ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ আসক্তি

পর্ব 22

লেখক: F. Tabassum

অবশেষে এলো সেই দিন............

শীতের আমেজ মাখা রাত, চারদিকে উৎসবের রোশনাই অ্যারিস আর ইনায়ার বাড়ি দুটির মাঝখানের দেয়াল যেন আজ অদৃশ্য হয়ে গেছে। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিল, দুই বাড়ি মিলিয়েই হবে এই বিয়ের আয়োজন। মেয়ে পক্ষ থাকবে ইনায়াদের বাসায় আর ছেলে পক্ষ অ্যারিসদের বাসায় থাকার কথা, কিন্তু অ্যারিসের সোজাসাপ্টা কথা— সে তার মেয়েকে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারবে না, আর আইরার জন্য তার মাকে লাগবেই, তাই ইনায়া আমার সাথেই থাকবে।

অ্যারিসের এই লজিক শুনে আদিয়ানও নিজের সুযোগ হাত ছাড়া করল না। সে মুচকি হেসে বলে, "আমরাও তো বিয়ে করেছি, তাই সুবাকে ছাড়া আমারও থাকা অসম্ভব। আমরাও এক সাথে থাকব।"

ইভান মুখটা বাংলা পাঁচের মতো করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল, "ইস! আমারও উচিত ছিল আগে ভাগে লুকিয়ে বিয়েটা সেরে ফেলা, তাহলে আজ সায়মাকেও আমার সাথে রাখতে পারতাম।"
ইভানের এমন বেহায়া কথায় সায়মা লজ্জায় লাল হয়ে গেল। সে ফিসফিস করে ধমক দিয়ে বলল, "বেয়াদব একটা! কোথায় কী বলতে হয় তারও কোনো জ্ঞান নেই।"
________

মেহেদী সন্ধ্যা:
সন্ধ্যার পর পরই শুরু হলো মেহেদী সন্ধ্যা। তিন কনে প্রস্তুত। ফটোগ্রাফারদের ব্যস্ততা তুঙ্গে— একজন নয় পুরো তিন জন। ছবি, ভিডিও করতে ব্যস্ত। এর মধ্যে মারিয়াও এসে পৌঁছাল। ইউনিভার্সিটির তেমন কাউকেই জানায়নি ইনায়া, শুধুমাত্র মারিয়াকে ছাড়া। মারিয়া আগের মতো ইনায়াকে অপছন্দ করে না, তার বেশ ভালোই লাগে তাকে। যার জন্য অপছন্দ করতো সে তো তাকে পছন্দ করে না। তাহলে শুধু শুধু শত্রুতা কেনো করবে??

মারিয়া আসায় আনন্দের মাত্রা যেন আরও বেড়ে গেল।
পুরো বাড়িটি রূপকথার প্রাসাদের মতো সাজানো হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে কড়া পুলিশ প্রটেকশন। বিশেষ নির্দেশ দেওয়া আছে— ইষান শাহ যেন ধারে কাছেও ঘেঁষতে না পারে। পুলিশের সাথে মাহি আর রোহানও পাহাড়া দিচ্ছিল। তাদের সাথে ছিলো অফিসার রাকিব, বোনের বিয়েতে এসেও তাকে এখন ডিউটি করতে হচ্ছে। একটুও খুশি না সে। যদি ও সুবা বলছিলো ভিতরে যেতে।  তার কাছে ডিউটি বড়।

তবে এখন ইষান বাবার সাথে রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত; সামনের বছর নির্বাচন, তাই গদি বাঁচানোর লড়াইয়ে সে এখন মত্ত। তাদের অপরপক্ষ এবার অনেক বেশি শক্তিশালী।

মেহেদী দেওয়া শেষ করে মেয়েরা গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিল। হাসাহাসি আর খুনসুটিতে সময় কখন পার হয়ে রাত বারোটা বেজেছে খেয়াল করেনি। অ্যারিস রুমে বসে অপেক্ষা করছিল। কিন্তু ইনায়ার আসার কোনো লক্ষণ নেই দেখে সে বিরক্ত হয়ে ইনায়াদের বাসায় গেল। কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই অ্যারিস সোজা গিয়ে ইনায়াকে পাঁজাকোলা করে কাঁধে তুলে নিল। ইনায়া অপ্রস্তুত হয়ে বলল, "আরে, কী করছ? নামাও আমাকে।"
অ্যারিস ধমক দিয়ে বলে, "চুপ, একদম চুপ।" বলেই খটখট করে নিজের বাসার দিকে হাঁটা দিল।
আদিয়ানও পিছিয়ে থাকল না। সে সুবাকে ডাক দিতেই সুবা লাজুক হেসে তার পিছু নিল আর ভেঙে গেল মুহূর্তের। মারিয়া আর সায়মাও একা হয়ে যাওয়ায় যার যার রুমের দিকে রওনা হলো।

সবাই চলে যাওয়ার পর ড্রইংরুমটা হঠাৎ নিস্তব্ধ হয়ে গেল। দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে ইভান এই পুরো দৃশ্যটা দেখছিল। অ্যারিস আর আদিয়ানের কাণ্ড দেখে সে নিজের কপালে হাত দিয়ে বিড়বিড় করে বলতে লাগল—
"হায়রে কপাল! আজ যদি বিয়েটা হয়ে যেত, তবে আমিও এভাবে বউকে কাঁধে তুলে নিয়ে যেতে পারতাম। কবুল বলিনি বলে এখন একা একা বসে মশার কামড় খেতে হবে।"

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 22 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন