িন ভ্রু নাচিয়ে বলল,
-"আর কতো বার ক্ষমা করব?এবার তো শাস্তি দিবোই।"

তাসিফা টলমল চোখে তাকিয়ে আছে জুয়িনের দিকে।জুয়িন নিজের মোবাইল পকেট থেকে বের করে বলল,
-"তোর শাস্তি হলো,তোকে এখন আইটেম সং এ নেচে দেখাতে হবে।" বলেই শয়তানি হাসি দিলো জুয়িন।

তাসিফা হতভম্ব হলো আর বলল,
-"কিহ?এতো মানুষের সামনে নাচব?"

জুয়িন একবার চারপাশে চোখ বুলিয়ে নিলো। মাঠের চারপাশে ১৫-২০ জন স্টুডেন্ট দাঁড়িয়ে ওদের কান্ড দেখছে আর ফিসফিস করছে।

হঠাৎ জুয়িন পকেট থেকে ফোন বের করল। ঠান্ডা গলায় কানে দিয়ে বলল, 
-"হ্যালো? শোন। ২ মিনিট সময় দিলাম। পুরো মাঠ খালি চাই। একটা মানুষও যেন না থাকে। জলদি।"

ফোন কাটার ২ মিনিটের মধ্যেই জুয়িনের লোকেরা পুরো মাঠ খালি করে দিলো।

জুয়িন এবার বাঁকা হেসে তাসিফার দিকে তাকালো। ভেজা লেদার জ্যাকেট থেকে এখনো টপটপ করে পানি পড়ছে।

জুয়িন বলল, 
-"নে মাঠ খালি করে দিলাম। এখন কোনো মানুষ দেখবে না। এবার নাচা শুরু কর।"

বলেই ফোনে |_Kajra Re_| গানটা ফুল ভলিউমে প্লে করে দিলো। 

তাসিফাও কম কিসের? ঠোঁটে শয়তানি হাসি ঝুলিয়ে জুয়িনের হাত টেনে ধরল। তারপর গানের তালে তালে জুয়িনকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নাচা শুরু করল।

জুয়িন হতভম্ব হয়ে "থ" হয়ে রইল। এটা কি হচ্ছে তার সাথে? এই মেয়ে তো আর ভালো হবে না।

জুয়িন দ্রুত তাসিফার হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো। পকেট থেকে রুমাল বের করে কপালের ঘাম মুছল। কেনো যেনো খুব লজ্জা লাগছে। লজ্জায় নাক আর দুই গাল টমেটোর মতো লাল হয়ে গেছে।

তাসিফা জুয়িনের এই অবস্থা দেখে হো হো করে হাসতে লাগল।

জুয়িন গরম চোখে তাসিফার দিকে তাকালো।

আর তাসিফা দাঁত কেলিয়ে বলল, 
-"চলুন, আইটেম সং এ নাচি। আসুন। ভয় পেয়েছেন নাকি?"

জুয়িন নিজেকে সামলে নিয়ে বিরবির করে বলল, 
-"বেয়াদব মেয়ে।"

বলেই দ্রুত ভার্সিটির বিল্ডিং এর দিকে হাঁটা দিলো।

হঠাৎ পেছন থেকে তাসিফা টিপ্পনী কেটে সুর করে গেয়ে উঠল, 
_"গোলাপ ফুলের কাঁটা, মোর বন্ধু সাদামাটা! 
চোখের ইশারা বোঝে না, মনটা যে ব্যাকুল 
খুঁজে পায়না একুল ওকুল, বন্ধু সব জানিয়াও কিছুই জানে না।"

জুয়িন থমকে গেলো। পেছনে ফিরল না। কিন্তু কান দুটো আগুনের মতো লাল হয়ে গেলো।

--
ক্লাসে এসে নিজের বন্ধুদের পাশে বসে পড়ল তাসিফা।ঠিক তখনই লেকচারার "তিরান সাফওয়ান" ক্লাসে প্রবেশ করল।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 15 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন