ঠিক তখনই ডেস্কে রাখা ফোনটা আবার ভাইব্রেট করল।
স্ক্রিনে আবার ভেসে উঠল—
Husband
ইনায়া কলটা ধরল ! অ্যারিসের কণ্ঠ ভেসে এলো—
— “Finally.”
ইনায়া জানালার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল—
— “সরি, ব্যস্ত ছিলাম।”
অ্যারিস একটু থেমে বলল—
— “আমি বুঝেছি।”
ইনায়া হালকা হেসে ফেলল।
— “তুমি কি খুব বিরক্ত হয়েছিলে?”
অ্যারিস সঙ্গে সঙ্গে বলল—
— “না।”
এক সেকেন্ড থেমে—
— “আমি জানি তুমি কাজ করলে আর কাউকে দেখতে পাও না।”
এই কথায় ইনায়া একটু চুপ হয়ে গেল। সে জানালার কাঁচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখছিল।
— “আজ প্রথম দিন… একটু নার্ভাস ছিলাম।”
অ্যারিস খুব শান্ত গলায় বলল—
— “তুমি কখনো নার্ভাস হও না। তুমি শুধু ফোকাস করো।”
ইনায়া হেসে ফেলল।
— “তুমি আমাকে খুব ভালোভাবে চিনো।”
অ্যারিস উত্তর দিল—
— “আমি সবসময় চিনতাম।”
শুধু ফোনের ওপাশে নিঃশ্বাসের শব্দ। তারপর ইনায়া ধীরে বলল—
— “তুমি কোথায়?”
— “অফিসে।”
— “আজ বাসায় ফিরবে কখন?”
অ্যারিস একটু থেমে বলল—
— “তুমি কখন ফিরবে?”
ইনায়া জানালার বাইরে তাকাল।
— “আর কিছু কাজ আছে।”
অ্যারিস হালকা নিঃশ্বাস ফেলল।
— “ঠিক আছে।”
এই কথাটার মধ্যে কোনো জোর নেই। শুধু একটা বোঝাপড়া।
অন্যদিকে— ঢাকার আরেক প্রান্তে একটি আধুনিক প্রাইভেট হাসপাতাল। গ্লাস, স্টিল আর সাদা আলোয় ভরা করিডরগুলোতে ব্যস্ততা ছড়িয়ে আছে। সেই ভিড়ের মাঝেই দাঁড়িয়ে আছে সুবা। হাতে স্টেথোস্কোপ, চোখে হালকা নার্ভাসনেস—কিন্তু ভেতরে আত্মবিশ্বাসও আছে।
আজ তার প্রথম দিন—
ডাক্তার হিসেবে নতুন জার্নি।
...
তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট।
— “ডক্টর সুবা, এটা আমাদের ইমার্জেন্সি ইউনিট।”
তিনি হাত দিয়ে চারপাশ দেখিয়ে বললেন—
— “এখানে সাধারণত ট্রমা কেস, অ্যাকসিডেন্ট, আর ক্রিটিক্যাল পেশেন্ট আসে।”
সুবা মনোযোগ দিয়ে শুনছে। প্রতিটি শব্দ নোটের মতো মাথায় রাখছে।
...
— “ওই রুমটা ICU।”
তিনি আরেকটা দরজার দিকে ইশারা করলেন।
— “এখানে মনিটরিং সিস্টেম ২৪/৭ চলে। কোনো কেস স্টেবল না হলে এখানেই আনা হয়।”
সুবা ধীরে মাথা নাড়ল।
— “ওকে, বুঝতে পেরেছি.”
...
তারা করিডর ধরে হাঁটতে লাগল।
— “এটা OPD section।”
— “এখানে আপনি ডেইলি পেশেন্ট দেখবেন।”
সিনিয়র থামলেন।
— “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস—panic করবেন না।”
সুবা একটু হেসে বলল—
— “আমি চেষ্টা করবো না করার।”
সিনিয়রও হালকা হাসলেন।
— “চেষ্টা না, আপনাকে করতেই হবে না।”
▪︎▪︎▪︎▪︎▪︎▪︎▪︎▪︎▪︎▪︎▪︎▪︎▪︎▪︎▪︎▪︎▪︎▪︎▪︎▪︎▪︎
ঘরটা খুব বড় নয়, তবে পরিপাটি। এক পাশে একটা বুকশেলফ। সেখানে আইন, সংবিধান, ফৌজদারি কার্যবিধি, দেওয়ানি আইন—এমন অনেক বই সাজানো।
টেবিলের সামনে বসে আছে আদি।সামনে খোলা একটা আইন বিষয়ক বই। কিন্তু তার মন পুরোটা বইয়ে নেই।
মাঝে মাঝে বইয়ের দিকে তাকাচ্ছে, আবার ফোন হাতে নিয়ে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখছে। কয়েক মাস আগে সে বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাশ করেছে। আইনজীবী হওয়ার স্বপ্নটা এক ধাপ এগিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা সব সময় স্বপ্নের মতো সহজ হয় না।
...
ঠিক তখনই রান্নাঘর থেকে আমেনা বেগম বেরিয়ে এলেন।
হাতে এক কাপ চা। ছেলের সামনে কাপটা রেখে জিজ্ঞেস করলেন—
— "চাকরি খুঁজছিস?"
আদি ফোনটা নামিয়ে হালকা হাসল।
— "ওই একটু..."
আমেনা বেগম ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
— "পরিবারে এত ঝামেলা না থাকলে এতদিনে ভালো উকিল হয়ে যেতি।"
আদির মুখের হাসিটা একটু ফিকে হয়ে গেল। সে জানে মা কী বলতে চাচ্ছেন। গত কয়েক বছর সংসারে একটার পর একটা সমস্যা এসেছে। কখনো আর্থিক চাপ, কখনো বাবার কাজের অনিশ্চয়তা, কখনো চিকিৎসার খরচ।
এসবের মাঝে নিজের ক্যারিয়ার গুছিয়ে তোলা সহজ ছিল না।
...
আদি ধীরে বলল—
— "এখনো দেরি হয়নি, আম্মু।"
আমেনা বেগম মৃদু হেসে ছেলের মাথায় হাত রাখলেন।
— "আমি জানি। তুই ছোটবেলা থেকেই হার মানিস না।"
আদি কিছু বলল না।
শুধু ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে রইল। একটার পর একটা ল ফার্মের নাম ভেসে উঠছে। কোথাও জুনিয়র অ্যাসোসিয়েট লাগবে। কোথাও লিগ্যাল রিসার্চার।
কোথাও আবার ইন্টারভিউ চলছে।
--------------
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি।
প্রাইম লিগ্যাল পার্টনার্স থেকে একটু বের হয়েছিল ইনায়া।
সকালের টানা কাজের পর মাথাটা একটু ভার লাগছিল।
তাই কাছের একটি ক্যাফে থেকে নিজের জন্য একটি মিল্কশেক কিনেছে। এক হাতে মিল্কশেক। অন্য হাতে দুটো গুরুত্বপূর্ণ কেস ফাইল। ফোনটা আঙুলের ফাঁকে ধরে কারও মেসেজ দেখছিল। ২০ তলার কেবিন থেকে বের হয়ে রাস্তায় নামলে সে সাধারণত খুব সতর্ক থাকে, কিন্তু আজ কাজের চাপে একটু অসাবধান হয়ে গিয়েছিল।
...
হঠাৎ—
একটা ছায়া দ্রুত পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল।
পরের মুহূর্তেই ইনায়া বুঝল—
তার ফোন নেই!
— "এই!"
সে ঘুরে দাঁড়াল।দেখল একজন ছিনতাইকারী তার ফোন নিয়ে দৌড়াচ্ছে।
— "চোর! আমার ফোন!"
রাস্তায় কয়েকজন তাকাল, কিন্তু কেউ তেমন এগোল না। ঠিক তখনই কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকা আদি পুরো ঘটনাটা দেখে ফেলল। সে বাজারে এসেছে। আমেনা বেগম তাকে রান্নার তেল কিনতে পাঠিয়েছিলেন।
হাতে বাজারের ব্যাগ। কিন্তু ইনায়ার চিৎকার শুনে এক সেকেন্ডও দেরি করল না।
— "এই দাঁড়া!"
বলেই দৌড় দিল। ছিনতাইকারী পেছনে তাকিয়ে গতি বাড়াল। কিন্তু আদি ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলায় ভালো ছিল। দুই গলি পেরোতেই সে লোকটার গায়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল।
ধপ!
দুজনই মাটিতে পড়ে গেল। লোকটা উঠে পালানোর চেষ্টা করতেই—
ঠাস!
একটা চড়।
তারপর আরেকটা।
— "মানুষের জিনিস চুরি করিস!"
ঠাস!
— "লজ্জা করে না?"
একটা ঘুষিও বসল।
শেষ পর্যন্ত ছিনতাইকারী ফোনটা ছেড়ে দিয়ে কোনোমতে উঠে দৌড়ে পালিয়ে গেল।
আদি হাঁপাতে হাঁপাতে ফোনটা হাতে নিল। তারপর ফিরে এল।
ইনায়া তখনও দাঁড়িয়ে আছে। ফাইলগুলো বুকে চেপে ধরে। হালকা বাতাসে তার চুল উড়ছে। কালো ফরমাল পোশাকে তাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে।
আদি কয়েক মুহূর্ত থমকে গেল। সে অনেক সুন্দর মানুষ দেখেছে। কিন্তু এই মহিলার মধ্যে অন্যরকম একটা ব্যক্তিত্ব আছে। চোখে বুদ্ধিমত্তা। মুখে শান্ত ভাব। আর অদ্ভুত এক আত্মবিশ্বাস। এক মুহূর্তের জন্য সে যেন কী বলবে ভুলে গেল।
ইনায়া এগিয়ে এসে বলল—
— "আমার ফোন?"
আদি হকচকিয়ে উঠল।
— "জি... জি..."
সে দ্রুত ফোনটা বাড়িয়ে দিল।
— "এই নিন।"
ইনায়া ফোনটা নিয়ে চেক করল। সব ঠিক আছে। তারপর মৃদু হাসল।
— "ধন্যবাদ।"
ছোট্ট দুটো শব্দ। কিন্তু ভদ্রতা আর আন্তরিকতা স্পষ্ট।
...
কিছুক্ষণ পর ইনায়াই কথা শুরু করল।
— "আপনার নাম?"
— "আদি শেখ।"
— "কি করেন?"
আদি একটু অস্বস্তি নিয়ে হেসে বলল—
— "আসলে... বার কাউন্সিল পাশ করেছি। এখন চাকরি খুঁজছি।"
ইনায়ার ভ্রু সামান্য উঠল।
— "আইন নিয়ে পড়েছেন?"
— "জি।"
— "কোথাও কাজ করছেন না?"
— "না। এখনও সুযোগ পাইনি।"
...
ইনায়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর নিজের ব্যাগ থেকে একটা কার্ড বের করল।কার্ডটা আদির দিকে বাড়িয়ে দিল। আদি অবাক হয়ে নিল। কার্ডে লেখা—
Inaya Feng Criminal & Defense Department Prime Legal Partners
আদির চোখ একটু বড় হয়ে গেল। এতক্ষণে সে বুঝল সামনে দাঁড়ানো মহিলা সাধারণ কেউ নন।
ইনায়া বলল—
— "আমাদের ফার্মে জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের একটা জায়গা খালি হয়েছে। আজই একজন রিজাইন করেছে।"
আদি বিস্মিত চোখে তাকিয়ে রইল।
— "ইন্টারভিউ দিন। যোগ্য হলে অবশ্যই সুযোগ পাবেন। পাস করলে আবার দেখা হবে, ইনশাআল্লাহ।"
...
আদি কিছু বলার আগেই ইনায়া ফাইলগুলো ঠিক করে ধরে অফিসের দিকে হাঁটতে শুরু করল। তার পদক্ষেপ ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।
ইনায়া চলে যাওয়ার পরও আদি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে রইল। তার হাতে এখনও সেই ভিজিটিং কার্ড। হালকা বাতাসে কার্ডের কোণাটা নড়ছে। আদি নিচের দিকে তাকাল।
Inaya Feng
নামটা পড়ে তার ভ্রু কুঁচকে গেল।
— "ফেং?"
সে আবার কার্ডটার দিকে তাকাল। তারপর নিজের মনে বিড়বিড় করল—
— "এই কি সেই ইনায়া রহমান?"
মুহূর্তের মধ্যেই অনেক পুরোনো স্মৃতি মাথায় ভেসে উঠল।
কয়েক বছর আগে। সে তখন LLB প্রথম বর্ষের ছাত্র।
একদিন তাদের ব্যাচকে আদালতের কার্যক্রম দেখার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেদিন আদালত কক্ষ ভর্তি ছিল। কারণ মামলাটা ছিল আলোচিত।
মিস মোহনার মামলা।
আদি এখনো মনে করতে পারে—
এক তরুণী মেয়েটি অবিশ্বাস্য আত্মবিশ্বাস নিয়ে দাঁড়িয়েছিল। চোখে দৃঢ়তা। কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস। আর যুক্তি... যেন একটার পর একটা তীর ছুড়ে দিচ্ছে। সেদিন আদালতের গ্যালারিতে বসে আদি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিল।
মামলা শেষে সে এক সিনিয়রকে জিজ্ঞেস করেছিল—
— "আপু, উনি কে?"
সিনিয়র উত্তর দিয়েছিল—
— "ইনায়া রহমান।"
সেদিন থেকেই নামটা তার মনে গেঁথে গিয়েছিল। কোনো প্রেম নয়। কোনো পরিচয়ও নয়। শুধু এক ধরনের শ্রদ্ধা আর মুগ্ধতা। একজন ভবিষ্যৎ আইনজীবীর চোখে নিজের ক্ষেত্রের একজন অসাধারণ মানুষকে দেখা।
আজ এত বছর পর— হঠাৎ সেই মানুষটাই তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। আর সে চিনতেই পারেনি।
আদি কার্ডটা বুকে চেপে ধরে হালকা হেসে ফেলল।
— "তাহলে সত্যিই তুমি..."
তার চোখে অদ্ভুত এক আলো ফুটে উঠল।
— "আমি যখন ফার্স্ট ইয়ার ছিলাম, তখন তোমাকে আদালতে দেখেছিলাম। মিস মোহনার বিরুদ্ধে কেস লড়তে। সেদিনও মুগ্ধ হয়েছিলাম..."
তারপর একটু হেসে আকাশের দিকে তাকাল।
— "আজ আবার হলাম।"
কয়েক সেকেন্ড নীরবতা। তারপর নিজের মনে বলল—
— "এত বছর পর দেখা হবে ভাবিনি। ভেবেছিলাম তোমাকে হারিয়ে ফেলেছি।" না, এসব ভেবে লাভ নেই।"
ইনায়া এখন দেশের অন্যতম বড় ল ফার্মের আইনজীবী।
আর সে? একজন নতুন আইনজীবী, যে এখনও প্রথম চাকরির জন্য আবেদন করছে।
আদি আবার কার্ডটার দিকে তাকাল। তার চোখে এবার মুগ্ধতার চেয়ে বেশি কিছু ছিল— প্রেরণা।
— "ইন্টারভিউটা আমাকে পাস করতেই হবে।কারণ সুযোগ বারবার আসে না।"
তারপর বাজারের ব্যাগটা শক্ত করে ধরল। আর দ্রুত পায়ে বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করল।
বাড়িতে ঢুকতেই আমেনা বেগম রান্নাঘর থেকে বের হয়ে এলেন।
— "এত দেরি হলো কেন?"
— "রাস্তা একটু জ্যাম ছিল।"
আদি জুতাটা খুলে ভেতরে ঢুকল। মুখের হাসিটা লুকানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু পারছে না। আমেনা বেগম সন্দেহের চোখে তাকালেন।
— "কী হয়েছে?"
— "কিছু না।"
— "তোর মুখ দেখেই বুঝতেছি কিছু একটা হয়েছে।"
আদি একটু ইতস্তত করল। তারপর কার্ডটা মায়ের হাতে দিল।
— "দেখো।"
আমেনা বেগম কার্ডটা পড়লেন।
— "ইনায়া ফেং?"
তারপর অবাক হয়ে ছেলের দিকে তাকালেন।
— "এইটা কোথায় পেলি?"
আদি পুরো ঘটনাটা খুলে বলল। ফোন ছিনতাই। দৌড়।
মারামারি। আর শেষে ইনায়ার সাথে দেখা।
সব।
...
কথা শেষ হতেই আমেনা বেগমের মুখে বড় হাসি ফুটে উঠল।
— "আলহামদুলিল্লাহ!"
— "দেখছিস? ভালো কাজ করলে আল্লাহও রাস্তা খুলে দেন।"
আদি চুপচাপ বসে রইল।
...
ঠিক তখনই দরজার বাইরে হর্ন শোনা গেল। আজিজ শেখ ফিরেছেন। সারাদিন ড্রাইভিং করে ক্লান্ত মুখে ঘরে ঢুকলেন।
— "কি খবর?"
আমেনা বেগম উত্তেজিত গলায় বললেন—
— "তোমার ছেলে বড় ল ফার্মে ইন্টারভিউ দেওয়ার সুযোগ পাইছে!"
...
আজিজ শেখ অবাক হয়ে ছেলের দিকে তাকালেন।
আদি আবার সব বলল। শুনে মানুষটার চোখে গর্ব ফুটে উঠল। তিনি বেশি কথা বলেন না। কিন্তু ছেলের কাঁধে হাত রেখে বললেন—
— "চেষ্টা কর। বাকি রিজিক আল্লাহর হাতে।"
আদি নিজের ঘরে বসে গেল। টেবিল ভর্তি বই। সংবিধান।
Evidence Act।
Criminal Procedure।
Contract Law।
একটার পর একটা বই খুলে পড়তে লাগল। প্রথমবারের মতো তার মনে হচ্ছে— এবার সত্যিই একটা সুযোগ এসেছে। যেটার জন্য সে এতদিন অপেক্ষা করেছে।
...
অন্যদিকে—
প্রাইম লিগ্যাল পার্টনার্সের ২০ তলার কেবিনে বসে ইনায়া দিনের শেষ ফাইলটা বন্ধ করল। ঘড়িতে সন্ধ্যা। সে জানালার বাইরে তাকাল। ঢাকার আলো একে একে জ্বলে উঠছে। ঠিক তখনই দরজায় নক পড়ল।
— "Come in."
একজন এইচআর কর্মকর্তা ভেতরে ঢুকলেন।
— "Ma'am, junior assistant পদের জন্য আগামীকাল থেকে interview শুরু হবে।"
ইনায়া মাথা নাড়ল।
— "Shortlist প্রস্তুত?"
— "জি।"
— "ভালো।"
...
ফাইলটা টেবিলে রেখে লোকটা বেরিয়ে গেল। ইনায়া আর কিছু ভাবল না। তার কাছে এটা শুধু একটা নিয়োগ প্রক্রিয়া। শত শত আবেদনকারীর মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়া।