হঠাৎ ইফরার দৃষ্টি নিচের বাগানে গিয়ে থামল।
লাল টুকটুকে গোলাপে ভরা অংশটায় কিছু একটা পড়ে আছে।
প্রথমে সে ভাবল হয়তো ছায়া। কিন্তু না— ওটা স্থির, অস্বাভাবিকভাবে স্থির।
কয়েক মুহূর্ত চুপচাপ তাকিয়ে থেকে ইফরা ধীরে ইয়েরিনের দিকে ফিরল। কিছু না বলে শুধু অল্প ইশারা করল।
ইয়েরিন চোখ খুলে ইফরার মুখের দিকে তাকাল। তার চেহারার অস্বাভাবিক গাম্ভীর্য দেখে আর প্রশ্ন করল না।
দুজনেই নিঃশব্দে কক্ষ থেকে বেরিয়ে নিচে নেমে গেল।
বাগানের কাছে পৌঁছে চাঁদের আলোয় দৃশ্যটা স্পষ্ট হয়ে উঠল।
মাটিতে একজন মানুষ পড়ে আছে।
নড়ছে না।
ইয়েরিন থেমে গেল।
— এটা… একটা লাশ?
ইফরা ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে গেল।
মুখটা দেখা মাত্র সে থেমে দাঁড়াল।
তার চোখে এবার বিস্ময়ের ছাপ স্পষ্ট।
ইয়েরিনও সামনে এসে তাকাল।
তারপর কয়েক সেকেন্ড সম্পূর্ণ নীরবতা।
কারণ তারা দুজনেই মানুষটাকে চিনতে পেরেছে।
এই লোকটাকে তো তারা বেসমেন্টে আটকে রেখেছিল।
ইয়েরিন অবিশ্বাসের স্বরে বলল—
— এটা কীভাবে সম্ভব?
ইফরা কিছু বলল না। তার চোখে প্রশ্ন আরও গভীর হয়ে উঠল।
কারণ বিষয়টা শুধু এই নয় যে লোকটা মারা গেছে।
প্রশ্ন হলো—
সে বাইরে এলো কীভাবে?
ইয়েরিন ধীরে বলল—
— দরজা তো বন্ধ ছিল।
ইফরা শান্ত গলায় উত্তর দিল—
— আমি নিজে বন্ধ করেছিলাম।
দুজনেই ধীরে ধীরে প্রাসাদের দিকে তাকাল।
সব জানালা অন্ধকার।
ইয়েরিন কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল—
— ইসরাত?
ইফরা সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়ল।
— না… ব্যাপারটা এত সহজ না।
ইয়েরিন তার দিকে তাকাল।
ইফরা নিচু স্বরে বলল—
— যদি কেউ তাকে বাইরে নিয়ে এসে থাকে… তাহলে সে এখনো এই বাড়ির ভেতরেই আছে।
ঠিক তখনই হালকা বাতাস বয়ে গেল।
গোলাপগাছের পাতা নড়ে উঠল।
আর সেই মুহূর্তে ইফরার চোখ পড়ল মাটির দিকে।
লাশের পাশের ভেজা মাটিতে স্পষ্ট পায়ের ছাপ আছে।
কিন্তু অদ্ভুত বিষয়—
পায়ের ছাপ এসেছে।
কিন্তু ফিরে যাওয়ার কোনো চিহ্ন নেই।।।।
ইয়েরিন তীক্ষ্ণ চোখে লাশ টা পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো,,,
হঠাৎ তার চোখ গেলো বেজমেন্টের রাস্তার দিকে যেখানে এখনো স্পষ্ট পায়ের ছাপ লেগে আছে।।
সে ইফরার দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ইশারা করলো তারপর দুজনেই হালকা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো ইফরা প্যালেসের দিকে হাঁটা ধরলো আর ইয়েরিন এগিয়ে গেলো অন্ধকার বেজমেন্টের দিকে।।। বেজমেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে সে ভেতর টা কিছুক্ষণ মনোযোগ দিয়ে দেখলো যদিও ভেতরটায় বেশ অন্ধকার তবুও তার দৃষ্টি তীক্ষ্ণ।।। কিছু সময় পর পাশে ইফরার উপস্থিতি পেয়ে সে হালকা হেসে হাত বাড়িয়ে দিলো তারপর ইফরা তার হাতে কিছু একটা দিলো,,,
এরপর দুজনে বেজমেন্টে প্রবেশ করলো একদম নিশ্বব্দ ছায়ার মতো ইফরা দেয়ালের পাশে থাকা একটা সুইচ টিপে দিতেই আলোকিত হয়ে উঠলো সম্পূর্ণ বেজমেন্ট আর সেই আলোতে দেখা গেলো চারপাশের ভয়ংকর পরিস্থিতি পুরো বেজমেন্টের দেয়াল জুড়ে শুকিয়ে যাওয়া রক্তের দাগ ভয়ংকর প্রাণীর চিত্র আর অদ্ভুত লেখা তার পাশে ছোট একটা রুম কোনো দরজা নেই কেবল একটা পর্দা,, জায়গায়টায় কোনো আসবাবপত্র বা সামান্য কাঠের টুকরোও নেই।।
ইয়েরিন চিন্তিত হয়ে বললো এটা কীভাবে সম্ভব! ! আমাদের এত কড়া সিকিউরিটি অতিক্রম করে কেউ এসে আমাদের এতদিনের বন্দি কে মেরে দিলো??
হ্যাঁ আমিও তাই ভাবছি রিন,, প্রতিদ্বন্দ্বী হয়তো খুবই বুদ্ধিমান আর শক্তিশালী,,।।
আমার ভয় হচ্ছে কি হবে এবার,,।।
যা হবার হবে সে সব পরে দেখা যাবে এখন নিজেদের জীবন বাঁচানো দরকার শত্রু কোথায় লুকিয়ে আছে সে কতটা ভয়ানক আমরা কিছুই জানি না।। চল আমরা প্যালেসে ফিরে যাই,,, ইফরাও তাল মিলিয়ে বললো হ্যাঁ চল,,
দুজনেই ঘুরে দাঁড়ালো আর তারপর বিকট শব্দে একটা গুলি ছুটে গেলো পাশে পর্দার পেছনে দাঁড়ানো অবয়বের দিকে,,
গুলিটা এত দ্রুত গতিতে লোকটার মস্তিষ্ক চিঁড়ে বেরিয়ে গেলো যে লোকটা যন্ত্রণায় ছটফট করার আগেই নিথর হয়ে পড়ে গেলো।।।
ইয়েরিন আর ইফরা অট্ট হাসিতে ফেটে পড়লো,,এই নিস্তব্ধ পরিবেশে তাদের ঝংকার তোলা হাসি বেশ ভয়ানক শোনালো,,
ইয়েরিন বললো ইস প্রতিদ্বন্দ্বী এত বোকা হলে কি মজা হয় বল,, ও ভাবলো কীভাবে যে ও আমাদের পিছু নিয়ে আমাদের প্যালেসে ঢুকে পড়বে, বেজমেন্টে গিয়ে আমাদের বন্দি কে মেরে দেবে, তারপর সেখান থেকে বেঁচে ফিরবে আর আমরা কিছু জানবোই না?? হাস্যকর!!!
হাসি থামিয়ে ইফরা শীতল কণ্ঠে বলে উঠলো,,
“অতীত আমাকে কাঁদতে শিখিয়েছে, আর বর্তমান আমাকে চুপ থেকে রাগ করতে শিখিয়েছে। কারণ কিছু ক্ষত সময়ের সাথে সারে না শুধু অনুভূতির রূপ বদলায়।”
ইয়েরিন ফোন বের করে কারও নাম্বার কল করলো অল্প সময়ের মধ্যেই কল টা রিসিভ হলো,,,
ইয়েরিন গম্ভীর স্বরে বললো গার্ডেনে আর বেজমেন্টে দুটো লাশ আছে ১ ঘন্টার মধ্যে আমি সব ক্লিয়ার চাই,, ওপাশের লোকটা কি বললো তা শোনার প্রয়োজন মনে করলো না আদেশের স্বরে কথাটা বলে খট করে কলটা কেটে দিলো,,,
ইয়েরিন আর ইফরা প্যালেসের ভেতরে চলে আসলো এখন প্রায় রাত ১ টার কাছাকাছি দুজনেই জানে আজ আর তাদের ঘুম হবে না তাই তারা রুমে গিয়ে চেঞ্জ করে বেরিয়ে এলো,, দুজনের গায়েই কালো লেদার জ্যাকেট আর কার্গো জিন্স হাতে চাবি ঘুরাতে ঘুরাতে দুজন এসে থামলো প্যালেসের পাশে গ্যারেজের কাছে তারপর পাসওয়ার্ড দিয়ে ভেতরে ঢুকে লাইট অন করলো,, চকচকে আলোয় দৃশ্যমান হলো বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দামি দামি গাড়ি, আর একপাশে Yamaha R6 নাম খচিত কালো দুটো বাইক ,, ইফরা আর ইয়েরিন এগিয়ে গেলো সেই বাইকের কাছে তারপর বাইক নিয়ে বেরিয়ে এলে প্যালেসের বাইরে,,৷।
দুজন হেলমেট পড়ে একে অপরের দিকে তাকায়ে হালকা হাসলো তারপর শা করে বাইক ছুটিয়ে চললো অজানা গন্তব্যে।।। ঘন জঙ্গলের রাস্তা পেরিয়ে দুজনে উঠে এলো জন মানব পূর্ণ রাস্তায়,, কারণ তাদের মতে চলার পথে বাঁধা আর রিস্ক না থাকলে পথ চলার মজাই নেই,,।।