ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ আসক্তি

পর্ব 4

লেখক: F. Tabassum

কয় দিন পর........
রেজাল্ট দেওয়ার পর সবাই অবাক। ফার্স্ট হয়েছে ইনায়া। কিছু ছেলে-মেয়ে বলে উঠল, ইনায়া তো ৪ ঘণ্টার পরীক্ষা ২ ঘণ্টা দিয়েছে তাহলে ফার্স্ট কিভাবে হয়েছে? ইনায়া চুপচাপ স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই বসে থাকে ।
ব্যাপারটা নিয়ে একটু বেশিই কথা হচ্ছে দেখে জায়েদ স্যার প্রোজেক্টর অন করে ইনায়ার খাতা সবাইকে দেখায়। ইনায়ার এত সুন্দর হাতের লেখা আর গুছানো উত্তর দেখে তারা চুপ হয়ে যায়।
ইনায়া ব্যাগ কাঁধে নিয়ে পিছনে ঘুরে তাকায়, যারা এতক্ষণ যাবৎ কথা বলছিলো তাদের দিকে।  কিছু না বলে রুম থেকে বের হয়ে যায়।

​ইনায়া ইউনিভার্সিটির অপর পাশের রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসলো। কিছু খেয়ে উঠতে যাবে তখনই চোখ পড়ে সামনের টেবিলে বসা একটি মেয়ের দিকে। একা একা বসে খাচ্ছে। ইনায়া কিছুক্ষণ মেয়েটাকে পরখ করলো। উঠে গিয়ে মেয়েটার টেবিলে মুখোমুখি হয়ে বসে। মেয়েটা ইনায়ার দিকে ফ্যালফ্যাল দিকে তাকায়।
​ইনায়া জিজ্ঞেস করে, "নাম কি তোমার?"
মেয়েটা কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলে, "সায়মা।"
ইনায়া: "ক্লাস?"
সায়মা: "নিউ-টেন।"
ইনায়া: "কাল রাতে খাওনি কেন?"
​সায়মা অবাক দৃষ্টিতে ইনায়ার দিকে তাকায়। এই মেয়েটা কিভাবে বুঝলো সে রাতে খায় নি?
ইনায়া কঠিন কণ্ঠে বলে, "রাতে ঠিকমতো ঘুমাও না কেন??"
সায়মা এবার দ্বিগুণ অবাক হয় এর সাথে চোখে পানি টলমল করে। সায়মাকে চুপ থাকতে দেখে ইনায়া আবার শান্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করে, "তোমাকে বুলি কে করছে?" এই কথা শুনে সায়মা চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারে না। মুখ চেপে কান্না শুরু করে।
​জায়েদ স্যারের হাতের চাপ লেগে রেস্টুরেন্টের ফুটেজ অন হয়ে যায়। কারণ এই রেস্টুরেন্ট টা তারই।  ইষান স্যারের পাশে ছিলো অ্যাসাইনমেন্ট গুলো গুছিয়ে রাখছিলো ।
সায়মার কান্না দেখে ইষান একটু অবাক হয়ে যায়। এর সাথে জায়েদও অবাক হয়। সাথে সাথে ইনায়াকে call করে জায়েদ।
ইনায়া ফোন রিসিভ করে বলে, "আমি তোমার সাথে পরে কথা বলছি" বলে ফোন কাটে। তবে ঠিকমতো চাপ না লাগায় ফোন কাটে না।এতক্ষণ ইষান কান্না দেখলেও এখন সে শুনতে ও পাচ্ছে।
​একটু পর মেয়েটা কান্না থামায়। এরপর বলা শুরু করে,
"আমি সায়মা, পরিবারে আমরা দুই বোন, বাবা আর মা থাকে। বড় আপুর ২ বছর আগে বিয়ে হয়ে গেছে। আমি অন্য সবার মতো প্রতিবাদ করতে পারি না। কেন আমি এমন জানি না আমি নিজেও। এই সুযোগের সৎ ব্যবহার করে, আমাদের ক্লাসের একটা ছেলে নাম রিয়াদ, আমাকে প্রতিনিয়ত বুলি করে। একদিন রিয়াদ এসে আমার সাথে সেলফি তোলে, আর আমাকে হুমকি দেয়। আমি যদি ওর সব কথা না শুনি তাহলে এই ছবি সবাইকে দেখিয়ে বলবে আমি নাকি ওর সাথে রুম ডেট করেছি। আমি প্রথমে ভয় পাইনি কারণ ওই ছবি দেখে ওরকম কিছু বুঝা যাচ্ছিল না। পরে ওই ছবি দিয়ে এডিট করে নু*ড পিকচার বানিয়ে ভয় দেখাতে শুরু করে। তাই বাধ্য হয়ে ওর সব কথা শুনতাম। হাতে দেখো সিগারেটের সেঁকা এইটাও রিয়াদ দিয়েছে। আপু আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের লোক, মান-সম্মান টাই আসল। তার মধ্যে আমি আবার কালো। আমার মতো মেয়েকে কে বিয়ে করবে, তার পর যদি আবার এই কলঙ্ক থাকে তাহলে সমাজে মুখ কিভাবে দেখাতাম। একবার ওই ছবি যদি সবাই দেখে তাহলে তো আমার পুরো জীবন শেষ।"
​সায়মার মুখে এমন কথা শুনে ইষান  পুরো স্তব্ধ।
ইনায়া: "এসব কথা তোমার বাবা-মাকে বলোনি কেন?"
​সায়মা ফুপিয়ে ফুপিয়ে বলে, "আমি তা অনেক আগেই বলতে চেয়েছিলাম তবে রিয়াদ বলছে ওর বাবা নাকি আইনমন্ত্রী আশরাফ সাহেবের অনেক কাছের লোক। আমি নাকি ওর কিছুই করতে পারবো না। কেস করলেও ২ দিনের মধ্যে ক্লোজ হয়ে যাবে। এমন আরো অনেক কিছু বলছে।"
​এই কথা শুনে ইষান অবাক হওয়ার সাথে সাথে মাথায় হাত। "সব দোষ আমার বাপের আমার কোনো দোষ নাই। আমি সত্যি তোমাকে অনেক ভালোবাসি ইনায়া। অন্তত পক্ষে আমাকে ভুল বোঝ না প্লিজ। একটু সময় দাও শুধু আমি সবকিছু ঠিক করে দেবো। শুধু একটু সময় (মনে মনে বলল)"
​ইনায়া সায়মাকে ধমক দিয়ে বলে, তাই বলে তুমি আত্মহত্যা করবে?
সায়মা কান্না থামিয়ে অবাক দৃষ্টিতে ইনায়ার দিকে তাকায়। তুমি কিভাবে জানো??
ইনায়া স্বাভাবিক কণ্ঠে বলে, "তোমার চেহারা দেখলে যে কেউ বলে দিতে পারবে।" একটু থেমে আবার বলে, "আত্মহত্যা করে নিজের জীবন নষ্ট করলে তাতে কার কি এসে যাবে? তোমার জীবন নষ্ট হবে, তোমার বাবা-মাকে সবাই ছিঃ ছিঃ করবে।তোমার জীবন তুমিই সুন্দর করে সাজাবে, অন্য কেউ কেন হস্তক্ষেপ করবে?? কেন দাও অন্য কাউকে হস্তক্ষেপ করতে?? কেউ যদি তোমাকে ভালোবাসে সে তোমার কথা শুনবে, তোমাকে বুঝবে, তোমাকে বিশ্বাস করবে আর যে তোমাকে অত্যাচার করছে, বিশ্বাস করছে না, সেখানে কোনো ভালোবাসা নেই। সেখানে না থাকাই ভালো! এখন ওই সময়টা একটু কষ্ট করে পার করো দেখবে ভবিষ্যৎ অনেক সুন্দর হবে। তুমি কি চাও না তোমার জীবন অনেক সুন্দর হোক? তুমি কারো বউ হও? কারো প্রথম প্রায়োরিটি হও? তোমার সব আবদার পূরণ করুক? নিজের জীবন সুন্দর করে সাজাও লিটল স্টার।"
​সায়মা অবাক দৃষ্টিতে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে আছে। ইষান মনোযোগ সহকারে ইনায়ার কথা শুনছে। সে তো পুরাই ইম্প্রেস ইনায়ার কথা শুনে। তবে জায়েদ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বসে তাকিয়ে আছে ফোনের দিকে।
​ইনায়া: "ওই ছেলের ব্যাপারটা আমি দেখতেছি। তুমি মন দিয়ে পড়াশোনা করো" — বলেই উঠতে যাবে সায়মা হাত চেপে ধরে। ইনায়া পিছনে ফিরে সায়মার দিকে তাকায়।
সায়মা কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলে, "আপু একটা কথা বলবো?"
ইনায়া: "হুম।"
সায়মা: "রিয়াদের জ্বালাতনে আমি ঠিকমতো পড়তে পারি নাই। আমার জন্য একজন ভালো টিচার খুঁজে দিবে প্লিজ।"
ইনায়া: "আমি টিচার খুঁজতে পারি না।"
সায়মা: "তুমি কোন ক্লাসে পড়ো?"
ইনায়া: "'ল' ফার্স্ট সেমিস্টার, ব্রাক ইউনিভার্সিটি।"
সায়মা: "ব্রাক ইউনিভার্সিটি? ওখানে তো আমার কাজিনও পড়ে। তবে অন্য ডিপার্টমেন্টে। আপু তুমিই আমাকে পড়াও প্লিজ। "
​অনেক জোর করায় ইনায়াও রাজি হয়। কাগজে নিজের নাম্বার লিখে দেয়। "বাসায় গিয়ে ফোন করে জানাবে আর তোমার বাসার ঠিকানা দিবে"- বলে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে যায়।
জায়েদ ফোন অফ করে ক্লাস নেয়।
~
​বিকাল ৩:৩০।
সায়মার পাঠানো ঠিকানায় ইনায়া যায়। বাসায় শুধু সায়মার মা (শাহানা বেগম) ছিলেন। ইনায়াকে দেখে একটু অবাক হয় তাও ভিতরে নিয়ে বসায়। সায়মাকে ডেকে নিয়ে রান্নাঘরে যায়।
​শাহানা বেগম ইনায়া কে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করে, "ওই মেয়েটা কে??"
সায়মা মুচকি হেসে বলে, "উনার নাম ইনায়া, ব্রাক ইউনিভার্সিটি 'ল' নিয়ে পড়ে। আজ থেকে উনি আমাকে পড়াবেন।"
শাহানা বেগম ভ্রু কুঁচকে বলে, "ব্রাক ইউনিভার্সিটি? মাসে কত টাকা নিবে? আমাকে জিজ্ঞেস না করেই ঠিক করেছো কেন? যদি অনেক টাকা চায়? তখন?"
সায়মা: আম্মু চিন্তা করো না। 500 টাকা নিবে মাসে, আগেই কথা বলছি।
শাহানা বেগমের চোখ বড় বড় হয়ে যায়, "ওও আল্লাহ কি কস? ঢাকা শহরের মতো জায়গায় ক্লাস ১০ এর মাইয়ারে মাত্র 500 টাকায় পড়াইবো?"
সায়মা: "ওইসব বাদ দেও, আমি রুমে গেলাম পড়তে।"
​সায়মা ইনায়াকে নিয়ে রুমে গিয়ে পড়তে বসে। সব গুলো বিষয়ই একটু সময় নিয়ে পড়ায়। অংক আর ইংলিশ পড়াতেই রাত ৮টা বেজে যায়। ততক্ষণে রফিক সাহেব চলে আসে। শাহানা বেগম সবকিছু খুলে বলে তাকে। রফিক সাহেব ও কিছুটা অবাক হয়। ইনায়া পড়ানো শেষ করে বের হয়। রফিক সাহেব ডেকে এনে বসায়। অনেকক্ষণ কথা বলে। রফিক সাহেব ফোন বের করে গোপনে ইনায়ার একটা ছবি তুলে রাখে। ইনায়া বাসা কোথায় তাও জিজ্ঞেস করে। ইনায়া ও বলে।
​কথা শেষ করে ইনায়া চলে যায়। এরপর রফিক সাহেব সায়মাকে ডাকে। সায়মা এসে তার সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়ায়। রফিক সাহেব গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে, "মেয়েটা কেমন পড়ায়?"
সায়মা: "অনেক ভালো বাবা, কত সুন্দর করে বুঝিয়ে দেয়। আমাদের কাল গণিত ক্লাস টেস্ট আছে। আপুকে বলছি, আমাকে পরিসংখ্যানের A টু Z বুঝিয়ে দিয়েছে। আরো কিছু গণিত করতে দিয়ে গেছে।"
রফিক সাহেব: "এবার খেয়ে নাও কিছু তারপরে পড়তে বস।"
কথামতো সায়মাও তাই করলো।
___
​পরদিন সকালে স্কুলে যায় সায়মা। রিয়াদ কোথা থেকে এসে সায়মার পা জড়িয়ে ধরে, "প্লিজ সায়মা আমাকে মাফ করে দে। আমি কখনো তোর সাথে এমন ব্যবহার করবো না। শুধু তোর সাথে না অন্য কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করবো না। আমার মা বাদে দুনিয়ার সব মেয়ে আমার বোন লাগে। আর কোনোদিনও কোনো মেয়ের দিকে চোখ তুলে তাকাবো না। গায়ে হাত দেওয়া তো অনেক দূরে থাক। প্লিজ সায়মা আমাকে তুই মাফ করে দে। তুই মাফ না করলে আমার জীবন শেষ।"

​রিয়াদ যখন সায়মার দিকে তাকায় তখন সায়মা ওর ভয়ঙ্কর চেহারা দেখে আঁতকে ওঠে। বাম দিকের কপালে ২/৩ জায়গায় কাটা যা থেকে রক্ত পড়ছে, ডান চোখের নিচে রক্ত জমে কালচে হয়ে আছে। দুই গালে থাপ্পড়ের দাগ স্পষ্ট যা লাল হয়ে ফুলে আছে। ঠোঁট ফেটে রক্ত জমাট বাধা। প্রচণ্ড মারধরের পর তার শরীর জুড়ে দগদগে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। চামড়া ফেটে গিয়ে কালসিটে পড়েছিল। কোথাও কোথাও রক্ত জমাট বেঁধে আছে, ব্যথায় কাতর হয়ে শরীরটা কাঁপছিল।
রিয়াদের এমন অবস্থা দেখেও সায়মার মনে কোনো মায়া হচ্ছে না, বরং সায়মা ভীষণ খুশি। সায়মা রিয়াদকে কষিয়ে এক থাপ্পড় মারে। সেই থাপ্পড়ের ওজন আর নিজের শরীরের দুর্বলতা—দুইয়ে মিলে রিয়াদ আর স্থির থাকতে পারল না। চোখের সামনে পৃথিবীটা এক মুহূর্তের জন্য অন্ধকার হয়ে এল। শরীরের সবটুকু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সে ধপাস করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। সারা শরীর ধুলোতে মাখামাখি। নিজের শেষ শক্তিটুকু সঞ্চয় করে উঠে বসল।
​সায়মা কখনো ভাবতে পারেনি, রিয়াদ ওর পা ধরবে। এবার চেঁচিয়ে উঠে বলে, "তোরে যেন কোনোদিনও আমার চোখের সামনে না দেখি"—বলেই নিজের ক্লাসের দিকে চলে যায়।
​প্রথম ক্লাস গণিত, আজ ক্লাস টেস্ট ছিল পরিসংখ্যানের। ক্লাসের শেষে রেজাল্ট দেওয়া হয়। সায়মা TOP-10 এর মধ্যে ছিল। সায়মা তো এবার ডাবল খুশি। ইনায়ার জন্য Thank you লেটার লেখে। কাজিনের মাধ্যমে তা ইনায়ার কাছে পাঠায়।
​ইনায়া ক্যান্টিনে খাবার খাচ্ছিল। সায়মার কাজিন লেটার দিয়ে যায়। খুলে সায়মার লেখা লেটার দেখে একটু মুচকি হাসে। খামে একটা সাদা গোলাপও ছিল। ইনায়া সেটা আবার খামে রেখে ব্যাগের মধ্যে রাখে। ইষান দূর থেকে সবকিছু দেখলেও বুঝতে পারে না ওটা কিসের লেটার ছিল।
​ইনায়া খাওয়া শেষ করে ক্লাসের দিকে যাচ্ছিল। কাল ইনায়ার সাথে বাজে ব্যবহারের জন্য একটা লাল গোলাপের তোড়া, চিরকুটে Sorry লেখা নিয়ে তারা দাঁড়িয়ে ছিল।
​ইনায়া ক্লাসের দরজায় দাঁড়িয়ে ওদের হাতে অনেকগুলো লাল গোলাপ দেখে থমকে দাঁড়ায়। ইনায়ার চোখ লাল গোলাপের দিকে, একটু অদ্ভুতভাবে দেখছে ফুলগুলো। হঠাৎ অতীতের কিছু স্মৃতি ভেসে আসে।
"গভীর রাতে ১৬ বছর বয়সি একটা মেয়েকে কয়েকজন ছেলে মিলে গোলাপ ফুলের স্তূপের মধ্যে চেপে ধরে প্রচণ্ড জোরে মারধর করছে। মেয়েটা কোনোভাবে উঠে পাশের নদীতে ঝাঁপ দেয়।"
​ওরা যখন ফুল নিয়ে কাছে এগিয়ে আসছিল, হঠাৎ ইনায়ার শ্বাস-প্রশ্বাস বেড়ে যেতে শুরু করে। এক পা, এক পা করে পিছনের দিকে পিছাতে থাকে। হঠাৎ করেই সেন্সলেস হয়ে যায়। যায়েদ স্যার কাছে থাকায় দৌড়ে এগিয়ে আসে। জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করে, না ফিরলে পাঁজাকোলা করে কোলে নিয়ে গাড়িতে উঠাতে যায়। তার গাড়ির চাবি তো পকেটে ।  অ্যারিস ইনায়াকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখে দৌড়ে এসে যায়েদ স্যার কে জিজ্ঞেস করে, "চাবি কোথায়?"
যায়েদ স্যার পকেট এর দিকে ইশারা করে । অ্যারিস চাবি নিয়ে গাড়ি স্টার্ট দেয়।
​নয়ন তখন ক্লাসে উপস্থিত থাকায় দৌড়ে ইষানের কাছে যায়, হাঁপাতে হাঁপাতে বলে , "ইষান তুই এখানে, ওই দিকে ই-ইনায়া"
ইনায়ার কথা শুনে দাঁড়িয়ে যায় ইষান, "কী হয়েছে ইনায়ার? কি বলছিস না কেন? বল।"
নয়ন হাঁপাতে হাঁপাতে বলে, "কাল যারা ইনায়ার বিরুদ্ধে কথা বলছিলো ওরা সরি বলার জন্য একটা ফুলের তোড়া আর সরি লেখা নোট নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল ইনায়া, দেখি ইনায়া এক পা, এক পা করে পিছাতে শুরু করে হঠাৎ করেই অজ্ঞান হয়ে যায়। জায়েদ স্যার দৌড়ে এসে নিয়ে যায়। কোথায় নিয়ে গেছে তা জানি না।"
​ইষান হঠাৎ যেভাবে দাঁড়িয়েছিল সেভাবেই ঠাস করে বসে পড়ে। ইষান আশেপাশের হাসপাতাল গুলো খুঁজতে বের হয়ে যায়। মারিয়া সবকিছু দেখে তবে কিছু বলে না। চোখের কোণে জল আসে।
____
​ঘণ্টা খানেক পরে জ্ঞান ফেরে ইনায়ার। চোখ খুলে দেখে জায়েদ স্যার এবং আরিস সামনে বসা।
জায়েদ স্যারকে উদ্দেশ্য করে বলে, "তোমার তো ক্লাস ছিল, চলে গেলেও পারতে।"
অ্যারিস ফোন থেকে চোখ তুলে ইনায়ার দিকে তাকায়। জায়েদ চোখ সরিয়ে ইনায়ার দিকে তাকায়, "তোর এইসব ভাবা লাগবে না। একটু সময়ের জন্য ছিলাম না তাতেই এই অবস্থা।"
​ইনায়া ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে, "আমি কিভাবে জানবো ওরা অতগুলো ফুল আনবে তাও আবার গোলাপ।"
জায়েদ স্যার: "আমারই ভুল হয়েছে তোরে একা ছাড়ার। যেই বয়সে বউ নিয়ে চিন্তা করবো সেইখানে তোরে নিয়ে চিন্তা করা লাগে।"
জায়েদের শেষ কথা শুনে না চাইতেও হেসে ফেলে ইনায়া। অ্যারিস কে উদ্দেশ্য করে বলে, "আরে সিনিয়র আপনি এখানে??"
​আরিস: আমি তো উপর তলার দিকেযাচ্ছিলাম। তখন দেখি জায়েদ স্যার তোমাকে নিয়ে নিচে নামছে। তোমাকে অজ্ঞান দেখে আমি দৌড়ে গিয়ে চাবি নিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসি।"
ইনায়া সেসব পাত্তায় না দিয়ে আবার জিজ্ঞেস করে, "হাত ঠিক আছে???"
আরিস মুচকি হেসে, "হ্যাঁ সব ঠিক আছে।"
জায়েদ স্যার ভ্রু কুঁচকে বলে, "হাতে কী হয়েছে?"
ইনায়া: "সেদিন আমার সাথে ধাক্কা লেগে সিনিয়র-এর হাত কেটে গেছিলো।"
​কিছুক্ষণ পর হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসে ইনায়া, জায়েদ, অ্যারিস। বের হতেই ইষানের সঙ্গে দেখা।
"ইনায়া তুমি ঠিক আছো তো?"
জায়েদ ভ্রু কুঁচকে ইষানের দিকে তাকায়। ইনায়া স্বাভাবিক ভাবে উত্তর দেয়, "হুম।"
আর কিছু না বলে জায়েদ ড্রাইভিং সিটে বসে। ইনায়া তার পাশে বসে। ততক্ষণে মাহি আরিসের বাইক নিয়ে আসে। অ্যারিস মাহিকে নিয়ে ভার্সিটির দিকে চলে যায়।
জায়েদ গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে জিজ্ঞেস করে, "বয়ফ্রেন্ড নাকি?"
ইনায়া ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে তবে কিছু বলে না। জায়েদ বাসার সামনে নামিয়ে দেয় ইনায়াকে।

​ইষান ওখানেই কিছুক্ষণ স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। পরে ইনায়া সুস্থ আছে ভেবে খুশি হয়। কিন্তু কিসের জন্য অজ্ঞান হয়েছিল তা বুঝতে পারে না। কিছুক্ষণ পর ইনায়াকে মেসেজ দেয়।
"তখন তোমার কি হয়েছিল?"
কিছুক্ষণ পর রিপ্লাই আসে, :অতিরিক্ত কাজের চাপে অজ্ঞান হয়ে গেছিলাম।"
ইষান: "ওহ্। বাসায় কিছুদিন আরাম করো। আপাতত বেশি কাজ করার দরকার নেই।"
ইনায়া: "হুম, আমিও সেটাই ভাবছি।"
~
​পরদিন সকালে আফরিন সুলতানা ইনায়াকে ঘুম থেকে উঠায়। "অলরেডি ৭:৩০ বাজে আর কতক্ষণ ঘুমাবি? আজ কিন্তু বাসায় মেহমান আসবে। তাদের সামনে পাগলের মতো ঘুরিস না কিন্তু।"
ইনায়ার কণ্ঠস্বর তখনো ঘুমের রেশে ভারি। ধীরে ধীরে জিজ্ঞেস করলো, "আম্মু মেহমান কখন আসবে?"
আফরিন সুলতানা: "দুপুর কি বিকাল হবে।"
এবার ইনায়া চোখ খোলে। মায়ের দিকে চোখ পিট পিট করে তাকায়, "এর জন্য এখন ডাকতে আসছো?'
আফরিন সুলতানা: "মেহমান বাসায় থাকবে। পড়াতে যাওয়া লাগবে না।"
ইনায়া: "আম্মু ওর সামনে SSC পরীক্ষা। একদিন মিস মানেই অনেক কিছু মিস।"
আফরিন সুলতানা: "তাহলে ওকেও আসতে বল। বাসা তো কাছেই।"
ইনায়া: " আচ্ছা আম্মু।"
​আফরিন সুলতানা চলে যায়। ইনায়া শাহানা বেগমকে ফোন করে। "আসসালামু আলাইকুম আন্টি।"
শাহানা বেগম: "ওয়ালাইকুম আসসালাম। কিছু বলবা মা?"
ইনায়া: "হ্যাঁ আসলে আন্টি আমার বাসায় মেহমান আসবে তো এর জন্য আজকে যেতে পারবো না। সায়মাকে একটু পাঠিয়ে দিলে ভালো হতো। আমি বাসা পর্যন্ত গিয়ে নিয়ে আসবো।"
​শাহানা: "আচ্ছা মা। স্কুল থেকে আসলে তোমার কথা জানাবো।"
ইনায়া: "আচ্ছা।"
______
​বিকাল ৩:৩৫।
ইনায়া টেবিলে বসে একটা বই পড়ছে মনোযোগ সহকারে। হঠাৎ একটা ছেলে দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে, "আসবো ভাবি?"
ইনায়া কিছুটা অবাক হয়ে পিছনে ঘুরে তাকায়। "কি চাই?? নাম কি তোমার?"
ছেলেটা ভিতরে এসে বসে। "আমি ইভান ফেং"। ইনায়ার চোখ বড় বড় হয়ে যায়। ইনায়া ঘুরে ইভানের দিকে তাকায়। "অ্যারিস তোমার কি হয়?"
ইভান: "আমার বড় ভাই। তুমি ভাবি ভাইকে চেনো???"
ইনায়া: "হুম। আমার ভার্সিটির সিনিয়য়। ২ বার দেখা হয়েছিল।"
ইভান: "মাত্র দুই দেখা হয়েছিল তাতেই এই অবস্থা ভাইয়ের।"
ইনায়া: "কি হইছে???"
ইভান : "ভাবি তুমি তো কিছুই জানো না। সেদিন ভাইয়া বাসায় গিয়ে সোজা আম্মুর কাছে যায়। আমি ও ছিলাম পিছনে পিছনে। শুনি ভাইয়া তোমার কথা বলছে, ডিরেক্ট বিয়ের কথা বলছে। আম্মু তো পুরাই অবাক হা কইরা ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে ছিল। তোমার ছবি বের করে দেখালো, আম্মু চুপ ছিল। ভাইয়া তো কান্না শুরু করে দিছে। অনেকক্ষণ কান্না করার পর আম্মুর পা জড়িয়ে ধরে, "আম্মু আমার ওরে লাগবেই, ওরে ছাড়া হবে না আমার। তোমরাই তো বলছিলে আগে নিজের ক্যারিয়ার ঠিক করতে তারপর ওর সাথে বিয়ে দিবে। তাহলে এখন কেন এমন করছো? আম্মু প্লিজ শুধু একবার দেখা কর।"

পরে খোঁজ নিয়ে দেখে তোমার আম্মু আর আমার আম্মু অনেক আগের পরিচিত। যোগাযোগ করে আজকে আসছে। "ভাইয়া যখন কান্না করছিল আমি ওটা ভিডিও করেছি দেখবা?"
​ইনায়া কিছু বলার আগেই ইভান বলে, "তোমার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট টা দাও।" এক প্রকার জোর করে অ্যাকাউন্ট নিয়ে ভিডিও সেন্ট করলো। ইনায়া ভিডিও দেখে হাসছে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 4 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন