ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ আসক্তি সিজন-২

পর্ব 32

লেখক: F. Tabassum

এদিকে হাসপাতালে আদিয়ানের জ্ঞান ফিরতেই সে প্রথম যে নামটি উচ্চারণ করল, সেটি হলো 'ইনায়া'। সে ক্ষীণ কণ্ঠে ইনায়ার শারীরিক অবস্থার খবর জানতে চাইলো। যখন সে জানতে পারল যে ইনায়ার মিসক্যারেজ হয়ে গেছে, তখন আদিয়ান যেন ভেতর থেকে ভেঙে পড়ল। সে নিজেকেই অপরাধী মনে করতে লাগল—"আমার জন্যই সব হয়েছে, আমিই যদি গাড়িটা নিয়ে না বের হতাম, তবে আজ ইনায়ার কোল খালি হতো না।"
আদিয়ানের চোখের জল থামছিল না। সুবা তখন চোখের জল মুছে আদিয়ানকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল, তাকে বোঝালো যে এটা কারোরই দোষ নয়, এটা ছিল এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সিয়ানও বাবার কষ্ট দেখে আদুরে হাতে বাবাকে জড়িয়ে ধরে পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল। সিয়ানের সেই ছোট্ট হাতের ছোঁয়ায় আর সুবার ভালোবাসায় আদিয়ান ধীরে ধীরে কিছুটা শান্ত হলো।
ডাক্তার এসে জানালেন, আদিয়ানের শারীরিক ক্ষতগুলো ততটা গভীর নয়, সঠিক বেড রেস্ট আর নিয়ম মেনে চললে সে দ্রুতই সুস্থ হয়ে যাবে। তবে ডাক্তার কঠোরভাবে নিষেধ করে দিলেন, আদিয়ান যেন মাথার ওপর আর কোনো মানসিক চাপ না নেয়।
.
.

পরদিন সকালে ফেং ম্যানশনের পরিবেশটা বেশ ভারি। সবাই হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরলেন। বাড়িতে ঢুকেই শামীমা বেগম, ইভান, সাইমা আর জিয়ান ফেং অবাক হয়ে দেখলেন যে ড্রয়িংরুমের সোফায় একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত বয়স্ক মহিলা বসে আছেন।
ইভান তো নিজের চোখের সামনে এই দৃশ্য দেখে তাজ্জব বনে গেল। সে ধেয়ে এগিয়ে গিয়ে বেশ কর্কশ স্বরে বলে উঠল—
"এই আপনি কে? আমাদের বাড়িতে কী করছেন? আর ভেতরে ঢুকলেনই বা কীভাবে?"
ইভান কথা শেষ করার আগেই অ্যারিসের ধমক দেওয়া আওয়াজ পুরো ড্রয়িংরুমে প্রতিধ্বনিত হলো—
"ইভান! মুখ সামলে কথা বল! ভদ্রতা বজায় রাখ!"
অ্যারিসের গলার স্বর শুনে সবাই থমকে গেলেন। ইভান তো রীতিমতো স্তম্ভিত! অ্যারিস সাধারণত ইভানের ওপর বিরক্ত হলে হয়তো বকা দিত বা চুপ থাকতে বলত, কিন্তু আজ অ্যারিসের কণ্ঠে এমন এক অস্বাভাবিক তেজ আর কঠোরতা ছিল, যা সে এর আগে কখনো শোনেনি। বাড়ির অন্য সবাই অ্যারিসের এই আচরণের কারণ বুঝে উঠতে পারল না।
অ্যারিস তখন সেই মহিলার দিকে এগিয়ে গিয়ে শান্ত গলায় সবাইকে বললেন, "ইনি আমার মা। আমার জন্মদাত্রী মা।"

ইভানের পায়ের তলার মাটি যেন আরও একবার সরে গেল। সে জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত জেনে এসেছে অ্যারিস তার নিজের আপন বড় ভাই। এখন হঠাৎ করে মাঝখানে এক অচেনা মহিলা কোত্থেকে এসে ওর ভাইয়ের মা দাবি করছে—এটা ইভানের মাথায় কিছুতেই ঢুকছিল না। সে বিভ্রান্তি আর একরাশ প্রশ্ন নিয়ে শামীমা বেগম আর জিয়ান ফেংয়ের দিকে তাকাল।
জিয়ান ফেং একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ইভানের কাঁধে হাত রাখলেন। ওনার চোখে তখন পুরনো দিনের স্মৃতি।
"ইভান... অ্যারিস যা বলছে, ঠিকই বলছে। তোর জন্মের আগে, ও যখন চার বছরের একটা অবুঝ শিশু, তখন আমরা ওকে এক প্রকার অনাথ অবস্থায় পেয়ে আইনিভাবে দত্তক নিয়েছিলাম। আমাদের কোনো সন্তান হচ্ছিল না দেখে ওকে আমরা নিজেদের কলিজার টুকরো করে বড় করেছি। পরে আল্লাহর রহমতে তুই আমাদের কোলে আসলি। কিন্তু আমরা কোনোদিন তোদের দুই ভাইয়ের মধ্যে তফাত করিনি।"

ইভান আরও অবাক হয়ে ওর বড় ভাইয়ের দিকে তাকাল। অ্যারিসের চোখ দুটো তখন ওর জন্মদাত্রী মায়ের দিকে নিবদ্ধ। অ্যারিস তখন বাকি সত্যটা সবার সামনে পরিষ্কার করে দিলেন—
"মা, ছোটবেলায় আমাকে নানুর কাছে রেখে কোনো এক কারণে দূরে গিয়েছিলেন। কিন্তু নানু মারা যাওয়ার পর আমি যখন একা হয়ে যাই, তখন আব্বু-আম্মু আমাকে দত্তক নেন। পরে মা যখন আমাকে নিতে ফিরে এসেছিলেন, ততদিনে আমার পুরো পরিচয় বদলে গেছে। সে হন্যে হয়ে আমাকে খুঁজেছেন, কিন্তু পাননি। দীর্ঘ বছর খোঁজার পর আজ ওনার মানসিক অবস্থা এই রকম। আর..." একটু থেমে, গলার স্বর নিচু করে বললো, "মায়ের লাস্ট স্টেজের ক্যান্সার হয়েছে। ডক্টররা বলেছেন ওনার হাতে আর বেশি সময় নেই। তাই উনি ওনার জীবনের এই শেষ কটা দিন ওনার হারিয়ে যাওয়া সন্তানের সাথে থাকতে চান। আমি ওনাকে আর কোথাও যেতে দেব না। উনি এই বাড়িতে থাকবেন!"
অ্যারিসের এই আবেগঘন কথা শুনে ইভান আর সাইমার চোখ ভিজে উঠল। ইভান ওর ভাইয়ের কষ্টটা বুঝতে পেরে চুপ হয়ে গেলেন।
কিন্তু এক কোণায় দাঁড়িয়ে থাকা শামীমা বেগম মনে মনে ভীষণ বিরক্ত হচ্ছিলো। দীর্ঘ এত বছর ধরে যে ছেলেকে সে নিজের বুকের দুধ খাইয়ে না হলেও, নিজের সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে বড় করেছেন, আজ হঠাৎ করে অন্য এক মহিলা এসে ওর সেই ছেলের ওপর মায়ের অধিকার ফলাবে—এটা সে কোনোভাবেই সহ্য করতে পারছিলেন না। তার মনে এক অদ্ভুত হিংসার জন্ম নিল। কিন্তু অ্যারিসের ওই রুদ্রমূর্তি আর ওর মায়ের ক্যান্সারের কথা শুনে সে মুখে একটা শব্দও উচ্চারণ করলেন না, চুপচাপ বিরক্তি চেপে দাঁড়িয়ে রইলেন।

ইনায়া সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসতেই সবার চোখ ওর ওপর গিয়ে থমকে গেল। সবাই অবাক! মাত্র কালকে এত বড় একটা ট্রমা আর মিসক্যারেজের ধকল কাটিয়ে ওঠা ইনায়ার পরনে এখন ফর্মাল ব্লেজার আর ট্রাউজার। ফ্যাকাশে মুখে ঠান্ডা পেশাদারিত্বের ছাপ।
ইনায়া ড্রয়িংরুমে উপস্থিত কারও দিকে একটা বারের জন্যও তাকালো না। সে নিজের ফোনটা বের করে রোহানকে কল দিলো।
"গাড়ি নিয়ে আসতে আর কতক্ষণ লাগবে ??"
রোহান ফোনের ওপাশ থেকে হন্তদন্ত হয়ে বললো, "ম্যাম, ট্রাফিক জ্যাম পেরিয়ে আপনার ম্যানশনের মেইন গেটে পৌঁছাতে আর মাত্র পাঁচ মিনিট লাগবে। আমি প্রায় চলে এসেছি।"
ইনায়া: "ওকে। জলদি এসো।"
ফোনটা রেখে ইনায়া সোফায় গিয়ে বসলেন। অ্যারিসের আসল মা, ঝর্ণা বেগম, নিজের পেট চেপে ধরে একটু দুর্বল গলায় বললেন, "বাবা , আমাকে একটু কিছু খেতে দিবি? সকাল থেকে পেটে কিছু পড়েনি তো, খুব কষ্ট হচ্ছে..."
মায়ের মুখে খাবারের কথা শুনে অ্যারিস শামীমা বেগম, ইভান আর সাইমাকে সাথে নিয়ে সোজা কিচেন ও ডাইনিং এরিয়ার দিকে চলে গেলেন ওর মায়ের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে।

ড্রয়িংরুমের সেই বিশাল সোফাটায় এখন শুধু দুজন মানুষ বসে আছেন—ঝর্ণা বেগম আর ইনায়া। ঝর্ণা বেগম ইনায়ার এই গুমোট রূপের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য একটু মিষ্টি করে হেসে বললেন—
"তা মা, তোমার কেস কেমন চলছে এখন? কোর্টে কি খুব ব্যস্ততা?"
ইনায়া ওর দিকে তার তীক্ষ্ণ চোখ দুটো তুলে তাকালো।
"আমি আপনাকে কখন বললাম যে আমি লয়ার?"
ঝর্ণা বেগম ওনার মলিন আঁচলটা জড়িয়ে ধরে বললেন, "না মানে... খবরের কাগজে তোমার কত ছবি দেখেছি মা। টিভিতেও দেখেছি। তুমি তো মস্ত বড় উকিল..."
ইনায়া ওনার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলার ভেতরের তেজটা তখন তীরের মতো সোজা গিয়ে বিধল ঝর্ণা বেগমের বুকে
—"এই সব বাটপারি আপনি অ্যারিসের সাথে করে পার পেয়ে যেতে পারেন, কিন্তু আমার সাথে একদম না। নিজের কান খুলে শুনে রাখুন—এই ফ্যামিলির একটা মানুষেরও যদি আপনার জন্য কোনো ক্ষতি হয়, তখন আপনি টের পাবেন যে লয়ার ইনায়া ফেং আসলে কী জিনিস!"
ঝর্ণা বেগম এই কথা শুনে একদম ভড়কে গেলেন, ওনার চোখে এক পলকের জন্য একটা ভয়ের ছায়া খেলে গেল। সে হাত দুটো বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, "তুমি আমাকে ভুল বুঝছ মা... আমি তো শুধু আমার ছেলেকে ..."
ইনায়া চোখ দুটো ছোট করে, শক্ত গলায় বললো, "শাট আপ!"
ডাইনিং রুমের ওপাশ থেকে অ্যারিস ড্রয়িংরুমে পা রাখলেন। ওর হাতে খাবারের প্লেট।
—"মা, খাবার রেডি। এসো, খেয়ে নাও।"
অ্যারিসের গলার আওয়াজ পেতেই ইনায়া ওর ব্যাগটা কাঁধে তুলে নিলো। সে একবার অ্যারিস আর ওর মায়ের দিকে তাকালো । তারপর কোনো কথা না বলে, কোনো বিদায় না জানিয়ে সরাসরি মেইন গেট দিয়ে গাড়িতে উঠে ল ফার্মের উদ্দেশ্যে বের হয়ে গেলেন। অ্যারিস শুধু এক বুক হাহাকার নিয়ে বউয়ের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
.
.

সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় পুরো ফেং ম্যানশন একদম নিঝুম হয়ে এল। ইভান, সাইমা আর অ্যারিস সকালের সেই থমথমে পরিস্থিতির পরেই কোম্পানির জরুরি কাজ সামলাতে অফিসের দিকে রওনা দিয়েছিলেন। জিয়ান ফেং আর শামীমা বেগমও ড্রয়িংরুমের এই অশান্ত পরিবেশ এড়াতে নিজেদের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন। আর অ্যারিসের আসল মা, ঝর্ণা বেগমও ওনার গেস্ট রুমেই ছিলেন।

আইরা আজ স্কুল যায়নি। মা-বাবার এই কঠিন পরিস্থিতি আর হসপিটালের ধকলের কারণে ও মানসিকভাবে একটু ক্লান্ত ছিল। সকালের দিকে বেশ দেরিতে ঘুম থেকে উঠে হালকা নাস্তা করে সে ওর নিজের রুমেই খেলছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে ওর আবার বেশ ক্ষুধা পেয়ে গেল। ওর রুম থেকে বের হয়ে টিপটপ পায়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে এল রান্নাঘরের দিকে।
ডাইনিং টেবিলের ওপর আসতেই আইরার চোখ গেল সুন্দর করে রাখা একটা কেকের ওপর। ক্ষুধার চোটে ও আর কারও জন্য অপেক্ষা করল না; হাত বাড়িয়ে কেক থেকে এক টুকরো নিয়ে মুখে পুরে দিল।
কিন্তু ও জানত না যে ওই কেকের ভেতরে মেশানো ছিল চূর্ণ করা কাঠবাদাম আর কাজুবাদাম! বাদাম আইরার শরীরের জন্য একটা মারাত্মক বিষের মতো, ওর এই জিনিসে ভয়ঙ্কর রকমের ফুড অ্যালার্জি । কেকটা গলার নিচে নামতেই আইরার পুরো শরীর লাল হয়ে চাকা চাকা হয়ে ফুলে উঠতে শুরু করল, ওর শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে এল। ও ছটফট করতে করতে টেবিলের ওপর হাত ছড়াতেই ওখান থেকে কাঁচের একটা গ্লাস মেঝেতে পড়ে বিকট শব্দে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। আইরা জ্ঞান হারিয়ে শক্ত মেঝের ওপর ধপ করে পড়ে গেল।
গ্লাস ভাঙার আর ভারী কিছু পড়ার শব্দ শুনে রুম থেকে শামীমা বেগম আর জিয়ান ফেং চমকে উঠলেন। ওনারা হন্তদন্ত হয়ে প্রায় দৌড়ে এলেন। ডাইনিং স্পেসে পা রাখতেই শামীমা বেগমের কলিজা যেন শুকিয়ে গেল!
শামীমা বেগম চিৎকার করে উঠলেন, "আমার আইরা মনির এই অবস্থা কেন! জিয়ান, দেখ ও কেমন নীল হয়ে যাচ্ছে! ও শ্বাস নিতে পারছে না!"
জিয়ান ফেং-র হাত-পা কাঁপছিল, তাও সে আইরাকে কোল তুলে নিলেন। যেতে যেতে  ইনায়াকে ফোন করার সিদ্ধান্ত নিলেন। কারণ একজন মা হিসেবে ইনায়ার জানা দরকার তার একমাত্র মেয়ের জীবন এখন সংকটে।

ওদিকে ল ফার্মের এসি রুমে বসে ইনায়া তখনো পাথরের মতো মুখ করে একের পর এক ফাইলের সই দেখছিলেন। তার ভেতরের শূন্যতা তাকে কোনো কাজে মন দিতে দিচ্ছিল না। ওর ফোনটা টেবিলে তীব্রভাবে ভাইব্রেট করে উঠল। স্ক্রিনে শামীমা বেগমের নাম দেখে ইনায়া ফোনটা কানে নিলেন।
শামীমা বেগম ফোনের ওপাশ থেকে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে জানালো, "ইনায়া রে! তুই যেখানে আছিস জলদি সেন্ট্রাল হসপিটালে ছুটে আয় মা! আইরা কী যেন খেয়েছে, ওর মারাত্মক অ্যালার্জি উঠে ও পুরো অজ্ঞান হয়ে গেছে! আমরা ওরে নিয়ে এখনই হসপিটালে দৌড়াচ্ছি, তুই জলদি আয়!"
বাচ্চা হারানোর শোকে যে ইনায়া গত ২৪ ঘণ্টা ধরে একটাও কথা বলেননি, কাঁদেনওনি—মেয়ের এই বিপদের কথা শোনামাত্রই ওর ভেতরের সেই পাথরটা এক সেকেন্ডে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল! ওর চোখ দুটো আতঙ্কে বড় বড় হয়ে গেল, হাতের কলমটা ছিটকে পড়ল মেঝেতে।
ইনায়া ওর ব্যাগ নিয়ে উঠে দাঁড়ালো। ওর পুরো শরীর কাঁপছিল। সে কেবিনের দরজাটা খুলে ল ফার্মের করিডোর দিয়ে পাগলের মতো দৌড় দিলেন।
আদি ফাইল হাতে, অবাক হয়ে বললো, "ম্যাম! কী হয়েছে? কোথায় যাচ্ছেন?"
ইনায়া আদির কোনো কথার উত্তর দেওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না। সে সোজা লিফটের দিকে ছুটে গেলেন, এক সন্তানকে হারিয়ে ইনায়া অলরেডি জীবন্ত লাশ হয়ে গেছেন, ওর শেষ সম্বল আইরাকে সে কিছুতেই হারাতে দিতে পারেন না। সে কাঁপতে কাঁপতে ল ফার্মের নিচে নেমে একটা ক্যাব নিয়ে হসপিটালের উদ্দেশ্যে বাতাসের গতিতে রওনা হলেন।
.

ইনায়া যখন হসপিটালে পৌঁছালেন, ওর বুকের ভেতর তখন যেন একটা পুরো কারখানায় হাতুড়ি পিটছিল। সৌভাগ্যবশত, জিয়ান ফেং আর শামীমা বেগম একদম সঠিক সময়ে আইরাকে নিয়ে এসেছিলেন। ডাক্তাররা দ্রুত অ্যান্টি-অ্যালার্জিক ইনজেকশন পুশ করে আইরার শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কিছুক্ষণ পর ডক্টর এসে ওদের আশ্বস্ত করে বললেন, "আপাতত ভয়ের কিছু নেই, পেশেন্ট এখন স্ট্যাবল। তবে ওর বাদামে যে ভয়ঙ্কর অ্যালার্জি, এটা আপনাদের মাথায় রাখতে হবে। নেক্সট টাইম যেন ভুলেও ওকে বাদাম দেওয়া না হয়, এটা লাইফ-থ্রেটেনিং হতে পারত।"

আইরা একটু সুস্থ আছে শুনে স্বস্তি পেলে ইনায়া । তবে ওর মনের ভেতর তখন একটা আগ্নেয়গিরি ফুটছে। সে  রোহানকে ফোন করে মেইন গেটে গাড়ি নিয়ে রেডি থাকতে বললেন।
ইনায়া আইরাকে শক্ত করে নিজের কোলে চেপে ধরে হনহন করে নেমে এলেন। ওর পেছনেই প্রায় আসছিলেন শামীমা বেগম আর জিয়ান ফেং। গাড়ির সামনের সিটে আইরাকে নিয়ে ইনায়া বসলেন, আর পিছনে শ্বশুর-শাশুড়ি।
ইনায়া রোহানের দিকে তাকালো, ওর গলা তখন কাঁপছে রাগে। "রোহান, ফুল স্পিডে গাড়ি চালাও। সোজা বাসায় চলো!"

রোহান ম্যামের এমন রুদ্রমূর্তি দেখে আর কোনো কথা না বাড়িয়ে এক্সিলারেটরে চাপ দিল। গাড়ি যেন ঢাকার রাস্তা চিড়ে বাতাসের গতিতে ফেং ম্যানশনের দিকে ছুটল। গাড়িতে বসেই শামীমা বেগম ইভানকে ফোন দিলেন। ফোনের ওপাশ থেকে ইভান যখন আইরার এই অবস্থার কথা শুনল, সে পাশে থাকা অ্যারিস আর সাইমাকে নিয়ে অফিসের কাজ ওখানেই ফেলে ঝড়ের গতিতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 32 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন