ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ আসক্তি

পর্ব 3

লেখক: F. Tabassum

নার্স জায়গা পরিষ্কার করে মেডিসিন লাগিয়ে দেয়। রক্ত পড়া থামলে ওয়ান টাইম ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দেয়। ইষান আর কোনো ক্লাস না করে বাসায় চলে আসে। যায়েদ স্যারের কথা ভেবে ভেবে সারাদিন পার করার পর রাতেও ঘুম আসছে না। বিছানায় উলোট পালট করছে শুধু।

ইষান সকাল হতেই তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে ভার্সিটি যায় । গিয়ে দেখে গেট বন্ধ। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে ৭:০২ বাজে। বিরক্ত হয়ে আবার বাসায় চলে আসে। নাস্তা করে আবার সুন্দরভাবে রেডি হয়। যাওয়ার সময় হওয়াতে বের হয়।
​ইনায়াকে সামনে থেকে আসতে দেখে এগিয়ে যায়। তবে ইনায়া পাশ কাটিয়ে চলে যায়। যেনো সামনে কেউই নেই।
ইষানের হাতে ব্যান্ডেজ কেন? কী হয়েছে? কীভাবে হয়েছে কিছুই জিজ্ঞেস করেনি ইনায়া। রাগে, কষ্টে ইষানের চোখে পানিতে টলমল করে। হাতের উল্টো পাশ থেকে চোখের পানি মোছে। দূর থেকে মারিয়া সবটা দেখে তবে ইষানের কাছে যায় না।

​রাত ১২:৪৫
ইনায়ার এমন ব্যবহারে ইষান মাথা পুরো খারাপ হয়ে আছে । ইষান আয়নার সামনে গিয়ে নিজেকে অদ্ভুতভাবে দেখতে শুরু করে। আয়নায় ডান হাত রাখে, চুল গুলো অনেকটাই এলোমেলো । নিজের অগোচরেই হাসতে শুরু করে। ভাবনায় জট পাকিয়ে গেছে। চোখ দুটো লাল হয়ে গেছে। লাল চোখ দেখলে মনে হতে পারে ও ড্রাগস নিয়েছে কি? আমি কি ড্রাগস নিয়েছি? আমি ড্রাগস ছাড়াই আসক্ত কারো নেশায়? কার? কেন? ইনায়া ...... আমি কি দেখতে সুন্দর না? আমি কেনো তোমার পছন্দ হতে পারি না? আমি কি তোমাকে কম ভালোবেসেছি? আমি ছাড়া সবাই কেন তার পছন্দের???? কেন ...... কেন???.........
বাম হাত মুঠো করে আয়নায় ঘুষি দিয়ে পুরো আয়না টা ভেঙে ফেলে। শব্দ পেয়ে আশরাফ শাহ ও সাবিহা বেগম দৌড়ে আসে। এসে দেখে ঘরের এই অবস্থা। চারিদিকে আয়নার ভেঙে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ইষানের হাত কেটে রক্ত পড়ছে অর্নগল ।

দুইজন মিলে ইষানকে নিয়ে হসপিটাল নিয়ে যায়। ট্রিটমেন্ট শেষ করে হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে বাসায় আসে। ইষান কিছু না বলে সোজা নিজের রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লো।
রাত তখন ২:৩৮ ......
আশরাফ শাহ  ইষানের রুমে যায়। বাবাকে দেখে ইষান উঠে বসে, “কিছু বলবে বাবা?”
​আশরাফ শাহ কিছু না বলে ইষানের মুখোমুখি বসে। বাবাকে চুপ থাকতে দেখে ইষান কান্না ফেলে, “বাবা, আমি আমার ইমোশন কন্ট্রোল করতে পারছি না। আমি যাকে ভালোবাসি সে কেন আমাকে ভালোবাসে না, কেন??
আশরাফ শাহকে জড়িয়ে ধরে, "বাবা আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। যা দেখছি তা আমার সহ্য হচ্ছে না। বাবা...” বলেই ইষান কান্না শুরু করে।

​আশরাফ শাহ জিজ্ঞেস করে, “ওয়ান সাইড লাভ?”
ইষান মাথা ঝাঁকিয়ে হ্যাঁ সম্মতি জানায়। ইষানের চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছে। আশরাফ শাহ শান্ত কণ্ঠে বলে, “ওয়ান সাইড লাভ অনেক পেইনফুল হয়। এটা শুধু তোমাকেই কষ্টই দিবে। তোমার চোখের সামনে তোমার পছন্দের মানুষ অন্য কাউকে ভালোবাসবে, অন্য কারো সাথে কথা বলবে—এগুলো তুমি কোনোদিনও সহ্য করতে পারবা না। অথচ সে জানবেই না তুমি তাকে ভালোবেসে কত কষ্ট সহ্য করছো। হয় তাকে জানিয়ে দাও তুমি যে তাকে ভালোবাসো, না হলে তার জীবন থেকে সরে যাও। তুমি কি খোঁজ নিয়েছো? সেই মেয়েটার আগে থেকে কোনো বয়ফ্রেন্ড আছে কি না? বা পারিবারিক ভাবে আগে থেকে কোথাও এনগেজ আছে কিনা? তুমি যদি আগে থেকেই ভালোভাবে খোঁজ খবর না নিয়ে ভালোবেসে ফেলো তাহলে পরবর্তীতে তুমিই অনেক কষ্ট পাবে।”
অনেকক্ষণ বুঝিয়ে আশরাফ শাহ নিজের রুমে চলে যায়।

​তিনদিন ইষান বাড়িতেই রেস্ট নেয়। এই ফাঁকা সময়টায় ইনায়া সম্পর্কিত সকল তথ্য বের করার চেষ্টা করে। তবে ইনায়ার নাম ছাড়া তেমন কিছুই খুঁজে পায় না। এমনকি বাবা-মায়ের নামও কোথাও নেই। ইষান যদি ব্যক্তিগতভাবে ইনায়াদের পরিবার সম্পর্কে না জানতো তাহলে এখন যা জানে তাও জানতে পারতো না। ইষান কিছুটা অবাকই হয়। মনে মনে ভাবে, ‘টপ এজেন্ট ছাড়া তো এভাবে কারো পরিচয় প্রাইভেট থাকে না। তাহলে ইনায়া কি কোনো এজেন্ট?’ নিজের মাথায় থাপ্পড় দিয়ে ভাবে, ‘আরে কি ভাবছি এসব? হয়তো ওর মা সবকিছু প্রাইভেট করে রেখেছে, কোনো কারণ ’
​পরদিন ইষান নাস্তা করে ভার্সিটি যায়। গিয়ে শোনে ইনায়া তিন দিন যাবৎ ভার্সিটি আসেনি।
ইষান মনে মনে বলে, "বাহ বাহ! যার জন্য ৩ দিন ভার্সিটি আসিনি, এখন এসে শুনি সেও ৩ দিন আসেনি।"
​ক্লাসের সময় হওয়াতে ইষান ক্লাসে যায়। প্রথম ক্লাস জায়েদ স্যার নিতে আসে। ক্লাস শুরু হওয়ার একটু পরেই ইনায়া ক্লাসে আসে। ইষানের চোখ পড়ে ইনায়ার পোশাকের দিকে। ফুল স্লিভ ব্লু নেক সোয়েটশার্ট, ম্যাচিং ট্র্যাক প্যান্ট, ম্যাচিং ব্ল্যাক স্নিকার্স। চুলগুলো কালো ব্যান্ড দিয়ে বাঁধা তবে হাঁটুর কাছাকাছি চুল। এত লম্বা চুল দেখে ইষান তো ফিদা! তবে খেয়াল করে দেখে ইনায়ার হাতে ব্যান্ডেজ করা.  দেখেই বোঝা যাচ্ছে খুব রিসেন্টলি হয়েছে। ছোপ ছোপ রক্ত আছে।
​ইনায়া সোজা জায়েদের কাছে যায়। তার হাতে একটা পেনড্রাইভ আর কিছু ফাইল দেয়। ইনায়া কাছে গিয়ে বলে, “তোমার কোম্পানির জন্য এতে অনেক উপকার হবে।” চোখ মেরে চলে যায়।

​ইষান আজ মারিয়া ও নয়নকে ট্রিট দেয়। নয়ন সন্দেহভরা দৃষ্টিতে ইষানের দিকে তাকায়।
নয়ন: “কিরে ইষান, তোর প্রোপোজাল ইনায়া একসেপ্ট করেনি বলে তুই কি ওর হাতে ব্যথা দিয়েছিস? এর জন্যই কি ট্রিট দিয়েছিস?”
​ইষান নয়নের কথা শুনে হা হয়ে যায়। নয়নের পিঠে ডান হাত দিয়ে থাপ্পড় দিয়ে বলে, “আমি ইনায়াকে ভালোবাসি, যারে ভালোবাসি তারে কেন মারবো?”
ইষানের মুখে ‘ভালোবাসি’ কথাটা শুনে মারিয়ার হাতে গরম চা পড়ে যায়। নয়ন টিস্যু দিয়ে মারিয়ার হাত চেপে ধরে। “ঠিক মতো চাও ধরতে পারো না।” কিছুটা বিরক্ত নিয়েই বলে মারিয়া উঠে ওয়াশরুমে চলে যায়।
​নয়ন: “হ্যাঁ ইষান, তারপর বল।”
ইষান: “আমার মনে হয় জায়েদ স্যার ইনায়াকে ভালোবাসে না।”
নয়ন: “তুই কিভাবে বুঝলি?”
ইষান: “ইনায়ার হাতের অবস্থা দেখছো? দেখেই মনে হচ্ছে রিসেন্ট হইছে। জায়েদ স্যার তেমন কোনো রিঅ্যাকশন দেয়নি, কেমন যেন ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে ছিল। এমনকি কোনো কথাও বলেনি।”
​নয়ন: “হুম আমিও দেখছি। আচ্ছা ওটা কিসের পেনড্রাইভ আর ফাইলগুলো কিসের ছিল জানো কিছু???”
ইষান: “ওটা তো জানি না, খেয়ালও করিনি তেমন।”
​এর মধ্যে মারিয়া চলে আসে। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে যে যার বাসায় চলে যায়।
~
ইনায়া বাসায় ঢোকার আগে কিছু ওষুধ কিনলো। তা নিয়েই বাসায় ঢোকে। সোজা সুবার রুমের দিকে যায়। দেখে সুবা টিভি দেখছে।
ইনায়া সুবার পাশে গিয়ে বসে, “আপাতত এখানেই থাক, সুস্থ হলে আবার চায়না দিয়ে আসবো। তোর পরিবারে আপাতত কিছুই বলা লাগবে না, আম্মুরে সব বলছি। এখানে থাকতে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। আর মেডিকেল এর ক্লাস কয়েকদিনের মধ্যে শুরু হবে। তোর ইউনিভার্সিটির স্যারের সাথে কথা বলছি, তোর কন্ডিশন সম্পর্কে সব বলছি। তারা বলছে সুস্থ হলেই যেন ক্লাস জয়েন করো। ক্লাসের সব পড়া একটা মেয়ে তোকে দিয়ে দিবে। বাসায় বসে পড়াশোনা কর।”
​সুবা অশ্রুভেজা চোখে ইনায়াকে জড়িয়ে ধরে, “তুই না থাকলে আমি হয়তো ওই হাসপাতালেই মরে থাকতাম।”
ইনায়া সুবার কান্না থামায়, “এখন কি সুস্থ লাগছে?”
সুবা: “হ্যাঁ, অনেকটাই।”
ইনায়া: “কিছু মেডিসিন এনেছি, এগুলো তো ক্ষত জায়গাগুলো তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে।”
সুবা: “আচ্ছা।”
~
​পরদিন ইনায়া আগের মতোই থ্রি-পিস পড়ে, চুলটাও সুন্দরভাবে বাঁধে। বাম হাতের মাঝখানের আঙুলে একটা আংটি পড়ে। ভার্সিটি গিয়ে ক্যান্টিনে বসে। কিছুক্ষণ পর মারিয়া এসে পাশে বসে। তার কিছুক্ষণ পর নয়ন আর ইষানও চলে আসে। ইনায়া বাসায় না খেয়ে আসায় ক্যান্টিনে বসে খাচ্ছে। ইষানের চোখ যায় ইনায়ার বাম হাতের দিকে। ইষানের চোখ বড় বড় হয়ে যায়। ইষান চোখ দিয়ে মারিয়াকে ইশারা দেয়।
​মারিয়া ইনায়ার কাছে গিয়ে বসে, শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করে, “ইনায়া দুলাভাই কি করে?”
ইনায়া ভ্রু কুঁচকে কপাল ভাঁজ করে কিছুটা বিরক্ত নিয়ে তাকায় মারিয়ার দিকে, “কার দুলাভাই?”
মারিয়া আংটি দেখিয়ে বলে, “তুমি কি এনগেজড?”
ইনায়া এইবার মুচকি হেসে বলে, “না না, এই আংটি টা আমার নিজের ডিজাইন করা  , তাই পড়েছি।” হাতটা মারিয়ার দিকে এগিয়ে বলে, “সুন্দর না???”
​মারিয়া ও মুচকি হেসে বলে, “হ্যাঁ অনেক সুন্দর।”

আংটিটা ইনায়ার নিজেরই ডিজাইন করা শুনে ইষানের মনে হলো সে যেন আজ এক বিশ্ব জয় করে ফেলেছে।
​ইনায়া খাবার খেয়ে ক্লাসে চলে যায় একাই। ক্লাসের সময় হওয়াতে সবাই ক্লাসে যায়। যায়েদ স্যার ক্লাসে এসে অনেকক্ষণ যাবৎ ফোনের দিকে তাকায় আছে , চোখ তুলে তাকায় সামনের দিকে।
জায়েদ স্যার: “ইনায়া!”
ইনায়া উঠে দাঁড়ায়, “জি স্যার?”
জায়েদ স্যার: “আমার টেবিলে নীল রঙের একটা ফাইল আছে, ওটা নিয়ে আসো।”
​ইনায়া ফাইল আনতে চলে যায়। অফিস থেকে ফাইলটি নিয়ে বের হয়। আশেপাশে তেমন কাউকে না দেখে দৌড় দেয় ক্লাসের দিকে। উল্টো দিক থেকে দুজন একে অপরের সাথে কথা বলতে বলতে হেঁটে আসছিল। মোড়ের কাছে আসতেই দুজনের মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। সামলাতে না পেরে দুজনেই মেঝেতে পড়ে যায়। ইনায়ার হাতের ফাইলটা দূরে ছিটকে পড়ে এবং সাথে মাথার ক্লিপ ভেঙে চুল খুলে যায়।
​ইনায়া রাগী কণ্ঠে বলে, “দেখে চলতে পারেন না???”
এলোমেলো চুল নিয়ে ছেলেটার দিকে তাকায়। ডান হাত দিয়ে চুলগুলো এক পাশে সরাতে ব্যস্ত  ইনায়া। আর ছেলেটা অপলক দৃষ্টিতে ইনায়াকে দেখছে। তার কাজল কালো হরিণের ন্যায় চোখ যা যেকোনো হৃদয়কে বিচলিত করতে সর্বদা প্রস্তুত। তার মেঘবরণ চুলগুলো যেন পিঠ ছাড়িয়ে তার হাঁটু ছুঁয়ে যাচ্ছে। গোলাপের পাপড়ির মতো পাতলা ঠোঁট, তার দুধে-আলতা গায়ের রঙ যেন ভোরের স্নিগ্ধ আলোর মতো উজ্জ্বল।
​লোকটা ইনায়াকে দেখে মনে যেন এক অদ্ভুত মাতালতা ভর করলো। তার চোখ আদ্যে আদ্যে ঘোলাটে হতে শুরু করলো। সবকিছু যেন এক ঘোরলাগা মায়ায় ঢাকা মনে হলো। হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়ে তার শিরায় উপশিরায় এক উষ্ণ স্রোত বইতে লাগলো। এই অভাবনীয় সৌন্দর্যের সামনে দাঁড়িয়ে সে যেন মুহূর্তের জন্য নিজেকে সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেললো।
​ইনায়া চুল সরিয়ে দেখে লোকটার হাত কেটে গেছে। ইনায়া এগিয়ে এসে তার হাতটা হালকা করে ধরে। তাতেই লোকটার শ্বাস যেন ঘন হয়ে আসছে।
ইনায়া হাতটা সরিয়ে নেয়, “আমি বুঝতে পারিনি এভাবে হাত কেটে যাবে। আমি কেউ নেই দেখেই দৌড় দিয়েছিলাম, তাই দেখিনি। কিন্তু আপনার তো চোখ ছিল, আপনি দেখেননি কেন??”
​ছেলেটা ইনোসেন্ট ভাব নিয়ে পাশের ছেলেটার দিকে আঙুল দিয়ে দেখায়, “আমি তো মাহির সাথে কথা বলছিলাম তাই দেখিনি।”
ইনায়া: “আচ্ছা একটু বসো, আমি ফাইলটা দিয়ে আসি।” লোকটা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়। ইনায়া ফাইলটা নিয়ে চুল বাঁধতে বাঁধতে ক্লাসের দিকে যায়।
ইনায়া চলে যেতেই মাহি মুচকি হেসে বললো, “ভাই তুমি মেয়েটার জন্য বসে আছো? লাইক সিরিয়াসলি??? এই অ্যারিসকে তো আমি চিনি না।”
অ্যারিস কিছু বলে না, শুধু নিজের গলায় বারবার স্পর্শ করছে আর একা একাই হাসছে। ইনায়ার সাথে ধাক্কা খাওয়ার সময় তার ঠোঁট অ্যারিসের গলায় স্পর্শ করেছিল।
ইনায়া জায়েদ স্যারকে ফাইলটা দেয়। আস্তে করে বলে, " স্যার, আমার একটু কাজ আছে, আমি একটু পর আসছি।" বলে অ্যারিসের কাছে ফিরে যায়। এসে দেখে ছেলেটা ওভাবেই বসে আছে।
ইনায়া এগিয়ে এসে বলে, আপনার তো হাত কেটে গেছে, পা না।" অ্যারিস কিছুটা লজ্জা পেয়ে দাঁড়ায়.. ইনায়া তাকে নিয়ে মেডিকেল রুমে যায়। 

ইনায়া আরিসের হাত হাত ধরতেই সে চোখ বন্ধ করে ফেলে। শ্বাস কেমন যেনো ভারি হয়ে আসছে... চোখ বন্ধ রাখতে রাখতে কিভাবে যেনো অ্যারিস ঘুমিয়ে পড়লো।

কাটার স্থানে ইনায়া মেডিসিন লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দেয়। কিছুক্ষণ পর আরিসের ঘুম ভাঙলে সে দেখে  ইনায়ার পাশে দেখতে বসে গেমস খেলছে। ইনায়া ফোনের দিকে তাকিয়েই বলে, "আপনার নাম কি?"
সে জানায় তার নাম আরিস ফেং।
ইনায়া ভ্রু কুঁচকে অ্যারিসের দিকে তাকায়, " নামটা কেমন যেনো চাইনিজ এর মতো লাগলো।
অ্যারিস মুচকি হেসে বলে, "বাবার বাসা চায়নাতে এবং মা বাংলাদেশি হওয়ার কারণে তার বাবা এমন নাম রেখেছেন। তার একটি ডাকনামও আছে—
ইনায়া: "কি??????"
অ্যারিস ছোটো করে বলে, "কিয়ান"
ইনায়া: "আমি ইনায়া রহমান. "
অ্যারিস: "আমি MA করছি তুমি?"
ইনায়া: "L.L.B. ফাস্ট ইয়ার, তাহলে তো আপনি আমার সিনিয়র। "
অ্যারিস : "হুমম "
তবে মনে মনে বলে," আমার নাম শুনে ও চিনতে পারলে না? হোয়াই .... হবু বউ? এইটা তোমার কাছে আমাদের সামনা সামনি প্রথম দেখা, তবে আমার কাছে নয় "

​কয়েকদিন পর ইনায়াদের পরীক্ষা শুরু হয়। ইনায়া, মারিয়া এবং ইষান একই রুমে সিট পায়। পরীক্ষার হলে ইষান বারবার ইনায়ার দিকে তাকালেও ইনায়া তার আপন গতিতে লিখে যায়। ৪ ঘণ্টার পরীক্ষা মাত্র ২ ঘণ্টায় শেষ করে ইনায়া হল থেকে বের হয়ে গেলে সবাই বেশ অবাক হয়। বের হয়ে ইনায়াকে পায় না ইষান।
ইষানের বিশ্বাসই হচ্ছে না যে ইনায়া এত দ্রুত লিখতে পারে। ৪ ঘণ্টার পরীক্ষা ২ ঘণ্টায় লিখে শেষ করে ইনায়া বের হয়ে যায়। মোটামুটি ক্লাসের সবাই অবাক হয়। তবে প্রথম দিন বলে কেউ তেমন কিছু বলেনি। পরীক্ষার পর সারা কলেজ খুঁজেও ইনায়াকে পাওয়া যায় না।
ইনায়া তো ইনায়ার মতোই চলছে। তাকে দেখে মনেই হয় না তার মধ্যে কোনো অনুভূতি আছে। সে যেন সব জায়গায় একা থাকতেই বেশি ভালোবাসে। তার এই রহস্যময়তা ইষানকে আরও বেশি ভাবিয়ে তোলে।
​ইষান ভার্সিটির গেটের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। সামনে থাকা গাড়িতে ইনায়াকে উঠতে দেখে সে সেদিকে দৌড়ে যায়। গাড়ি ছাড়ার পর ইষান জোরে চিৎকার করে ইনায়ার নাম ধরে ডাকে, কিন্তু গাড়ি অনেক দূরে চলে যায়।
কয়েকদিনের মধ্যে পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 3 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন