ফন্ট সাইজ:
থিম:
The rogue pair

পর্ব 2

লেখক: Farjana and fatema

---***---

খুনিয়া পালং এর ঘন জঙ্গল। দিনের বেলাও এখানে রাত। গর্জন-সেগুন গাছের ছাউনি ভেদ করে সূর্য ঢুকতে পারে না। পাতার ফাঁক দিয়ে যেটুকু আলো আসে, সেটাও মাটিতে পড়ার আগেই মরে যায়।

জঙ্গলের বুক চিরে হঠাৎ চোখে পড়ে প্যালেসটা,,

কালো বেসাল্ট পাথরের প্যালেস।।
পাথরগুলা রোদ-বৃষ্টিতে ধোয়া, ধারগুলা এখনো ছুরির মতো ধারালো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে জঙ্গলের মাঝে কেউ কালো পাথরের বাক্স নামিয়ে দিয়ে গেছে।

গেটের ২০০ গজ আগে থেকেই বাতাস ভারী। কংক্রিটের ওয়াচ টাওয়ার, ক্যামোফ্লাজ নেটের আড়ালে, পাথরের চাঁইয়ের পিছনে - অসংখ্য গার্ড। হাতে স্নাইপার, চোখ শিকারীর মতো ধারালো। ওরা পাতা নড়লেও ট্রিগারে আঙুল রাখে। জঙ্গল ওদের চেনে, ওরাও জঙ্গলকে চেনে।

লোহার গেট ঠেলে ভিতরে ঢুকতেই সামনে বিশাল ফোয়ারা। পানি পড়ে না। ফোয়ারার গায়ে খোদাই করা দুইটা শব্দ, অন্ধকারেও জ্বলে ওঠে - 

*THE SHADOW PALACE*

প্যালেস টা সুন্দর,,,, কিন্তু এটা কোনো সাধারণ স্থাপনা না। প্রতিটা কোণ, প্রতিটা সুড়ঙ্গ, প্রতিটা লুকানো দরজা - সব তৈরি হয়েছে কোনো এক মাস্টারমাইন্ডের নিখুঁত ইশারায়। বাইরে জানালা নেই, আলো-বাতাস ঢোকার সব রাস্তা মাটির নিচে। স্যাটেলাইটেও ধরা পড়ে না, ড্রোন উড়লে ম্যাগনেটিক ফিল্ডে নষ্ট হয়ে যায়।বাড়ির ছাদ থেকে গভীর সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।।

জঙ্গলের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা প্যালেসটা নিজেই একটা ধাঁধা। নতুন পাথর, পুরান রহস্য। যেন কেউ হিসাব করে বানিয়েছে - শত্রু ঢুকবে, কিন্তু বের হওয়ার রাস্তা খুঁজে পাবে না।

দরজা খোলে। ভিতর থেকে ঠান্ডা বাতাস বের হয়। আর বাইরে জঙ্গলটা যেন নিঃশ্বাস বন্ধ করে নেয়,,।।।

ঘন জঙ্গলের সরু রাস্তা ধরে অনেকটা ভেতরে গেলে চোখে পড়ে সেই রহস্যময় প্যালেসটা। পুরোটা কালো— এমন কালো, যেন আলো এসে ছুঁয়েও ফিরে যায়। চারপাশে বিশাল গাছপালা ঘিরে রেখেছে জায়গাটাকে। জনমানব থেকে অনেক দূরে, এতটাই নির্জন যে নিজের হাঁটার শব্দও অচেনা লাগে। বাতাসে একটা ঠান্ডা নীরবতা, এত নির্জন যে মাঝে মাঝে মনে হয় এখানে সময়ও ধীরে চলে।

পাহাড় থেকে ফিরে ইফরা আর ইয়েরিন চুপচাপ নিজেদের রুমে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর গোসল করে নিচে নামল। শরীরে লেগে থাকা রক্তের দাগ ধুয়ে ফেলেছে, ঠান্ডা পানি যেন দিনের সব ভারও নিয়ে গেছে।

নিচে এসে দেখে ইসরাত আগেই খাবার সাজিয়ে বসে আছে।

ইসরাত তাদের দিকে তাকিয়ে বলল—
— এই যে, অবশেষে নামলি। আর পাঁচ মিনিট দেরি করলে আমি একাই খেয়ে ফেলতাম।

ইয়েরিন চেয়ার টেনে বসে হেসে বলল—
— মিথ্যা কথা। তুই আমাদের ছাড়া খাস কবে?

ইসরাত ভ্রু তুলে বলল—
— খুব ক্ষুধা লাগলে মানুষ অনেক কিছু করে।

ইফরা চুপচাপ বসে গ্লাসে পানি ঢালতে ঢালতে বলল—
— নাটক কম কর। কী রান্না করছিস?

ইসরাত মুখে গর্ব নিয়ে বলল—
— খেয়ে দেখ। তারপর প্রশংসা করবি।

ইয়েরিন প্লেটের দিকে তাকিয়ে বলল—
— যদি ভালো না হয়?

ইসরাত সাথে সাথে বলল—
— তাহলে কাল থেকে রান্না তুই করবি।

ইফরা ছোট্ট হেসে বলল—
— তাইলে আজ ভালোই হবে।

একটু চুপচাপ কাটল। বাইরে জঙ্গলের বাতাস জানালায় ধাক্কা দিচ্ছিল।

হঠাৎ ইসরাত ইফরার দিকে তাকিয়ে বলল—
— তোরা ঠিক আছিস তো?

কিছু সেকেন্ড চুপ থেকে ইফরা বলল—
— কেন?

ইসরাত কাঁধ ঝাঁকাল।
— এমনি। তোদের চোখে আজকে পাহাড়ের ঠান্ডার চেয়ে অন্য কিছু বেশি লাগতেছে।

ইয়েরিন হালকা হেসে বলল—
— বেশি ভাবিস না। আমরা তো ফিরে এসেছি। ।

ইসরাত কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকল, তারপর আর কিছু বলল না।

শুধু বলল—
— আচ্ছা। খা আগে। পরে যা বলার বলবি।

তারপর তিনজন আবার খেতে শুরু করল। যেন বাইরে যত যাই হতে থাকুক, এই টেবিলে তারা এখন শুধু তিনজন।যেন এই জায়গা বহু কিছু দেখেছে, কিন্তু কিছুই বলে না।

খাওয়া শেষ করে তিনজনই নিজ নিজ কক্ষে চলে গেল। রাত তখন আরও গভীর হয়েছে। দীর্ঘ দিনের ক্লান্তি শরীরকে ভারী করে তুলেছিল।

ইয়েরিন বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করে বলল—

— আমি একটু বিশ্রাম নিচ্ছি। পাঁচ মিনিট পর ডেকে দিস।

ইফরা কোনো উত্তর দিল না। সে ধীরে ধীরে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। বাইরে পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় পুরো প্রাসাদটা অদ্ভুত নিস্তব্ধ দেখাচ্ছিল। দূরের জঙ্গল, কালো দেয়াল, আর চারপাশের নীরবতা— সব মিলিয়ে যেন কোনো গোপন গল্প লুকিয়ে আছে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 2 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন