( সূচনা পর্ব)
সাল ২০৩০
সন্ধ্যার শেষ আলো টুকু নিভে গিয়ে দৃশ্য মান হচ্ছে রাতের নিকশ কালো অন্ধকার। চারিদিক নীরব!! পাখি গুলোও ফিরে যাচ্ছে নিজের কাঙ্ক্ষিত ঘরে। বাতাসের শা শা শব্দ যেনো অদ্ভুত রকমের আহাজারি।। ধরণী ক্রমেই অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে।।
উঁচু একটা পাহাড়ের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে দুটো নারী মূর্তি দুজনেরই উচ্চতা সমান, গায়ের কালো লম্বা গাউন বাতাসে উড়ছে, সাথে বাঁধনহারা হয়ে উড়ছে তাদের কোমড় সমান লম্বা চুল গুলো।। এতে কোনো ভাবাবেগ হচ্ছে না রমণী দুটোর,, তারা নিশ্চল চোখে তাকিয়ে আছে দূরে কুয়াশা ঘেরা অতলে।
ইফরা আর ইয়েরিন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে কারও মুখে কথা নেই।। দুজনের হাতেই শুকিয়ে আসা রক্তের দাগ, সেই দাগ মুছে ফেলার কোনো চেষ্টা নেই তাদের আর না একটা বার তাকিয়ে দেখছে।
অন্ধকার ক্রমশ গভীর হয়ে উঠছে,, এবার শান্ত পরিবেশ টা বেশ ভুতুড়ে আকার ধারণ করছে।।
ইয়েরিন আর ইফরা একে অপরের দিকে তাকালো তবে কোনো কথা বললো না, দুজনেরই ঠান্ডা বরফের ন্যায় শীতল দৃষ্টি! যেন তারা একে অপরের চোখ দেখেই পড়ে নিচ্ছে না বলা কথা গুলো।।
ইফরার দৃষ্টিতে ফুটে উঠে সামান্য ক্লান্তি, যেনো সে কোনো কিছুতে ভীষণ ক্লান্ত, তবে ইয়েরিন তাকে আস্বস্ত করে এতে ইফরা কিছু না বলে আবারো দৃষ্টি সামনে দেয়।।।
এমন সময় বাজখাঁই আওয়াজে ডেকে উঠে একটা ঈগল,,,
তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে আছে দূরে দাঁড়ানো মালিকদের দিকে।।
কখন থেকে দেখছে দুজনে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে।। তার দিকে তাকাচ্ছে না তাকে আদর করছে না।।।
এমন বাজখাঁই আওয়াজে ইয়েরিন আর ইফরা সামান্য ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়,, কিছুটা দূরে গাছের ডালের উপর বসে তাদের দিকে তাকিয়ে ডাকছে ঈগলটা,, ইয়েরিন সামান্য মুখ বাঁকিয়ে হাসে তারপর হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে rapi এদিকে এসো,,সাথে সাথে পাখিটা উড়ে এসে তার হাতের উপড় বসে পড়ে।। ইফরা পাখিটার দিকে আঙুল দেখিয়ে বলে Raptor তুমি খুব দুষ্টু হয়ে যাচ্ছো সারাদিন চেঁচাও এমন করলে তোমাকে দূরে ফেলে দিয়ে আসবো,, বলে মুখ ঘুরিয়ে হাসে পাখি টা তার দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকায় যেনো সে বুঝেছে তার মালিক তাকে বকা দিয়েছে।। তারপর পাখিটা ইয়েরিনের দিকে তাকিয়ে ডেকে উঠে,, ইয়েরিন হেসে ফেলে সে বুঝেছে Raptor তাকে বিচার দিচ্ছে ইফরার নামে,,ইফরাও হেসে ফেলে।।। ইফরা আর ইয়েরিন দুজন দুজনের দিকে তাকায়,, এতক্ষণের জমে থাকা কুয়াশা কেটে তাদের চোখে ফুটে উঠেছে কোনো জয়ের উল্লাস।।। এরপর দুজনে নেমে আসে পাহাড় থেকে,,, নিচে অন্ধকারে দাঁড়ানো একটা কালো গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায় তারপর উঠে বসে গাড়িতে ঈগল টাও পিছু ছাড়ে না ইফরার কোলে বসে পড়ে আর ইয়েরিন বসে ড্রাইভিং সিটে।।। ল্যামপোস্টের আলোতে চকচক করে উঠে গাড়ির পিছনে MERCEDES - BENG G 63 AMG লেখা খচিত নামটা,,,এরপর গাড়িটা শা করে চলে যায় আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে।।।কয়েক সেকেন্ডে উধাও হয়ে যায় সেটি।।।
ইফরা আর ইয়েরিন—দুজনেই এক আবার দুজনেই আলাদা ঠিক যেমন একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ,,, তাদের সেই সৌন্দর্যের রঙ এক ছিল না।
ইফরার চোখ দুটো ছিল অদ্ভুত রকমের কোমল। সেখানে শিকারীর তীক্ষ্ণতা ছিল না, ছিল এক সমুদ্রভরা নীরবতা। গভীর ডার্ক চোখের ভেতর যেন অসংখ্য না-বলা অনুভূতি লুকিয়ে থাকত। সে কারও দিকে তাকালে মনে হতো না যে সে তাকে বিচার করছে; বরং মনে হতো তার ভেতরের ক্লান্তিটা নীরবে পড়ে ফেলছে।
পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চি উচ্চতার মেয়েটির উপস্থিতি ছিল শান্ত বিকেলের মতো। কোমরের একটু ওপর পর্যন্ত নেমে আসা কোঁকড়া চুলগুলো তার চারপাশে একরাশ মায়া ছড়িয়ে রাখত। ফর্সা ত্বকের সঙ্গে সেই কালো ঢেউখেলানো চুলের মিল তাকে আরও স্নিগ্ধ করে তুলত।
ইফরার মুখে সবসময় একটা নরম প্রশান্তি লেগে থাকত। সে খুব জোরে হাসত না, খুব জোরে রাগও করত না। তার সৌন্দর্য ছিল ফুলের পাপড়ির মতো—কোমল, কিন্তু ভঙ্গুর নয়। তার চোখে ছিল মায়া, আর সেই মায়ার আড়ালে লুকিয়ে ছিল গভীর এক দৃঢ়তা।
তাকে দেখলে মনে হতো না সে কোনো রাজ্যের রাণী; বরং এমন এক আশ্রয়, যেখানে ঝড় শেষে মানুষ শান্তি খুঁজে পায়। তার সৌন্দর্য মানুষকে এক মুহূর্তে মুগ্ধ করত না—ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করে ফেলত, ঠিক চাঁদের আলোর মতো; যা প্রথমে চোখে পড়ে না, কিন্তু একসময় নিঃশব্দে চারপাশ ভরে দেয়।
অন্যদিকে, ইয়েরিন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
তার চোখ দুটো ছিল শিকারীর মতো তীক্ষ্ণ—ডার্ক বাদামী মণির গভীরে এমন এক ঠান্ডা স্থিরতা ছিল, যা কাউকে সহজে কাছে আসতে দিত না। তার দৃষ্টিতে মায়ার চেয়ে কর্তৃত্ব বেশি ছিল; একবার তাকালে মনে হতো সে মানুষকে দেখছে না, বিশ্লেষণ করছে। ঘন ভ্রুর নিচে সেই চোখ দুটো সবসময় অদ্ভুতভাবে শান্ত, অথচ বিপজ্জনক রকমের আত্মবিশ্বাসে ভরা।
পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চি উচ্চতার মেয়েটির উপস্থিতিতেই ছিল এক ধরনের জন্মগত আভিজাত্য। ফর্সা গায়ের রঙ কোমর পর্যন্ত নেমে আসা ঢেউ খেলানো চুলে কালো আর হালকা বাদামীর মিশ্রণ তাকে আরও রহস্যময় করে তুলত। তার মুখে খুব কমই আবেগের ছাপ দেখা যেত। ঠোঁটের কোণে হাসি থাকলেও তা কখনো পুরোপুরি চোখে পৌঁছাত না।
ইয়েরিনের সৌন্দর্য ছিল ধারালো। তাকে দেখে গোলাপের কথা মনে পড়ত না, বরং মনে পড়ত কাঁটার মুকুটের কথা। তার চেহারার প্রতিটি রেখায় ছিল অভিজাত শীতলতা—এমন এক ব্যক্তিত্ব, যা মানুষকে একই সঙ্গে আকৃষ্টও করত, আবার দূরেও সরিয়ে রাখত।
তার মধ্যে রাজকীয়তা ছিল, কিন্তু উষ্ণতা ছিল না। মনে হতো সে জন্মেছে আদেশ দেওয়ার জন্য, অনুরোধ শোনার জন্য নয়। তার চোখে ছিল শিকারীর ধৈর্য, আর মুখাবয়বে ছিল এমন এক ঠান্ডা আত্মবিশ্বাস, যা যে কাউকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম আর কাউকে সহজে তার সমান হওয়ার সুযোগ দিত না।