ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ আসক্তি

পর্ব 6

লেখক: F. Tabassum

​সকাল: ৫:০০
​ইনায়া ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়লো।  একটা পানির বোতল, ক্যাপ খুলে পানি খেতে খেতে রুম থেকে বেরিয়ে অ্যারিসের রুমের সামনে যায়। অ্যারিস নিজের রুমে বসে পুশ আপ করছে। পরনে শুধু ট্রাউজার ছিলো, উপরে কোনো সুতা ও নেই। ইনায়া পুরো হা করে তাকিয়ে আছে অ্যারিসের বডির দিকে।
অ্যারিস ইনায়াকে দেখে পুশ আপ বন্ধ করে ইনায়ার কাছে আসে। " যাক অবশেষে আমার মধ্যেও এমন কিছু আছে যা দেখে তুমি ইম্প্রেস হও।

​ইনায়া  মাথা অন্য দিকে ঘুরিয়ে বলে, " তোমরা কি কোনো  জামা কাপড় নাই? এই ভাবে খালি গায়ে ঘুরছো কেনো??  যাও জামা কাপড় পড়।

অ্যারিস: এইভাবে ও সুন্দর লাগছে তো. 
​ইনায়া কিছু না বলে নিজের রুমে চলে যায়।
সকালবেলা ব্রেকফাস্ট টেবিলে সবাই বসে খাচ্ছিলো শুধু ইনায়া বাদে। একটু পর ইনায়াও নিচে আসে তবে একবারে রেডি হয়ে। অ্যারিস খাওয়া রেখে ইনায়ার দিকে তাকায়, "কোথাও কি যাচ্ছো?"
​ইনায়া মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়। অ্যারিস: "এত সকাল সকাল কই যাচ্ছো? আমি কি আসবো?"
ইনায়া তেমন কিছু বলে না। অ্যারিস তাড়াতাড়ি খেয়ে ইনায়ার পিছু পিছু বের হয়। অ্যারিস ড্রাইভিং সিটে বসে, "কোথায় যাবে বল?"
​ইনায়া পাশের সিটে গিয়ে বসে, "যেখানে ইচ্ছা।"
​অ্যারিস: "একটা কথা জিজ্ঞেস করি?"
​ইনায়া: "হুম।"
​অ্যারিস: "আজ কি তোমার ভীষণ মন খারাপ?"

​ইনায়া অ্যারিসের দিকে তাকায় তবে তেমন কিছু বলে না। অ্যারিস গাড়ি স্টার্ট দেয়। ইনায়া বাহিরের দিকে মুখ করে চুপচাপ বসে আছে। হঠাৎ অ্যারিস গাড়ির গ্লাসটা উঠিয়ে দেয়। ইনায়া বিরক্তভরা চোখ-মুখ নিয়ে তাকায় অ্যারিসের দিকে।
​অ্যারিস চোখ সামনে রেখেই, "বাতাসে তোমার মুখ ঠান্ডা হয়ে গেছে, বেশিক্ষণ থাকলে তোমার ঠান্ডা লেগে যাবে।"
​ইনায়া কিছু বলে না তবে বাহিরের দিকে মুখ করেই চেয়ে আছে। অ্যারিস কিছুক্ষণ বাদে গাড়ি থামিয়ে নামে। ইনায়া তখন থেকেই অন্যমনস্ক হয়ে কি যেন ভেবেই চলেছে। অ্যারিস দুইটা কফি নিয়ে আসে। একটা ইনায়াকে দেয়। ইনায়াও চুপচাপ আছে।
​অ্যারিস নীরবতা ভেঙে বলে, "এমন হার্টলেস থাকতে থাকতে কোনো একদিন মনস্টার হয়ে যাবা। তোমার কাউকে ভালোবাসা উচিত।"
​ইনায়া মুখ তুলে অ্যারিসের দিকে তাকায়, "আমি চাই না কেউ আমাকে ভালোবাসুক বা আমি কাউকে ভালোবাসি। আমি জানি তোমার ফ্যামিলি আমাদের বাড়িতে আসছে আমাদের বিয়ে দেওয়ার জন্য। ২ ফ্যামিলির সবাই রাজি শুধুমাত্র আমি বাদে।"

​অ্যারিস: "প্লিজ মেরিজান রাজি হয়ে যাও।"
​ইনায়া: "আমি তো বিয়েই করতে চাই না।"
​অ্যারিস: "অন্যের ভুলের শাস্তি আমি কেন পাবো? আমি তো শুধু তোমাকে চাই। আচ্ছা পরে কথা বলবে এখন কফি খেয়ে নাও, নয়তো ঠান্ডা হয়ে যাবে।"

এরপর গাড়ি নিয়ে পদ্মা নদীর পাড়ে যায়। হালকা বাতাস, সূর্যের আলো চিকচিক করছে, নদীর জল শান্ত আর নির্মল। সবকিছু মিলে একটা শান্ত পরিবেশ। দুজন মিলে এক নির্জন জায়গায় বসে, নদীর দৃশ্য উপভোগের সাথে কিছু কথাবার্তাও বলছে। ইনায়া অ্যারিসের কাঁধে মাথা রাখে, অ্যারিস লুকিয়ে কিছু ছবি তোলে। কয়েকটা ছবি আফরিন সুলতানাকে পাঠায়, তখনই আফরিন সুলতানা মেসেজ দেয়- "আজ ৩০ অক্টোবর, আজ ইনায়ার জন্মদিন। তবে শেষ তিন বছর নিজের জন্মদিনের দিন কোথাও একটা চলে যায় । আজ ইনায়াকে একা রেখে কোথাও যেও না।"
​ইনায়া হঠাৎ বলতে শুরু করে, "জানো আমার না স্বপ্ন ছিলো, অনেক অনেক অনেক ইচ্ছে ছিলো একটা লক্ষ্মী বউ হওয়ার। আমার ছোট একটা সংসার হবে যেখানে আমার স্বামী থাকবে, সন্তান থাকবে। প্রতিদিন সকালে তাদের রেডি করে দিবো নিজ হাতে আর যেদিন অফ ডে থাকবে সেদিন সবাই মিলে ঘুরতে যাবো। আমার সংসার করার অনেক ইচ্ছে ছিলো।
​অ্যারিস:- "ছিলো? এখন কেন নাই?"
​ইনায়া: "একটা এক্সিডেন্ট আমার জীবন পুরো উল্টা-পাল্টা করে দিলো।"
​অ্যারিস: "ওইটা কোনো এক্সিডেন্ট ছিলো না ইনায়া, ওরা তোমাকে ইচ্ছে করে খুন করতে চাইছিলো।"
​ইনায়া আর কিছু বলে না, চোখ সরিয়ে নদীর দিকে তাকায়। হঠাৎ অ্যারিস ইনায়ার হাত ধরে বলে, "ইনায়া প্লিজ আমাকে বিয়ে করো।"
​ইনায়া: "এ পর্যন্ত কয়বার প্রোপোজ করছো?"
​অ্যারিস: "৪/৫ বার"
​ইনায়া: "আর মেসেজে ?
​অ্যারিস: "তা নিয়ে হয়তো ৫০ বারের উপরে হবে। তবে আমি তোমাকে সত্যি অনেক ভালোবাসি। তোমার জন্য সবকিছু করতে পারবো।"
​ইনায়া: "৫/৬ জনকে খুন করতে পারবে?"
​অ্যারিস: "মাত্র ৫/৬ জন কে? তুমি চাইলে তাদের পরিবারসহ তাদের গুম করতে পারি। বল কবে করতে হবে।"
​ইনায়া: "আমি কিন্তু তোমাকে ব্যবহার করবো।"
​অ্যারিস: "আমি সবকিছু জানি, ব্যবহার করার জন্য হলেও আমাকে বিয়ে করো। আমাকে চুজ করো বেবি...।"
​ইনায়া অন্যদিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে। অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরি করে বাসার দিকে রওনা দেয়। রাস্তার মাঝখানে কিছুটা একটা দেখে গাড়ি থামাতে বলে ইনায়া। অ্যারিসের হাত ধরে ভেতরে নিয়ে যায়। অনেকক্ষণ পর বের হয়ে আসে। ইনায়া গিয়ে গাড়িতে উঠে। বাইরে তাকিয়ে দেখে অ্যারিস দাঁড়িয়ে আছে। মাহি এসে ড্রাইভিং সিটে বসে, অ্যারিস গাড়িতে পিছনের সিটে উঠে বসে, তার হাত পা কাঁপছে। মাহি গাড়ি স্টার্ট দেয়।
.
​মাহি অবশেষে ইনায়াদের বাসার সামনে আসে, গাড়ি পার্ক করে এসে মাহি অ্যারিসকে ধরে বাসায় নিয়ে আসে। ইনায়া সোজা নিজের রুমে চলে যায়। মাহি অ্যারিসকে এনে সোফাতে বসায়। শামীমা বেগম দৌড়ে অ্যারিসের কাছে আসে, কি হয়েছে ওর?
​মাহি: আসলে ভাবি বিয়েতে রাজি হয়েছে তার জন্য খুশিতে তার হাত পা কাঁপছে।
​এই কথা শুনে শামীমা বেগম অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে। সাথে মাহিও হাসতে ছিল। এমন সময় ইভানও বাসায় ঢোকে। এমন হাসি শুনে ইভান মাহির দিকে তাকায়, "আরে ভাই তুমি এখানে?"
​মাহি: গেছিলাম শপিং-এ করতে, তখন ভাই আমাকে দেখে ডাক দিলো গেলাম তার কাছে। দেখলাম ভাবি ২টা রিং কিনলো, ভাই তো তখন আমারে জড়ায়ে ধরে কান্নাই করে দিছে। অনেক কষ্টে গাড়ি পর্যন্ত আনছি, গাড়িতে উঠতেই ভাই কাঁপা কাঁপি শুরু হয়ে গেছে।
​এত শক্ত পোক্ত মানুষের এই সামান্য কারণে কাঁপা কাঁপির কথা শুনে ইভান হাসতে হাসতে মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়ার মতো অবস্থা। অ্যারিস রাগী দৃষ্টিতে মাহি আর ইভানের দিকে তাকায়, মাহি আর ইভান মুখ চেপে হাসছে।
​কিছুক্ষণ পর অ্যারিস পকেট থেকে ফোন বের করে ভাইব্রেশন এর শব্দ শুনে, দেখে এটা তো ইনায়ার ফোন। ইনায়াকে ফোন দেওয়ার জন্য উপরে যেই পা বাড়াতে যাবে তখনই একটা মেসেজ আসে ইষানের, "কতদিন হলো ইউনিভার্সিটি আসোনা, আমি তোমাকে অনেক বেশি মিস করছি।"
​এটা দেখার সাথে সাথে অ্যারিসের মাথা গরম হয়ে যায়, দুই হাত জোরে কুচলাতে থাকে। ইনায়ার ফোন হাতে নিয়ে সোজা ইনায়ার রুমের দিকে রওনা দেয়। ইনায়ার রুমের দরজা বন্ধ ছিলো। অনেকবার ধাক্কা দেওয়ার পর ইনায়া এসে দরজা খোলে, "কি হয়েছে এত ধাক্কা কেন দিচ্ছো?"
​ইনায়া অ্যারিসের চোখের দিকে তাকায়, "কান্না কেন করছো?"
​হঠাৎ অ্যারিস ইনায়াকে জড়িয়ে ধরে। ইনায়া থতমত খেয়ে যায়। "ইনায়া আমাকে ঠকাইও না প্লিজ কোনোদিনও।"
​ইনায়া ভ্রু কুচকে অ্যারিসের দিকে তাকায়। অ্যারিস ফোন বের করে ইষানের মেসেজ দেখায়। ইনায়া ফোনটা হাতে নেয়, মেসেজ দেখে ইনায়া হাসে। এটা দেখে অ্যারিস নিজের রাগ আর কন্ট্রোল করতে পারে না, ফোনটা নিয়ে দূরে ফেলে দেয়। যদিও ফোনের তেমন কিছু হয় না তবে অ্যারিসের রাগে পুরো শরীর গরম হয়ে যায়। "ঐ ছেলের মেসেজ দেখে হাসছিলে কেন? হাসা কেন লাগবে? আমায় দেখে হাসতে পারো না?"
​ইনায়া: "আমার ফোন কি করছে? ওটা ফেলে দিলে কেন?"
​অ্যারিস রাগী দৃষ্টিতে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে আছে। ইনায়া তার হাত দুটি অ্যারিসের গালে রাখলো। ইনায়ার স্পর্শে সাথে সাথেই অ্যারিসের রাগ কর্পূরের মতো মিলিয়ে গেল। মুহূর্তেই তার চোখমুখে এক শান্তভাব ফুটে উঠলো।
​ইনায়া ধীর কণ্ঠে বলে, "হাজবেন্ড, ওইটা আমার জাস্ট ক্লাসমেট, আর কিছু না, ও আমাকে পছন্দ করে, আমি তো করি না, এটা নিয়ে এত রাগ করো না প্লিজ।"
​ইনায়ার ন্যাকামি ভরা কথা শুনে অ্যারিসের রাগ গায়েব তার ওপর আবার হাজবেন্ড বলেছে।
​দরজার বাহিরে উঁকি দিয়ে শামীমা বেগম, মাহি, ইভান সবটাই দেখলো।
ইভান কিছুটা অবাক হয়ে শামীমা বেগমকে জিজ্ঞেস করে, "তোমার ছেলে আবার কবে থেকে এত তাড়াতাড়ি রাগ কন্ট্রোল করা শিখল? আগে তো ওকে থামাতে আমাদের সবার কত কষ্ট হয়ে যেত, কত কিছু ভাঙচুর করত অথচ আজ ভাবি একটু ন্যাকামি করে কয়টা কথা বললো তাতেই শান্ত।"
শামীমা বেগম এর চোখেমুখেও একই অবাক দৃষ্টি। ইভানের কথার পিঠেই মাহি বলে উঠলো, "কয়েকদিন আগেও কোনো একটা বিষয় নিয়ে রেগে ছিলো, আর তাতে অফিসের প্রায় সবকিছুই তছনছ করে ফেলেছিলো। আজকের পরিবর্তন দেখে তো আমি নিজেই অবাক।"
​ইভান: "ভাবি তো হাজবেন্ড বলে ডেকেছে তাহলে কি আমরাও বিয়ের কথা আগাবো?"
​শামীমা বেগম: "ওর মা আগে আসুক কথা বলে দেখি কি বলে।"
​সবাই যে যার কাজে চলে গেল। মাহি অ্যারিসের সহপাঠী হওয়ার পাশাপাশি পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে অ্যারিসের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন দেখে। তাদের সম্পর্ক গভীর বন্ধুত্বের।

​সন্ধ্যা: ৬:৩০
​সোফাতে আফরিন সুলতানা, আনিসুর রহমান বসা, তাদের সামনে শামীমা বেগম এবং তার হাজবেন্ড জিয়ান ফেং বসা। পাশের একটা সোফাতে ইভানের পাশে ইরা বসা।
​একদিকে বড়দের নিয়ে টানটান উত্তেজনা চললেও ড্রয়িং রুমের এক কোনে যেন ভিন্ন এক জগত। ইরা ভীষণ চটপটে আর চঞ্চল। সে তার মা আফরিন সুলতানার ফোনটা একরকম দখল করেই পাশে বসা ইভানের একদম গা ঘেঁষে বসেছে।
​ইরা ফোনের গ্যালারি স্ক্রল করতে করতে উচ্ছ্বাসের সাথে বলল, "ইভান ভাইয়া, এই দেখো! এটা আমাদের স্কুলের গত মাসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ছবি। এই যে দেখছো মঞ্চে আমি ট্রফি হাতে দাঁড়িয়ে? আমি কিন্তু আবৃত্তিতে আর সুন্দর হাতের লেখায় ফার্স্ট হয়েছি।"
​ইভান একটু ঝুঁকে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকালো। ছবিতে দেখা যাচ্ছে ছোট ইরা লাল রঙের একটা ফ্রক পরে হাতে ট্রফি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আর পাশে আফরিন সুলতানা দাঁড়ানো।
ইভান হেসে বললো, "বাহ্! তোমাকে তো একদম পুতুলের মতো লাগছে। কিন্তু ইরা, ট্রফিটা কি সত্যি তুমি পেয়েছো নাকি অন্য কারোটা কেড়ে নিয়ে ছবি তুলেছো?"
​ইরা মুখটা ফুলিয়ে কৃত্রিম রাগ দেখিয়ে বলল, "একদম বাজে কথা বলবে না। মা-কে জিজ্ঞেস করো আমি কতটা পরিশ্রম করেছি। আমার বোনও সবটা জানে, আপু আমাকে সবকিছু শিখিয়েছে।"
​ইভান আলতো করে ইরার মাথায় হাত রেখে বলল, "আচ্ছা বাবা রেগে যেও না, আমি তো মজা করছিলাম।"
​আফরিন সুলতানা দূর থেকে ওদের এই খুনসুটি দেখে মৃদু হাসলেন। বড়দের ঝামেলার মাঝে এই ছোটদের নির্মল আনন্দটুকু যেন পুরো পরিবেশটাকে একটু হালকা করে দিল।
​হঠাৎ দরজা খোলার শব্দ হলো, ইনায়া আর অ্যারিস বাসায় ঢুকলো। ইনায়া গিয়েছিল সায়মাকে পড়াতে, অ্যারিস গিয়েছিল ইনায়ার সাথে। সেদিনের ঘটনা বাসার কেউ জানে না, আর ইনায়াকে একা ছাড়তে ভয় পায় অ্যারিস তাই সাথে গিয়েছিল।
​সবাইকে একসাথে বসে থাকতে দেখে ইনায়া অ্যারিসের দিকে তাকায়।
​অ্যারিস: "আমি সত্যি কিছু জানি না।"
​শামীমা বেগম ডেকে নিয়ে ইনায়াকে পাশে বসায়। ধীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে, "মা তুমি কি এই বিয়েতে রাজি?"
​সবাইকে অবাক করে দিয়ে বলে উঠে, "আমরা অলরেডি বিয়ে করে ফেলেছি। আমি তো বলছিলাম কিছুদিন পর করি কিন্তু অ্যারিস মানতে চায়নি। তাই বাসায় আসার সময়ই বিয়ে করে একবারে রিং কিনেছিলাম।"

​সবাই অবাক হয়ে অ্যারিসের দিকে তাকায়। জিয়ান (অ্যারিসের বাবা) যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না অ্যারিস-ই তার ছেলে।
​জিয়ান অবাক হয়ে বলে, "আচ্ছা তোর মধ্যে কি অন্য কারো আত্মা ঢুকছে? নাকি তুই অন্য কেউ?"
​অ্যারিস একটু বিরক্ত হয়ে বলে, "বাবা, এমনে বোলো না। এখন তো ইনায়া আমার বউ। আর বিয়ে করানো লাগবে না।"
​আফরিন সুলতানা: "তোমাদের বিয়েতে তো আমাদের কোনো অমত ছিলো না, তাহলে এভাবে কেন বিয়ে করলে?"
অ্যারিস: "যত তাড়াতাড়ি বিয়ে করবো তত তাড়াতাড়ি বউ আমার।"
হঠাৎ ইভান বলে ওঠে, "ওহ্ বুঝলাম আজ এই জন্যই সকাল বেলা ওই ভাবে কাঁপা কাঁপি করেছিলে?"
​তা শুনে সবাই হেসে উঠলো। অ্যারিস চোখ রাঙিয়ে ইভানের দিকে তাকায়, ইভান চুপ হয়ে যায়।
​আনিসুর রহমান: "আমার মেয়েকে আমি এভাবে বিয়ে দিতে চাই না।"
ইনায়া: "আমি এত তাড়াতাড়ি বিয়েই করতে চাই নি, অ্যারিসের জোর করায় করেছি; নয়তো আরো তিন বছর পর করতাম।"
​আনিসুর রহমান: "তাহলে এনগেজমেন্ট করে রাখো যখন ইচ্ছে হবে বিয়ে হবে।"
এই কথাতে সবাই রাজি হয়।
​আফরিন সুলতানা: "আজই কি এনগেজমেন্ট হবে?"
ইনায়া চিৎকার করে ওঠে, "না।" - সবাই ইনায়ার দিকে তাকায়।
"না মানে; শীত কালে এনগেজমেন্ট করবো। এই গরমে এত ভারী জামা পরতে পারবো না।"
​ইনায়ার কথায় সবাই শব্দ করে হেসে উঠলো। ইনায়া উঠে নিজের রুমে চলে গেল। অ্যারিসও যেতে ধরলো, তবে জিয়ান ডেকে পাশে বসায়। অ্যারিস আড়চোখে বলে, "বাবা এভাবে ডেকে আনলে কেন? বউটা একা রুমে ভয় পাবে তো।"
​জিয়ান ভ্রু কুঁচকে অ্যারিসের দিকে তাকায়, "ও বাচ্চা নয়, যথেষ্ট সাহস ওর।"
অ্যারিস: "তা হয়তো বিয়ের আগে এখন তার একমাত্র জামাই আছে। ও ভয় না পেলেও আমার ভয় লাগতাছে ওরে নিয়া।"
​জিয়ান: "বিয়ে করছো একদিনও হয় নাই, তাতেই এই অবস্থা। বাকি দিন তো পড়েই আছে, তুই সত্যিই কি আমার ছেলে?"

​সবাই মিলে অ্যারিস আর ইনায়ার এনগেজমেন্টের দিন ঠিক করতে ব্যস্ত। তারিখ ঠিক করার পর শামীমা বেগম ঠিক করলেন জায়গা তাদের গ্রামের বাড়িতে।
​রাতে ইনায়া আগে খেয়ে নিজের রুমে চলে গেছে। এরপর সবাই খেতে আসে, অ্যারিস ইনায়াকে টেবিলে না দেখে খুব মিস করছে। খাওয়া শেষ করে সোজা আফরিন সুলতানার রুমে গেল অ্যারিস। অ্যারিসের এমন হঠাৎ আসাতে আফরিন সুলতানা কিছুটা অবাক হয়, "কিছু কি বলতে চাও?"
​অ্যারিস: "হুম, আন্টি মানে মা। আমাদের তো বিয়ে হয়ে গেছে আমরা কি একসাথে থাকতে পারি?"
​আফরিন সুলতানা মুচকি হেসে বলে, "আমাদের তো কোনো সমস্যা নেই তবে ইনায়া কে তো আমরা চিনি, ও তোমাকে ওর ঘরে ঢুকতেই দিবে না।"
​অ্যারিস: "আমি দরকার হলে দরজা ভেঙে ঢুকবো।"
​আনিসুর রহমান মুচকি হেসে বলে, "দেখো যদি পারো থাকো।"
​অ্যারিস আর কিছু না বলে রুম ছাড়ে। আনিসুর রহমান নিজের বিজনেসের ফাইল দেখতে দেখতে বলে, "বেচারা, বিয়ের দিনই কি পরিমাণ মার টাই খাবে।"
​আফরিন সুলতানা মুখ চেপে হাসে। অ্যারিস ইনায়ার রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ে। ইনায়া ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখে অ্যারিস খাটে শুয়ে আছে।
​ইনায়া মাথা মুছতে মুছতে বলে, "এখানে কি চাও?"
​অ্যারিস: "আমাদের তো বিয়ে হয়ে গেছে তাই তোমার সাথে থাকতে এসেছি।"
​ইনায়া আর কিছু বলে না, অ্যারিসের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে দরজা বন্ধ করে দেয়।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 6 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন