বাড়িতে পৌঁছাতেই গাড়িটা ধীরে ধীরে থামল। একে একে সবাই গাড়ি থেকে নামতে লাগল। সবার আগে নামল সিফাত আর ইফরা। তারপর ফাহিম নেমে গাড়ির দরজা খুলে ইয়েরিনকে । ইফরা সাবধানে ইয়েরিনকে ধরে নামিয়ে আনল। সবাই বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ল, আর ড্রাইভার গাড়ি পার্ক করতে চলে গেল।
এদিকে দ্বিতীয় তলায় থাকা ইসরাত গাড়ির হর্ন শুনেই আর অপেক্ষা করতে পারল না। দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এল। ঠিক তখনই সিফাত অন্যদের থেকে একটু এগিয়ে এসে মেইন ডোর খুলতে যাচ্ছিল। কিন্তু তার আগেই ইসরাত দরজা খুলে ইয়েরিনদের দিকে ছুটে গেল। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে হঠাৎই হোঁচট খেল। পড়ে যাওয়ার আগেই সামনে থাকা সিফাত দ্রুত হাত বাড়িয়ে তাকে ধরে ফেলল।
ইসরাতকে এভাবে টলতে দেখে ইফরা, ফাহিম আর ইয়েরিন সবাই ভয় পেয়ে গেল।
সিফাত কিছু বলতে যাবে, তার আগেই ইফরা ধমকে উঠল,
— "আস্তে হাঁটাচলা করতে পারিস না? পড়ে গেলে কী হতো? আমরা তো আসছিলামই!"
ইসরাত মুখ ফুলিয়ে বলল,
— "তুই তো রিনের সাথে হাসপাতালে ছিলি। আমায় থাকতে দিলি না, এখন আবার বকছিস!"
— "রাত, পাগলামো করিস না। তোর হাসপাতালে থাকার অভ্যাস নেই। আগেরবার তো বমি করে, মাথা ঘুরে সাত দিন পড়ে ছিলি!"
ইসরাত ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
— "হয়েছে হয়েছে... যত দোষ রাত ঘোষ!"
ইফরা হেসে বলল,
— "ডায়লগটা চেনা চেনা লাগল কিন্তু!"
তাদের কথার মাঝেই ইয়েরিন হেসে বলল,
— "আরে, ভেতরে চল তো। কিসের ডায়লগ নিয়ে পড়ে আছিস সবাই!"
সবাই হেসে ভেতরে ঢুকে পড়ল।
ঘরে ঢুকেই ইসরাত গর্বের সুরে বলল,
— "তোমাদের জন্য অনেক কষ্ট করে রান্না করেছি। সবাই আগে ফ্রেশ হয়ে আসো।"
তারপর হঠাৎ ফাহিমের দিকে তাকিয়ে বলল,
— "আচ্ছা, ফাহিম, তোমার কাছে রাফিয়ান ভাইয়ার নাম্বার আছে না?"
ফাহিম মাথা নেড়ে বলল,
— "না, সিফাতের কাছে আছে।"
ইসরাত সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— "যার কাছেই থাকুক, উনাকে দাওয়াত দাও। মানুষটা আমাদের রিনের প্রাণ বাঁচিয়েছে। উনি না এলে আমার তেরো পদের রান্না একেবারে বিফলে যাবে।"
সিফাত বুঝতে পারল, ইসরাত লজ্জায় সরাসরি নিজের মুখে বলতে পারছে না। তাই মুচকি হেসে বলল,
— "আচ্ছা, এখনই কল দিচ্ছি। আমিও সেটাই বলতে চাচ্ছিলাম।"
ইসরাত ভান করে গম্ভীর মুখে বলল,
— "হয়েছে হয়েছে। এখন সবাই ফ্রেশ হয়ে এসো। যাও!"
ইফরা ইয়েরিনকে নিয়ে রুমে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর সবাই গোসল করে ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে এল।
ডাইনিং টেবিলের দিকে তাকিয়ে ইফরা বিস্ময়ে বলল,
— "কী কী রান্না করেছিস, রাত?"
ইসরাত আঙুল গুনে বলতে শুরু করল,
— "বিরিয়ানি, পোলাও, গরুর গোশত, মুরগির গোশত, পুডিং, সেমাই, পিঠা, চকলেট কেক, মোমো, চাইনিজ, নারিকেলের নাড়ু, পাস্তা... আর তোর ফেভারিট বুটের ডালের হালুয়া।"
সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। কিন্তু "বুটের ডালের হালুয়া" কথাটা কানে যেতেই ইফরা চমকে ইসরাতের দিকে তাকাল। পরমুহূর্তেই আস্তে করে চোখ নামিয়ে নিল। তার চোখ দুটো অজান্তেই ভিজে উঠল।
ইয়েরিন মুহূর্তেই বুঝে গেল ইফরার মনের অবস্থা। এই হালুয়াটা ছিল তার মায়ের হাতের সবচেয়ে প্রিয় খাবার। অনেকদিন পর সেই স্মৃতিটাই যেন বুকের ভেতর হঠাৎ করে জেগে উঠেছে।
পরিস্থিতি সামলাতে ইয়েরিন তাড়াতাড়ি প্রসঙ্গ বদলানোর চেষ্টা করল।
— "তোরা তাড়াতাড়ি খাওয়া শুরু কর। আমার কিন্তু খুব ক্ষুধা লেগেছে!"
সিফাত বলল,
— "একটু দাঁড়া। রাফিয়ান আসছে। অনেক রিকোয়েস্ট করার পর বেচারা রাজি হয়েছে।"
ইয়েরিন বিরক্ত হয়ে বলল,
— "আজব! শুধু প্রাণ বাঁচানোর জন্য এত আদিখ্যেতা করার কী আছে?"
ইসরাত সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— "চুপ কর, রিন। উনি না থাকলে আজ তোর কী হতো, ভেবেছিস?"
ইয়েরিন আর কোনো উত্তর দিল না। কথাটা পুরোপুরি এড়িয়ে গিয়ে প্লেট থেকে একটা পিঠা তুলে কামড় বসাল।
ঠিক তখনই সিফাতের ফোনটা বেজে উঠল।
স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখল, রাফিয়ানের কল।
হালকা হেসে বলল,
— "মনে হয় এসে গেছে। আমি নিয়ে আসছি।"
কথাটা বলে কল রিসিভ করেই সে উঠে দরজার দিকে হাঁটা দিল।সিফাত ফোনটা কানে ধরে দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে এল।
— "হ্যালো, ভাই, কোথায় আপনি?"
ওপাশ থেকে শান্ত গলায় রাফিয়ান বলল,
— "আমি গেটের সামনেই আছি।"
— "আচ্ছা, এক মিনিট। আমি আসছি।"
কল কেটে সিফাত দ্রুত গেটের দিকে এগিয়ে গেল।
গেট খুলতেই দেখতে পেল, রাফিয়ান কালো শার্ট আর ডেনিম জিন্স পরে দাঁড়িয়ে আছে। মুখে সেই চিরচেনা শান্ত ভাব। হাতে ছোট্ট একটা গিফট ব্যাগ।
সিফাত মুচকি হেসে বলল,
— "এত কষ্ট করে আবার কিছু আনতে হলো কেন?"
রাফিয়ান হালকা হেসে উত্তর দিল,
— "খালি হাতে কারও বাড়িতে যেতে ভালো লাগে না।"
— "চলুন, সবাই আপনার অপেক্ষায় আছে।"
দু'জনে পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে বাড়ির ভেতরে ঢুকল।
ড্রয়িংরুমে ঢুকতেই সবার চোখ একসাথে দরজার দিকে ঘুরে গেল।
ইসরাত উঠে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে বলল,
— "আসসালামু আলাইকুম, রাফিয়ান ভাইয়া।"
— "ওয়ালাইকুমুস সালাম।"
ইসরাত এগিয়ে এসে গিফটটা দেখে বলল।
— "আরে, এগুলো আবার কেন এনেছেন?"
— "তেমন কিছু না। ছোট্ট একটা জিনিস।"
ইফরা এগিয়ে এসে বলল,
— "ধন্যবাদ। আসুন, বসুন।"
ফাহিমও হাসিমুখে হাত বাড়িয়ে বলল,
— "আসুন ভাই, বসুন।"
রাফিয়ান সবার সাথে সৌজন্য বিনিময় করে সোফায় বসল।
শুধু ইয়েরিনই চুপচাপ বসে ছিল। একবার চোখ তুলে রাফিয়ানের দিকে তাকিয়েই আবার দৃষ্টি সরিয়ে নিল।
রাফিয়ানও সেটা লক্ষ্য করল, তবে কিছু বলল না।
ইসরাত আর অপেক্ষা না করে বলল,
— "আচ্ছা, সবাই টেবিলে চলুন। এতক্ষণ ধরে খাবারগুলো আপনাদের জন্যই অপেক্ষা করছে।"
ডাইনিং টেবিলে গিয়ে রাফিয়ান চারদিকে তাকিয়ে কিছুটা অবাক হয়ে গেল।
এত রকম খাবার একসাথে দেখে সে হেসে বলল,
— "এগুলো কি কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন, নাকি শুধু আমাকে দাওয়াত দিয়েছেন?"
কথাটা শুনে সবাই হেসে উঠল।
ইসরাত গর্বভরে বলল,
— "সব আপনার জন্যই। আপনি না থাকলে আজ আমাদের রিনকে হয়তো এভাবে ফিরে পেতাম না। তাই এই সামান্য আয়োজন।"
রাফিয়ান একটু অপ্রস্তুত হয়ে মাথা নাড়ল।
—"আমি শুধু আমার দায়িত্বটাই পালন করেছি।"
ইফরা এবার আস্তে করে বলল,
— "তাও... ধন্যবাদ।"
টেবিলে মুহূর্তের জন্য নীরবতা নেমে এল।
রাফিয়ান ইফরার দিকে তাকিয়ে হালকা হাসল।
— "ধন্যবাদের দরকার নেই। এখন তোমার বন্ধু ভালো আছেন, এটাই সবচেয়ে বড় কথা।"
ইসরাত হাততালি দিয়ে বলল,
— "আচ্ছা, এবার আর কেউ কোনো কথা বলবে না। সবাই খাওয়া শুরু করো। না হলে এত কষ্ট করে রান্না করা খাবারগুলো ঠান্ডা হয়ে যাবে।"
তার কথা শুনে সবাই নিজেদের প্লেট টেনে নিল। হাসি-আড্ডার মাঝেই শুরু হলো রাতের খাবার।সবাই চুপচাপ খাওয়া শুরু করল। টেবিলজুড়ে নানা রকম খাবারের ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরাত একবার এই প্লেটে, একবার ওই প্লেটে খাবার তুলে দিচ্ছে।
— "ফাহিম, আরেকটু গরুর গোশত নাও।"
— "ইফরা, তোর প্লেটে তো কিছুই নেই!"
— "এত আস্তে খেলে রাত শেষ হয়ে যাবে।"
সিফাত হেসে বলল,
— "আগে সবাইকে সার্ভ করতে দাও, তারপর খাব।"
ইসরাত এবার রাফিয়ানের প্লেটে বিরিয়ানি তুলে দিতে গিয়ে বলল,
— "ভাইয়া, একটু বেশি করে নিন। এত কষ্ট করে এসেছেন।"
রাফিয়ান ভদ্রভাবে বলল,
— "এতই যথেষ্ট। এর বেশি খেতে পারব না।"
— "না না, এই কথা শুনব না। আজকে না বলার সুযোগ নেই।"
বলে আরেক চামচ বিরিয়ানি দিয়ে দিল।
সবাই হেসে উঠল।
ইফরা মুচকি হেসে বলল,
— "সবাইকে জোর করে খাওয়ানোর অভ্যাস ওর ছোটবেলা থেকেই।"
— "অবশ্যই। আমার বাসায় কেউ না খেয়ে উঠতে পারবে না।"
ইসরাতের দৃঢ় জবাবে আবারও হাসির রোল উঠল।
এই পুরো সময়টাতে ইয়েরিন একদম চুপচাপ ছিল। মাথা নিচু করে ধীরে ধীরে খাচ্ছিল। কারও কথায় মাঝেমধ্যে শুধু হালকা হাসছিল, কিন্তু নিজে থেকে কিছু বলছিল না।
রাফিয়ানের চোখ এক-দু'বার অজান্তেই ওর দিকে গিয়েছিল। তবে সে দ্রুতই দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে অন্যদের কথায় মন দিল।
খাওয়ার মাঝখানে ফাহিম বলল,
— "ভাই, আপনি কি সবসময় এত শান্ত থাকেন?"
রাফিয়ান হালকা হেসে বলল,
— "সবসময় না। তবে অকারণে বেশি কথা বলার অভ্যাস নেই।"
— "বাহ! তাহলে ইয়েরিনের সাথে আপনার ভালো মিল হবে। ও-ও তো প্রয়োজন ছাড়া একটা কথাও বলে না।"
কথাটা শুনে ইয়েরিন শুধু একবার ফাহিমের দিকে বিরক্তি নিয়ে তাকাল। কিছু বলল না।
সিফাত কাশির ভান করে বলল,
— "খাবার সময় মানুষকে নিয়ে গবেষণা বন্ধ কর।"
— "আরে, আমি তো সত্যিই বললাম।"
পরিবেশ আবার স্বাভাবিক হয়ে গেল।
খাওয়া শেষ হতেই ইসরাত দ্রুত উঠে দাঁড়াল।
— "কেউ কিন্তু উঠবে না। আমি মিষ্টি নিয়ে আসছি।"
কিছুক্ষণ পর ট্রেতে করে পুডিং, সেমাই আর চকলেট কেক নিয়ে ফিরে এল সে।
সবাইকে এক এক করে দিতে দিতে বলল,
— "সবাই ভালো করে খাবে। অনেক কষ্ট করেছি।"
ইফরা মুচকি হেসে মাথা নাড়ল।
— "তুই আজ সত্যিই নিজেকে ছাড়িয়ে গেছিস।"
ইসরাত খুশিতে হেসে ফেলল।
ঠিক তখনই তার মনে পড়ল।
— "আরে! বুটের ডালের হালুয়া তো এখনও দেইনি!"
কথা শেষ করেই সে রান্নাঘরের দিকে দৌড়ে গেল।
ইফরা নিঃশ্বাস ফেলে হেসে বলল,
— "মেয়েটা কোনোদিনও বদলাবে না।"
কথাটা শুনে সবাই হেসে উঠল।
শুধু ইয়েরিন চুপচাপ বসে ছিল। সামনে রাখা পানির গ্লাসে আলতো করে আঙুল ঘুরাচ্ছিল। তার মুখে কোনো ভাব প্রকাশ না পেলেও, চোখ দুটো আগের চেয়ে অনেকটাই শান্ত লাগছিল।ইসরাত রান্নাঘর থেকে বড় একটা বাটি হাতে নিয়ে বেরিয়ে এল।
— "এই যে... সবার জন্য স্পেশাল বুটের ডালের হালুয়া!"
এক এক করে সবার বাটিতে হালুয়া তুলে দিল সে। ইফরার সামনে বাটি রাখার সময় একটু থেমে নরম গলায় বলল,
— "একবার খেয়ে দেখ... ভালো না লাগলে আর কখনো বানাব না।"
ইফরা ওর দিকে তাকিয়ে হালকা হাসল।
— "তুই বানিয়েছিস, খারাপ হবে নাকি?"
কথাটা শুনে ইসরাতের মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল।
সবাই যখন হালুয়া খেতে ব্যস্ত, তখন ইসরাত নিজের জন্য বাটি নিতে গিয়ে দেখল বাটিটা প্রায় খালি।
— "আরে! আমার জন্য তো কিছুই থাকল না!"
সিফাত চামচ থামিয়ে নিজের বাটিটা ওর দিকে এগিয়ে দিল।
— "এই নাও।"
— "তোমারটা কেন নেব?"
— "কারণ তুমিই তো বানিয়েছ। আগে তোমার খাওয়া উচিত।"
— "না, তুমি খাও।"
— "আমি বলছি, নাও।"
ইসরাত একটু ইতস্তত করছিল। শেষ পর্যন্ত সিফাতের হাত থেকেই বাটিটা নিয়ে এক চামচ মুখে দিল।
সিফাত মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করল,
— "কেমন হয়েছে?"
ইসরাত ভ্রু কুঁচকে বলল,
— "হুম... মোটামুটি।"
— "মিথ্যা বলো না।"
— "আচ্ছা... অনেক ভালো হয়েছে।"
দুজনের কথোপকথন দেখে ফাহিম হেসে বলল,
— "আমরা কি এখানে খেতে এসেছি, নাকি তোমাদের দুজনকে দেখতে?"
ইসরাত সঙ্গে সঙ্গে লজ্জা পেয়ে বলল,
— "চুপ করো তো!"
সিফাতও হেসে মাথা নিচু করল।
ইফরা মুচকি হেসে দৃশ্যটা দেখছিল।
অন্যদিকে ইয়েরিন এসবের দিকে একবার তাকিয়েই আবার নিজের বাটিতে মন দিল। তার কাছে এসব মুহূর্ত এখন বিরক্তিকরই লাগছিল। এত হাসাহাসি, খুনসুটি—সবকিছু থেকেই সে নিজেকে একটু দূরে রাখছিল।
রাফিয়ান অজান্তেই ইয়েরিনের দিকে তাকাল।
সবাই যখন গল্পে মশগুল, তখনও মেয়েটা চুপচাপ বসে আছে। প্রয়োজন ছাড়া একটা কথাও বলছে না। মুখে কোনো হাসি নেই, আবার রাগও যেন পুরোপুরি নেই।
অদ্ভুত একটা শান্ত ভাব।
নিজের অজান্তেই রাফিয়ানের ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠল।
'অদ্ভুত মেয়ে...'
মনে মনে শুধু এতটুকুই বলল সে।
ঠিক তখনই ইয়েরিন মাথা তুলে তাকাতেই দুজনের চোখ এক মুহূর্তের জন্য মিলল।
ইয়েরিন সঙ্গে সঙ্গে চোখ সরিয়ে নিয়ে নির্লিপ্ত গলায় বলল,
— "আমি উঠছি।"
কারও উত্তর শোনার অপেক্ষা না করেই সে ধীরে ধীরে উঠে নিজের রুমের দিকে চলে গেল।
রাফিয়ানের দৃষ্টি কিছুক্ষণ সিঁড়ির দিকেই স্থির রইল।
ফাহিম সেটা খেয়াল করে হেসে বলল,
— "ভাই, কী ভাবছেন?"
রাফিয়ান স্বাভাবিক হয়ে গ্লাস থেকে এক চুমুক পানি খেল।
— "কিছু না।"
কিন্তু তার মন বলছিল, সে সত্যিই 'কিছু না' ভাবছে না।
মেয়েটার নির্লিপ্ত মুখ, কম কথা বলা আর চোখের ভেতরের চাপা ক্লান্তিটা বারবার তার মনে ভেসে উঠছিল।
হয়তো এটাই ছিল শুরু—একটা একতরফা অনুভূতির, যার খবর এখনও ইয়েরিনের কাছে তো দূরের কথা, রাফিয়ান নিজেও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনি।