ফন্ট সাইজ:
থিম:
The rogue pair

পর্ব 20

লেখক: Farjana and fatema

একটু পর একজন নার্স এসে খাবার দিয়ে চলে গেল । কেবিনে আবার নীরবতা নেমে এল।

ইফরা খাবারের ট্রে খুলে ইয়েরিনের সামনে এনে বসাল।

— "চল, এবার ভালো মেয়ের মতো খেয়ে নে।"

ইয়েরিন মুখ কুঁচকে বলল,

— "একদম খেতে ইচ্ছা করছে না।"

— "ইচ্ছা না করলেও খেতে হবে। এত রক্ত গেছে তোর শরীর থেকে। রাফিয়ান ভাইয়া বলেছে ঠিকমতো না খেলে রিকভার করতে দেরি হবে।"

ইয়েরিন দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

— "উফ! সবাই দেখি ডাক্তারটার কথাই শুনছে!"

ইফরা চামচে করে এক চামচ স্যুপ এগিয়ে দিয়ে বলল,

— "কারণ উনি ঠিক কথাই বলেন।"

অবশেষে আর তর্ক না করে ইয়েরিন ধীরে ধীরে খেতে শুরু করল।

এদিকে কেবিনের বাইরে দাঁড়িয়ে রাফিয়ান রোগীর ফাইল দেখছিল। কিন্তু অদ্ভুতভাবে বারবার তার চোখ কেবিনের কাঁচের দরজার দিকে চলে যাচ্ছিল।

নিজের এমন আচরণে সে নিজেই বিরক্ত হয়ে মনে মনে বলল,

"রাফিয়ান, কন্ট্রোল ইউরসেলফ। সে শুধু একজন পেশেন্ট। এর বেশি কিছু না।"

কথাটা নিজেকে যতবারই বোঝাতে চাইল, ততবারই কেবিনের ভেতরে তাকানোর ইচ্ছেটা যেন আরও বেড়ে গেল।কথায় আছে না? নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বেশি।  আজকে সেটা প্রমাণিত। ।

ঠিক তখনই এক নার্স এসে বলল,

— "স্যার, ৩০৫ নম্বর কেবিনের রোগীর ওষুধগুলো চেক করে দেবেন?"

রাফিয়ান মাথা নেড়ে সেখানে চলে গেল।

প্রায় আধাঘণ্টা পর আবার ইয়েরিনের কেবিনে ঢুকল সে।

ইফরা তখন ইয়েরিনকে ওষুধ খাওয়াচ্ছিল।

রাফিয়ান ভেতরে ঢুকেই স্বাভাবিক গলায় বলল,

— "খাওয়া শেষ?"

ইফরা হেসে বলল,

— "জি ভাইয়া। অনেক কষ্টে খাওয়ালাম।"

রাফিয়ান ইয়েরিনের দিকে তাকিয়ে বলল,

— "গুড। এখন সময়মতো ওষুধ খেয়ে বিশ্রাম নেবেন। বেশি কথা বলা বা উত্তেজিত হওয়া একদম চলবে না।"

ইয়েরিন ভ্রু তুলে বলল,

— "আপনি কি সব পেশেন্টকেই এত আদেশ করেন?"

রাফিয়ান ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে উত্তর দিল,

— "না। যারা কথা শোনে না, শুধু তাদেরই একটু বেশি বলতে হয়।"

ইফরা দুজনের কথোপকথন শুনে মুচকি হেসে ফেলল।

ইয়েরিন মুখ ফিরিয়ে অন্যদিকে তাকাল।

— "আজব।"

— " হ্যা,,  বড়ই আজব,,। "

কথাটা বলেই রাফিয়ান হালকা হেসে ফেলল।

ইয়েরিন বুঝতে পারল, তাকে খোঁচা দেওয়া হচ্ছে।

সে বিরক্ত কন্ঠে বলল,

— "আচ্ছা, আপনি না খুব বিরক্তিকর মানুষ!"

— "ধন্যবাদ। এই কমপ্লিমেন্টটা আজ প্রথম পেলাম।"

ইফরা এবার আর হাসি আটকাতে পারল না। জোরে হেসে উঠল।

— "তোমাদের ঝগড়াটা দেখতে বেশ মজাই লাগছে।"

কথাটা শুনে দুজনেই একসঙ্গে ইফরার দিকে তাকাল।

কেউ কিছু বলল না।রাফিয়ান চলে গেল।

কিছুক্ষণ পর করিডোরে দ্রুত পায়ের শব্দ পাওয়া গেলো ইয়েরিন এক ভ্রু উঁচিয়ে বললো,,
-"আমি তো শিওর ওই রাতের বাচ্চা এসেছে,, আর এখানে ঢুকেই ও মরা কান্না জুড়বে,,।।"

কথা টা বলে ইয়েরিন দম ও নিতে পারলো না তার আগেই ইসরাত দৌড়ে কেবিনে ঢুকে এলো তার পেছনে সিফাত,,।।

ইসরাত এসেই হু হু করে কেঁদে উঠলো কান্নার দমকে তার শরীর কেঁপে কেঁপে উঠলো,, ধীরে ধীরে সে এগিয়ে এসে দাঁড়ালো ইয়েরিনের কাছে তারপর ইয়েরিন কে একবার ভেজা চোখে পরখ করে আবারও কেঁদে ফেললো,,ইফরা তাকে কাঁদতে দিলো যাতে তার মন একটু হালকা হয়,,

ইয়েরিন ধীর কন্ঠে বললো,,,
-" রাত এভাবে কাঁদিস না এটা হসপিটাল আর আমি মরে যাই নি,,।।"

ইসরাত কাঁদতে কাঁদতে বললো,,
-" হ্যাঁ হ্যাঁ কাঁদবো কেন মরিস নি তো তুই কিন্তু দেখেছিস কি নিজের অবস্থা?? এসব কি করেছিস নিজের?  গুলি লাগলো কীভাবে আর অ্যাকসিডেন্ট কীভাবে হলো? "
যদি কিছু হয়ে যেতো? "

-"রাত, প্লিজ শান্ত হ আমার কিচ্ছু হতো না,।।"

ইসরাত এগিয়ে এসে হালকা করে ইয়েরিন কে জড়িয়ে ধরে বললো,,,
-" প্লিজ রিন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যা,তোকে এভাবে দেখতে ভালো লাগছে না,"

ইফরা বললো,,
-"রিন এখন বিপদ মুক্ত ওর শুধু বিশ্রাম দরকার,,।। "

সিফাতও ইসরাত কে শান্ত করার চেষ্টা করলো,,

তারপর বললো,,,
-"আমাদের এবার বাইরে যাওয়া উচিত রাফিয়ান বললো ইয়েরিনের এখন বেশি কথা বলা ঠিক হবে না ওর শরীর দুর্বল,,,।। "

ইয়েরিন বললো -"এই ইফরা আমি বাড়ি যাবো আর এই ব্যান্ডেজ উফফ এগুলো ভীষণ  বিরক্তিকর এসব খুলে দে,,সামান্য ব্যাথা পেয়েছি আমি প্রতিবন্ধী হয়ে যাইনি যে এভাবে সং সেজে থাকতে হবে,,।।"

-"রিন ফালতু জেদ করবি না এটাকে সামান্য ব্যাথা বলছিস? গুলি খেয়েছিস অ্যাকসিডেন্ট করেছিস আর এখন সব সামান্য বলছিস??"

সিফাত বললো -"ইফরা ঠিক কথাই বলছে ইয়েরিন এখন জেদ করো না,,।।"

-"ওহ্ গড তোমরা এত প্যানিক করছো কেন? এটা নরমাল এরকম অনেক আঘাত আগেও পেয়েছি আমি এটা তেমন বড় বিষয় না,,।।"

ইসরাত বলে উঠলো -"সে যেমন বিষয়ই হোক এখন তুই কিছুদিন এভাবেই থাকবি..।।"

-"ওকে ফাইন থাকবো,,সিফাত শোনো,,।।"

-"হুম বলো?"

-"তুমি ফাহিম কে কল করে আমার সাথে দেখা করতে বলো আসল খেলা এখনো বাঁকি আছে...।।"

-"তুমি অসুস্থ ইয়েরিন হাতে যথেষ্ট সময় আছে,,।।"

-"নাহ্,, সময় খুব কম শত্রুর বাড়ানো হাত বেশি দূর বাড়তে দিতে নেই,,।।"

এমন সময় কেবিনে রাফিয়ান প্রবেশ করলো,,

,,রাফিয়ান হালকা স্বরে বললো,,

-"সিফাত তোমাদের এবার ওকে একা থাকতে দেওয়া উচিত ওর উত্তেজিত হওয়া ঠিক নয়,,।। "

তারপর রাফিয়ান ইয়েরিনের রিপোর্ট দেখতে দেখতে বললো,,,
-"আমি সত্যি অবাক না হয়ে পারছি না মিস ইয়েরিন আপনার এত রক্ত ক্ষরণ হয়েছে তবুও আপনি ভীষণ সচেতন আছেন সাধারণ মানুষের পক্ষে এটা সম্ভব নয়,,৷। "

ইফরা হালকা হেসে বললো -"ও সত্যি অসাধারণ এতটা যন্ত্রণা সহ্য করা সহজ নয়,,।।"

ইয়েরিন বললো,,-" হু হু আমি জানি আমাকে খোঁজার আগেই তো প্যানিক অ্যাটাক করে নিজে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে গেলি শালি ভন্ড,,।। "

-" রিন একদম ফাজলামো করবি না তুই জানিস তোকে খুঁজে না পেয়ে আর গাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখে আমার কি অবস্থা হয়েছিল,,?"

সিফাত বললো,,
-"আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে দুজনে চুপ করো,, ইফরা আর ইসরাত এখন প্যালেসে ফিরে যাও আমি এখানে থাকছি,,!!"

ইফরা জেদি স্বরে বললো-" না না আমি এখন কোথাও যাবো না তুমি রাত কে নিয়ে বাড়ি যাও,,"

ইয়েরিন ধমক দিয়ে বললো,,
-" চুপ করবি তুই? এখন চুপচাপ বাড়ি যাবি ফ্রেশ হবি রেস্ট নিবি তারপর আবার আসবি এখন সবাই বাড়ি যাও,,।।"

সিফাত বলে উঠলো -"সবাই যাও মানে কি? এখানে কে থাকবে তাহলে?? "

ইফরা বললো,,-" আমি ফাহিম কে কল করেছিলাম পুরো হাসপাতাল এখন আমাদের গার্ড রা ঘিরে রেখেছে,,।।"

ইয়েরিন বললো,,-" এবার সবাই ন্যাকামি বন্ধ করে প্যালেসে ফিরে যাও আর সিফাত তুমি একবার বেজমেন্টে খবর নিও বলেই হালকা হাসল, সিফাত প্রশ্ন করতে নিলে ইয়েরিন বললো আমার ঘুম পাচ্ছে এখন আর কথা বলতে পারবো না সবাই যাও,,।।"

রাফিয়ান কেবল লক্ষ্য করলো অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ইয়েরিন কৌশলে সবাইকে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে যদিও তার কথায় কঠোরতা প্রকাশ পাচ্ছে,  তবে একটু খেয়াল করলেই তার আড়ালে থাকা যত্ন টা বোঝা যায়....।।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 20 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন