ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ আসক্তি

পর্ব 58

লেখক: F. Tabassum

রাত ১২:০০ টা....
শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে, পরিত্যক্ত এক কোল্ড স্টোরেজের ভেতর ভুতুড়ে অন্ধকার। মাঝখানে দুটো কাঠের চেয়ারে হাত-পা শক্ত করে বাঁধা দুজন মানুষ। তাদের মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা, মুখে টেপ মারা। ছাদ থেকে ঝুলে থাকা একটা মাত্র বাল্ব দুলছে, আর তাতে তাদের ছায়াগুলো দেওয়ালে দানবের মতো নাচছে। অন্ধকারের বুক চিরে তিনজন সামনে এসে দাঁড়াল – ইনায়া, অ্যারিস আর আদিয়ান। রোহান আগে থেকেই ছিলো এইখানে।
ইনায়া রোহানকে ইশারা করতেই, রোহান এগিয়ে গিয়ে লোক দুটোর মাথার ঢাকা কাপড় সরিয়ে দিল। আলো পড়তেই দেখা গেল ইষান আর আজমল শাহকে। তাদের দুচোখে তখন মৃত্যুভয়। ইষান চোখ মেলতেই দেখল তার সামনে সাক্ষাৎ যমদূতের মতো দাঁড়িয়ে আছে অ্যারিস।
অ্যারিসের চোখের মণি এখন রক্তবর্ণ, রাগে চোখের ভেতরের রগগুলো ভেসে উঠেছে। সে যখন ইষানের দিকে তাকাল, ইষানের মনে হলো তার হৃদপিণ্ড এখনই বন্ধ হয়ে যাবে। একটু দূরেই রোহান আগুন জ্বালিয়ে কিছু একটা করছিল।
অ্যারিস ইষানের কলার চেপে ধরে পাথরের মতো ভারী গলায় বলল, "তোর সাহস হয় কী করে আমার বউকে ড্রাগ দিস? তাও এতো বেশি পরিমাণে? তুই কি ভেবেছিলি অ্যারিস ফেং বেঁচে থাকতে তুই পার পেয়ে যাবি?"
ইনায়া শান্তভাবে রোহানকে ইশারা করতেই সে ইষানের মুখের টেপটা ছিঁড়ে নিল। যন্ত্রণায় ককিয়ে উঠল ইষান। সে কাঁপা কাঁপা গলায় বিড়বিড় করল, "আ... আমি... আমি ইনায়াকে ভালোবাসি।"
'ভালোবাসা' শব্দটা ইষানের মুখে শোনামাত্র অ্যারিসের সহ্যসীমা অতিক্রম করল। সে নিজের ডান হাতটা শক্ত করে মুঠো করে সপাটে এক ঘুষি বসিয়ে দিল ইষানের নাকের ওপর। মটমট করে হাড় ভাঙার শব্দের সাথে সাথেই ইষানের নাক-মুখ দিয়ে গলগল করে রক্ত পড়তে শুরু করল।
এমন ভয়ংকর মারমুখী অ্যারিসকে দেখে ইনায়া একটু পাশে সরে এসে ফিসফিস করে বলল, 'কী ব্যাপার, আজ কি হরলিক্স বেশি খেয়ে ফেলেছে? এত শক্তি আসলো কোত্থেকে?'
তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে ইনায়ার এমন অদ্ভুত রসিকতা শুনে আদিয়ান হোহো করে হেসে দিচ্ছিল, কিন্তু অ্যারিসের রক্তচক্ষু দেখে কোনোমতে হাসি চেপে রাখল। মনে মনে বলল, "এতো সিরিয়াস মোমেন্টে এই সব কথা কে বলে?"
অ্যারিস আজমল শাহ্ র দিকে তাকিয়ে সে এক পৈশাচিক হাসি দিয়ে বলল, "শুরুটা ছোট থেকেই হোক, কী বলো দাদুজান? – বলেরই সে আগুনের কাছে গিয়ে রক্তবর্ণ লোহার রডটা হাতে তুলে নিল। আজমল শাহর শরীরটা শিউরে উঠল। অ্যারিসের হাতের জ্বলন্ত লাল রড আর পৈশাচিক হাসি দেখে তিনি বুঝতে পারছেন, তার সামনে এখন নরক নেমে এসেছে। মুখে টেপের কারণে কথা বলতে পারছেন না, রুদ্ধ গলার ভেতর থেকে অস্ফুট আর্তনাদ আর গোঙানি ভেসে আসছে।
এদিকে ইষানের নাক দিয়ে গড়িয়ে পড়া রক্ত তার ঠোঁটের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে। সে মরণকামড় দেওয়ার মতো করে দাঁত বের করে হাসছে– সে এক বীভৎস দৃশ্য। শরীরের যন্ত্রণার চেয়েও যেন তার মনে ইনায়াকে না পাওয়ার কল্পনা প্রবল। ইষান টলমল চোখে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে আর্তনাদ করে উঠল, "তুমি... তুমি আমাকে কেন ভালোবাসলে না ইনায়া? কী অভাব ছিল আমার?"
অ্যারিস দাঁতে দাঁত চেপে বলে, "একটা মেয়ের বিয়ের পর সেই মেয়ের দিকে তাকানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, তুই কেন এই নিষিদ্ধ আসক্তি বাড়িয়েছিস?

ইনায়ার চোখে তখন ঘৃণা। সে শান্ত গলায় বলতে শুরু করল, "ভালোবাসা? ভালোবাসার মানে বোঝো? মনে পড়ে ২০২০ সালের ৩০ শে অক্টোবরের সেই রাতটা? তুই সেদিন প্রচণ্ড মাতাল হয়ে গাড়ি নিয়ে একটা মেয়েকে ধাক্কা দিয়েছিলি। মেয়েটা রক্তাক্ত অবস্থায় বাঁচার চেষ্টা করছিল, কিন্তু তুই নিজের দোষ ঢাকতে তার গলা টিপে ধরলি। চাইলে হাসপাতালে নিতে পারতি, কিন্তু তাকে শেষ করে দিতে চেয়েছিলি।"
ইনায়া একটু থামল, তারপর নিষ্ঠুর গলায় বলল, ওই মেয়েটা আমিই ছিলাম। সেদিন মোহনার ভাড়া করা গুন্ডাদের থেকে বাঁচতে পানিতে ঝাঁপ দিই। তারা চলে যেতেই উঠে আসি। রাস্তায় ওঠার পর তোর গাড়ির নিচে পড়েছিলাম। তুই আমাকে স্রেফ একটা 'এভিডেন্স' ভেবে মেরে ফেলতে চেয়েছিলি।"
ইষান স্তম্ভিত হয়ে গেল। ইনায়া সেদিন যে গল্পটা বলেছিল সেটা সে নিজেই করেছে? আর সে কিনা স্রেফ উপন্যাস ভেবে সারা ইন্টারনেট তছনছ করেছিল। সে কল্পনাও করতে পারেনি তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই নারীই সেই রাতের শিকার। ইষান এবার ভেঙে পড়ল, তার চোখে দিয়ে অবিরত জল ঝরতে লাগল। কান্না মিশ্রিত কণ্ঠে সে মিনতি করল, "ইনায়া, আমি... আমি সেদিন সত্যিই বুঝিনি। ভেবেছিলাম আমার ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যাবে। আমি তোমাকে মারতে চাইনি, শুধু ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আমি তোমাকে চিনতে পারিনি... ইনায়া প্লিজ আমাকে মাফ করে দাও। আমি তোমাকে সত্যি ভালোবাসি

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 58 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন