ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ আসক্তি

পর্ব 32

লেখক: F. Tabassum

সামনে নির্বাচন। ইষান এখন তার বাবা আশরাফ শাহর সাথে পুরোদমে রাজনীতি সামলাচ্ছে, কিন্তু আশরাফ শাহর কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ; কারণ তাদের বিপক্ষ দল অত্যন্ত শক্তিশালী। পরাজয় নিশ্চিত জেনেও তারা শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিকেলবেলা। ইনায়া আর আফরিন সুলতানা ড্রইংরুমে বসে বেশ সিরিয়াস মেজাজে নিচু স্বরে আলাপ করছিলেন, ঠিক তখনই আদিয়ান ওপর থেকে নিচে নামলো। ওদের রসায়ন দেখে সে ফোড়ন কাটল, "কী ব্যাপার? তোমরা দুজন কিসের এত প্ল্যান করছো?"
ইনায়া দুষ্টুমি করে জবাব দিল, "সেকেন্ড বিয়ের।"
বলার সাথে সাথেই যেন ঘরের তাপমাত্রা হিমাঙ্কে নেমে গেল। দরজায় তখন অ্যারিস দাঁড়িয়ে। ইনায়াকে নিতে এসেই তার কানে কথাটি তীরের মতো বিঁধেছে। অ্যারিস কোনো কথা বলল না, সোজা ইনায়ার কাছে গিয়ে তাকে কোনো সুযোগ না দিয়েই কাঁধে তুলে নিল।
"ছাড়ো আমাকে! আমি যাব না!" ইনায়া চিৎকার করে হাত-পা ছুড়তে লাগল। সে দরজার ফ্রেমটা শক্ত করে ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল, কিন্তু অ্যারিসের শক্তির কাছে তা নস্যি, এক টানে হাত সরিয়ে নিয়ে অ্যারিস তাকে নিয়ে সোজা নিজের বাসার দিকে রওনা দিল।
তাদের যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে আদিয়ান হো হো করে হেসে উঠল, "মাইয়াটার কপালে আজকে অনেক দুঃখ আছে!" পাশে দাঁড়িয়ে সুবাও মুচকি মুচকি হাসছে।

অ্যারিস ইনায়াকে কাঁধে করে এনে সোজা বিছানায় ছুড়ে দিল। দরজা বন্ধ করে দিলো। তার চোখেমুখে তখন রাগের আড়ালে এক অদ্ভুত অধিকারবোধ। ইনায়ার খুব কাছে ঝুঁকে এসে সে গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করল, "তোমার দ্বিতীয় বিয়ের এত শখ? কেন, আমি কি যথেষ্ট নই? আমার সমস্যাটা ঠিক কোথায়?"
ইনায়া উল্টো ঠোঁটের কোণে দুষ্টুমিভরা হাসি ঝুলিয়ে জবাব দিল, "সমস্যা তোমার পুরো বডিতে!"

কথাটা শোনামাত্রই অ্যারিসের চাহনি বদলে গেল। সে ফিসফিস করে বলল, "ওহ তাই নাকি? তাহলে তুমিই না হয় আমার সব সমস্যা আজ ঠিক করে দাও।" বলেই সে ইনায়ার ঠোঁট ডুবিয়ে দিল এক গভীর চুম্বনে। বাইরের পৃথিবীর সব কোলাহল যেন সেই মুহূর্তেই থেমে গেল। এরপর দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ঘরের ভেতর শুধু বয়ে চলল এক নিবিড় আবেশ।

তখন ঘড়ির কাঁটায় রাত নয়। করিডোরে বের হতেই অ্যারিসের মুখোমুখি হলো ইভান। সে ভ্রু কুঁচকে বড় ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "ভাইয়া, সারাটা সন্ধ্যা তুমি কোথায় ছিলে? পাত্তাই নেই তোমার।"
অ্যারিস বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে বেশ সাবলীল ভঙ্গিতে জবাব দিল, "সেকেন্ড মেম্বার আসার প্রসেসিং চলছিল।"
ইভান হতভম্ব হয়ে গেল। নিজের কানকে যেন বিশ্বাস করতে পারছে না সে। বিষম খেয়ে বলল, "ভাইয়া? তোমার কি একটুও লজ্জা-শরম নেই?"
"না, একদম নেই।" অ্যারিস নির্লিপ্তভাবে হাসল। তারপর যোগ করল, "ইনায়ার রাতের খাবারটা সায়মাকে দিয়ে ওপরে পাঠিয়ে দিস।"
"আচ্ছা দিচ্ছি।" ইভান মাথা চুলকাতে চুলকাতে নিচে নেমে গেল।

কিছুক্ষণ পর সায়মা ট্রে হাতে দরজায় টোকা দিল, "ভাবী, আসব?"
—"আসো", ইনায়ার কণ্ঠস্বর কিছুটা ক্লান্ত।
সায়মা খাবারটা টেবিলের ওপর রাখতে রাখতে লক্ষ্য করল ইনায়া কোমরে হাত দিয়ে বসে আছে। সে কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল, "ভাবী, সব ঠিক আছে তো? কোমরে হাত দিয়ে আছ কেন? চোট লেগেছে কোথাও?"
ইনায়া মুহূর্তের জন্য থতমত খেয়ে গেল। এই প্রশ্নের উত্তর সায়মাকে কীভাবে বোঝাবে সে? লজ্জায় কান ঝাঁ ঝাঁ করতে লাগল তার। আমতা আমতা করে কোনোমতে সামলে নিয়ে বলল, "না, তেমন কিছু না। এমনিতেই একটু ব্যথা করছে।"

সায়মা চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই অ্যারিস রুমে ঢুকল।
— "বউ!"
— "কাছে আসবি কি এক লাথি খাবি।"
কে শোনে কার কথা এসেই ইনায়া কে জড়িয়ে ধরে রাখে।
ইনায়া ভীষণ বিরক্ত হয় তবে কিছু বলে না। আর বললেও অ্যারিস শোনার মতো লোকটা না। সে যা বুঝবে তাই করবে!
_____________________

নির্বাচনের আমেজে ঢাকার রাজপথ তখন উত্তাল। আশরাফ শাহ আর ইষান দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইছেন। আজ তাদের গন্তব্য অ্যারিসের বাড়ি। ড্রইংরুমে তখন পরিবারের প্রায় সবাই উপস্থিত। রাজনীতির খাতিরে শত্রুতা ভুলে আশরাফ শাহ বেশ অমায়িক ভঙ্গিতে বসলেন। শামীমা বেগম আর সায়মা সৌজন্যবশত নাস্তা সাজিয়ে দিলেন। ইষান নাস্তায় মন দিলেও তার চোখ জোড়া তৃষ্ণার্ত চাতকের মতো ইনায়াকে খুঁজছিল। হঠাৎ তার দৃষ্টি চলে গেল দোতলার করিডোরের দিকে। সেখানে রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে অ্যারিস। ঠিক সেই মুহূর্তে ইনায়া তার পাশে এসে দাঁড়াতেই অ্যারিস তাকে নিজের দিকে টেনে নিল। ইষানের চোখের সামনেই অ্যারিস এক হাত ইনায়ার মাথার পিছনে আর অন্য হাত তার কোমরে জড়িয়ে ধরে গভীর এক চুম্বনে ডুবে গেল। অ্যারিস  ইনায়ার মাথাটা এমনভাবে ঘুরিয়ে দিল যাতে নিচ থেকে ইষান দৃশ্যটা স্পষ্টভাবে দেখতে পায়। চুম্বনের আড়ালে অ্যারিসের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি তখন ইষানের ওপর নিবন্ধিত, যেন সে ইষানের বুকের ভেতরকার ছটফটানি আর জ্বালা উপভোগ করছে। ইষানকে ছটফট করতে দেখে নিচে বসা ইভান আর সায়মা ইভানের স্থির দৃষ্টি অনুসরণ করে ওপরে তাকাতেই দৃশ্যটা দেখে হতমত খেয়ে গেল। তারা একবার ওপরে তাকায়, আবার ইষানের লাল হয়ে যাওয়া মুখের দিকে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দুজনেই মুখ চেপে হাসছে। ইষানের ইচ্ছে করছিল তক্ষুণি গিয়ে অ্যারিসকে শেষ করে দিতে, কিন্তু বাবার সম্মানের খাতিরে দাঁত কিড়মিড় করে নিজেকে সামলে নিল সে।

চুম্বন ছেড়ে দিয়ে ইনায়া যখন নিচে তাকাল, অ্যারিসের এই হঠাৎ রোমান্টিক হওয়ার কারণটা তার বুঝতে বাকি রইল না। তার হাজব্যান্ড যে কি পরিমানের জেলাস তার থেকে সে কথা আর কে ভালো জানবে ?
সে মুচকি হাসল। তবে কিছু বললো । আইরার কান্না শুনে ইনায়া আইরা কে এনে অ্যারিসের কোলে দেয়।
অ্যারিস ইষান কে দেখিয়ে বলে, "বাবা ওই দেখো তোমার দূর সম্পর্কের মামা"
ইনায়া মুখ চেপে হাসছে। আইরা কেমন যেনো হেসে উঠলো।
ইষান আড়চোখে তাদের তিনজন কে দেখছে !

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 32 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন