ফন্ট সাইজ:
থিম:
The rogue pair

পর্ব 5

লেখক: Farjana and fatema

ইয়েরিন মাত্র সব ঝামেলা সমাধান করে উঠে দাঁড়িয়েছে এমন সময় একটা স্টাফ নক করে,, ইয়েরিন তাকে ভেতরে আসার অনুমতি দিলে স্টাফটি ভেতরে আসে,,।।

-"আপনাকে বিরক্ত করার জন্য খুবই দুঃখিত ম্যাম,, তবে বাইরে একটি লোক এসেছে ওনি আমাদের কোম্পানির প্রডাক্ট নিয়ে খুবই বাজে কথা বলছেন চিৎকার চেঁচামেচি করছেন,,,আর বার বার বলছেন এই কোম্পানির ceo কে? ডাকো ওনাকে আমি ওনার সাথে কথা বলতে চাই ,,,।। "

ইয়েরিন বিরক্তি তে চ সূচক শব্দ করে গট গট পায়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে যায়,,।।
নিচে গিয়ে দেখে লোকটি এখনো চেঁচাচ্ছে,,।।
ইয়েরিন লোকটির সামনে গিয়ে দাঁড়ায় তবে লোকটি চেঁচামেচি করায় এতই ব্যাস্ত ছিলো যে তাকে খেয়াল না করেই কোম্পানি নিয়ে অনেক আজে বাজে কথা বলতে থাকে,,,।।

ইয়েরিন যখন দেখে লোকটা থামার কোন নামই নিচ্ছে না তখন সে স্টাফদের ইশারা করে ভেতরে চলে যেতে সবাই চলে গেলে ইয়েরিন বলে,,

-" আপনি আপনি ঠিক কি অভিযোগ করতে চাচ্ছেন??  "

লোকটা এবার ইয়েরিন কে খেয়াল করে....।।।

-"এই যে আপনি এই কোম্পানির ceo..??"

-"জ্বী!! আপনার কি সমস্যা এভাবে চেঁচাচ্ছেন কেন।"

-"কি সমস্যা মানে আপনার কোম্পানির beauty product ব্যবহার করে আমার মেয়ের পুরো মুখ পুড়ে গেছে,,।। "

ইয়েরিন কিছু বললো না ঠান্ডা দৃষ্টি তে তাকিয়ে থাকলো লোকটার দিকে লোকটা রাস্তার মানুষকে ইতিমধ্যেই চেঁচামেচি করে জড়ো করে ফেলেছে তবে ইয়েরিনের এমন ঠান্ডা দৃষ্টিতে সে কিছুটা ভয় পেলো,,

-" তো আপনার মেয়ে আমাদের কোম্পানির কোন প্রোডাক্ট গুলো ব্যবহার করতো নাম বলুন তো,,,।।"

লোকটা আমতা আমতা করে বললো,,-" আ আমি কি কি জানবো মে মেয়েরা কি কি জিনিস ব্যবহার করে,,।।"

-"তো আপনি জিজ্ঞেস করেন নি আপনার মেয়েকে কী লাগিয়ে তার মুখ পুড়ে গেলো..??"

-"আ.. আমার মেয়ে শুধু বলেছে বাবা আমি এই কোম্পানির প্রডাক্ট ইউস করছি কিছুদিন ধরে তারপর থেকেই আমার ত্বক এভাবে পুড়ে গেছে,,।। "

আবার বলে উঠলো,,

-"আর আপনি কি এসব প্রশ্ন করে আমায় বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছেন..?? একেই তো নিজেদের বিউটি প্রোডাক্ট এ অত্যধিক ক্যামিকেল মেশান এখন আবার আমাকে জাজ করছেন...।।"

-"আশ্চর্য জাজ করলাম কখন আপনি আমার কোম্পানির প্রডাক্ট এর উপর এত বড় অভিযোগ তুললেন আর আমি সামান্য প্রশ্ন করতে পারবো না..?? আপনার মেয়েকে নিয়ে আসুন আমি দেখতে চাই তার ত্বক কতটা পুড়ে গেছে...।। "

-"আমার মেয়ে তো আমার সামনেই আসছে না কাল থেকে ঘরে দরজা বন্ধ করো বসে আছে ওকে কীভাবে আনবো,, দেখুন আপনাদের প্রডাক্ট ইউস করে ওর যে সমস্যা হয়েছে তার জন্য যদি ও উল্টো পাল্টা কিছু করে আমি কিন্তু আপনাদের ছাড়বো না...।।"

-"ঠিক আছে আপনার মেয়ে যেহেতু আসবে না তাহলে আমি আপনার সাথে যাচ্ছি চলুন দেখি গিয়ে কি অবস্থা.. ।।। "

-"একেই তো আপনারা দোষ করেছেন এখন কথার প্যাঁচে ফেলতে চাচ্ছেন আমায়? আপনি কি বলতে চাইছেন আমি মিথ্যা অভিযোগ করছি???"

-"আশ্চর্য! আমি কখন বললাম আপনি মিথ্যা অভিযোগ করছেন এটা তো আপনি নিজেই বললেন...!!"

এবার লোকটা বেশ ঘাবড়ে গেলো।।।।বারবার হাত দিয়ে ঘাম মুছতে লাগলো,,,।।

ইয়েরিন বললো,,-" আরে আপনি তো খুব ঘামছেন পানি খাবেন???"
 
ইয়েরিনের কথার প্যাঁচে লোকটা যেন এবার চুপ হয়ে গেলো,, আর কোনো কথা বলতে পারলো না,,

এবার ইয়েরিনের শান্ত কন্ঠ গম্ভীর হয়ে উঠলো সে ধমকে বলে উঠলো,,,
-"you fu***** nonsense আপনার সাহস হলো কীভাবে আমার কোম্পানি আর কোম্পানির প্রডাক্ট নিয়ে অভিযোগ তোলার,,, আপনি এতটাই বোকা যে অভিযোগ তোলার পর যে প্রমাণ দিতে হবে সেটাই ভাবেন নি।। এবার ভালোই ভালোই বলে দিন কেন এসব গুজব ছড়াচ্ছিলেন নয়তো এক্ষুনি আমি পুলিশ ডাকবো তারপর আপনার নামে কেইস করে কোনো প্রমাণ ছাড়া আমার কোম্পানির নামে এই বিচ্ছিরি অভিযোগ করার শাস্তি হিসেবে আপনাকে মোটা টাকা জরিমানা দিতে হবে,,।।"

লোকটা প্রায় কেঁদে দিবে দিবে অবস্থা হঠাৎ করে লোকটা ইয়েরিনের পায়ে পড়ে গেলো,,
তারপর বলতে লাগলো,,,,-" আমি ইচ্ছে করে এসব বলিনি আমাকে একটা লোক অনেক গুলো টাকা দিয়ে বলেছে এখানে এসে ঝামেলা করতে আপনাদের কোম্পানির নামে গুজব ছড়িয়ে দিতে বিশ্বাস করুন আমি গরিব মানুষ লোভে পড়ে রাজি হয়েছিলাম,,।। দয়া করে আমায় ছেড়ে দিন আমি আর এমন ভুল করবো না,,,।।"

ইয়েরিন তাচ্ছিল্য করে হাসলো তারপর বললো,,,
-" কি সব বোকা লোক রে বাবা কোথা থেকে এসব বলদ লোক ধরে আনে আমার কোম্পানির বদনাম করার জন্য,,।। একে তো কিছু করার আগেই সব গড়গড় করে বলে দিলো,,।।।"

ইয়েরিন আর জিজ্ঞেস করলো না কে টাকা দিয়েছিল কারণ সে জানে এটা কার কাজ,,।।

তারপর লোক টাকে উদ্দেশ্য করে বললো,,
- এক্ষুনি বেরিয়ে যান আমার চোখের সামনে আর যদি কখনো আপনাকে দেখি তাহলে তার ফল কিন্তু ভালো হবে না যত্তসব f*** লোকজন।।। "

বলেই খট খট শব্দ তুলে অফিসের ভেতরে চলে গেলো...।।

কিছুক্ষণ পরে ইফরা সব কাজ শেষে ইয়েরিনের কেবিনে এসে দেখে ইয়েরিন বাইরের দিকে তাকিয়ে কিছু বির বির করছে,,,।।
ইফরা এসে তাকে ধাক্কা দিয়ে বললো,,,
-" কিরে কাজের চাপে পাগল হয়ে গেলি নাকি কি বির বির করছিস,,।।"

ইফরার কথায় ইয়েরিনের ধ্যান ভাঙলো বললো,
-"ওদিকে সব ঠিক?? "

-"হ্যাঁ একদম ঝাক্কাস,,।।আচ্ছা ওই ডিল ক্যানসেলের বিষয় টা কি হলো? তারপর নাটকীয় ভঙ্গিতে বললো মনে হয় লস হয়ে গেলো রেেেে...।।।"

তারপর ইয়েরিন বললো,,
-" তোর কি মনে হয় ওই সামান্য একটা ডিল ক্যানসেল হলে আমাদের তেমন কোনো লস হবে,,।। ওই ডিলে যতটাকা লস হয়েছে তার থেকে দিগুন টাকা আমাদের কোম্পানি প্রতিদিন লাভ করে।। "

বলেই দুজন হেসে উঠলো...।।

তারপর ইফরাকে কিছুক্ষণ আগে ঘটে যাওয়া কাহিনী শুনিয়ে আরেক দফা হাসলো দুজন....।।

তারপর বললো,,,
-"ওদের এই পাগলা কুত্তার মতো ঘুরে ডিল ফাইনাল করা আবার সেটা কোনো কারণ ছাড়া বাতিল করা তার উপর লুল্লু প্রানির মতো  লোক ভাড়া করে আমাদের বদনাম করতে চাওয়া সব মিলিয়ে ওদের পতন ঘটানো ফরজ হয়ে গেছে রেেে,,।। এবার ওরা বুঝবে শিকারীর খাঁচায় ঢুকে শিকারীদের ক্ষতি করার চেষ্টা কতটা ভয়ানক।।।"

ইফরা আর ইয়েরিন ২৮ তলা ভবন থেকে লিফটে করে নিচে নামল। নিচে নেমে পার্কিং স্পেসে রাখা মেরুন রঙের গাড়িটায় গিয়ে বসল তারা। সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল, কিন্তু হঠাৎ যেন ইফরার কিছু একটা মনে পড়ে গেল।

সে ইয়েরিনের দিকে তাকিয়ে বলল,
— “তুই যা, আমি পরে আসব।”

ইয়েরিন একবার ওর দিকে তাকালো। চোখে সামান্য প্রশ্ন থাকলেও কিছু জিজ্ঞেস করল না। শুধু মাথা নেড়ে সম্মতি দিল। তারপর গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেল।

ইফরা গাড়ি থেকে নেমে আবার পার্কিং স্পেসের ভেতরের লক করা ইউনিটের সামনে দাঁড়াল। নিজের ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল। চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে থামল তার সবচেয়ে পছন্দের বাইকটার সামনে— KTM RC 390।

কিছুক্ষণ নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থেকে বাইকটা বের করল সে। তারপর রাজকীয় ভঙ্গিতে উঠে বসল। ইঞ্জিন স্টার্ট হতেই গম্ভীর শব্দে পুরো জায়গাটা যেন কেঁপে উঠল। মুহূর্তের মধ্যেই সে কোম্পানির সামনে দিয়ে বাতাসের মতো ছুটে অদৃশ্য হয়ে গেল।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 5 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন