ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি কারো নও

পর্ব 43

লেখক: মিশু

#তুমি_কারো_নও
#লেখিকা_মিশু

----

রাত ৮টা বেজে গেছে। রিদ, সিয়াম, তাসনিম আর সাদ একে একে বিদায় জানিয়ে নিজেদের বাসার উদ্দেশে রওনা দিল।

তাসিফা শুধু রয়ে গেল জুয়িনের বাসায়।

সবাই বেরিয়ে যাওয়ার পর জুয়িন দরজাটা বন্ধ করে ছিটকিনি লাগিয়ে দিল। তারপর ঘুরে তাসিফার দিকে তাকাল। মুখে ফুটে উঠল দুষ্টু হাসি।

তাসিফা তখন ঘরের ভেতর দাঁড়িয়ে চারপাশে তাকাচ্ছিল। জুয়িনের তাকিয়ে থাকা টের পেয়ে সেও তার দিকে তাকাল।

জুয়িন মুচকি হেসে বলল,
-“আজকে তো বউয়ের মতো ঘরটা গুছিয়ে দিলি।”

তাসিফা ভ্রু কুঁচকে বলল,
-“বউয়ের মতো না, বোনের মতো করে গুছিয়ে দিয়েছি।”

তাসিফার কথা শুনে জুয়িন হঠাৎ কেশে উঠল। নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,
-“তুই আমার কোনো বোন-টোন না।”

একটু থেমে মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল,
-“বউ হোস।”

কথাটা বলেই জুয়িন নিজেও যেন বুঝতে পারল, কী বলে ফেলেছে।

তাসিফা সঙ্গে সঙ্গে তার দিকে তাকিয়ে মুখ ভেংচি কাটল। আর বলল,
-“কে আপনার বউ? হুহ! আমি আপনাকে স্বামী হিসেবে মানিই না।”

জুয়িন ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকাল। তারপর বেশ ভাব নিয়ে বলল,
-“তোর মতো ঝগড়াইট্টাকে বউ হিসেবে কে মানে? আমার বয়ে গেছে তোকে বউ হিসেবে মানার।”

কথাটা শুনেই তাসিফার মুখটা গম্ভীর হয়ে গেল।
-“আমি ঝগড়াইট্টা? আবার মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন!”

জুয়িন নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল,
-“মিথ্যা?”

তারপর এমন একটা ভাব করল, যেন তাসিফার কথায় সে ভীষণ অবাক হয়েছে। চোখ বড় বড় করে বলল,
-“লাইক সিরিয়াসলি? আমি মিথ্যা অপবাদ দিয়েছি? এগুলো বলিস না। আল্লাহ নারাজ হয়ে যাবে।”

তাসিফা বিরক্ত হয়ে চোখ উল্টে ফেলল।
-“হ্যাঁ, হয়েছে। এখন আমি যাচ্ছি।”

কথাটা বলেই সে আর দাঁড়াল না। রাগে হন্তদন্ত হয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। জুয়িনের সঙ্গে কথা বললেই কোনো না কোনোভাবে সে রেগে যায়। আর লোকটাও যেন ইচ্ছে করেই তাকে খেপিয়ে আনন্দ পায়।

তাসিফা দরজার কাছে পৌঁছানোর আগেই জুয়িন দ্রুত তার কাছে চলে গেল।

তাসিফা দরজার হাতলে হাত রাখতেই জুয়িন তার হাত ধরে ফেলল। তারপর তাকে নিজের দিকে টেনে আনল।

হঠাৎ এমন হওয়ায় তাসিফা থেমে গেল। চোখ বড় বড় করে তাকাল জুয়িনের দিকে। দুজনের মাঝের দূরত্ব মুহূর্তেই কমে গেল।

জুয়িন তার দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচিয়ে বলল,
-“কথায় কথায় রেগে যাস কেন?”

তাসিফা এবার আর তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারল না। চোখ নামিয়ে নিয়ে নিচু গলায় বলল,
-“আপনি কথাগুলোই এমন বলেন।”

জুয়িন কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে থেকে হালকা স্বরে বলল,
-“ওহ, আচ্ছা।”

তাসিফা এবার নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল।
-“ছাড়ুন।”

জুয়িন হাত না ছেড়ে মুখটা একটু কাছে এনে নিচু স্বরে বলল,
-“না ছাড়লে কী করবি?”

তাসিফা এবার কিছু না বলে ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি ফুটিয়ে তুলল। পরমুহূর্তেই জুয়িনের হাতটা নিজের দিকে টেনে এনে বেশ জোরে দাঁত বসিয়ে দিল।

“আহ!” হঠাৎ তীব্র ব্যথায় জুয়িন সঙ্গে সঙ্গে তার হাত ছেড়ে দিল। এক ঝটকায় নিজের হাতটা সরিয়ে নিয়ে ব্যথায় মুখ কুঁচকে তাসিফার দিকে তাকাল।
-“এই ইডিয়ট!”

তাসিফা তখন আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। হাসতে হাসতে দ্রুত দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে গেল।

জুয়িন নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে রইল। কামড়ের জায়গাটা বেশ জ্বলছে।

সে আর দেরি না করে রান্নাঘরের দিকে গেল। ফ্রিজ খুলে একটা আইস কিউব বের করল। বরফটা হাতে চেপে ধরে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল।

তারপর বিড়বিড় করে বলল,
-"বেয়াদবটা তো দেখি সত্যিই মানুষ না! কথায় না পেরে শেষমেশ কামড় বসিয়ে দিল।"

----

তাসিফা বাসায় ফিরে সোজা নিজের রুমে ঢুকে গেল। দরজা বন্ধ করে বিছানার কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই জুয়িনকে কামড় দেওয়ার কথাটা মনে পড়ে গেল।

ঠোঁটের কোণে আবারও হাসি ফুটে উঠল তার।

জুয়িনকে এমন একটা শিক্ষা দিতে পেরে বেশ ভালোই লাগছে তার। দাঁত দুটোও যেন আরাম পেয়েছে!

নিজের ভাবনাতেই হেসে ফেলল তাসিফা।

তবে সেই হাসি বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না।

কিছুক্ষণ পরই জুয়িনের ব্যথায় মুখ কুঁচকে যাওয়ার দৃশ্যটা মনে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে তাসিফার মুখটা একটু মলিন হয়ে গেল।

আচ্ছা, বেশি জোরেই কি কামড়ে ফেলেছে সে?

নিশ্চয়ই হাতটা এখনও জ্বলছে। ব্যথাও করছে হয়তো।

তাসিফা এবার নিজের কাজটার কথা ভেবে একটু অস্বস্তি বোধ করল। রাগের মাথায় মজা করতে গিয়ে হয়তো একটু বেশিই করে ফেলেছে।

কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে মনে মনে ঠিক করল, আগামীকাল জুয়িনকে "সরি" বলে দেবে।

----

পরের দিন,

আজ শুক্রবার। তাই ভার্সিটি বন্ধ। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে তাসিফা প্রথমেই নিজের ঘরটা গুছিয়ে নিল। কয়েকদিন ধরে ঠিকমতো গোছানো হয়নি বলে ঘরটা একটু এলোমেলো হয়ে ছিল। সবকিছু গুছিয়ে নেওয়ার পর ঘরটাও বেশ পরিপাটি লাগল।

অন্যদিকে, আয়রা বেগম নাশতা তৈরি করে টেবিলে এনে রাখলেন। আলমগীর আলম সকাল সকালই নিজের কাজে বেরিয়ে গেছেন। তাই এই মুহূর্তে বাসায় শুধু মা-মেয়েই আছে।

তাসিফা দ্রুত নাশতা সেরে নিজের ঘরে চলে গেল। বিছানার ওপর বসে প্রথমেই তাসনিমকে ফোন করল।

তাসনিম প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কলটা ধরল।
-“হ্যালো?”

তাসিফা বলল,
-“ইয়াশের জন্য গিফট কিনতে এখন বের হবো। তুই যাবি না?”

ওপাশ থেকে তাসনিম বলল,
-“হ্যাঁ, যাবো। তুই রেডি হয়ে বের হ।”

-“আচ্ছা।”

কলটা কেটে দেওয়ার পর তাসিফা সাদকে ফোন করেও একই কথা জানিয়ে দিল।

এরপর আর দেরি না করে তাসিফা পরিপাটি হয়ে রেডি হয়ে নিল। এরপর ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে আয়রা বেগমের রুমের কাছে গিয়ে দাঁড়াল।

মায়ের পাশে গিয়ে বসে একটু আদুরে গলায় বলল,
-“মা।”

আয়রা বেগম মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,
-“কী হয়েছে?”

তাসিফা একটু মিষ্টি করে হেসে বলল,
-“আমাকে কয়েকটা টাকা দিবে?”

-“টাকা দিয়ে কী করবি?”

-“আজকে ইয়াশের জন্মদিন। ওর জন্য গিফট কিনতে যাবো।”

আয়রা বেগম মুচকি হেসে বললেন,
-“ওহ্, তাই নাকি? আগে তো বলিসনি যে আজ ওর জন্মদিন।”

তাসিফা একটু হেসে বলল,
-“হ্যাঁ, আজকেই। তাই ভাবলাম তাসনিম আর সাদকে নিয়ে একটা ভালো গিফট কিনে দেবো।”

আয়রা বেগম একটু মজা করে বললেন,
-“শুধু গিফট কিনবি, নাকি নিজের জন্যও কিছু কিনে ফেলবি?”

তাসিফা সঙ্গে সঙ্গে মুখ বাঁকিয়ে বলল,
-“ইশ্ মা! আমি নিজের জন্য কেনাকাটা করতে যাচ্ছি না। শুধু ইয়াশের জন্যই গিফট কিনব।”

আয়রা বেগম মেয়ের গাল টিপে দিয়ে বললেন,
-“আচ্ছা, আচ্ছা। এত রাগ করতে হবে না।”

তাসিফা হেসে মায়ের হাতটা সরিয়ে বলল,
-“তাহলে টাকা দাও।”

-“কত লাগবে?”

-“তুমি যত দাও।”

আয়রা বেগম হেসে বললেন,
-“এই কথাটাই তো বিপজ্জনক! যত দেবো, ততই খরচ করে আসবি।”

তাসিফা মায়ের কাঁধে মাথা রেখে আদুরে গলায় বলল,
-“আমি কিন্তু খুব বুঝেশুনে খরচ করব। কথা দিলাম।”

আয়রা বেগম মেয়ের দিকে তাকিয়ে মায়াভরা হাসি দিয়ে বললেন,
-“দাঁড়া, দেখি।”

তিনি নিজের পার্স খুলে পাঁচ হাজার টাকা বের করলেন। তারপর টাকাগুলো তাসিফার হাতে দিয়ে বললেন,
-“নে। সুন্দর দেখে কিছু গিফট করিস। আর নিজের কাছেও কিছু টাকা রাখিস, সবটা খরচ করে ফেলিস না।”

তাসিফা টাকাগুলো হাতে নিয়ে খুশি হয়ে বলল,
-“থ্যাংক ইউ, মা।”

আয়রা বেগম হেসে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।

-----

সাদ, তাসিফা আর তাসনিম একটা মার্কেটে চলে এলো।

ইয়াশের জন্মদিনে কে কী গিফট দেবে, সেটা ঠিক করতেই মার্কেটে এসে বেশ কিছুটা সময় ঘুরতে হলো তাদের।

প্রথমে সাদ আর তাসনিম নিজেদের পছন্দের জিনিস খুঁজতে শুরু করল।

সাদ কয়েকটা দোকান ঘুরে শেষ পর্যন্ত একটা ওয়ালেট পছন্দ করল। খুব বেশি ডিজাইনের নয়, দেখতে বেশ সিম্পল আর সুন্দর। ওয়ালেটটা হাতে নিয়ে কয়েকবার দেখে দাম জেনে নিল সে। পছন্দ হয়ে যাওয়ায় সেটাই কিনে ফেলল।

অন্যদিকে তাসনিম পারফিউমের দোকানে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটাল। একটার পর একটা পারফিউম দেখে কোনটা নেওয়া যায়, সেটা নিয়ে ভাবতে লাগল। শেষ পর্যন্ত একটা পছন্দ হলো তার। সেটাও কিনে নিল তাসনিম।

দুজনের কেনাকাটা শেষ হয়ে গেলেও তাসিফা তখনও কিছুই ঠিক করতে পারেনি।

এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরেও তার কিছুই পছন্দ হচ্ছিল না। হাতে নেওয়ার পর মনে হচ্ছিল, এটা দেওয়া যায় না। আবার অন্য কিছু দেখলে সেটাও ঠিক মনে হচ্ছিল না।

তাসনিম একসময় বলল,
-“তুই এখনো ঠিক করতে পারলি না?”

তাসিফা একটু বিরক্ত মুখে বলল,
-"না। কী দেব, সেটাই তো বুঝতে পারছি না।”

-“যেটা তোর ভালো লাগবে, সেটাই দে।”

তাসিফা কিছু না বলে আবার সামনে তাকাল।

হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ একটা কাপড়ের দোকানের সামনে এসে দাঁড়াল সে। দোকানের ভেতরে সাজানো শার্টগুলোর দিকে চোখ পড়তেই কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে রইল।

তারপর বলল,
-“আমি এখানে একটু দেখি।”

তাসিফা দোকানের ভেতরে ঢুকে একে একে কয়েকটা শার্ট দেখতে লাগল। বিভিন্ন রঙের শার্টের মধ্যে একটা সাদা শার্ট তার বেশ পছন্দ হলো।

শার্টটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ দেখল সে।

সাদা রঙের শার্টটা দেখেই কেন যেন ইয়াশের কথা মনে হলো তার। মনে হলো, এটা ইয়াশকে বেশ মানাবে।

তাসিফার মুখে অজান্তেই হালকা হাসি ফুটে উঠল।
-“এটাই নেব।”

শার্টটা কিনে নেওয়ার পর অবশেষে তারও গিফট ঠিক হয়ে গেল।

তিনজনের কেনাকাটা শেষ করতে করতে বেশ কিছুটা সময় কেটে গেল। মার্কেট থেকে বের হওয়ার সময় যোহরের আজানও পড়ে গেল।

সকাল থেকে ঘোরাঘুরি করার কারণে ততক্ষণে সবারই বেশ ক্ষুধা লেগে গেছে। তাই মার্কেট থেকে বেরিয়ে কাছের একটা হোটেলে ঢুকে পড়ল তিনজন।

একটা টেবিলে বসে বেশি কিছু না ভেবে সাদা ভাত আর মুরগির মাংস অর্ডার করল তারা।

খাবার আসতে একটু সময় লাগল। সেই সময়টুকু তিনজন গল্প করতে করতেই কাটিয়ে দিল। কিছুক্ষণ পর খাবার টেবিলে আসতেই সবাই খেতে শুরু করল।

খাওয়া শেষ হতে হতে বেশ কিছুটা সময় পেরিয়ে গেল।

সাদ টিস্যু দিয়ে হাত মুছে টেবিল থেকে উঠে দাঁড়াল। এরপর কাউন্টারে গিয়ে খাবারের বিলটা মিটিয়ে দিয়ে আবার তাদের কাছে ফিরে এলো। সে বলল,
-“আমি তাহলে বাসায় যাই? বিকেলে আবার চলে আসব।”

তাসনিম আর তাসিফা দুজনেই মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।

সাদ তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিজের বাসার উদ্দেশে চলে গেল। তাসিফা আর তাসনিমও কিছুক্ষণ পর যে যার গন্তব্যে রওনা হলো।

বিকেলে আবার সবাই একসঙ্গে হবে।

----

বিকেলে তাসিফা ছাদে এলো। জুয়িন আগে থেকেই সেখানে ছিল। ছাদের একপাশে রাখা টেবিলটা সে ঠিক জায়গায় সরিয়ে রাখছিল।

হঠাৎ পেছনে কারও উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়িন ঘুরে তাকাল। তাসিফাকে দেখেই ভ্রু কুঁচকে অন্যদিকে তাকিয়ে নিল, যেন তাকে দেখেইনি।

তাসিফা জুয়িনের এমন আচরণে একটু অবাক হলো। ধীর পায়ে তার কাছে এগিয়ে গিয়ে বলল,
-“আপনি একা করছেন? আমিও সাহায্য করি?”

জুয়িন কোনো উত্তর দিল না। বরং টেবিলটা ঠিকঠাক করে শেষবারের মতো একবার দেখে নিল।

তাসিফা এবার আরও অবাক হলো। জুয়িন কেন তার সঙ্গে কথা বলছে না, কিছুতেই বুঝতে পারল না। হঠাৎ গতকালের কামড় দেওয়ার কথাটা মনে পড়তেই বিষয়টা তার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল।

মুখে মিষ্টি হাসি ফুটিয়ে তাসিফা জুয়িনের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল,
-"আপনি কি আমার ওপর রেগে আছেন?”

জুয়িন বিরক্তির ভঙ্গিতে চ-সূচক শব্দ করল।

তাসিফা মুখ ফুলিয়ে বলল,
-“আচ্ছা বাবা, সরি। আর কামড় দেব না।”

জুয়িন এক পলক তাসিফার দিকে তাকাল। তারপর আবার চোখ সরিয়ে নিল।

তাসিফা এবার একটু অভিমানী গলায় বলল,
-“উফ! কথা বলছেন না কেন? সরি তো বললামই।”

জুয়িন এবারও কোনো উত্তর দিল না।

তাসিফা আরও কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই ছাদের দরজা খুলে সাদ, তাসনিম, রিদ আর সিয়াম চলে এলো।

সাদের হাতে ছিল ডেকোরেশনের জন্য কেনা জিনিসপত্র। তাসনিমের হাতে ছিল ইয়াশের জন্য সাদ আর তার কেনা গিফটগুলো।

জুয়িন সাদের হাতের জিনিসগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল,
-“তাহলে ডেকোরেট করা যাক?”

সবাই একসঙ্গে মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।

সাদ হাত থেকে ব্যাগগুলো নামিয়ে ডেকোরেশনের জিনিসগুলো বের করে দিল। একে একে বেলুন, রিবন, টেপ আর ‘HAPPY BIRTHDAY’ লেখা বেলুনগুলো বেরিয়ে এলো।

তাসনিম আর তাসিফা বেলুন ফুলাতে শুরু করল। একটা একটা করে বেলুন ফুলে উঠতে লাগল। ফুলানো বেলুনগুলো আপাতত একপাশে জমিয়ে রাখা হলো।

অন্যদিকে জুয়িন আর রিদ ‘HAPPY BIRTHDAY’ লেখা অক্ষরগুলো সাবধানে ফুলাচ্ছিল। বেলুনগুলো ঠিকমতো ফুলে ওঠার পর অক্ষরগুলো পাশাপাশি রেখে দেখা হলো, কোথায় কোনটা বসবে।

সব বেলুন ফুলানো হয়ে গেলে ডেকোরেশনের কাজ শুরু হলো।

ছাদের একপাশের দেয়ালটাকেই সাজানোর জন্য বেছে নেওয়া হলো। বেলুনগুলো কয়েকটা করে একসঙ্গে জুড়ে নিয়ে টেপ দিয়ে দেয়ালে লাগানো হলো। কোথাও বেলুন একটু নিচে নেমে গেলে আবার খুলে ঠিক করে লাগানো হলো।

এরপর ‘HAPPY BIRTHDAY’ লেখা বেলুনগুলো মাঝখানে লাগানো হলো। কয়েকবার দূর থেকে দেখে অক্ষরগুলোর অবস্থান ঠিক করা হলো, যাতে লেখাটা সোজা ও পরিষ্কারভাবে দেখা যায়।

টেবিলটাও দেয়ালের সামনে এনে রাখা হলো। টেবিলের ওপর জন্মদিনের কেক রাখার জন্য জায়গা করে নেওয়া হলো। পাশে কয়েকটা ছোট ডেকোরেশনও সাজিয়ে দেওয়া হলো।

কাজ শেষ হলে তাসিফা একটু দূরে দাঁড়িয়ে সাজানো জায়গাটার দিকে তাকাল।

খুব বেশি কিছু নয়, তবুও বেলুন আর ‘HAPPY BIRTHDAY’ লেখা দিয়ে ছাদটার চেহারাই বদলে গেছে। ইয়াশের জন্মদিনের জন্য এই ছোট্ট আয়োজনটা বেশ সুন্দর দেখাচ্ছে।

----

ডেকোরেশনের কাজ শেষ করতে করতে কখন যে এতটা সময় কেটে গেল, কেউ খেয়ালই করেনি। ঘড়ির কাঁটা তখন সন্ধ্যা সাতটা ছুঁইছুঁই।

ডেকোরেশনের কাজও পুরোপুরি শেষ। রাত নয়টার  দিকে জুয়িন কেক, কোল্ড ড্রিংক আর কাচ্চি নিয়ে আসবে।

ডেকোরেশনের পর সবাই বেশ কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। তাই এখন সবাই জুয়িনের ফ্ল্যাটে বসে একটু বিশ্রাম নিচ্ছে। কেউ সোফায় বসে আছে, কেউ আবার মেঝেতে হেলান দিয়ে আরাম করছে। এতক্ষণ কাজ করার পর সবার মধ্যেই একটা স্বস্তির ভাব চলে এসেছে।

হঠাৎ তাসনিম তাসিফার দিকে তাকিয়ে বলল,
-“তুই ইয়াশকে কীভাবে ছাদে আনবি?”

তাসিফা তখন বেশ নিশ্চিন্তভাবেই বসে ছিল। তাসনিমের প্রশ্ন শুনে তার ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠল। সে বলল,
-“দেখিস, কীভাবে আনি।”
কথাটা বলে তাসিফা একবার জুয়িনের দিকে তাকাল।

জুয়িন তখন একটু দূরে বসে ছিল। তাসিফার তাকানোটা জুয়িন খেয়াল করলেও ইচ্ছে করেই তার দিকে তাকাল না। গতকালের ঘটনা নিয়ে এখনও সামান্য অভিমান করে আছে সে। অবশ্য সেটা নিয়ে সরাসরি কিছু বলারও নেই তার। তাই তাসিফার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা না বলে নিজের অভিমানটুকু নীরবে প্রকাশ করেই যাচ্ছে।

তাসিফা কয়েক মুহূর্ত জুয়িনের দিকে তাকিয়ে রইল। কিন্তু জুয়িন একবারও তার দিকে তাকাল না।

শেষ পর্যন্ত তাসিফা আর জোর করল না। মুখের হাসিটা একটু ম্লান করে সে অন্যদিকে তাকিয়ে বসল।

----

রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তাসিফা সবার সামনেই ইয়াশকে ফোন করল। প্রথমবার কলটা রিসিভ হলো না। তাসিফা একবার সবার দিকে তাকিয়ে আবারও নম্বরটায় কল দিল।

এবার কয়েকবার রিং হওয়ার পর ওপাশ থেকে ইয়াশ ফোন ধরল।
-“হ্যালো।”

তাসিফা সঙ্গে সঙ্গেই নিজের কণ্ঠ বদলে ফেলল। গলায় অসুস্থতার ভাব এনে বেশ দুর্বল স্বরে বলল,
-“ইয়াশ, কোথায় তুই? ইমার্জেন্সি আমার বাসায় আয়। আমার অবস্থা খুব খারাপ।”

ইয়াশ মাত্রই বিছানায় পিঠ লাগিয়েছিল। তাসিফার এমন কণ্ঠ শুনে সঙ্গে সঙ্গে উঠে বসল। তার গলায় মুহূর্তেই উদ্বেগ ফুটে উঠল।
-“কিরে, তোর কী হয়েছে? কণ্ঠ এমন শোনাচ্ছে কেন?”

তাসিফা এবার আরও কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,
-“তুই তাড়াতাড়ি আমার বাসায় আয়। বেশি কিছু জিজ্ঞেস করিস না, প্লিজ।”
কথাটা বলেই সে আর কোনো সুযোগ না দিয়ে কল কেটে দিল।

ফোনটা নামিয়ে রাখতেই তাসিফা দেখল, ঘরে থাকা সবাই তার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। তার অভিনয়টা যে এতটা বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে, সেটা তাদের মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে।

রিদ ভ্রু কুঁচকে তাসিফার দিকে তাকিয়ে বলল,
-“আসবে তো? সিউর?”

তাসিফা কিছু বলার আগেই সাদ আর তাসনিমের সঙ্গে একসঙ্গে বলে উঠল,
-“হান্ড্রেড পার্সেন্ট সিউর।”

তাদের আত্মবিশ্বাসী উত্তর শুনে রিদ আর কিছু বলল না।

এরপর সিয়াম তাসনিমের দিকে তাকিয়ে জানতে চাইল,
-“ইয়াশের বাসা থেকে এখানে আসতে কতক্ষণ লাগবে?”

তাসনিম একটু ভেবে বলল,
-“ওর বাসা থেকে এখানে আসতে প্রায় বিশ মিনিটের মতো লাগবে।”

রিদ আর সিয়াম একসঙ্গে বলে উঠল,
-"ওহ।"

তাসিফা তখনই সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল। হাতে থাকা ফোনটা একবার দেখে নিয়ে সবাইকে বলল,
-"তোমরা সবাই বারোটার মধ্যে রেডি থেকো। আমি এখন আমার বাসায় যাচ্ছি। ইয়াশ আমার বাসায় আসার পর ওকে নিয়ে বারোটার মধ্যে ছাদে চলে আসব।”

তাসিফার কথায় সবাই সম্মতি জানাল।

তাসিফা এবার দরজার দিকে এগিয়ে গেল। বের হওয়ার ঠিক আগে হঠাৎ থেমে একবার জুয়িনের দিকে তাকাল।

জুয়িন তখন চুপচাপ বসে ছিল। তাসিফার দৃষ্টি টের পেলেও তার দিকে তাকাল না।

তাসিফা কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর আর কিছু না বলে দরজা খুলে ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল।

-----

মাত্র দশ মিনিটের মধ্যেই ইয়াশ তাসিফার ফ্ল্যাটের সামনে এসে হাজির হলো। এত দ্রুত আসতে গিয়ে বেশ হাঁপিয়ে উঠেছে সে।

অস্থির হাতে কয়েকবার কলিংবেল চাপতেই ভেতর থেকে তাসিফা দ্রুত এসে দরজা খুলল।

দরজা খুলেই ইয়াশকে এমন হাঁপাতে দেখে তাসিফার জিহ্বায় কামড় পড়ে গেল। ছেলেটা যে এত তাড়াতাড়ি চলে আসবে, সেটা সে ভাবতেই পারেনি।

অন্যদিকে, তাসিফাকে একদম ফিটফাট অবস্থায় দেখে ইয়াশ কয়েক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। ফোনে তাসিফার কণ্ঠ শুনে তো তার মনে হয়েছিল, মেয়েটার সত্যিই কিছু একটা হয়েছে।

হাঁপাতে হাঁপাতে ইয়াশ জিজ্ঞেস করল,
-“কী হয়েছে তোর?”

ইয়াশের হাঁপানোর অবস্থা দেখে তাসিফার এবার একটু খারাপই লাগল। সে ইয়াশের হাত ধরে তাকে ড্রইংরুমে নিয়ে এসে সোফায় বসিয়ে দিল। তারপর দ্রুত এক গ্লাস পানি এনে তার হাতে ধরিয়ে দিল।

ইয়াশ গ্লাসটা হাতে নিয়েই এক নিঃশ্বাসে প্রায় পুরো পানিটা খেয়ে ফেলল। এরপর খালি গ্লাসটা তাসিফার দিকে এগিয়ে দিয়ে বিরক্ত গলায় বলল,
-“ফোনে বললি জলদি আসতে। কারণ কী?”

তাসিফা অপ্রস্তুতভাবে হেসে বলল,
-“দশ মিনিট বস, দোস্ত।”

ইয়াশ সঙ্গে সঙ্গে তেতে উঠল,
-“তুই জানিস, আমি কতটা তাড়াহুড়ো করে এসেছি?”

তাসিফা ভ্যাবলা হেসে বলল,
-“সরি দোস্ত।”

ইয়াশ আর কিছু বলল না। মুখ গম্ভীর করে চুপচাপ বসে রইল। মেজাজ যে বেশ খারাপ হয়ে গেছে, সেটা তার মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। সবসময় ফাজলামি ভালো লাগে না তার, বিশেষ করে অসুস্থতার কথা বলে এভাবে ভয় দেখালে তো নয়ই।

তাসিফাও এবার তার পাশেই বসে পড়ল। তবে তার মন পড়ে আছে অন্য জায়গায়। বারবার মোবাইলের স্ক্রিন জ্বালিয়ে সময় দেখছে সে। এভাবেই কিছুক্ষণ কেটে গেল।

এখন বারোটা বাজতে আর মাত্র তিন মিনিট বাকি।

সময় যত এগোচ্ছে, তাসিফার ভেতরের উত্তেজনাটাও তত বাড়ছে। একবার ঘড়ির দিকে, আবার মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে শেষ পর্যন্ত সে উঠে দাঁড়াল।

তারপর ইয়াশের দিকে তাকিয়ে বলল,
-“আমার সঙ্গে আয়।”

ইয়াশ বিরক্ত মুখে বলল,
-“পারমু না। তুই যা।”

-“উঠ তো!”
কথাটা বলেই তাসিফা তার হাত ধরে টেনে তুলতে শুরু করল।

ইয়াশ এবার বিরক্ত হয়ে বকতে লাগল,
-“আরে ছাড় তো! কী হচ্ছে এসব? একটু আগে অসুস্থতার কথা বলে ডাকলি, এখন আবার কোথায় নিয়ে যাচ্ছিস?”

তাসিফা কোনো উত্তর দিল না। শুধু মুখ চেপে হাসতে হাসতে তাকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলল।

ধীরে ধীরে দুজন ছাদের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল।

বারোটা বাজতে আর মাত্র এক মিনিট।

তাসিফা একবার মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকাল। তারপর ইয়াশের দিকে তাকিয়ে দরজার হাতলে হাত রাখল।

ইয়াশ তখনও কিছুই বুঝতে পারছে না। তাসিফা ধীরে ধীরে ছাদের দরজা খুলে দিল।

দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই আকাশের দিকে ঝলসে উঠল প্রথম আলো।

জুয়িন আর সাদ আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। মুহূর্তের মধ্যেই একের পর এক 'এরিয়াল ফায়ারওয়ার্কস' আকাশে উঠে ফুটে উঠতে শুরু করল। রাতের অন্ধকার রঙিন ঝলমলে আলোয় ভরে গেল।

ইয়াশ দরজার কাছেই থমকে দাঁড়িয়ে গেল।

সে কিছু বুঝে ওঠার আগেই চারপাশ থেকে সবাই একসঙ্গে চিৎকার করে উঠল,
-“হ্যাপি বার্থডে, ইয়াশ!”

চারদিকের হাসি-চিৎকার আর আকাশভরা ঝলমলে আলোর মাঝে ইয়াশ কয়েক সেকেন্ড একেবারে নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

তারপর অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে একবার তাসিফার দিকে তাকাল।
তাসিফার মুখে তখন দুষ্টু একটা হাসি।

ইয়াশ এবার বুঝতে পারল,
ফোনে অসুস্থতার অভিনয় করে তাকে এত তাড়াহুড়ো করে ডেকে আনার আসল কারণ এটাই।

ইয়াশ আর নিজেকে সামলাতে পারল না। কুঁকড়ে বসে পড়ল সে। দুহাত দিয়ে মুখ চেপে ধরতেই তার কাঁধ কেঁপে উঠল।

সবাই দ্রুত এগিয়ে গেল ইয়াশের দিকে।

কাছাকাছি যেতেই বুঝতে পারল, ইয়াশ কাঁদছে। সবাই মিলে তাকে উঠিয়ে দাঁড় করাল।

ইয়াশ এবার ধীরে ধীরে মুখ থেকে হাত সরাল। চোখজোড়া পানিতে ভরে আছে। নিজের জন্মদিনে এমন সারপ্রাইজ পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেনি সে।

সাদ ইয়াশের পিঠে চাপড় মেরে বলল,
-“আরে শালা, কাঁদিস না।”

ইয়াশ এবার সবার দিকে তাকিয়ে বলল,
-“আমি কল্পনাও করিনি যে তোমরা এভাবে আমাকে সারপ্রাইজ দিবে।”

কথাটা বলতেই সবাই মিলে ইয়াশকে জড়িয়ে ধরল।

জুয়িন হেসে বলল,
-“ইয়াশ, তোমাকে বেহুদাপনায় মানায়, কান্নায় না। সো, কান্না থামাও ভাই।”

জুয়িনের কথা শুনে সবাই হেসে দিল।

ইয়াশও চোখের পানি মুছে হেসে বলল,
-“আচ্ছা।”

এরপর সবাই ইয়াশকে নিয়ে টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। টেবিলের ওপর সুন্দর করে সাজানো একটি গোলাকার কেক রাখা। কেকের মাঝখানে লেখা,
“Happy Birthday Jawra Iyash”

লেখাটা দেখে ইয়াশ আবারও হেসে ফেলল।

কেকের মাঝখানে একটি মোমবাতি জ্বলছে। ইয়াশ চোখ বন্ধ করে মনে মনে কিছু একটা চেয়ে মোমবাতিতে ফুঁ দিতেই সবাই হৈহৈ করে উঠল।

এরপর ইয়াশ কেক কাটল এবং একে একে সবাইকে কেক খাইয়ে দিল।

সুযোগ বুঝে সাদ কেকের ক্রিম হাতে নিয়ে ইয়াশের গালে মাখিয়ে দিল।

এবার যেন ইয়াশ নিজের আসল রূপে ফিরে এলো।

সেও সঙ্গে সঙ্গে কেক থেকে ক্রিম নিয়ে সাদের পেছনে ছুটল আর বলল,
-“এই শালা, দাঁড়া!”

সাদও হেসে দৌড়াতে শুরু করল। দুজন পুরো ছাদজুড়ে একে অপরের পেছনে ছুটছে, আর বাকিরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের কাণ্ড দেখে হাসছে।

অন্যদিকে, সবার চোখের আড়ালে তাসিফা কেক থেকে সামান্য ক্রিম নিয়ে চুপিচুপি জুয়িনের ডান গালে লাগিয়ে দিল।

হঠাৎ এমনটা হওয়ায় জুয়িন থতমত খেয়ে তাসিফার দিকে তাকাল।

দেখল, তাসিফা মিটিমিটি করে হাসছে।

জুয়িন কিছু বলল না। শুধু টিস্যু নিয়ে নিজের গাল থেকে ক্রিমটা মুছে নিল।

তাসিফা একটু পর ভালো করে আশপাশে চোখ বুলিয়ে দেখল, কেউ তাদের দেখছে কি না। সবাই যখন নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত, তখন সে একটু উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে জুয়িনের ডান গালে হালকা করে চুমু দিয়ে সরে গেল।

সঙ্গে সঙ্গে জুয়িনের হাত নিজের গালে চলে গেল। বিস্ময়ে চোখ বড় হয়ে গেল তার।

যতই অভিমান করে থাকার চেষ্টা করুক, তাসিফার ওপর বেশিক্ষণ অভিমান ধরে রাখা যে তার পক্ষে সম্ভব নয়, সেটা সে নিজেও জানে।

জুয়িন এবার তাসিফার দিকে ফিরল।

তাসিফা ততক্ষণে চোখ নামিয়ে লজ্জায় মুচকি হাসছে।

জুয়িনের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল। সে নিচু স্বরে বলল,
-"রাতে রুমে আসিস। কথা আছে।”

তাসিফা চটজলদি জুয়িনের দিকে তাকাল।

জুয়িনের কথার অর্থ নিজের মতো করে বুঝে নিয়ে তাসিফার মনে নানা চিন্তা ঘুরপাক খেতে শুরু করল।

____

কিছুক্ষণ পর সবাই ছাদে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে জুয়িনের ফ্ল্যাটের ভেতরে চলে এলো।

অনেক রাত হয়ে যাওয়ায় কেউ আর বাসায় ফিরল না। সবাই ঠিক করল, আজকের রাতটা জুয়িনের ফ্ল্যাটেই কাটাবে। তাসিফাও সবার সঙ্গে আজ এখানেই থেকে যাবে।

এরপর সবাই মিলে ড্রয়িংরুমে বসে ইয়াশের উপহারগুলো দেখতে শুরু করল। ইয়াশ একে একে সব গিফটের প্যাকেট খুলে দেখছে, আর বন্ধুরা মজা করে একেকটা উপহার নিয়ে মন্তব্য করছে।

হঠাৎ জুয়িন তাসিফার দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় নিজের রুমে যেতে বলল।

তাসিফা সঙ্গে সঙ্গে মাথা নেড়ে ইশারায় জানাল,
-"না"

জুয়িন এবার চোখ গরম করে তার দিকে তাকাল।

তাসিফা বুঝতে পারল, এবার আর না করার সুযোগ নেই।

সে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল,
-“আমি একটু ওয়াশরুমে যাচ্ছি।”

কেউ তেমন কিছু খেয়াল করল না।

তাসিফা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে সবার পাশ কাটিয়ে জুয়িনের রুমের দিকে চলে গেল।

কিছুক্ষণ পর জুয়িনও সবার অগোচরে উঠে রুমের ভেতরে চলে এলো।

#চলবে

(ইয়েএএএ! আজকে একটু আগেভাগেই গল্প দিয়ে দিয়েছি!😭)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 43 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন