ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ আসক্তি সিজন-২

পর্ব 9

লেখক: F. Tabassum

ইনায়া একটু ভাবল, কলমটা আঙুলের ডগায় একবার ঘুরিয়ে নিয়ে আবার বলল—
— "ওকে সরাসরি আমার কেবিনে পাঠান। পাঁচ মিনিট ওয়ান-টু-ওয়ান কথা বলব।"
এইচআর ম্যানেজার কিছুটা অবাক হলেও মুখে কিছু প্রকাশ করলেন না। মাথা ঝুঁকিয়ে বললেন—
— "জি, ম্যাম। আমি পাঠাচ্ছি।"
...
এদিকে নিচে, নবম তলার ওয়েটিং এরিয়ার সোফায় চুপচাপ বসে আছে আদি।
ইন্টারভিউ শেষ হয়েছে প্রায় পনেরো মিনিট পার হয়ে গেছে। চারপাশের অন্য প্রার্থীরা একে একে চলে যাচ্ছে। আদিও ভাবছিল আর বসে না থেকে এবার ব্যাগটা গুছিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দেবে। ঠিক তখনই স্যুট পরা একজন অফিস স্টাফ হন্তদন্ত হয়ে তার দিকে এগিয়ে এল।
— "মিস্টার আদি শেখ?"
আদি ঘাড় উঁচিয়ে তাকাল— "জি?"
— "ম্যাম ইনায়া ফেং আপনাকে ওনার পার্সোনাল কেবিনে ডেকেছেন।"
আদি চমকে উঠল। নিজের কানকে যেন বিশ্বাস করতে পারল না সে। বুকের ভেতরটা আবার ধক করে উঠল।
— "আমাকে? ম্যাম ইনায়া ডেকেছেন?"
— "জি। অনুগ্রহ করে আমার সঙ্গে বিশ তলায় আসুন।"
...
ধাতব লিফটটা মসৃণ গতিতে ধীরে ধীরে বিশ তলার দিকে উঠছে। লিফটের ভেতরের ডিজিটাল স্ক্রিনে সংখ্যার পরিবর্তন দেখছিল আদি—১২, ১৫, ১৭... আর সেই সাথে তার বুকের ধুকপুকানি যেন জ্যামিতিক হারে বেড়ে যাচ্ছিল।
সে নিজের সাধারণ শার্টের হাতা দুটো ঠিক করল, কলারের বোতামটা আঙুল দিয়ে একটু আলগা করে নিল। হাত দুটো আবার ঘেমে উঠছে। সে চোখ বন্ধ করে মনে মনে প্রার্থনা করল, "আল্লাহ, এত দূর এসে যেন কোনো ভুল না করে বসি। তুমি সহায় হও।"
...
লিফটের দরজা খুলে যেতেই স্টাফটি আদিকে নিয়ে করিডোর পেরিয়ে একটা বিশাল কাঠের দরজার সামনে এসে থামল।
দরজার পাশে রুপোলি নেমপ্লেটে খোদাই করে চকচক করছে—
Adv. Inaya Feng Criminal & Defense Department
স্টাফটি দরজার পাশে থাকা কলিংবেলে আলতো চাপ দিয়ে হালকা নক করল। ভেতর থেকে এক সেকেন্ডের মধ্যে ভেসে এল সেই চেনা, গম্ভীর অথচ স্পষ্ট কণ্ঠস্বর—
— "Come in."
দরজা খুলে আদি ভেতরের কেবিনে পা রাখল।
বিশাল প্রশস্ত একটা ঘর। এক পাশের দেওয়ালে আলমারি ভর্তি দেশী-বিদেশী আইনের মোটা মোটা ভলিউম সাজানো। অন্য পাশের পুরো দেওয়ালটাই কাঁচের, যেখান থেকে দুপুরের ঢাকা শহরের ব্যস্ত রাস্তা আর বহুতল ভবনগুলো একটা ছবির মতো দেখা যাচ্ছে। ঘরের মাঝখানে একটা বিশাল মেহগনি কাঠের টেবিল।
সেই টেবিলের ওপাশে ফাইলের স্তূপের মাঝে বসে ল্যাপটপের স্ক্রিনে কিছু একটা দেখছিল ইনায়া। আদি ভেতরে ঢুকতেই সে চোখ তুলে তাকাল। তার সেই তীক্ষ্ণ, শান্ত চোখ দুটো সরাসরি আদির ওপর নিবদ্ধ হলো।
— "বসুন।"
আদি কোনোমতে নিজের শুকনো গলাটা পরিষ্কার করে বলল— "ধন্যবাদ, ম্যাম।"
সে চেয়ার টেনে বসল। পিঠ সোজা, হাত দুটো গুটিয়ে হাঁটুর ওপর রাখা। ইনায়া কয়েক সেকেন্ড কোনো কথা না বলে শুধু তার দিকে তাকিয়ে রইল, যেন চোখের চাউনি দিয়েই আদির মনের ভেতরের অস্থিরতাটা পড়ে ফেলার চেষ্টা করছে।  ইনায়া হাতের ফাইলটা বন্ধ করে টেবিলের পাশে সরিয়ে রাখল।
— "আপনার ইন্টারভিউ বোর্ডের কাছ থেকে আমি বেশ ভালো রিপোর্ট পেয়েছি। আপনার আইনি বোঝাপড়ার প্রশংসা করেছেন উনারা।"
আদির চোখে এক চিলতে আশার ঝিলিক আর কৃতজ্ঞতা ফুটে উঠল— "ধন্যবাদ, ম্যাম।"
— "কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে একটা কথা জানতে চাই।" ইনায়া চেয়ারে একটু হেলান দিয়ে বসল।
— "জি ম্যাম, বলুন।"
— "আপনি একদম ফ্রেশার। আমাদের এখানে কাজ শেখার পর, যদি অন্য কোনো বড় বা আন্তর্জাতিক ল-ফার্ম থেকে আপনি আরও দ্বিগুণ বেতনের অফার পান, তবে কি আপনি আমাদের ফার্ম ছেড়ে চলে যাবেন?"

প্রশ্নটা এক্কেবারে সরাসরি আর কঠিন ছিল। আদি তাড়াহুড়ো করে কোনো সাজানো উত্তর দিল না। সে কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইল। কাঁচের ওপাশের শহরের দিকে তার চোখ চলে গেল, তারপর সে আবার সরাসরি ইনায়ার চোখের দিকে তাকাল। তার ধীর কিন্তু স্পষ্ট স্বরে এক অদ্ভুত সততা ঝরে পড়ল—
— "সত্যি বলতে, ম্যাম... আমি এই মুহূর্তে শুধু একটা চাকরি বা ভালো মাইনে খুঁজছি না। আমি এমন একটা শক্ত ভিত্তি খুঁজছি, যেখানে আমি কাজটা নিখুঁতভাবে শিখতে পারব। প্র্যাকটিসটা রক্ত করতে পারব। যদি 'প্রাইম লিগ্যাল পার্টনার্স' আমাকে সেই শেখার এবং মেন্টরশিপের সুযোগ দেয়, তাহলে শুধু বেতনের অংক দেখে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা বা মানসিকতা আমার নেই। আমার কাছে শেখার সুযোগটার মূল্য অনেক বেশি।"
ইনায়া তার চোখের দিকে গভীরভাবে তাকিয়ে রইল।
ঘরের ভেতরের নীরবতাটা যেন আবার ঘন হয়ে উঠল। ইনায়া টেবিলের ওপর রাখা ফাউন্টেন পেনটা আলতো করে নামিয়ে রাখল। তার চোখে একটা সন্তুষ্টির আভাস।
— "ভালো উত্তর।"
ঠিক তখনই দরজায় আবার মৃদু নক পড়ার শব্দ হলো।
— "May I come in, Ma'am?"
— "Yes, আসুন।"
দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলেন এইচআর ম্যানেজার। তার হাতে এখন একটা নতুন লাল রঙের চামড়ার ফাইল। তার মুখে একটা চওড়া, আন্তরিক হাসি। তিনি আদির দিকে ফিরে বললেন—
— "Congratulations, Mr. Adi Sheikh!"
আদি পুরোপুরি বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে তার দিকে তাকাল। বুকের ভেতরটা যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।
এইচআর ম্যানেজার ফাইলটা আদির দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন—
— "আপনি সিলেক্টেড। আপনার অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার। আগামী রবিবার সকাল সাড়ে নয়টা থেকে আপনি আমাদের ফার্মে 'Junior Assistant, Criminal & Defense Department' হিসেবে জয়েন করছেন। আপনি সরাসরি ম্যাম ইনায়ার আন্ডারে কাজ করবেন।"

কথাটা শোনার পর আদি কয়েক মুহূর্তের জন্য সম্পূর্ণ নিথর, নিশ্চল হয়ে বসে রইল। তার মনে হলো সে কোনো স্বপ্ন দেখছে। চারপাশের আলো, কাঁচের দেওয়াল, ইনায়ার অবয়ব—সবকিছু যেন আবছা হয়ে আসছে।
গতকালও যে ছেলেটা একটা সামান্য ইন্টারভিউয়ের ডাক পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে মোনাজাত করছিল, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম হতাশায় ভুগছিল... আজ সে দেশের অন্যতম সেরা এবং অভিজাত ল-ফার্মে সরাসরি জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করতে যাচ্ছে!
আদির ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে একটা খাঁটি, অপার্থিব হাসি ফুটে উঠল। তার চোখের কোণটা এক ফোঁটা আনন্দের জলে চিকচিক করে উঠল, যা সে অনেক চেষ্টা করেও লুকাতে পারল না। সে চেয়ার ছেড়ে সোজা হয়ে উঠে দাঁড়াল। মাথা নিচু করে পরম কৃতজ্ঞতায় বলল—
— "আলহামদুলিল্লাহ... অনেক ধন্যবাদ, ম্যাম। ধন্যবাদ স্যার। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব আপনাদের এই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করতে।"
ইনায়া খুব সংক্ষিপ্ত কিন্তু দৃঢ়ভাবে মাথা নাড়ল। তার চোখে সেই চেনা পেশাদারিত্ব ফিরে এসেছে।
— "আমরা সিভির বড় বড় ডিগ্রির চেয়ে মানুষের সততা, কাজের প্রতি নিষ্ঠা আর পরিশ্রমকে বেশি মূল্য দিই, মিস্টার আদি। আশা করি, আপনি আমাকে হতাশ করবেন না।"
আদি ইনায়ার চোখের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত দৃঢ় ও প্রত্যয়ী কণ্ঠে উত্তর দিল—
— "ইনশাআল্লাহ ম্যাম, কখনো না।"

আদি কেবিন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ভারী কাঠের দরজাটা আপন গতিতেই বন্ধ হয়ে গেল। ইনায়া আরও কয়েক সেকেন্ড সেই বন্ধ দরজার দিকেই স্থির চোখে তাকিয়ে রইল।
আজকের এই কর্পোরেট দুনিয়ায় বেশিরভাগ ছেলেই আসে একটা মোটা অঙ্কের মাইনে আর স্ট্যাটাসের খোঁজে। কিন্তু এই ছেলেটার চোখের মণি দুটোতে সে স্পষ্ট একটা জিনিস দেখেছে—শেখার এক অদম্য, খাঁটি ক্ষুধা।
আদির এই আকুলতা যেন ইনায়াকে এক ঝটকায় টাইম মেশিনে বসিয়ে কয়েক বছর পেছনে ফিরিয়ে নিয়ে গেল। নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম দিকের দিনগুলোর কথা হঠাৎই তার মনে পড়ে গেল। যখন সেও একজন সাধারণ জুনিয়র হিসেবে সিনিয়রদের বকুনি খেয়ে, ফাইল বগলদাবা করে কোর্টের বারান্দায় বারান্দায় ঘুরত আর প্রতিটি কেস থেকে স্পঞ্জের মতো নতুন কিছু শুষে নেওয়ার চেষ্টা করত।
স্মৃতির সেই জানালাটা খুলতেই ইনায়ার চিরকাল গম্ভীর থাকা ঠোঁটের কোণে একটা খুব হালকা, পশমি হাসি ফুটে উঠল।
ঠিক তখনই—
টেবিলের ওপর রাখা তার আইফোনটা মৃদু ভাইব্রেশনে কেঁপে উঠল। চকচকে স্ক্রিনে ভেসে উঠল একটা বিশেষ নাম—
Husband
নামটা দেখামাত্রই ইনায়ার ঠোঁটের সেই আলতো হাসিটা মুহূর্তের মধ্যে আরও গাঢ়, আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠল। অফিসের সব ক্লান্তি যেন ওই একটা নাম দেখেই উধাও। সে আর এক মুহূর্তও দেরি না করে কলটা রিসিভ করে কানের কাছে ধরল।
— "হ্যালো?"
ওপাশ থেকে ভেসে এল সেই চেনা, ভীষণ পরিচিত আর গম্ভীর পুরুষালী কণ্ঠস্বর।
— "Mrs. Feng..."
শব্দ দুটো ইনায়ার কানে আসতেই সে চেয়ারে একটু আরাম করে হেলান দিয়ে হেসে ফেলল।
— "হুম? বলুন।"
— "Busy?"
— "একটু আগে পর্যন্ত একটা ইন্টারভিউ সেশন নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিলাম। এখন ফ্রি।"
লাইনটির ওপাশ থেকে অ্যারিস একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার কণ্ঠে এক চিলতে স্বস্তি—
— "Good."
— "হুট করে গুড কেন?" ইনায়া তার ডেস্কের একটা ফাইল একহাতে সরাতে সরাতে জিজ্ঞেস করল।
— "কারণ আমি গত এক ঘণ্টা ধরে তোমাকে ফোন করব কি করব না—তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করছিলাম।"
— "গবেষণা করছিলে? তাহলে এতক্ষণ করনি কেন?"
— "ভাবছিলাম, আমার অতি ব্যস্ত মিসেস আবার কোন মার্ডার কেসের ফাইল বা ক্রিমিনাল সাইকোলজি নিয়ে এত ডুবে থাকবে যে আমার কলটা দেখামাত্রই ডিক্লাইন করে দেবে।"
ইনায়া একদিকের ভ্রু সামান্য উঁচাল। তার কণ্ঠে ছদ্ম অভিমান—
— "আমি কি কখনো তোমার কল কেটেছি, মিস্টার অ্যারিস?"
— "কেটে দাওনি। কিন্তু ইম্পর্ট্যান্ট মিটিংয়ের দোহাই দিয়ে অপেক্ষা করিয়েছ অনেকবার।"
— "তাও ঠিক। তা... সরাসরি অভিযোগ করা হচ্ছে?"
— "জি, ম্যাডাম। একদম সরাসরি।"
দুজনেই একসঙ্গে হালকা করে হেসে উঠল। সেই হাসির রেশটুকু যেন ফোনের স্পিকার গলে পুরো কেবিনে ছড়িয়ে পড়ল।
কয়েক মুহূর্তের এক অদ্ভুত মিষ্টি নীরবতা। ওপাশ থেকে অ্যারিস একটু নরম, যত্নশীল গলায় আবার জিজ্ঞেস করল—
— "দুপুরের খাবার খেয়েছো?"
ইনায়া একদম চুপ। কোনো উত্তর দিল না। পেনটা নিয়ে আঙুলের ফাঁকে ওলটাতে লাগল।
তার এই নীরবতাই ওপাশের মানুষটার কাছে খুব চেনা একটা উত্তর দিয়ে দিল। অ্যারিসের কণ্ঠের সেই হালকা আমেজটা নিমেষেই বদলে গেল। একটু কড়া, অথচ ভীষণ ভালোবাসাময় শাসন ঝরে পড়ল তার গলায়—
— "ইনায়া ..."
— "উম..." ইনায়া অপরাধীর মতো সুর করল।
— "আবার লাঞ্চ করোনি, তাই তো?"
ইনায়া নিজের নিচের ঠোঁটটা দাঁত দিয়ে আলতো কামড়ে ধরে টেবিলের এককোণে তাকাল— "আসলে... একটা জরুরি কেস স্টাডি আর ইন্টারভিউয়ের কাজ ছিল..."
— "কাজ তো সবসময়ই থাকবে ইনায়া। তাই বলে ঘড়ির দিকে না তাকিয়ে এভাবে না খেয়ে থাকবে?"
— "আহা, রাগ করছ কেন? এখন তো ফ্রি হয়েছি, এবার খেয়ে নেব।"
— "এখন ঘড়িতে ঠিক কটা বাজে, জানো?"
ইনায়া ডানহাতের রিলিজড রিস্টওয়াচটার দিকে তাকিয়ে কিছুটা অপরাধবোধ মাখানো মৃদুস্বরে বলল—
— "তিনটে বেজে দশ..."
— "ঠিক তাই."
ওপাশ থেকে বিরক্তির সঙ্গে গভীর ভালোবাসা মেশানো একটা ভারী দীর্ঘশ্বাস শোনা গেল। অ্যারিস যেন ওপাশে বসে মাথা নাড়ছে।
— "তুমি না একদম বাচ্চাদের মতো। বাইরে হাজারটা জটিল কেস সমাধান করে বেড়াও, আর নিজের যত্ন নেওয়ার মতো সহজ কথাটাই একদম মনে থাকে না।"
ইনায়া মুচকি হেসে চেয়ারের পেছনে মাথাটা এলিয়ে দিল। কাঁচের ওপাশের নীল আকাশটার দিকে তাকিয়ে চোখের পাতা বুজল সে।
— "তুমি তো আছ মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য। তাহলে আমার অত মনে রাখার দরকার কী?"
অ্যারিস ওপাশ থেকে হালকা হেসে বলল— "তা অবশ্য ঠিক বলেছ। ওটা আমার লাইফটাইম ডিউটি।"
তারপর একটু গম্ভীর, নাটকীয় গলায় যোগ করল— "আর ঠিক দশ মিনিটের মধ্যে যদি তোমার ডেস্কে লাঞ্চের প্লেট না দেখি..."
ইনায়া চোখ খুলে একটু অবাক হয়ে বলল— "মানে? দশ মিনিটের মধ্যে কোত্থেকে আসবে? আমি তো এখনও অর্ডারই দিইনি!"
— "তোমাকে দিতে হবে না। মানে আমি ইতোমধ্যে তোমার পছন্দের রেস্তোরাঁ থেকে খাবার অর্ডার করে দিয়েছি। আর ডেলিভারি বয় হয়তো এতক্ষণে তোমার অফিসের লিফটে।"
ইনায়া কপালে হাত দিয়ে নিজের ভেতরের সবটুকু ভালোলাগা চেপে হাসল— "অ্যারিস!"
— "হুম?"
— "তুমি না..."
— "আমি কী?" অ্যারিসের কণ্ঠে একটা বিজয়ের হাসি।
— "একদম অসম্ভব একটা মানুষ!"
অ্যারিসের সেই চেনা, বুক কাঁপানো হাসির শব্দটা ফোনের ওপার থেকে পরিষ্কার ভেসে এল—
— "অসম্ভব না হলে তোমার মতো এত সম্ভব আর পারফেক্ট একটা মেয়েকে সামলাত কে?"
ইনায়া মাথা নেড়ে হেসে ফেলল। তার গাল দুটোতে তখন হালকা লাজের আভা।
— "ঠিক আছে, এবার রাখি। খাবার মনে হয় চলেই এসেছে। এসে গেলে খেয়ে নেব।"
— "এমনি এমনি রাখবে না। ভিডিও কল দিয়ে খাবে।"
— "কী? ভিডিও কল কেন?" ইনায়া কৃত্রিম বিরক্তি দেখাল।
— "কারণ আমি নিজের চোখে না দেখা পর্যন্ত কোনোভাবেই বিশ্বাস করব না যে তুমি কাজের ফাইল সরিয়ে সত্যিই খাবারটা মুখে তুলছ।"
ইনায়া হাল ছেড়ে দেওয়ার মতো এক অদ্ভুত তৃপ্তির ভঙ্গিতে হেসে বলল— "আচ্ছা বাবা আচ্ছা, আপনার হুকুম তামিল হবে।"
— "That's my good wife. এবার রাখছি, বাই।"

কলটা কেটে স্ক্রিনটা কালো হয়ে যাওয়ার পরও ইনায়ার ঠোঁটের কোণে সেই চওড়া হাসির রেখাটা লেগেই রইল। সে ফোনটা বুকের ওপর চেপে ধরে একটা লম্বা শ্বাস নিল।
ঠিক তখনই দরজায় খুব ভদ্রভাবে দুবার নক করার শব্দ হলো।
— "ম্যাম, আপনার লাঞ্চ ডেলিভারি এসেছে।" অফিসের পিওন খাবার পার্সেলটা হাতে নিয়ে উঁকি দিল।
ইনায়া মাথা নেড়ে খাবারটা টেবিলের ওপর রাখতে ইশারা করল। পার্সেলটার দিকে তাকিয়ে সে মনে মনে বলল—
"এই লোকটা বিয়ের এতগুলো বছর পরও সত্যিই একটুও বদলায়নি। ঠিক আগের মতোই পাগল রয়ে গেল।"

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 9 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন