সোহেল কে চিৎকার করার সুযোগ টাও দিলো না ইয়েরিন!!
কাটা যুক্ত রড টা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়লো সোহেলের উপর,,।। একের পর এক আঘাতে ছিড়ে আসতে লাগলো সোহেলের শরীরের মাংসপেশি,,।।
ম্যানেজার এই নৃশংস ঘটনা দেখে গড়গড় করে বমি করে দিলো,, আর পাশের অন্য লোকটা জ্ঞান হারালো,,,তবে ইয়েরিন থামলো না সে অনবরত আঘাত করতে লাগলো যতক্ষণ না সোহেলের দেহ টা নিথর হয়ে গেলো,,।।
যখন বুঝলো সোহেল মারা গেছে তখন একটু শান্ত হলো সে,,। ।
নিজের বা হাতের দিকে তাকিয়ে দেখলে ব্যান্ডেজের ভেতর থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে,,তবে বিশেষ পাত্তা দিলো না,,।।
সোহেল কে মারার পর সে তাকালো বাঁকি দুজনের দিকে তারপর ঘাড় কাত করে একটা বিশ্রি হাসি দিলো,,,একে একে বাঁকি দুজনকেও পরপারের টিকিট ধরিয়ে দিয়ে থামলো সে,, ।।। হাতের অস্ত্র গুলো ছুড়ে ফেললো,,,তারপর ঘুরে বেরিয়ে এলো বেজমেন্ট থেকে একটা বার লাশ গুলো তাকিয়ে দেখার প্রয়োজনও মনে করলো না,,।।
প্যালেসের দরজা খুলে সাবধানে উপরে উঠে এলো ইয়েরিন,,
তারপর ঘরে ঢুকে দেখলো ইফরা শুয়ে আছে,,।।
কোনো কথা না বলে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো সে ইফরাও কোনো প্রশ্ন করলো না,,।।
প্রায় এক ঘন্টা লম্বা শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে এলো ইয়েরিন,,।।
এসে দেখলো ইফরা ফাস্ট এইড বক্স নিয়ে বসে আছে বিছানায় তাকে দেখেই বললো,,
-"এই এখানে এসে বস,,।।"
-"এসবের কোনো দরকার নেই আমি ঠিক আছি,,।।"
-"বেশি বুঝিস না রিন হাতের ব্যান্ডেজ গড়িয়ে যে রক্ত ঝরছে সে খেয়াল আছে তোর? চুপচাপ এখানে এসে বস...।।"
ইয়েরিন আর কথা বাড়ালো না,
ইফরার পাশে এসে বসে পড়লো,,।।
তারপর বালিশের নিচ থেকে মোবাইল নিয়ে কল করলো ফাহিম লেখা নাম্বারে,,,কল রিসিভ হতেই আদেশের স্বরে বললো,,,
-"৩০ মিনিটের মধ্যে পুরো বেজমেন্ট ক্লিয়ার চাই আমি,।।"
,বলেই ফোন রেখে দিলো,,।।
ইফরা ইয়েরিনের হাতের ব্যান্ডেজ টা খুলে আঘাত পরিষ্কার করে নতুন করে ব্যান্ডেজ করে দিলো,,।।
তারপর জিজ্ঞেস করলো,,,
-" কাকে ওপারে পাঠিয়ে এলি?আর সত্যি করে বল তো এক্সিডেন্ট টা হলো কি করে..।।।
ড্রাইভিং এ তুই যথেষ্ট পারদর্শী তাই এক্সিডেন্ট করার প্রশ্নই উঠে না সত্যি টা বল তাড়াতাড়ি,,।।। "
-"আশ্চর্য তোকে আমি কখনো মিথ্যা বলি নাকি??"
-"না তা বলিস না বটে ,, এখন বল কি হয়েছিলো,,।"
-"আচ্ছা শোন,
-- আমি যখন ঢাকার কাজ শেষ করে ফিরছিলাম তখন দেখলাম একটা গাড়ি আমাকে ফলো করছে বেশ কিছুক্ষন ধরে,,।।
কে ফলো করছে দেখার জন্য আমি ড্রিংকস কেনার বাহানায় গাড়ি থেকে নামলাম,,।।
তারপর কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে দেখলাম সোহেল গ্রুপ অফ কোম্পানির ceo আর ওই ম্যানেজার টা আমায় ফলো করছে,,,,
তারপর আমি আবার গাড়িতে উঠে বসলাম একটু পরই একটা মালবাহী ট্রাক আমার পিছু নিলো,
আমি বুঝে গেলাম এটা ওদেরই কাজ,, তবে না বোঝার ভান করে গাড়ি চালাতে লাগলাম,,,
কিছুটা নির্জন রাস্তায় আসতেই ট্রাক টা আমার দিকে ধেয়ে আসতে লাগলো আমি চাইলেই পাস করে যেতে পারতাম তবে করি নি ভাবলাম প্রতিপক্ষ কে একটু জেতার আনন্দ দেওয়া যাক,,
এজন্য ইচ্ছে করেই এমন ভাবে এক্সিডেন্ট করলাম যাতে আমিও না আমার তেমন কোনো ক্ষতি না হয় আর ওরাও ভাবে যে আমি মরে গেছি আর ওরা জিতে গেছে,,।।। হলোও তাই,
, আমি আগেই ফাহিম কে কল করে বলে দিয়েছিলাম যাতে ওই সোহেল,ম্যানেজার আর মালবাহী ট্রাক ড্রাইভার কে ধরে আমার বেজমেন্টে এনে রাখে,,,।।
আর আমি হাতে ব্যান্ডেজ করে বাড়ি চলে আসলাম,,,
ওদের পরপারে পাঠানো ফরজ হয়ে গিয়েছিল তাই শুভ কাজে দেড়ি করতে ইচ্ছে করলো না,,।।"
-"সবই ঠিক আছে কিন্তু তুই এক্সিডেন্ট করার মতো রিক্স নিলি কীভাবে? যদি কোনো অঘটন ঘটে যেতো তখন কি হতো..?? "
-"আরেহ্ এত চাপ নিস না,,।"
,
-"এই জীবন নিয়ে রিক্স নেওয়া এখন বাচ্চাদের খেলা মনে হয়,,,।।"
-"যাই হোক,,
রাই এবার ঘুমিয়ে পড়, আমারও ঘুম পাচ্ছে একটু শান্তিতে ঘুমাবো আজ,,।।।"
-"হ্যাঁ চল আমারও ক্লান্ত লাগছে,,,,!!"
ইফরা আর ইয়েরিন ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে নামল। নিচে নেমেই দেখে ইসরাত সোফায় বসে মন দিয়ে ফেস কেয়ার করছে।
ইফরা দুষ্টুমি করে হেসে বলল,
— “কিরে ইসরাত, নতুন বাতাস লাগলো নাকি?”
ইসরাত মুখ ভেংচি কেটে বলল,
— “তোর সমস্যা কী? আমার মুখে পিম্পল হয়েছে, তাই ফেসপ্যাক লাগাচ্ছি। তোর এত চিন্তা কিসের?”
ইয়েরিন হেসে বলল,
— “আচ্ছা তোরা ঝগড়া বন্ধ করবি? সকাল সকাল শুরু হয়ে গেল আবার!”
কিছুক্ষণ পর ইসরাত উঠে মুখ ধুয়ে এসে ইয়েরিনকে বলল,
— “আঙুর খাবি?”
ইফরা সাথে সাথে বলে উঠল,
— “আমি খাব!”
ইসরাত একদম পাত্তা না দিয়ে বলল,
— “তোকে দেব না।”
ইয়েরিন মাথা নেড়ে বলল,
— “তোরা আবার শুরু করলি?”
এরপর ইসরাত একটা ঝুড়ি নিয়ে বাগানে গেল আঙুর আনতে। বাগানে গিয়ে সে দেখল দোলনায় সিফাত বসে আছে। সে চুপচাপ বাগানের পাশের সিঁড়ি করা পুকুরটার দিকে তাকিয়ে ছিল।
ইসরাত কিছু না বলে নিজের কাজে মন দিল। আঙুরের গাছের কাছে গিয়ে ধীরে ধীরে আঙুর ছিঁড়তে শুরু করল।
ঠিক তখনই সিফাত একবার তার দিকে তাকাল।
ইসরাত হাত বাড়িয়েও আঙুরের গোছায় পৌঁছাতে পারছিল না। সিফাত কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে মনে মনে ভাবল গিয়ে সাহায্য করবে কিনা।
কিন্তু ইসরাত যেন অন্য কিছু ভেবে পাশে থাকা একটা পাথরের উপর উঠে দাঁড়াল আঙুর পাড়ার জন্য।
আর ঠিক তখনই তার পা পিছলে গেল।
কিন্তু পড়ে যাওয়ার আগেই সিফাত দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে ধরে ফেলল।
ভয়ে ইসরাত চোখ-মুখ শক্ত করে বন্ধ করে ফেলেছিল। আর সিফাত নিঃশব্দে তাকে দেখছিল, যেন এই মায়া ভরা মুখের দিকে তাকিয়ে সে জীবন পাড় করে দিতে পারবে,।
কিছুক্ষণ পর ইসরাত বুঝতে পারল সে পড়ে যায়নি। ধীরে ধীরে চোখ খুলে তাকাতেই থমকে গেল।
সিফাতও চুপ।
কেউ কিছু বলল না।
এক মুহূর্তের জন্য যেন চারপাশের সব শব্দ থেমে গেল। শুধু দুজনের চোখ দুজনের দিকে আটকে রইল।
এদিকে ইসরাত অনেকক্ষণ ধরে বাগানে, তাই ইফরা ওদিকে হাঁটতে হাঁটতে আসছিল। কাছে এসেই যা দেখল, তাতে তার মুখে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল।
তারপর সে গান ধরল…
চোখে চোখ যেই পরেছে,
antenna ঠিক নরেছে, হৃদয়ের connection এ তরতাজা signal,
আজকাল হঠাৎ করে,
বুকে প্রেম ফানুস উরে,
তোকে মন দিয়ে এবার বদলেছে দিন কাাাাাাল,,,,।
ইফরার গান শুনেই ইসরাতের ধ্যান ভেঙে গেল। কী হচ্ছে বুঝতে পেরে সে একদম লজ্জায় লাল হয়ে গেল। কোনো কথা না বলে তাড়াতাড়ি সিফাতের কাছ থেকে সরে এসে প্রায় দৌড়াতে দৌড়াতে বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ল।
সোজা দোতলায় নিজের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। তারপর বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে বড় বড় করে নিঃশ্বাস নিতে লাগল।
তার নিজেরই যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না একটু আগে কী হলো।
এদিকে বাগানে দাঁড়িয়ে সিফাতও কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেল। পরিস্থিতিটা এমন হয়ে যাবে সে নিজেও ভাবেনি।
ইফরা দুই হাত বুকের কাছে ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল,
— “কিগো সিফাত পাগলা… কী দেখলাম আমি? Something something?”
সিফাত স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে ছোট করে বলল,
— “Nothing.”
ইফরা সাথে সাথে ভ্রু নাচিয়ে বলল,
— “হ্যাঁ বুঝছি… আমায় কেন বলবে? যার সাথে something চলছে তাকেই তো বলবে, তাই না?”
সিফাত আর কোনো উত্তর দিল না। শুধু হালকা কাশির ভান করে সেখান থেকে নিজের মতো চলে গেল।
ইফরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ হাসল। তারপর হাসতে হাসতেই বাড়ির ভেতরে ঢুকল।
ইয়েরিন তখন বসে ছিল। ইফরাকে এত হাসতে দেখে বলল,
— “এত হাসছিস কেন?”
ইফরা আর নিজেকে আটকাতে পারল না। পুরো ঘটনাটা এক নিঃশ্বাসে খুলে বলল।
সব শুনে ইয়েরিন হালকা হেসে বলল,
— “আমার চোখ ফাঁকি দেয়নি, ইফরা।”
তারপর একটু থেমে শান্ত গলায় বলল,
— “এসব এখন বাদ দে। আগে ইসরাতকে বুঝতে দে ও কী চায়। ও যা চাইবে সেটাই হোক। তাই ওকে বুঝতে দিস না যে আমরা কিছু বুঝে গেছি। আগে ওকে মানিয়ে নিতে দে… আর সিফাতকেও ভাবতে দে।”
ইফরা ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
— “আমি কিন্তু ক্ষেপাবো!”
ইয়েরিন মুচকি হেসে বলল,
— “ঠিক আছে, আগে খেতে আয়।”
ইফরা উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
— “দাঁড়া, লজ্জাবতীটাকে নিয়ে আসি।”
এই বলে সে দোতলার দিকে হাঁটতে শুরু করল…
ইফরা এবার আর বেশি দুষ্টুমি করল না। শুধু ইসরাতের রুমে গিয়ে দরজায় নক করল।
ভেতর থেকে ইসরাত ধীর গলায় বলল,
— “কি?”
ইফরা স্বাভাবিক গলায় বলল,
— “খেতে আয়।”
ইসরাত কিছু না বলে উঠে এল।
নিচে এসে তিনজন চুপচাপ খেতে শুরু করল। আগের মতো হাসাহাসি নেই, ইসরাতও অস্বাভাবিকভাবে চুপ।
খাওয়ার মাঝখানে ইয়েরিন তাদের মেইড তারা ফুপ্পিকে বলল,
— “তারা ফুপ্পি, একটু সিফাতকে ডেকে দেন তো।”
তারা বলল,
— “আচ্ছা।”
তিনি উপরে গিয়ে সিফাতকে ডাকলেন।
সিফাত বলল,
— “আসছি।”
প্রায় পাঁচ মিনিট পর সিফাত এসে ডাইনিং টেবিলে বসতেই ইসরাত কেমন যেন গুটিয়ে গেল। একবারও মাথা তুলে তাকাল না।
অনেক কষ্টে প্লেটের খাবার শেষ করল। তারপর কোনো কথা না বলে দ্রুত উঠে প্রায় দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেল।
সিফাত একবার তাকাল ঠিকই, কিন্তু কিছু বলল না।
এদিকে খাওয়া শেষ করে সবাই অফিসের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিতে লাগল।
ইফরা হঠাৎ বলল,
— “তোরা যা, আমি আমার ডিজাইন বুকটা নিয়ে আসি।”
ইয়েরিন আর সিফাত গাড়ি নিয়ে আগে বের হয়ে গেল।
প্রায় দশ মিনিট পর ইফরাও নিজের বাইক নিয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিল।
অফিসে পৌঁছে ইয়েরিন সিফাতকে জাপানের কোম্পানির সব ফাইল দিয়ে বলল,
— “এই বিল্ডিংয়ের ১৯ তলাতেই অফিসিয়াল সব ডিপার্টমেন্ট সেট করতে হবে।”
সিফাত সম্মতি জানিয়ে কাজে চলে গেল।