----
রাত গভীর হতেই আর কেউ চোখ মেলে তাকিয়ে থাকতে পারল না। একে একে সবাই নিজেদের সিটে ঘুমিয়ে পড়ল। পুরো বাসজুড়ে নেমে এলো নিস্তব্ধতা।
শুধু জুয়িনের চোখে ঘুম নেই। তার পাশের সিটে জানালার ধারে বসে আছে তাসিফা। জানালাটা খোলা থাকায় বাইরে থেকে আসা বাতাসে তাসিফার চুল বারবার উড়ে এসে জুয়িনের মুখে পড়ছে। ঘুমের ঘোরে তাসিফার মাথাটাও কখন যেন হেলে এসে ঠেকেছে জুয়িনের কাঁধে।
জুয়িন কিছুক্ষণ সেভাবেই বসে রইল। তারপর খুব সাবধানে এক হাত দিয়ে তাসিফার মাথাটা নিজের কাঁধ থেকে সরিয়ে নিল। এরপর সামান্য ঝুঁকে কোনো শব্দ না করে জানালাটা বন্ধ করে দিল।
আবার নিজের জায়গায় ফিরে এসে বসতেই তাসিফার মাথাটা এসে ঠেকল তার কাঁধে। এবার জুয়িন আর সরাল না।
চোখ নামিয়ে দেখল, তাসিফার কয়েক গোছা চুল মুখের ওপর এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে। ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটল তার। এক আঙুলের আলতো ছোঁয়ায় চুলগুলো সরিয়ে দিল তাসিফার মুখ থেকে।
তারপর পকেট থেকে ইয়ারবাডস বের করে কানে গুঁজে নিল জুয়িন। নিজের পছন্দের গানটা চালু করল।
গান শুনতে যেমন ভালোবাসে, তেমনি নিজের মতো করে গান গাইতেও ভালোবাসে জুয়িন। তবে এই মুহূর্তে শুধু নীরবে গান শুনতেই ইচ্ছে করছে তার।
একসময় চোখ দুটো ধীরে ধীরে বন্ধ করে দিল জুয়িন।
কানে বাজতে থাকা প্রিয় গান আর কাঁধে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকা তাসিফাকে নিয়েই কেটে যেতে লাগল রাতের নীরব সময়টা।
----
ভোর ছয়টা।
দীর্ঘ রাতের যাত্রা শেষে অবশেষে বাস এসে থামল কক্সবাজারে। বাস থামার সঙ্গে সঙ্গেই একে একে সবাই নেমে পড়তে শুরু করল। রাতভর বাসযাত্রার ক্লান্তি থাকলেও গন্তব্যে পৌঁছানোর আনন্দে সবার মুখেই যেন নতুন চাঞ্চল্য।
ব্যাগপত্র গুছিয়ে সবাই হোটেলের উদ্দেশ্যে হাঁটতে শুরু করল।
কিন্তু তাসিফার অবস্থা একেবারেই আলাদা। চোখেমুখে এখনও ঘুমের ছাপ লেগে আছে। রাতভর ঘুম আর যাত্রার ধকল সামলে নিজের ব্যাগটাও ঠিকমতো কাঁধে রাখতে পারছে না। কয়েক কদম পরপরই ব্যাগটা একবার ডান কাঁধে, আবার বাম কাঁধে সরিয়ে নিচ্ছে।
বিষয়টা চোখ এড়াল না ইয়াশের।
সে তাসিফার পাশে এসে দাঁড়িয়ে কোনো কথা না বলেই তার কাঁধ থেকে ব্যাগটা নামিয়ে নিজের হাতে নিয়ে নিল। তারপর মুখটা একটু ভেংচিয়ে বলল,
-"একদিন আমার ব্যাগ ধরেছিলি তুই। তাই আজকে আমিই নিলাম।”
তাসিফা কয়েক সেকেন্ড ইয়াশের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল।
-"বাহ! সেই কথাও মনে আছে?”
-"সব মনে আছে। আমি কিন্তু কৃতজ্ঞ মানুষ।”
ইয়াশের কথায় তাসিফা হেসে ফেলল।
তারপর আর কিছু না বলে সবার সঙ্গে পা মিলিয়ে হাঁটতে লাগল সে। সামনে হোটেলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পুরো দল, আর সকালের নরম আলোয় দীর্ঘ রাতের ক্লান্তিটাও যেন ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে শুরু করেছে।
----
সবাই হোটেলের ভেতরে ঢুকে পড়ল। ভেতরটা বেশ পরিপাটি ও সুন্দর। সারারাতের বাসযাত্রার ক্লান্তি সবার চোখেমুখেই স্পষ্ট।
জুয়িন আর তাসিফা পাশাপাশি হাঁটছিল। তাসিফা হাঁটতে হাঁটতে একটা হাই তুলল।
জুয়িন একবার তাকিয়ে বলল,
-“ঘুম পাচ্ছে?”
তাসিফা চোখ কচলাতে কচলাতে বলল,
-“অনেক। চোখ খুলে রাখতেই কষ্ট হচ্ছে।”
জুয়িন ভ্রু কুচকে বলল,
-“রুমে গিয়েই ঘুমিয়ে পড়িস তাহলে।”
তাসিফা মাথা নাড়িয়ে বলল,
-“সেটাই করব।”
জুয়িন আর কোনো কথা বলল না। হঠাৎ ইয়াশ ক্লান্ত স্বরে বলল,
-"রুমে গিয়ে ঘুম দিলে মনে হয়, আমাকে কেউ টেনেও ঘুম থেকে তুলতে পারবে না।”
তাসনিম আর সাদ একে অপরের দিকে তাকিয়ে শয়তানি হাসি দিয়ে বলল,
-“পানি ঢেলে দেব। তখন ঠিকই উঠে পড়বি।”
ইয়াশ সঙ্গে সঙ্গে মুখ ভেংচি দিল।
এরপর সবাই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যে যার রুমের দিকে রওনা হলো। জুয়িন, রিদ আর সিয়াম পঞ্চম তলায় নিজেদের রুমের দিকে চলে গেল। ইয়াশ আর সাদও চলে গেল তাদের রুমে। আর তাসনিমকে সঙ্গে নিয়ে তাসিফা পা বাড়াল নিজেদের রুমের দিকে।
----
অন্যদিকে, ইয়াশ আর সাদ নিজেদের রুমে ঢুকেই বিছানা দখল নিয়ে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ল। বড় একটা বিছানা থাকা সত্ত্বেও দুজনের যেন জায়গা হচ্ছে না।
সাদ দাঁত কড়মড় করে বলল,
-“তোর যদি জায়গা না হয়, নিচে ঘুমা।”
ইয়াশ তেতে উঠে বলল,
-“কুত্তা, তুই নিচে ঘুমা। আমি বিছানাতেই ঘুমাবো।”
সাদ বিরক্ত হয়ে বলল,
-“তুই তো পুরো বিছানা দখল করে ঘুমাস। তাহলে আমি কোথায় ঘুমাবো?”
ইয়াশ একটুও না ভেবে বলল,
-“আমার মাথায়।”
কথাটা শুনে সাদ হঠাৎ খুব সিরিয়াস হওয়ার ভান করে ইয়াশের দিকে এগিয়ে গেল। আর বলল,
-“আচ্ছা, মাথাটা নিচু কর। আমি ঘুমাই।”
ইয়াশ সঙ্গে সঙ্গে সরে গিয়ে বলল,
-"শালার পুত! যা, যা বিছানায় শো।”
সাদ বাঁকা হেসে বিছানায় লাফ দিয়ে শুয়ে পড়ল। ইয়াশও বিরক্ত মুখে বিড়বিড় করতে করতে তার পাশে শুয়ে পড়ল। তারপর সাদের ওপর একটা পা তুলে দিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল।
সাদ কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ থেকে ইয়াশের পা সরিয়ে দিল। আর বলল,
-“এই! পা সরা বাল।”
ইয়াশ চোখ না খুলেই বলল,
-"ঘুমা তো। এত কথা বলিস কেন?”
সাদ আবার পা সরিয়ে দিয়ে বলল,
-“তুই একটা যন্ত্রণা।”
ইয়াশ মুচকি হেসে বলল,
-"জানি। তবুও আমার সঙ্গেই থাকিস।”
সাদ এবার আর কিছু বলল না। শুধু মুখ টিপে হেসে পাশ ফিরে শুয়ে পড়ল।
কয়েক মুহূর্ত পর দুজনেরই হাসি পেয়ে গেল। কিছুক্ষণ আগেও যে দুজন বিছানার জায়গা নিয়ে ঝগড়া করছিল, তারাই এখন পাশাপাশি শুয়ে নিজেদের মধ্যেই হাসাহাসি করছে।
এই দুজনের এমনই স্বভাব, সামান্য বিষয় নিয়েও ঝগড়া বাধিয়ে বসবে, আবার সেই ঝগড়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এমনভাবে মিশে যাবে, যেন কিছুই হয়নি।
----
এদিকে রিদ আর সিয়াম মিলে জুয়িনকে জ্বালিয়ে মারছে।
রিদ মিচকে হেসে গাইতে শুরু করল,
-“আমার বন্ধু মহা জাদু জানে,
জাদু জানে, জাদু জানে রে,
আমার বন্ধু মহা জাদু জানে!”
জুয়িন বিরক্ত মুখে তাকিয়ে বলল,
-“দূর বাল! রুমে ঢোকার পর থেকেই আমার মাথা খেয়ে যাচ্ছিস তোরা। একটু শান্তিতে থাকতে দিবি?”
রিদ সঙ্গে সঙ্গে ভ্রু নাচিয়ে বলল,
-“মাখন প্রেম করতেছস তুই, আর আমরা একটু কিছু জিজ্ঞেস করলেই বলিস মাথা খাচ্ছি? সিরিয়াসলি, ব্রুহ?”
জুয়িন ভ্রু কুঁচকে তাকাল। আর বলল,
-“কে মাখন প্রেম করছে?”
সিয়াম সঙ্গে সঙ্গে জুয়িনের পিঠে একটা কিল বসিয়ে দিয়ে বলল,
-“নাটক করিস না, প্রিয়। আমরা সব দেখছি।”
রিদও সুযোগ বুঝে যোগ করল,
-“বাসে তাসিফাকে নিজের কাঁধে নিয়ে ঘুমাস, আর ভাবিস আমরা কিছুই বুঝি নাই?”
কথাটা শুনে জুয়িন খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে গেল। জীবনে এই প্রথম বন্ধুদের কাছে কোনো মেয়েকে নিয়ে এভাবে খোঁচা শুনছে সে। মুহূর্তেই কেমন যেন অস্বস্তি লাগল। সেটা অবশ্য মুখে প্রকাশ করতে চাইল না। নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে দুজনের দিকে সরু চোখে তাকিয়ে বলল,
-"প্রেম তো আর করি নাই।”
রিদ আর সিয়াম একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসল। তারপর দুজন মিলে জুয়িনের পিঠে গুঁতো দিয়ে বলল,
-“তাহলে কী করিস? দ্রুত বল!”
জুয়িন পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে বিরক্ত গলায় বলল,
-“বাল কী করব, ভাই?”
সিয়াম এবার সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিল,
-“তুই কি তাসিফাকে ভালোবাসিস?”
প্রশ্নটা শুনে জুয়িন হঠাৎ চুপ হয়ে গেল। কয়েক মুহূর্ত দুজনের দিকে তাকিয়ে থেকে ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে বলল,
-“তোদের কী মনে হয়?”
রিদ আর সিয়াম মিচকে হেসে একসঙ্গে বলে উঠল,
-“আমাদের তো মনে হয়, তুই ভালোবাসিস।”
জুয়িন ভ্রু কুঁচকে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর কাঁধ ঝাঁকিয়ে নির্লিপ্ত গলায় বলল,
-"তাহলে তাই।”
জুয়িনের এমন ত্যাড়া জবাব শুনে রিদ আর সিয়াম দুজনেই কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল। এই ছেলেটার মুখ থেকে কখনো সোজা-সাপ্টা একটা কথা বের হবে না। সবকিছুর উত্তরেই কেমন একটা ত্যাড়ামি।
দুজনেই মনে মনে বিড়বিড় করে উঠল,
-"শালা!”
এরপর রিদ উঠে ফ্রেশ হতে চলে গেল। একে একে সিয়াম আর জুয়িনও ফ্রেশ হয়ে ফিরে এল। কিছুক্ষণ পর তিনজনই নিজ নিজ বিছানায় শরীর এলিয়ে দিল।
----
কেটে গেল আরও কিছুটা সময়।
সকাল ঠিক নয়টা। দীর্ঘ রাতের বাসযাত্রা আর ভোরের ক্লান্তি কাটিয়ে একে একে সবাই ঘুম থেকে উঠে পড়েছে। অবশ্য কাউকে ঘুম থেকে টেনে তুলতে হয়নি। সমুদ্রের শহরে এসে এতক্ষণ ঘুমিয়ে থাকার ইচ্ছেটাই বা কার আছে।
ফ্রেশ হয়ে সবাই নিচে নেমে নাশতা করে নিল। নাশতার টেবিলেও অবশ্য শান্তি নেই। খাওয়ার পাশাপাশি চলছে গল্প, হাসাহাসি আর একজন আরেকজনকে খোঁচানোর প্রতিযোগিতা।
নাশতা শেষ করে সবাই ঠিক করল, এবার সরাসরি কলাতলী সমুদ্রসৈকতে যাবে।
হোটেলটা সমুদ্রসৈকত থেকে খুব বেশি দূরে নয়। তাই গাড়ি ডাকার ঝামেলায় না গিয়ে সবাই দল বেঁধে হেঁটেই রওনা দিল।
হোটেল থেকে বের হতেই সকালের কক্সবাজার যেন অন্যরকম লাগল। চারপাশে পর্যটকদের আনাগোনা, রাস্তার পাশে ছোট ছোট দোকান, কোথাও নাশতার শেষ আয়োজন, কোথাও আবার সমুদ্রের দিকে ছুটে চলা মানুষের ভিড়। সকালের রোদটা এখনও তেমন তীব্র হয়নি।
ভণ্ডপার্টি যথারীতি সামনে-পেছনে ছড়িয়ে হাঁটছে। কেউ গল্প করছে, কেউ ছবি তুলছে, আবার কেউ সুযোগ পেলেই পাশেরজনকে খোঁচা দিচ্ছে।
তাসিফা একটু ধীর পায়ে হাঁটছিল। ভোরের ঘুম এখনও পুরোপুরি কাটেনি তার। মাঝে মাঝে চোখ কচলাতে কচলাতে সামনে এগোচ্ছিল সে।
জুয়িন কয়েক পা দূরে হাঁটছিল বন্ধুদের সঙ্গে। একবার আড়চোখে তাসিফার দিকে তাকিয়ে আবার সামনে ফিরে গেল।
আর কয়েক মিনিট হাঁটার পরই দূর থেকে ভেসে এলো সমুদ্রের গর্জন। সবার কথাবার্তা যেন মুহূর্তেই একটু থেমে গেল। সামনেই নীলচে বিশাল জলরাশি। কক্সবাজারের সমুদ্র।
কলাতলী সমুদ্রসৈকতে পৌঁছাতেই কারও মুখে আর ক্লান্তির ছাপ রইল না। সবাই যেন একসঙ্গে নতুন করে চাঙা হয়ে উঠল।
-“চল! আগে সমুদ্রের কাছে যাই।”
ইয়াশের চিৎকারে বাকিরাও হেসে উঠল।
কেউ জুতো খুলতে শুরু করল, কেউ মোবাইল বের করে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে গেল। আর তাসিফা কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল, চোখের সামনে ছড়িয়ে থাকা বিশাল সমুদ্রটার দিকে তাকিয়ে।
হঠাৎ করেই জুয়িন ভণ্ডপার্টির দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলল,
-“এই! তোমরা সবাই এদিকে আসো!”
জুয়িনের ডাক শুনে ভণ্ডপার্টির সবাই কৌতূহলী হয়ে তার দিকে এগিয়ে এলো। ইয়াশ ভ্রু কুঁচকে বলল,
-"জ্বি ভাই?”
জুয়িন কোনো উত্তর না দিয়ে রিদ আর সিয়ামের হাত ধরে তাদের নিজের কাছে টেনে নিল। তারপর সবার দিকে তাকিয়ে বলল,
-“চলো, সবাই একে অপরের হাত ধরো। সবাই মিলে একসাথে দাঁড়াবো। তারপর হাত ধরাধরি করে দৌড়ে পানির কাছে যাবো।”
কথাটা শুনেই সবার মুখে হাসি ফুটে উঠল। এমন সুযোগ কি আর হাতছাড়া করা যায়।
তাসনিম সঙ্গে সঙ্গে সাদের হাত ধরল। তাসিফা ধরল তাসনিমের হাত। একে একে সবাই একে অপরের হাত শক্ত করে ধরে একটা লম্বা সারির মতো হয়ে দাঁড়িয়ে গেল।
জুয়িন সবার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল,
-“রেডি?”
সবাই একসঙ্গে চিৎকার করে উঠল,
-“রেডি!”
জুয়িন গুনতে শুরু করল,
-“ওয়ান, টু, থ্রি!”
“ইয়েএএএ" চিৎকার করেই সবাই একসঙ্গে দৌড় দিল সমুদ্রের পানির দিকে।
পায়ের নিচে বালু উড়ে যাচ্ছে, মুখে সবার বাঁধভাঙা হাসি। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তারা পানির একেবারে কাছে পৌঁছে গেল। তারপর একে একে সবাই হাত ছেড়ে দিল।
পরের মুহূর্তেই শুরু হয়ে গেল আসল কাণ্ড। তাসনিম দুহাত ভরে পানি তুলে সাদের দিকে ছুড়ে মারতেই সাদ চমকে উঠে বলল,
-“এই বেয়াদব।"
কথা শেষ করার আগেই সাদও পাল্টা পানি ছুড়ে দিল তাসনিমের দিকে।
এদিকে ইয়াশ আর সিয়ামও একে অপরের দিকে পানি ছিটাতে শুরু করেছে। রিদ হাসতে হাসতে দুজনকেই থামানোর চেষ্টা করলেও কিছুক্ষণ পর নিজেই পানির যুদ্ধে জড়িয়ে গেল।
তাসিফাও আর চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকল না। হাতে পানি তুলে জুয়িনের দিকে ছুড়ে দিয়ে নিজেই হেসে উঠল। জুয়িনও পালটা তাসিফার দিকে পানি ছুড়ে দিয়ে বলল,
-“ভুল মানুষের সাথে পাঙ্গা নিয়েছিস। এখন পানি খা!”
বলেই একের পর এক পানি ছুড়তে লাগল জুয়িন। তাসিফাও খিলখিল করে হাসতে হাসতে পালটা পানি ছুড়ে দিল তার দিকে। কিছুক্ষণ দুজনের মধ্যে চলল একে অপরকে পানি ছোড়ার পালা। কেউ কাউকে ছাড়তে নারাজ।
হঠাৎ তাসিফা দুষ্টুমি ভরা গলায় বলল,
-“জুয়িন ভাইয়া, আমাকে ধরুন তো!”
কথাটা বলেই আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। হাসতে হাসতে দৌড় দিল সে।
জুয়িন কয়েক মুহূর্ত সেখানেই দাঁড়িয়ে রইল। তারপর ঠোঁটের কোণে চওড়া হাসি ফুটিয়ে বলল,
-"আচ্ছা।”
বলেই তাসিফার পেছনে দৌড়াতে শুরু করল।
পেছন থেকে জুয়িনকে ছুটে আসতে দেখে তাসিফা একবার ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। তাকে আসতে দেখে খিলখিল করে হেসে উঠল, তারপর আরও জোরে দৌড় দিল।
তবে জুয়িন ইচ্ছে করেই প্রথমে ধীরে ধীরে তার পেছনে ছুটছিল। তাসিফার মুখের সেই প্রাণখোলা হাসিটা দেখে অজান্তেই তার নিজের মুখেও হাসি ফুটে উঠেছিল। মেয়েটাকে এতটা খুশি দেখে তারও ভালো লাগছিল।
কিছুদূর গিয়ে তাসিফা আবার পেছন ফিরে তাকাল। জুয়িনকে দূরে দেখে দুষ্টুমি করে বলল,
-“কী হলো? ধরুন আমায়!”
এবার জুয়িনের হাসিটা আরও চওড়া হলো। সে বলল,
-“তাই নাকি?”
বলেই এবার সত্যিই গতি বাড়িয়ে দিল সে। তাসিফা বুঝতে পেরে সামনে ছুটতে লাগল। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই জুয়িন তার একেবারে কাছে পৌঁছে গেল। শেষ পর্যন্ত দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাকে ধরে ফেলল জুয়িন। আর হেসে বলল,
-“ধরে ফেললাম!”
তাসিফাও হেসে উঠল। তারপর ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বলল,
-“ছাড়ুন, অসভ্য লোক!”
জুয়িন হেসে বলল,
-“নিজেই তো ধরতে বলেছিলি।"
সকালের নীল আকাশ, সামনে বিশাল সমুদ্র আর তার মাঝখানে সবার এই উচ্ছ্বাস, মুহূর্তটা যেন সবার জন্যই হয়ে উঠল ভীষণ সুন্দর একটা স্মৃতি।
-----
কলাতলী সমুদ্রসৈকতে এসে সবাই বেশ অনেকটা সময় পানিতে কাটিয়ে দিল। ঢেউয়ের সঙ্গে দৌড়াদৌড়ি, একে অপরকে পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে দেওয়া আর হাসি-ঠাট্টায় সময়টা কখন যে এতটা গড়িয়ে গেছে, কেউ খেয়ালই করেনি।
একসময় সবাই হোটেলে ফিরে খেয়ে নেওয়ার কথা বললেও ইয়াশের যেন পানি থেকে ওঠার কোনো ইচ্ছেই নেই। বারবার ‘আর একটু’ বলে নানা বাহানা করতে লাগল। শেষ পর্যন্ত তার জন্যই পরিকল্পনার চেয়ে কিছুটা বেশি সময় সৈকতে কাটাতে হলো সবাইকে।
দেখতে দেখতে প্রায় একটা বেজে গেল। অবশেষে সবাই পানি থেকে উঠে পড়ল। ভেজা কাপড় আর বালিতে মাখামাখি অবস্থায় একে একে হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা হলো তারা।
হোটেলে ফিরে সবাই যার যার রুমে চলে গেল। দ্রুত গোসল করে ভেজা কাপড় বদলে নিল সবাই। তারপর কিছুটা ফ্রেশ হয়ে আবার নিচে এসে জড়ো হলো।
কিছুক্ষণ পর সবাই একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে বসল।
খেতে খেতেই ইয়াশ চারপাশে তাকিয়ে বলল,
-“আজকের দিনটা কিন্তু জমে গেছে।”
তার কথা শুনে সবাই হেসে উঠল। আর বলল,
-“হ্যাঁ, ভালোই ছিল।”
খাওয়ার সময়ও নিজেদের মধ্যে গল্প আর হাসি-ঠাট্টা চলতেই থাকল। খাওয়া শেষ করে সবাই একটু বসে থাকল।
এর মধ্যেই ঘড়িতে দুইটা বেজে গেল। হিমছড়ির উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় হয়ে গেছে।
সবাই আর দেরি না করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিচে নেমে এলো। হোটেলের সামনে এসে দেখা গেল, ট্যুরের বাকি শিক্ষার্থীরাও সেখানে জড়ো হয়েছে। কয়েকজন স্যারও উপস্থিত ছিলেন।
হোটেলের সামনেই কয়েকটি চাঁদের গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে ভাগ হয়ে একে একে গাড়িগুলোতে উঠতে শুরু করল।
ভণ্ডপার্টিরাও একসঙ্গে একটা গাড়িতে উঠে পড়ল। জুয়িন, রিদ আর সিয়ামও তাদের সঙ্গেই ছিল।
কয়েকজন ব্যাগ পায়ের কাছে রেখে দিল। কেউ হাতে থাকা পানির বোতলটা পাশে রাখল। গাড়িতে জায়গা একটু কম থাকায় সবাইকে গা ঘেঁষাঘেঁষি করেই বসতে হলো।
স্যাররা অন্য একটি গাড়িতে উঠে বসলেন। সব শিক্ষার্থী গাড়িতে উঠেছে কি না, সেটা নিশ্চিত হওয়ার পর গাড়িগুলো একে একে হোটেলের সামনে থেকে বেরিয়ে পড়ল।
চাঁদের গাড়ির পেছনের অংশ খোলা থাকায় চলার সময় বাতাস বেশ ভালোই লাগছিল। এতক্ষণ রোদে আর পানিতে থাকার পর কেউ কেউ চুপচাপ বসে ছিল। আবার অনেকেই নিজেদের মধ্যে গল্প করছিল।
----
গাড়ি চলতে শুরু করার কিছুক্ষণ পর জুয়িন পকেট থেকে নিজের মোবাইল বের করল। এরপর ক্যামেরা অন করে কয়েকবার স্ক্রিনে তাকাল সে। তার পাশেই বসে ছিল তাসিফা।
হঠাৎ জুয়িন ক্যামেরার দিকে পোজ দিয়ে তাসিফাকে ডাকল,
-“তাসিফা, এদিকে ফির।”
তাসিফা সঙ্গে সঙ্গে তার দিকে ফিরল। জুয়িন ছবি তুলবে বুঝতে পেরে সেও হেসে সুন্দর করে পোজ দিল। দুজন মিলে কয়েকটা ছবি তুলে নিল।
এরপর জুয়িন সবাইকে একসঙ্গে ডেকে একটা গ্রুপ ছবি তুলল। আর ছবি তোলার সময় ইয়াশ একের পর এক অদ্ভুত অদ্ভুত পোজ দিতে থাকায় সবাই হাসিতে ফেটে পড়ল।
ছবি তোলা শেষ হতেই ইয়াশ হঠাৎ বলে উঠল,
-“ওয়েট! এবার আমি ভিডিও করব।”
বলেই ইয়াশ নিজের মোবাইলটা হাতে নিয়ে ক্যামেরা অন করল। তারপর ক্যামেরাটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে মুখে বেশ গম্ভীর ভাব এনে ভিডিও শুরু করল।
-"হ্যালো গাইজ! এখন আমি যাচ্ছি হিমছড়ির দিকে। আমার সঙ্গে রয়েছে ভণ্ডপার্টি আর আমার প্রিয় সিনিয়র বৃন্দ।”
কথাটা বলেই ইয়াশ ক্যামেরাটা একটু ঘুরিয়ে একে একে সবাইকে দেখাতে লাগল।
সাদ, তাসিফা আর তাসনিম ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাসল, জুয়িন আর সিয়াম হাত নেড়ে অভিবাদন জানাল। আর রিদ তো ইচ্ছে করেই ক্যামেরা থেকে মুখ লুকাতে শুরু করল।
ইয়াশ আবার ক্যামেরা নিজের দিকে এনে বলল,
-"আমরা সবাই এখন চাঁদের গাড়িতে বসে আছি। চারপাশে সুন্দর বাতাস, সবাই বেশ ফুরফুরে মুডে আছে। আর আমি তো আছিই আপনাদের বিনোদন দেওয়ার জন্য।”
তাসিফা সঙ্গে সঙ্গে হেসে বলে উঠল,
-"আমাদের ভণ্ড ব্লগার ইয়াশ আবার ব্লগিং শুরু করে দিয়েছে।"
ইয়াশ ক্যামেরার দিকে তাকিয়েই ভ্রু কুঁচকে বলল,
-“ভণ্ড ব্লগার না, প্রফেশনাল ব্লগার। সম্মান দিয়ে কথা বলবি।”
তার কথা শুনে গাড়ির সবাই হেসে উঠল।
ইয়াশও হাসতে হাসতে ভিডিও চালিয়ে গেল। মাঝে মাঝে ক্যামেরা ঘুরিয়ে বন্ধুদের দেখাচ্ছে, আবার কখনো রাস্তার দৃশ্য ধারণ করছে। গাড়ির ভেতরেও তখন হাসি-ঠাট্টা আর গল্পে বেশ জমে উঠেছে।
----
হিমছড়িতে এসে বেশ অনেকটা সময় কাটিয়ে ফেলেছে সবাই। চারপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে, গল্প-আড্ডা আর ছবি তুলতে তুলতে কখন যে বিকেল গড়িয়ে গেছে, তা কেউ টেরই পায়নি। তাসিফা আর তাসনিমও এই সময়টায় বেশ অনেক ছবি তুলেছে। দুজনের ফোনের গ্যালারি যে আজ বেশ সমৃদ্ধ হয়েছে, সেটা দেখলেই বোঝা যাবে।
হিমছড়িতে আসার পর থেকে সবাই বেশ আনন্দেই ছিল। জায়গাটার পরিবেশ আর পুরো ট্যুরের উচ্ছ্বাসে সময়টা যেন চোখের পলকেই কেটে গেল।
এখন ঘড়িতে বিকেল সাড়ে পাঁচটা।
হোটেলের উদ্দেশ্যে আবার রওনা দেওয়ার সময় হয়ে এসেছে। তাই সবাই ধীরে ধীরে গাড়িতে উঠে বসতে শুরু করেছে। এতক্ষণ বাইরে ঘোরাঘুরি করার পর গাড়িতে উঠতেই যেন সবাই একটু স্বস্তি পেল।
তবে জুয়িনকে তখন গাড়িতে দেখা গেলো না।
পানি কেনার জন্য সে কাছেই থাকা একটা ছোট দোকানের দিকে গেছে। যাওয়ার সময় শুধু বলেছিল, পানি নিয়ে আসছে। তাই তাকে নিয়ে কেউ খুব একটা চিন্তাও করল না।
এদিকে ভণ্ডপার্টির সবাই নিজেদের ফোনে ব্যস্ত। একটু আগের তোলা ছবিগুলো নিয়েই তাদের ব্যস্ততা। রিদ আর সিয়ামও তাদের সঙ্গে বসে ছবি দেখছিল।
তাসিফা নিজের ফোনটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইল। তারপর গাড়ির বাইরে তাকাতেই তার চোখে পড়ল জুয়িনকে। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে পানি নিচ্ছে সে।
তাসিফা কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থাকল।
সারাদিন এত মানুষের ভিড়ে থেকেও জুয়িনের সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলা হয়নি। হঠাৎ করেই তার মনে হলো, এই সুযোগে একটু কথা বলে আসা যাক।
সে একবার গাড়ির ভেতরের দিকে তাকাল। সবাই যার যার মতো ব্যস্ত। কেউ তার দিকে খেয়ালও করছে না।
তাসিফা আর বেশি কিছু ভাবল না। ফোনটা হাতে নিয়েই গাড়ি থেকে নেমে পড়ল।
তারপর ধীরে ধীরে জুয়িনের দিকে এগিয়ে গেল।
তাসিফা এসে জুয়িনের ঠিক পেছনে দাঁড়াল। জুয়িন তখন অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বোতল থেকে পানি খাচ্ছে। কয়েক ঢক পানি গিলে গলা ভেজাচ্ছিল সে।
হঠাৎ পেছনে কারও উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়িন ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। তাসিফাকে দেখে ভ্রু দুটো নাচিয়ে বলল,
-“কী ব্যাপার? এখানে কী করছিস?”
তাসিফা একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলল,
-“আমিও পানি খাব। আমাকেও দিন।”
জুয়িন নিজের হাতে থাকা বোতলটার দিকে তাকিয়ে বলল,
-“আমি তো বোতলে মুখ লাগিয়েছি।”
তাসিফা ভ্রু কুঁচকে নির্বিকারভাবে বলল,
-“তো?”
জুয়িন চোখ দুটো একটু ছোট করে তাসিফার দিকে তাকাল। মুখে এমন একটা ভাব, যেন তাসিফা অসম্ভব কোনো কথা বলে ফেলেছে। বোতলটা নিজের হাতে তুলে নিয়ে হালকা নেড়ে দেখল, তারপর আবার তাসিফার দিকে তাকাল আর বলল,
-“তো মানে? আমার মুখ লাগানো পানি তুই খাবি? একটুও ঘৃণা লাগবে না?”
তাসিফা নির্বিকার মুখে জুয়িনের দিকে তাকিয়ে রইল।
জুয়িন যেন তার মুখের ভাব দেখে আরও অবাক হলো। ভ্রু কুঁচকে আবার বলল,
-“আরে, আমি তো এই বোতলে মুখ লাগিয়ে পানি খেয়েছি। তুই আবার একই বোতল থেকে খাবি? ছিঃ! তোর রুচি বলে কিছু আছে?”
তাসিফা আর কোনো উত্তর দিল না। সোজা জুয়িনের হাত থেকে পানির বোতলটা কেড়ে নিয়ে ঢকঢক করে পানি খেতে শুরু করল।
জুয়িন কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর দাঁতের নিচে ঠোঁট চেপে মৃদু হাসল।
তাসিফা কয়েক ঢক পানি খেয়ে বোতলটা আবার জুয়িনের দিকে বাড়িয়ে দিল। আর বলল,
-"নিন।”
জুয়িন বোতলটা নিয়ে তাসিফার দিকে তাকাল। মুখে তখনও চাপা হাসি।
দুজন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রইল। আশপাশের ব্যস্ততা ধীরে ধীরে কমে এসেছে। কিছুক্ষণ পর জুয়িনই নীরবতা ভাঙল।
-"এই তাসিফা, সত্যি করে বলতো, তুই লাস্ট কবে ওজন মেপেছিস?"
-"কেন? হঠাৎ ওজন নিয়ে পড়লেন কেন?"
-"না মানে, তোকে দেখে মনে হচ্ছে আগের থেকে একটু, মানে ফুলে গেছিস।"
-"কি! আমি ফুলে গেছি?"
-"ফুলে গেছিস মানে, একটু মোটা হয়ে গেছিস। গাল দুটো দেখ, আগের থেকে কতটা গোলু-মোলু লাগছে।"
-"মোটেও না। আমি একদম ঠিক আছি। আপনিই উল্টা-পাল্টা বলছেন।"
-"আমি উল্টা-পাল্টা বলছি না। সত্যি বলছি। আয়নায় নিজেকে ভালো করে দেখিস, তাহলেই বুঝবি।"
-"আপনি ইচ্ছে করেই আমাকে রাগানোর জন্য এসব বলছেন, তাই না?"
-"আমি রাগাবো কেন? মোটা মানুষকে মোটা বললে আজকাল রাগ করতে হয় নাকি? এটা তো কমপ্লিমেন্ট।"
-"এটা কোনো কমপ্লিমেন্ট না, এটা অপমান। আপনি সবসময় আমাকে অপমান করেন।"
-"আচ্ছা বাবা সরি। কিন্তু বাসায় গিয়ে একটু ডায়েট-ফায়েট করিস। নাহলে তোর এই গোলু-মোলু চেহারা দেখে তোকে কেউ বিয়েই করবে না।"
-"আমার বিয়ে নিয়ে আপনার না ভাবলেও চলবে।"
জুয়িন আরো কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু হঠাৎই তার চোখ আশপাশে ঘুরে গেল।
এক মুহূর্ত পর তার মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেল।
সে একটু দূরের রাস্তার দিকে তাকিয়ে আবার চারপাশ দেখল। তারপর তাসিফার দিকে ফিরে অস্থির গলায় বলল,
-“বইন, থাম।”
তাসিফা সঙ্গে সঙ্গে তেতে উঠল। আর বলল,
-"আমি আপনার বইন কবে থেকে হলাম?”
জুয়িন এবার বিরক্ত হয়ে বলল,
-“আরে ওইটা এখন বাদ দে। আমাদের রেখে সবাই চলে গেছে মনে হয়।"
তাসিফা প্রথমে কথাটা বুঝতে পারল না। তাই সে বলল,
-“মানে?”
জুয়িন কোনো উত্তর না দিয়ে হাত তুলে সেই জায়গাটার দিকে দেখাল, যেখানে কিছুক্ষণ আগেও তাদের গাড়িগুলো দাঁড়িয়ে ছিল।
তাসিফা সঙ্গে সঙ্গে সেদিকে তাকাল। এক মুহূর্তেই তার চোখ বড় হয়ে গেল। সেখানে একটাও গাড়ি নেই।
যে জায়গাটা কিছুক্ষণ আগেও মানুষ আর গাড়িতে ভরা ছিল, এখন সেখানটা একদম ফাঁকা।
তাসিফা দ্রুত জুয়িনের দিকে ফিরে তাকাল। আর কাঁদো কাঁদো গলায় বলল
-“জুয়িন ভাইয়া।”
জুয়িনও চিন্তিত মুখে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
তাসিফা এবার একটু অস্থির গলায় বলল,
-“এখন আমরা কী করব?”
জুয়িন কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে চারপাশে তাকাল। তারপর বিরক্ত মুখে বলল,
-“আমি কীভাবে বলব? বল?"
তাসিফা চিন্তিত হয়ে বলল,
-“আমরা কীভাবে হোটেলে ফিরব? বলুন না।”
জুয়িন চিন্তিত মুখে চারপাশে তাকিয়ে বলল,
-“আশেপাশে তো কোনো গাড়ি দেখছি না। কীভাবে ফিরব, সেটাই ভাবছি।”
তাসিফা এবার রেগে গিয়ে বলল,
-"আপনার জন্যই তো সব হয়েছে! আপনি যদি আমার সঙ্গে ঝগড়া না করতেন, তাহলে এতক্ষণে আমরা গাড়িতেই থাকতাম। আপনার সঙ্গে ঝগড়া করতে গিয়ে কখন যে সবাই চলে গেছে, সেটাই খেয়াল করিনি। এখন দেখুন, সবাই চলে গেছে আর আমরা দুজন এখানে দাঁড়িয়ে আছি। সবকিছুর জন্য আপনিই দায়ী।”
জুয়িনও এবার তেতে উঠল।
-"হোপ! সব দোষ আমার ঘাড়ে চাপাচ্ছিস কেন? তুই যদি এখানে আমার কাছে না আসতি, তাহলে এতক্ষণে আমিও গাড়িতে বসে থাকতাম। তুই এলি, তারপর ঝগড়া শুরু হলো, আর ঝগড়া করতে করতেই গাড়ি চলে গেল। আর কী বলব? তোকে দেখলেই কেন জানি আমার ঝগড়া করার মুডটা আপনাআপনি চালু হয়ে যায়। এখন বল, এতে কি শুধু আমার দোষ?”
তাসিফা বিরক্ত হয়ে বলল,
-“ধ্যাত!”
এরপর আর কোনো কথা না বলে সে চারপাশে তাকাতে লাগল।
জুয়িনও আর তর্ক বাড়াল না। দোকানের ভেতরে ঢুকে দোকানদারকে জিজ্ঞেস করল,
-“চাচা, এই সময়ে এখানে কি কোনো চাঁদের গাড়ি পাওয়া যাবে?”
দোকানদার একটু ভেবে বললেন,
-"এহানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা কইরা দেখো বাবা। চাঁদের গাড়ি তো এই রাস্তা দিয়া আসে-যায়। ভাগ্য ভালা থাকলে একটা পাইলেও পাইতে পারো।”
জুয়িন আর কিছু বলল না। ধন্যবাদ জানিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে এসে তাসিফার পাশে দাঁড়াল।
তাসিফা কিছু জিজ্ঞেস করল না। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই জুয়িন আর দোকানদারের কথাগুলো সে শুনেছে।
দুজন সেখানেই অপেক্ষা করতে লাগল। মিনিটের পর মিনিট কেটে গেল। কিন্তু আশেপাশে কোনো চাঁদের গাড়ির দেখা নেই। মাঝে মাঝে দূর থেকে গাড়ির শব্দ ভেসে এলেও সেগুলো তাদের দিকে আসছিল না।
তার ওপর মোবাইলে ইন্টারনেটও কাজ করছে না। ফলে ফোনে কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারছে না।
এভাবে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর জুয়িন হঠাৎ হেসে উঠল আর বলল,
-“উফ! কী ঝাক্কাস মার্কা বিপদে পড়েছি আমরা।”
তাসিফা বিরক্ত চোখে তাকিয়ে বলল,
-“এখানে এতক্ষণ অপেক্ষা করলাম, কিন্তু কোনো গাড়িরই দেখা নেই। সন্ধ্যাও হয়ে যাচ্ছে, এভাবে আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকব? চলুন, সামনে এগিয়ে যাই। হয়তো একটু সামনে গেলে কোনো গাড়ি পাওয়া যাবে।”
জুয়িনের কাছে কথাটা যুক্তিসঙ্গতই মনে হলো। তাই আর আপত্তি করল না।
দুজন হাঁটা শুরু করল।
হাঁটতে হাঁটতে কখন যে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে এসেছে, কেউ খেয়ালই করেনি। চারপাশের আলো ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে আসছে। কিছুক্ষণ পর দূরের কোনো মসজিদ থেকে মাগরিবের আজানের ধ্বনি ভেসে এলো।
তাসিফা একবার আকাশের দিকে তাকাল। দিনের শেষ আলোটুকুও যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
দুজনই বেশ ক্লান্ত। এতক্ষণ হিমছড়ির দিকে ঘোরাঘুরি, তারপর গাড়ির অপেক্ষা, সব মিলিয়ে পা যেন আর চলতে চাইছে না। তবুও থামার উপায় নেই। হোটেলে ফিরতে হলে সামনে এগোতেই হবে।
কিছুটা পথ যাওয়ার পর জুয়িন ক্লান্ত গলায় বলল,
-“আর কতদূর হাঁটতে হবে কে জানে।"
তাসিফা হাঁটতে হাঁটতেই বলল,
-“আপনিই তো বলেছিলেন সামনে গেলে গাড়ি পাওয়া যেতে পারে।”
জুয়িন সরু চোখে তাসিফার দিকে তাকিয়ে বলল,
-“আমি বলেছিলাম নাকি? তুই বলেছিলি।”
তাসিফা অপ্রস্তুত হয়ে হেসে বলল,
-"হ্যাঁ তো, আমিই বলেছিলাম।
জুয়িন আর কিছু বলল না। নীরবে সামনে হাঁটতে লাগল।
আরও কিছুটা পথ এগোতেই হঠাৎ রাস্তার পাশে একজন মধ্যবয়স্ক লোককে দেখা গেল। লোকটি তাদের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
জুয়িন তৎক্ষণাৎ হাঁটার গতি একটু কমিয়ে দিল। তাসিফাও লোকটির দিকে তাকাল।
দুজনের চোখেমুখেই তখন স্বস্তির ছাপ,হয়তো এই লোকটিই তাদের হোটেলে ফেরার কোনো ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন।
জুয়িন লোকটির দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল,
-“আংকেল, এখানে কি কোনো গাড়ি পাওয়া যাবে? আমরা আসলে ভার্সিটি থেকে ট্যুরে এসেছিলাম। আমরা যে গাড়িতে করে এসেছিলাম, সেই গাড়ি আমাদের ফেলে চলে গেছে।”
লোকটি অদ্ভুত চোখে কিছুক্ষণ জুয়িন ও তাসিফার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর জিজ্ঞেস করল,
-“কই যাইবা তোমরা?”
জুয়িন যেন একটু আশার আলো দেখতে পেল। তাড়াতাড়ি বলল,
-“আমরা এখন হোটেলে ফিরব। আমাদের বন্ধুরা সবাই হোটেলে চলে গেছে।”
লোকটি এবার আশেপাশে তাকাল। তারপর পকেট থেকে মোবাইল বের করে কাউকে ফোন দিল। কিছুক্ষণ নিচু স্বরে কথা বলার পর ফোনটি রেখে তাদের দিকে তাকিয়ে বলল,
-“এহানে একটু খাড়াও তোমরা।”
কথাটা শুনে জুয়িন আর তাসিফা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। হয়তো লোকটি তাদের জন্য কোনো গাড়ির ব্যবস্থা করে দেবে।
কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না।
কিছুক্ষণ পর কয়েকজন মধ্যবয়স্ক লোককে এদিকে আসতে দেখা গেল। তারা কাছে আসতেই জুয়িনের চোখ সরু হয়ে গেল।
দলের একজন তাদের সামনে এসে রাগী গলায় বলল,
-“নষ্টামি করার আর জায়গা পাও না তোমরা? এইহানে আইয়া এসব করতেছ?”
কথাটা শুনে জুয়িন ও তাসিফা দুজনেই হতভম্ব হয়ে একে অপরের দিকে তাকাল।
আরেকজন এগিয়ে এসে বলল,
-“সন্ধ্যার বেলা ফষ্টিনষ্টি করতে আইছে! এহনই এহনগোরে গেরামে লইয়া চলো।”
কথা শেষ হওয়ার আগেই দুজন লোক জুয়িন ও তাসিফাকে ধরে টেনে সামনে নিয়ে যেতে শুরু করল।
জুয়িন সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে বলল,
-“হোয়াট দ্য হেল! আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? ছাড়ুন!”
তাসিফা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলল,
-“আমাকে ছাড়ুন! আমরা কিছু করিনি।”
কিন্তু কেউ তাদের কথায় কান দিল না।
জুয়িন একবার তাসিফার দিকে তাকাল। ভয়ে তার চোখে পানি জমে উঠেছে। সেটা দেখে জুয়িনের রাগ আরও বেড়ে গেল।
সে লোকগুলোর দিকে তাকিয়ে শক্ত গলায় বলল,
-“তাসিফাকে ছাড়ুন। সে ভয় পাচ্ছে।”
একজন লোক বিরক্ত হয়ে বলল,
-“চুপচাপ হাঁটো। বেশি কথা কইয়ো না।”
জুয়িন এবার নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করে বলল,
-“আমরা এখানে কোনো খারাপ কাজ করিনি। আপনারা ভুল বুঝছেন। আমরা যে গাড়িতে করে এসেছিলাম সেই গাড়ি আমাদের ফেলে চলে গেছে। আমরা শুধু হোটেলে ফেরার জন্য গাড়ি খুঁজছিলাম।”
একজন লোক সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,
-“এইসব কথা কইয়া লাভ নাই। আমরা কেমনে বিশ্বাস করমু তোমাগো?”
জুয়িন বলল,
-“আপনারা অন্তত আমাদের কথা একবার শুনুন।”
লোকটি ধমকের সুরে বলল,
-"কোনো কথা শুনুম না। চুপচাপ চলো। সামনে গিয়া সব বুঝবা।”
জুয়িন ও তাসিফা অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলেও গ্রামের লোকগুলো তাদের কোনো কথাই শুনল না।
কিছুক্ষণ পর তাদের গ্রামের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হলো। সেখানে কয়েকজন লোকের সামনে দুজনকে দাঁড় করিয়ে একজন বলল,
-“এগোর বিয়া দিতে হইবো। কাজি লইয়া আয়।”
কথাটা শুনে জুয়িন ও তাসিফা দুজনেই একসঙ্গে চমকে উঠে বলল,
-“বিয়ে?”
জুয়িন এবার রাগ সামলাতে না পেরে চিৎকার করে বলল,
-“আমাদের বিয়ে দেওয়ার আপনি কে? আমাদের কথা না শুনে এভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কেন?”
লোকটি কঠিন গলায় বলল,
-“এসব ফষ্টিনষ্টি করার আগে ভাবা দরকার আছিল। এহন বেশি কথা কইয়া লাভ নাই।”
তাসিফা আর নিজেকে সামলে রাখতে পারল না। হুহু করে কেঁদে উঠল সে। কাঁপা গলায় বলল,
-“আমি এই বিয়ে করব না! আপনারা আমাদের জোর করতে পারেন না। আমরা কোনো অপরাধ করিনি। গাড়ি মিস হয়ে যাওয়ায় হোটেলে ফেরার জন্য একটা গাড়ি খুঁজতে এখানে এসেছি। আপনারা আমাদের কথা না শুনেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।”
একজন লোক বিরক্ত হয়ে বলল,
-“বেশি কথা কইয়ো না। যা হইবার, হইবো।”
তাসিফা চোখের পানি মুছে আবার বলল,
-“আমি রাজি নই। আমার পরিবারকে না জানিয়ে আপনারা আমাকে এভাবে বিয়ে দিতে পারেন না। আমাদের যেতে দিন, দয়া করে।”
জুয়িন এতক্ষণ চুপ করে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু তাসিফার কান্না দেখে এবার তার গলাতেও কঠোরতা ফুটে উঠল।
-“ও যখন রাজি নয়, তখন আপনারা জোর করছেন কেন? আমাদের কথা একবারও শুনছেন না। আমরা এখানে কোনো ঝামেলা করতে আসিনি।”
একজন লোক গম্ভীর গলায় বলল,
-"এহন আর কথা কইয়া লাভ নাই। চুপচাপ থাকো।”
জুয়িন কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। চারপাশের মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছিল। তাদের দুজনের কোনো কথাই যেন কেউ শুনতে চাইছিল না।
কিছুক্ষণ পর একজন কাজিকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে এল। তাসিফা তখনও কাঁদছিল। কাজি আসতেই সে শেষবারের মতো নিজের আপত্তি জানাল,
-“আমি এই বিয়েতে রাজি নই।”
জুয়িনও তৎক্ষণাৎ বলল,
-“ওর সম্মতি নেই। আপনারা অন্তত আমাদের কথাটা শুনুন।”
কিন্তু গ্রামের লোকজন তাদের কোনো কথাতেই কর্ণপাত করল না। একের পর এক জোরাজুরির মধ্যে শেষ পর্যন্ত তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দেওয়া হলো।
সবকিছু শেষ হওয়ার পর তাসিফা নিঃশব্দে বসে রইল। চোখের পানি তখনও গড়িয়ে পড়ছে। আর জুয়িনের চোয়াল শক্ত হয়ে আছে, চোখেমুখে স্পষ্ট রাগ। এতক্ষণ যা ঘটল, সেটা যেন দুজনের কাছেই এখনও অবিশ্বাস্য লাগছিল।
কিছুক্ষণ পর গ্রামের একজন লোক জিজ্ঞেস করল,
-“এহন কই যাইবা তোমরা?”
জুয়িন শক্ত গলায় বলল,
-“হোটেলে ফিরব। আমাদের একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে দিন।”
লোকটি কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,
-“আইচ্ছা, খাড়াও। গাড়ির ব্যবস্থা করতেছি।”
লোকটি কাউকে ফোন দিল। মিনিটখানেক পর একটি চাঁদের গাড়ি এসে তাদের সামনে থামল। মনে হলো, গাড়ির চালকটি গ্রামের লোকগুলোর পরিচিত।
জুয়িন গাড়ির কাছে গিয়ে চালককে তাদের হোটেলের নাম বলল। তারপর তাসিফাকে নিয়ে গাড়িতে উঠে বসল।
গাড়ি ছাড়ার আগে তাসিফা একবার গ্রামের লোকগুলোর দিকে তাকাল। তার চোখে তখনও ভয়, অভিমান আর ক্ষোভ। পরক্ষণেই সে মুখ ঘুরিয়ে নিল।
গাড়ি চলতে শুরু করতেই তাসিফা কান্নাভেজা গলায় বলল,
-“আমি বাসায় কী বলব?”
জুয়িন কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
-“এখন কিছু বলার দরকার নেই।”
তাসিফা চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল,
-“তাহলে কখন বলব?”
জুয়িন শান্ত গলায় বলল,
-“পরেরটা পরে দেখা যাবে। আর আমি তো আছিই, বেশি চিন্তা করিস না।”
তাসিফা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে নিচু গলায় বলল,
-“আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে।”
জুয়িন বাইরের দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বলল,
-“হুম।”
এরপর দুজনের কেউ আর কোনো কথা বলল না।
দুজনের মনেই তখন ভয় আর অস্বস্তি। এতক্ষণে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো যেন এখনও তাদের বিশ্বাসই হচ্ছে না।
সময় কেটে গেল। অবশেষে চাঁদের গাড়িটি হোটেলের সামনে এসে থামল।
তাসিফা ও জুয়িন গাড়ি থেকে নেমে হোটেলের দিকে তাকাল। সবাই সম্ভবত এরই মধ্যে হোটেলের ভেতর চলে গেছে।
দুজন কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর একসঙ্গে হোটেলের ভেতরে প্রবেশ করল।
#চলবে
(অনেক প্যারার মাঝেই গল্পটা লিখতে হয়েছে। সত্যি বলতে, মোবাইল হাতে নিয়ে বসার মতো সময়ই ঠিকমতো পাচ্ছি না। তাই আজকের পর্বটা হয়তো আপনাদের কাছে একটু বোরিং লাগতে পারে। গল্পের গতি বা ঘটনাগুলো যদি প্রত্যাশামতো না লাগে, তার জন্য আগেই সরি বলে রাখছি। আশা করি, পরিস্থিতিটা একটু বুঝবেন এবং পাশে থাকবেন।)