কেটে গেল দুই দিন।
আজ ইফ্রা গেছে সিফাতকে এয়ারপোর্ট থেকে রিসিভ করতে, আর ইয়েরিন অফিসের কাজে ঢাকায় গেছে।
এদিকে ইসরাত শান্তিতে ঘুমাচ্ছে। সকাল ৯টা ২৭ মিনিট— ঘড়ির কাঁটা সেটাই জানিয়ে দিচ্ছে।
হঠাৎ কলিং বেলের শব্দে ইসরাতের ঘুমটা হালকা হয়ে এলো। সে আধা ঘুমের মধ্যেই উঠে ফ্রেশ হতে চলে গেল।
ইতোমধ্যে বাসার মেইড তারা গিয়ে দরজা খুলে দিয়েছে।
দরজা দিয়ে প্রথমে ইফ্রা ঢুকলো, হাতে একটা স্যুটকেস। ভেতরে ঢুকেই সে সোফায় গিয়ে ধপ করে বসে আরাম করতে লাগলো।
ঠিক তখনই কালো রঙের চুড়িদার পরে, ঘুমঘুম চোখে ইসরাত সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছিল।
আর সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করলো সিফাত আরফিন।
হঠাৎ ইসরাতকে দেখে সিফাত থমকে গেল।
তার চোখ যেন এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে রইলো ইসরাতের দিকে। মুখে কিছু বললো না, কিন্তু মনে যেন অনেক কথা একসাথে ভিড় করছিল।
ওদিকে সিফাতের এমন তাকিয়ে থাকা দেখে ইফ্রা সামনে গিয়ে আঙুল দিয়ে টুড়ি বাজালো।
— “এই! পৃথিবীতে ফিরে আসবে নাকি আমার রকেট নিয়ে আসতে হবে ।”
সিফাত হালকা চমকে উঠে বললো—
— “আ… কিছু না।”
কিন্তু ওর ওই চাহনি দেখে ইসরাত একটু ভড়কে গেল।
নিচে নেমে কিছু না বলে ডাইনিং টেবিলের দিকে গেল। টেবিলের ওপর রাখা একটা ছুরি হাতে তুলে সিফাতের দিকে তাকালো।
সিফাত একটু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।
তারপর ইসরাত দৃষ্টি সরিয়ে ছুরি দিয়ে শান্তভাবে একটা আপেল কেটে তুলে নিয়ে খেতে শুরু করলো।
দৃশ্যটা দেখে ইফ্রা হাসতে হাসতে প্রায় গড়িয়ে পড়লো।
ঠিক তখনই হঠাৎ ইফ্রার হাতে থাকা স্মার্টওয়াচ ভাইব্রেট করতে শুরু করলো।
ইফ্রা স্ক্রিনে তাকিয়ে আচমকা উঠে দাঁড়ালো। কিছু না বলেই বাইকের চাবি নিয়ে বেরিয়ে গেল।
তাদের বাড়িটা জঙ্গলের ভেতর হওয়ায় মেইন রোডে যেতে একটু সময় লাগলো।
সেখানে গিয়ে ইফ্রা দেখলো তাদের মেরুন রঙের গাড়িটা ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে।
ইফ্রা বাইক নিয়ে গাড়ির সামনে গিয়ে ব্রেক করলো।
গাড়ির দরজা খুলতেই সে ইয়েরিনকে টেনে বাইরে এনে জড়িয়ে ধরলো।
ইয়েরিন একটু সরে গিয়ে বললো—
— “কিছু হয়নি।”
ইফ্রা কপাল কুঁচকে বললো—
— “অ্যাকসিডেন্টটা কীভাবে হলো? তুই তো কখনো ড্রাইভিংয়ে ভুল করিস না।”
ইয়েরিন ছোট করে বললো—
— “ওটা পরে দেখা যাবে। এখন বাইকে ওঠ। আমি গাড়ি নিয়ে আসছি।”
ইফ্রা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে মাথা নেড়ে রাজি হলো।
তারপর দুজন বাড়ির দিকে রওনা দিল।
বাড়িতে ফিরে গাড়ি পার্ক করে ভেতরে ঢুকতেই দেখলো ইসরাত সোফায় বসে টিভি দেখছে।
আর সিফাত মনে হয় ফ্রেশ হতে উপরে গেছে।
ইসরাত ইয়েরিনের দিকে তাকাতেই হঠাৎ থেমে গেল।
কপালে ব্যান্ডেজ। হাতে ব্যান্ডেজ। ঠোঁটের একপাশও কেটে গেছে।
ওর মুখ মুহূর্তেই বদলে গেল।
— “ইয়েরিন…”
কিছু না বলে সে দৌড়ে গিয়ে ইয়েরিনকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললো।
ইয়েরিন হালকা হেসে মাথায় হাত রেখে বললো—
— “আরে, মরে যাই নাই। এত কান্না করিস না।”
ইফ্রাও পাশে দাঁড়িয়ে ইসরাতকে শান্ত করতে লাগলো।
ঠিক তখন সিফাত নিচে নেমে এসে সব দেখে অবাক হয়ে বললো—
— “কি হয়েছে?”
ইয়েরিন স্বাভাবিক গলায় বললো—
— “আরে, আমার মন অন্যদিকে ছিল। তাই ড্রাইভিংয়ে ঠিকমতো মন দিতে পারি নাই। হয়ে গেছে। নো টেনশন।”
কিন্তু কথাটা বললেও ওর চোখে যেন অন্যরকম একটা ক্লান্তি রয়ে গেল।
রাত হতেই ইয়েরিন হঠাৎ বিছানা ছেড়ে উঠে দাড়ালো,, যন্ত্র মানবির মতো ধীর পায়ে হেঁটে যাচ্ছে বেজমেন্টের দিকে,, বেজমেন্টে গিয়ে বাতি জ্বালিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দিল অন্ধকার।
[ বি: দ্র : হিংস্রতা আছে ]
বাতিগুলো জ্বলো উঠতেই দেখা গেলো চেয়ারে তিন টা লোক বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে....।।।
সোহেল গ্রুপ অফ কোম্পানির ceo, ম্যানেজার আর আরও একটা লোক,,।।
ইয়েরিন ধীরে ধীরে তাদের দিকে এগিয়ে গেলো তারপর একটা বাক্স রাখলো ফ্লোরে ,,, বাক্সটা খুলে বের করলো একটা ধারালো ছুরি আর দুপাশে কাঁটা যুক্ত একটা রড, অস্ত্র গুলো বের করে রাখলো লোক গুলোর সামনে,,, তারপর ঠান্ডা কন্ঠে বলে উঠলো,,
কি মিস্টার সোহেল মরার এত শখ আপনার?? আগে বলবেন না তাহলে প্রথমেই মেরে দিতাম,,।।
অযথা সময় নষ্ট হলো...।।
তুই কি ভেবেছিলি এত সহজে আমাকে মেরে ফেলবি? এত সহজেই??
তুই যে ধ্বংসের খেলায় নেমেছিস সেই খেলা আমি অনেক আগেই পার করে এসেছি,,,, সেখান থেকে বেঁচে ফিরেছি যেখানে তোদের মত কীট পতঙ্গ এক সেকেন্ড ও টিকতে পারবে না, আর তুই এসেছিস আমায় মারতে? হাস্যকর...।।।
কথা গুলো বলতে বলতে ছুরি হাতে এগিয়ে গেলো সোহেল এর কাছে, তারপর খুলে দিলো তার মুখের বাঁধন,, ছাড়া পেতেই সোহেল কান্না করে বলতে লাগলো প্লিজ আমায় ছেড়ে দাও আমার ভুল হয়ে গেছে ক্ষমা করে দাও আর কখনো এমন হবে না,।৷
তুই বেঁচে থাকলে তো আর এমন হবে,,।।
তোরা ভাবিস যে তোদের মতো বীর পুরুষ থাকতে কেনো আমার মতো মেয়েরা বিজনেস ওয়ার্ল্ডে রাজত্ব করবে তাই না?? পুরুষত্বের খুব অহংকার না তোর?? তবে শোন আজ এই নারী জাতের হাতেই তোর নিকৃষ্ট মৃত্যু হবে,,।।
সামান্য ছুরি দেখেই কান্না করছিস? ছি ছি ছি ছিহ্ পুরুষ জাতির মান সম্মান রাখলি না তুই,,।।
বলেই ঝাপিয়ে পড়লো সোহেলের উপর,,, ধারালো ছুরি দিয়ে এক এক করে তুলে নিলো হাতের সমস্ত নখ তারপর একের পর এক আঘাতে ছিন্ন ভিন্ন করে ফেললো দুটো হাতই,,, পুরো বেজমেন্ট ভরে উঠলো তার করুন আর্তনাদে,,তবে এতে যেনো একটুও মন গললো না ইয়েরিনের,, তার মাঝে ভর করেছে পৈশাচিক আত্মা, রক্তের নেশায় বুদ হয়ে আছে সে,,
কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলো সোহেলের আর্তনাদ আর ছটফটানি রক্ত বমি করে ফেললো সোহেল,,
তারপর আবার ইয়েরিন একই ভাবে তার পায়ের নখ গুলো উপরে ফেললো, পা গুলোও ছুরি আঘাতে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে উঠলো ,, ফিনকি দিয়ে রক্ত এসে ভিজিয়ে দিলো তার গায়ের সাদা শার্ট--!!-- সম্পূর্ণ মুখ ভরে উঠলো রক্তে,,।।
তারপর সে উঠে দাঁড়িয়ে নাটকীয় ভঙ্গিতে বললো তোকে দেখে খুব মায়া হচ্ছে রে, চল তোকে একটা সুযোগ দেই তুই যদি পাঁচ মিনিটের ভেতর আমার প্যালেস থেকে বেরিয়ে যেতে পারিস তাহলে তোকে আমি ছেড়ে দিবো...,,
নিভু নিভু চোখে সোহেল তাকালো সামনের দিকে,,,,
ইয়েরিন এগিয়ে এসে খুলে দিলো সোহেলের হাত পায়ের বাঁধন মুক্তির আশায় চকচক করে উঠলো সোহেলের চোখ,,।।
থেঁতলে যাওয়া পায়ে ভর দিয়ে সে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলো তবে সফল হলো না, ধপ করে ফ্লোরে পড়ে গেলো তবুও হাল ছাড়লো না সে,,
শেষ শক্তি টুকু দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে এগোনোর চেষ্টা করলো,,,পেছন থেকে ইয়েরিন তার এমন চেষ্টা দেখে বেশ মজা নিতে থাকলো,,,
ঠিক যেভাবে শিকারী তার শিকার কে মেরে ফেলার আগে তাকে নিয়ে খেলা করে ইয়েরিনও যেন সেটাই করছে,,,চোখে মুখে তার পৈশাচিক আনন্দ ফুটে উঠেছে,,
পাঁচ মিনিট প্রায় শেষ হওয়ার আগে ইয়েরিন সোহেলের পেছন থেকে ঠান্ডা কন্ঠে ক্রাউন ডাউন করা শুরু করলো
৫,
৪,
৩,
২,
১,
আর তোর সময় শেষ এখন,,, বলেই অট্ট হাসিতে ফেটে পড়লো সে...।। ফ্লোর থেকে তুলে নিলো কাটা যুক্ত রড টা তারপর এগোতে থাকলো সোহেলর দিকে,,।।
ইয়েরিন কে নিজের দিকে এগোতে দেখে সোহেল বাঁচার আসা ছেড়ে দিলো,।।
এই মুহূর্তে তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটি কে তার মানুষ মনে হলো না, মনে হলো যেনো কোনো নরকের দূত,,।।।