ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ আসক্তি সিজন-২

পর্ব 8

লেখক: F. Tabassum

পরদিন সকাল।
আকাশে মেঘের আনাগোনা, তবে ভ্যাপসা গরমটা কমেনি। 'প্রাইম লিগ্যাল পার্টনার্স'-এর বিশাল কাঁচঘেরা বহুতল ভবনটার সামনে এসে যখন আদি দাঁড়াল, তখন ঘড়িতে সকাল পৌনে দশটা। সূর্যের আলো কাঁচের গায়ে লেগে ঠিকরে পড়ছে। সেই চকচকে ভবনের দিকে তাকিয়ে আদির বুকের ভেতরটা এক মুহূর্তের জন্য কেঁপে উঠল।
তার পরনে অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু পরিপাটি একটা সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট। জুতো জোড়া যত্ন করে পালিশ করা। হাতের ফাইলে তার এত বছরের হাড়ভাঙা খাটুনির সার্টিফিকেটগুলো বন্দি। জামাকাপড়গুলো ব্র্যান্ডের নয়, বড্ড সস্তা; কিন্তু তার ভেতরের ভদ্রতা আর পরিচ্ছন্নতা সেটুকুকে আড়াল করে দিয়েছে। বুকের ভেতরটা তখন অস্বাভাবিক জোরে ধুকপুক করছে, যেন একটা ছোটখাটো যুদ্ধ চলছে সেখানে।
সে একবার ওপরের দিকে তাকাল। ভবনের চূড়াটা যেন আকাশ ছুঁতে চাইছে। আদি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের অস্থিরতাকে শান্ত করার চেষ্টা করল। মনে মনে উচ্চারণ করল—
— "বিসমিল্লাহ..."
হাতের ফাইলটা শক্ত করে চেপে ধরে সে কাঁচের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়ল। ভেতরের ঠান্ডা এসির বাতাসও তার কপালের সূক্ষ্ম ঘামের বিন্দুগুলোকে শুকাতে পারল না।
...
রিসিপশনের সামনে পৌঁছাতেই আদির মনে হলো সে অন্য এক দুনিয়ায় চলে এসেছে। চারদিকে করপোরেট গাম্ভীর্য। ইতোমধ্যে সেখানে প্রায় জনাপনেরো প্রার্থী বসে আছে। তাদের বসার ভঙ্গি, দামি পারফিউমের গন্ধ আর পরনের ব্র্যান্ডেড স্যুট-টাই আদি যেন কিছুটা গুটিয়ে দিল। কেউ গম্ভীর মুখে মোটা ফাইল ওলটাচ্ছে, কেউ আবার শেষ মুহূর্তে ল-নোটসের পাতায় চোখ বোলাচ্ছে। তাদের আত্মবিশ্বাসী মুখের ভিড়ে আদি নিজেকে অনেক বেশি একলা আবিষ্কার করল।
সে কোনোমতে নিজের জড়তা কাটিয়ে রিসিপশনিস্টের দিকে এগিয়ে গেল। ভদ্রমহিলা কম্পিউটারে কী যেন টাইপ করছিলেন। আদি মৃদু গলায় বলল—
— "এক্সকিউজ মি... জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের ইন্টারভিউ দিতে এসেছি।"
রিসিপশনিস্ট মুখ তুলে তাকালেন। আদির মার্জিত চেহারা আর বিনীত কণ্ঠস্বর হয়তো তার ভালো লেগেছিল, তিনি পেশাদার হাসিমুখে বললেন—
— "আপনার নামটা প্লিজ?"
— "আদি শেখ।"
কম্পিউটারের স্ক্রিনে আঙুল চালিয়ে নামটা মিলিয়ে নিলেন তিনি। তারপর একটি প্লাস্টিকের ভিজিটর পাস আদির দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন—
— "নবম তলায় কনফারেন্স রুম–বি। লিফট ডানদিকে। সেখানে অপেক্ষা করুন।"
— "ধন্যবাদ।" পাসটা গলায় ঝুলিয়ে আদি লিফটের দিকে পা বাড়াল।
...
ধাতব চকচকে লিফটের দরজাটা বন্ধ হতেই আয়নার মতো দেওয়ালে আদির নিজের প্রতিবিম্ব ভেসে উঠল। সে নিজের চোখের দিকে তাকাল। নিজেকে যতটা সম্ভব শান্ত, ধীরস্থির দেখানোর চেষ্টা করলেও তার হাতের তালুটা ঘেমে চটচট করছে। প্যান্টের কাপড়ে আলতো করে হাতটা মুছে নিল সে।
'টিং' শব্দ করে নবম তলায় লিফটের দরজা খুলে গেল। একজন স্টাফ তাকে ইশারায় কনফারেন্স রুমের পথ দেখিয়ে দিল।
ভেতরে ঢুকতেই আদি দেখল চারপাশের পরিবেশটা আরও থমথমে। সেখানে যারা বসে আছে, তাদের ফিসফিসানি আদির কানে আসছিল। কেউ ঢাকা ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট ক্লাস হোল্ডার, কেউ আবার দেশের নামকরা কোনো ল-ফার্মে ইন্টার্নশিপ শেষ করে এসেছে। তাদের ভারী ভারী সিভি আর গালভরা গল্প শুনে আদির মনের কোণে একটা বিষণ্ণ সন্দেহ উঁকি দিয়ে গেল। বুকের ভেতর থেকে একটা অবাধ্য প্রশ্ন তেড়ে এল—
— "আমি কি সত্যিই পারব? এদের ভিড়ে আমার মতো সাধারণ একজন ছেলেকে ওরা কেন নেবে?"

হতাশা যখন তাকে গ্রাস করতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই তার মনের আয়নায় ভেসে উঠল বাবার মলিন কিন্তু ভরসাভরা মুখটা। বিদায় নেওয়ার সময় বাবা মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন, "চেষ্টা কর বাবা। বাকি রিজিক আল্লাহর হাতে। সততা থাকলে কোথাও না কোথাও পথ তৈরি হবেই।"
আদি একটা লম্বা শ্বাস নিল। মনের সব দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে সে মাথা নিচু করে চুপচাপ আল্লাহর নাম স্মরণ করতে লাগল।
...
প্রায় চল্লিশ মিনিট পর কনফারেন্স রুমের ভারী কাঠের দরজাটা খুলে গেল। চশমা পরা একজন মধ্যবয়সী এইচআর কর্মকর্তা হাতে একটা ক্লিপবোর্ড নিয়ে বেরিয়ে এলেন। চারদিকের ফিসফিসানি এক নিমেষে বন্ধ হয়ে গেল।
তিনি চারদিকে চোখ বুলিয়ে ডাকলেন—
— "Mr. Adi Sheikh?"
আদির মনে হলো তার হৃৎপিণ্ডটা এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেছে। সে সোজা হয়ে উঠে দাঁড়াল। গলায় জড়তা না এনে বলল—
— "জি।"
— "Please come with me." ভদ্রলোক ঘরের ভেতর ইশারা করলেন।
...
আদিকে একটি মাঝারি আকারের, কাঁচের দেওয়াল ঘেরা ইন্টারভিউ রুমে নিয়ে যাওয়া হলো। ঘরের মাঝখানে একটা বড় টেবিল। তার ওপাশে তিনজন গম্ভীর মুখের মানুষ বসে আছেন।
তাদের মাঝখানে বসা এইচআর ম্যানেজার, বাঁয়ে একজন প্রবীণ সিনিয়র অ্যাডভোকেট—যাঁর চোখের চশমার ওপর দিয়ে তাকানোর ভঙ্গিতেই একটা কড়া ভাব আছে, আর ডানে একজন চশমাপরা লিগ্যাল কনসালট্যান্ট।
রুমটায় চোখ বুলাতেই আদির মনটা কেমন যেন একটু খচখচ করে উঠল। ইনায়া সেখানে নেই। কালকের সেই গম্ভীর, তীক্ষ্ণ চোখের মেয়েটার মুখোমুখি হওয়ার জন্য সে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিল, কিন্তু তার অনুপস্থিতি আদিকে কিছুটা অবাক করল। তবে মুখে সে বিন্দুমাত্র বিস্ময় প্রকাশ পেতে দিল না। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে সে মার্জিতভাবে সালাম দিল—
— "আসসালামু আলাইকুম।"
বোর্ডের তিনজনই একসঙ্গে মুখ তুললেন। প্রবীণ অ্যাডভোকেট সাহেব একটু মাথা ঝুঁকিয়ে বললেন—
— "ওয়ালাইকুমুস সালাম। বসুন।"
...
আদি চেয়ার টেনে বসার পর প্রথমে তার সিভির পাতাগুলো উলটে দেখা হলো। ঘরের নীরবতা ভাঙলেন এইচআর ম্যানেজার। সিভির একটা পাতায় আঙুল রেখে বললেন—
— "বার কাউন্সিল পরীক্ষায় বেশ ভালো ফল করেছেন দেখছি। অভিনন্দন।"
আদি বিনীতভাবে মাথা ঝুঁকিয়ে বলল—
— "জি, আলহামদুলিল্লাহ।"
এবার সিনিয়র অ্যাডভোকেট সাহেব সিভির ওপর থেকে চোখ সরিয়ে সরাসরি আদির চোখের দিকে তাকালেন। তাঁর চোখ দুটো যেন আদির ভেতরের মানুষটাকে মেপে নিতে চাইল। তিনি হুট করেই একটা কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন—
— "ধরা যাক, একজন ক্লায়েন্ট আপনার কাছে এসে গোপনে নিজের অপরাধ স্বীকার করল। সে আসলেই দোষী। কিন্তু আপনি তার নিযুক্ত আইনজীবী। এমতাবস্থায় আদালতে দাঁড়িয়ে আপনার ভূমিকা কী হবে?"
আদি তাড়াহুড়ো করে উত্তর দিল না। সে কয়েক সেকেন্ড সময় নিল, মনে মনে আইন আর নৈতিকতার দাঁড়িপাল্লাটা মেপে নিল। তারপর স্পষ্ট ও শান্ত গলায় বলল—
— "আইনজীবীর কাজ অপরাধকে অন্ধভাবে সমর্থন করা নয়, স্যার। বরং এটা নিশ্চিত করা যে—আইন অনুযায়ী সে যেন একটা ন্যায্য বিচার পায়। রাষ্ট্র যেন তার ওপর কোনো অবিচার না করে। আমি আদালতে দাঁড়িয়ে কোনো মিথ্যা তথ্য বা ভুয়ো প্রমাণ দেব না, আবার একই সাথে ক্লায়েন্টের দেওয়া গোপনীয়তাও রক্ষা করব। কারণ একজন আইনজীবীর কাছে ক্লায়েন্টের বিশ্বাসটা আমানত।"

তিনজন পরীক্ষকই একবার একে অপরের দিকে তাকালেন। তাদের চোখের কঠোর ভাবটা নিমেষেই কিছুটা নরম হয়ে এল। উত্তরটার পেছনের পরিপক্বতা তাদের বেশ পছন্দ হয়েছে।
...
এরপর শুরু হলো আসল পরীক্ষা। একের পর এক ধারা আর উপধারা ধেয়ে আসতে লাগল আদির দিকে।
ফৌজদারি কার্যবিধির জটিল ধারা, এভিডেন্স অ্যাক্টের সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা, জামিনের মৌলিক নীতিসমূহ—সবকিছু নিয়ে জেরা করা হলো তাকে। এমনকি একটি কাল্পনিক কেস স্টাডি দিয়ে জানতে চাওয়া হলো, এই পরিস্থিতিতে সে কীভাবে ক্লায়েন্টকে বাঁচাবে।
আদি প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। কিন্তু সবচেয়ে ইতিবাচক বিষয় ছিল তার সততা। দুটো জটিল করপোরেট আইনের প্রশ্নে যখন সে নিশ্চিত হতে পারল না, তখন সে বানিয়ে বা ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করল না। সরাসরি পরীক্ষকদের চোখের দিকে তাকিয়ে বিনয়ের সাথে বলল—
— "দুঃখিত স্যার, এই নির্দিষ্ট অংশটা নিয়ে আমার আরও কিছুটা পড়া দরকার। এই মুহূর্তে আমি ভুল উত্তর দিয়ে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছি না।"
এই স্পষ্টবাদিতা আর সততাটুকু বোর্ডে বসা মানুষগুলোর নজর এড়াল না। আজকের দিনে নিজের অজ্ঞতা স্বীকার করার মতো সাহস খুব কম প্রার্থীরই থাকে।
...
সবশেষে এইচআর ম্যানেজার সিভির ফাইলটা বন্ধ করলেন। তাঁর মুখে এখন একটা হালকা, আন্তরিক হাসি।
— "আপনার ইন্টারভিউ শেষ। আমাদের পক্ষ থেকে আর কিছু জানার নেই। আপনার কি কোনো প্রশ্ন আছে আমাদের কাছে?"
আদি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। হাতের ফাইলটা একটু শক্ত করে চেপে ধরে বলল—
— "জি... একটা প্রশ্ন ছিল।"
— "হ্যাঁ, বলুন।"
— "আমি যদি এখানে কাজ করার সুযোগ পাই, তবে কি শুধু ডেস্ক ওয়ার্কই করতে হবে, নাকি সিনিয়রদের সাথে সরাসরি কোর্ট প্র্যাকটিস এবং ড্রাফটিং শেখার সুযোগ পাব?"
প্রশ্নটা শুনে সিনিয়র অ্যাডভোকেট সাহেবের ঠোঁটের কোণে একটা চওড়া হাসি ফুটে উঠল। তিনি চশমাটা নাক থেকে নামিয়ে বললেন—
— "এই একটা প্রশ্নই প্রমাণ করে মিস্টার আদি, আপনি এখানে শুধু একটা চাকরির খোঁজে আসেননি। আপনি শিখতে এসেছেন। একজন সত্যিকারের আইনজীবীর ক্ষুধাটা আপনার মধ্যে আছে।"
আদি বিনয়ের সঙ্গে মাথা নিচু করে সেই প্রশংসা গ্রহণ করল।
...
ইন্টারভিউ শেষ করে সে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে এল।
ভারী দরজাটা পেছনে বন্ধ হতেই আদি দেওয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে একটা দীর্ঘ, গভীর নিঃশ্বাস ফেলল। মনে হলো বুকের ওপর চেপে থাকা মস্ত বড় একটা পাথর কে যেন নামিয়ে নিয়েছে। হাতের তালুর ঘামটা এবার শুকিয়ে গেছে।
ফলাফল কী হবে, চাকরিটা সে পাবে কি না—তা সে জানে না। তবে একটা অদ্ভুত মানসিক শান্তি তার পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ল। সে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছে, কোনো ফাঁকি দেয়নি।

...
ঠিক একই সময়ে—
ভবনের ২০ তলায়, চারদিকে আলিশান ইন্টেরিয়র আর কাঁচের বড় উইন্ডো ঘেরা নিজের পার্সোনাল কেবিনে বসে একটা হাই-প্রোফাইল মার্ডার কেসের ফাইল পড়ছিল ইনায়া। তার পরনে ব্লেজার, চুলগুলো খোঁপা করা। গম্ভীর মুখে সে ফাইলের পাতায় মার্কার দিয়ে দাগ দিচ্ছিল।
দরজায় মৃদু নক করার শব্দ হতেই সে ফাইল থেকে চোখ না সরিয়েই বলল—
— "Come in."
এইচআর ম্যানেজার ফাইল হাতে ভেতরে ঢুকলেন। ইনায়া মুখ তুলে তাকাল।
— "ম্যাম, আজকের দিনের বেশিরভাগ ইন্টারভিউ সেশন শেষ।"
— "হুম... কেমন বুঝলেন?" ইনায়া কলমের ক্যাপটা আটকাতে আটকাতে জিজ্ঞেস করল।
— "কয়েকজন বেশ ভালো ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রার্থী আছেন। তবে..."
এইচআর ম্যানেজার হাতের ফাইলগুলোর মাঝখান থেকে একটা নির্দিষ্ট সিভি বের করে ইনায়ার টেবিলের ওপর রাখলেন।
— "তবে এই প্রার্থীটি একটু আলাদা। তাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনার Criminal Department-এর জন্য সে বেশ উপযুক্ত হতে পারে। ছেলেটার আইনি বোঝাপড়া আর সততা প্রশংসনীয়।"
ইনায়া টেবিলের ওপর রাখা সিভির দিকে তাকাল। তার চোখ গিয়ে পড়ল বোল্ড অক্ষরে লেখা নামটার ওপর—
Adi Sheikh
নামটা দেখামাত্রই ইনায়ার ভ্রু দুটো সামান্য কুঁচকে উঠল। চোখের সামনে মুহূর্তের মধ্যে ভেসে উঠল গতকাল দুপুরের সেই দৃশ্যটা—একটা ছেলে নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে, ভর দুপুরে চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে ছিনতাইকারীর পেছনে দৌড়াচ্ছে।
ইনায়া সিভির ওপর আলতো করে আঙুল রাখল। তার গলায় চিরচেনা সেই শান্ত, শীতল গাম্ভীর্য ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞেস করল—
— "ইন্টারভিউ কেমন দিয়েছে ও?"
এইচআর ম্যানেজার হালকা হেসে, অত্যন্ত ইতিবাচক গলায় উত্তর দিলেন—
— "সত্যি বলতে ম্যাম, আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক ভালো।"

এইচআর ম্যানেজারের কথা শুনে ইনায়া কয়েক মুহূর্তের জন্য সম্পূর্ণ নিশ্চুপ হয়ে রইল। কেবিনের ভেতরে শুধু এসি-র হালকা মৃদু একটা আওয়াজ ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই।
সে টেবিলের ওপর রাখা সিভির প্রথম পাতায় আবার চোখ বোলাল।
Adi Sheikh.
তার বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বার কাউন্সিল পরীক্ষায় প্রথমবারেই ভালো নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার তথ্যগুলো—প্রতিটি লাইন ইনায়া অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ল। সিভির কাগজের ওপর তার সুবিন্যস্ত আঙুলগুলো স্থির হয়ে রইল। তারপর ফাইল থেকে চোখ না সরিয়েই সে শান্ত, কিছুটা নিস্পৃহ গায় বলল—
— "অভিজ্ঞতা তো খুব একটা নেই। একদম ফ্রেশার।"
এইচআর ম্যানেজার সামান্য মাথা নাড়লেন। বিনীত গলায় বললেন—
— "জি ম্যাম, প্রফেশনাল এক্সপেরিয়েন্স বলতে গেলে একেবারেই নতুন। তবে ছেলেটার আইনি কনসেপ্ট খুব ক্লিয়ার। ভাইভা বোর্ডে আমরা যেসব জটিল পরিস্থিতি তৈরি করে প্রশ্ন করেছি, প্রতিটার বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যৌক্তিক উত্তর দিয়েছে।"
এইচআর ম্যানেজারের পাশেই বসে থাকা ক্রিমিনাল বিভাগের একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেট, যিনি এতক্ষণ চুপচাপ শুনছিলেন, তিনি এবার যোগ করলেন—
— "আর একটা বিশেষ বিষয় আমাদের সবার খুব ভালো লেগেছে ম্যাম। দুটো টেকনিক্যাল আইনের প্রশ্নে ও কিছুটা কনফিউজড ছিল। সেখানে ও বানিয়ে বা ভুলভাল কিছু বলে আমাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেনি। সরাসরি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে স্বীকার করেছে যে ওই অংশটা তার আরও পড়া দরকার। এই সততাটুকু আজকালকার ছেলেদের মধ্যে দেখাই যায় না।"

ইনায়া মৃদু মাথা নাড়ল। তার ঠোঁটের কোণে একটা অদৃশ্য অনুমোদনের রেখা ফুটে উঠল। সে নিজে এমন মানুষই পছন্দ করে, যারা না জেনে শুধু নিজেকে জাহির করার জন্য বড় বড় কথা বলে না। অজ্ঞতা স্বীকার করার জন্য যে সাহসের প্রয়োজন হয়, সেটা আদির আছে।
— "ভালো।" ইনায়া ছোট করে বলল।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 8 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন