ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি কারো নও

পর্ব 16

লেখক: মিশু

---

তিরান স্যার ক্লাসে এসে এক পলক তাসিফার দিকে তাকালেন। তারপর কিছু না বলে সরাসরি বোর্ডে ম্যাথ করানো শুরু করে দিলেন।

ভন্ডপার্টিদের মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে এই বেডার ক্লাস করতে গিয়ে। খুব বোরিং লাগছে। তবে তাসনিম পলকহীন চোখে তিরান স্যারের দিকে তাকিয়ে আছে।

সাদ নিজের মাথা চুলকিয়ে বলল, 
-"বা*ল করাচ্ছে! কিছুই বুঝতে পারছি না।"

তাসিফা ফিসফিস করে বলল, 
-"স্যার ঠিক করেই বুঝাচ্ছে। তবে আমাদের গোবর ওয়ালা মাথায় কিছু ঢুকছে না।"

তাসনিম বলল, 
-"ফর ফর।"

ইয়াশ হঠাৎ ফিসফিস করে গাইতে লাগল, 
-"স্যারের কথা কিছুই,
আমার মাথায় ঢুকে না।"

তিনজন হেসে দিলো ইয়াশের গান শুনে।

তাসিফা আবার ফিসফিস করে বলল, 
-"ভাই আমরা আমাদের এই ব্রেন নিয়ে ঢাবিতে কীভাবে চান্স পেলাম?"

ইয়াশ দাঁত কেলিয়ে বলল, 
-"আল্লাহই জানে।"

পেছন থেকে ফিসফিস আওয়াজ আসছে দেখে তিরান স্যার হঠাৎ পেছনে ফিরলেন।
সঙ্গে সঙ্গে ভন্ডপার্টিরা চুপ হয়ে গেলো।
আর বোর্ডের দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে যেনো তারা খুব মনোযোগ দিয়ে ম্যাথ বুঝছে।

তিরান স্যার আর কিছু বললেন না।
ভ্রু কুঁচকে আবার বোর্ডে ম্যাথ করাতে লাগলেন।

---
ক্লাস শেষ। ভন্ডপার্টিরা ব্যাগ গুছিয়ে ক্যান্টিনের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো। হঠাৎ করিডোরের মাঝে তিরান স্যার তাসিফার সামনে এসে দাঁড়ালেন। একদম নিঃশব্দে, গম্ভীর মুখে। চোখে চিকন ফ্রেমের চশমা।
ভন্ডপার্টিরা থমকে গেলো।

তিরান স্যার গম্ভীর স্বরে বললেন,
-"মিস তাসিফা। আমার অফিস রুমে আসুন।"
বলেই আর এক সেকেন্ডও দাঁড়ালেন না। হনহন করে চলে গেলেন।

সাদ, ইয়াশ, তাসনিম তিনজনই ছোট ছোট চোখ করে তাসিফার দিকে তাকালো।
তাসনিম ভ্রু কুঁচকে বলল,
-"ওয়েট, ওয়েট! তিরান স্যার তাসিফার দিকে একটু বেশি নজর দিচ্ছে না?"
সাদ আর ইয়াশ একসাথে মাথা নাড়লো,
-"হ্যাঁ।"

তাসিফা মুখ ফুলিয়ে বলল,
-"দোস্ত, স্যারে কেন আমাকে ডাকছে? আমার ভালো লাগছে না। অস্বস্তি লাগছে ব্যাপারটা।"
তাসনিম বলল,
-"হুম বুঝতে পেরেছি। গিয়ে দেখ কেন ডাকছে তোকে।"
তাসিফা মুখ ফুলিয়ে বলল,
-"আমি যাবো না।"
ইয়াশ বিরক্ত হয়ে বলল,
-"বালের ঢং করিস না তো। গিয়ে দেখ কি বলে।"

উপায় না পেয়ে তাসিফা শেষমেশ গেলো তিরান স্যারের অফিস রুমে। দরজার বাইরে থেকে  নক করলো।
ভেতর থেকে গম্ভীর স্বর ভেসে এলো,
-"কাম ইন।"

তাসিফা ভেতরে ঢুকলো। রুমটা ঠান্ডা। তিরান স্যার চেয়ারে বসে চশমা পরে ফাইল চেক করছেন। হঠাৎ চোখ তুলে তাকাতেই তাসিফা সাথে সাথে চোখ নামিয়ে ফেলল।

তিরান স্যার টেবিল থেকে কিছু নোটস তাসিফার দিকে এগিয়ে দিলেন।
-"এই নোটসগুলো মিড টার্মে প্রয়োজন পড়বে। ভালো করে দেখে নিবেন।"

তাসিফা হতভম্ব। নিবে কি নিবে না বুঝতে পারছে না।
তিরান স্যার তাসিফার অস্বস্তি দেখে কিছু বললেন না। শুধু নিজেই নোটসগুলো তাসিফার হাতে ধরিয়ে দিলেন।

তারপর হঠাৎ গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন,
-"কিছু খেয়েছেন তাসিফা?"
তাসিফা মনে মনে বলল, "এই বেডায় জেনে কি করবে আমি খেয়েছি কিনা! যত্তসব উটকো ঝামেলা।"

তবে মুখে মিথ্যা হাসি ফুটিয়ে বলল,
-"না, খাইনি স্যার। এখন আমার যেতে হবে। আসসালামু আলাইকুম।"
বলেই দ্রুত রুম থেকে বের হয়ে গেলো।

কিন্তু তখনই এক বিপত্তি ঘটল তাসিফার সাথে। দরজা দিয়ে বের হতেই সোজা জুয়িনের সাথে ধাক্কা খেলো।
ধাক্কা খেয়ে তাসিফা ছিটকে নিচে বসে পড়লো। কোমরে হাত দিয়ে রাখা তার। চোখে পানি টলমল করছে। মনে হচ্ছে এখনই কেঁদে দিবে।

জুয়িনও বুকে সামান্য ব্যথা পেলো ধাক্কায়। তারপর হাত বাড়িয়ে দিলো তাসিফার দিকে। তাসিফা টলমল চোখে জুয়িনের হাত ধরে উঠে দাঁড়ালো।

জুয়িন ভ্রু কুঁচকে বলল,
-"তুই এখানে কেন? আর হাতে কি?"
তাসিফা নোটসগুলো দেখিয়ে বলল,
-"তিরান স্যার ডেকে এগুলো ধরিয়ে দিলেন।"

ব্যাস। জুয়িনের চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো। এই তিরান স্যারের তাসিফার প্রতি এত দরদ কেন? শুধু স্টুডেন্ট বলে? নাকি অন্য কিছু?

জুয়িন আর কিছু না বলে তাসিফার হাত শক্ত করে ধরে টানতে টানতে লাইব্রেরি রুমের দিকে নিয়ে গেলো।
তাসিফা হতভম্ব হয়ে ব্যথাতুর স্বরে বলল,
-"আহ... লাগছে, ছাড়ুন।"
জুয়িন শুনলোই না। বরং আরও শক্ত করে চেপে ধরল।

লাইব্রেরি রুম একদম ফাঁকা। এখন ব্রেক টাইম চলছে,তাই সবাই মাঠে অথবা ক্যানটিনে আছে।

জুয়িন তাসিফাকে এক টানে বুক-সেলফের সাথে চেপে ধরলো। গরম চোখে তাকিয়ে ধমক দিলো,
-"এই মেয়ে! তিরান স্যারের সাথে এত কথা কিসের তোর? হ্যাঁ?"

তাসিফা ভয়ে কাঁপছে। জুয়িনের রাগান্বিত চেহারা দেখে তাসিফার জবান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। চোখে পানি টলমল করছে।

জুয়িন তাসিফার হাতের উপর চাপ দিতেই তাসিফা কেঁদে উঠলো,
-"আ..আমি কোথায় স্যারের সাথে এত কথা বলি?"
জুয়িন রেগে বলল,
-"তিরান স্যারের অফিস রুমে কেনো গেলি?"
তাসিফা কেঁপে উঠল আর বলল,
-"আমাকে ডেকেছিলো তিরান স্যার।"
জুয়িন রেগে বলল,
-"ডাকলেই যেতে হবে? বলে দিতিস যে তুই ব্যস্ত, যেতে পারবি না।"
তাসিফা হেঁচকি তুলে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
-"আমি তো যেতাম না। আমার বন্ধুরা জোর করেছে..."
জুয়িন ধমক দিলো,
-"সবাই যা বলবে তাই করতে হবে? এখন যদি বলে রাস্তায় গিয়ে মর, তাহলেও যাবি?"
তাসিফা হেঁচকি তুলে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
-"না..য়া।"

জুয়িন থমকালো। মেয়েটা এভাবে কাঁদছে দেখে নিজেরই অসহায় লাগছে। হাত ছেড়ে দিয়ে তাসিফার চোখের পানি মুছে দিলো। তারপর নরম গলায় বলল,
-"নেক্সট টাইম থেকে তিরান স্যারের কাছে যাবি না। আর কোনো কথাও বলবি না।"

তাসিফা ভদ্র মেয়ের মতো মাথা নাড়লো।

জুয়িন হালকা হেসে তাসিফার চুলে হাত বুলিয়ে বলল,
-"গুড গার্ল।"
বলেই হনহন করে বেরিয়ে গেলো।
তাসিফা থ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছে না।

---
তাসিফা ভার্সিটির ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে ক্যান্টিনে এলো। ভন্ডপার্টিরা খাবার নিয়ে বসে আছে। তাসিফার জন্যই অপেক্ষা করছে এরা।

তাসিফা নোটসগুলো টেবিলে রেখে বসতেই তাসনিম জিজ্ঞেস করলো,
-"কেন ডেকেছিল?"
তাসিফা অফিস রুমের সব ঘটনা খুলে বলল। শুধু লাইব্রেরির ঘটনাটা চেপে রাখল নিজের মধ্যে।
তাসনিম চুল খামচে বলল,
-"তিরান স্যারের মনে তোর জন্য সফট কর্নার আছে রে তাসু।"
তাসিফা মুখ ফুলিয়ে বলল,
-"সেটা বুঝতে পেরেছি। আমি আর ওনার সামনে পড়বো না।"
সবাই "অহ" বলে আবার আড্ডায় মেতে উঠলো।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 16 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন