ফন্ট সাইজ:
থিম:
The rogue pair

পর্ব 25

লেখক: Farjana and fatema

সকাল সকাল ইসরাত এর চেঁচামেচিতে বিরক্ত হয়ে ইয়েরিন বিছানা থেকে উঠতে গিয়ে কাঁধের গুলি লাগা জায়গাটায় বেশ টান অনুভব করলো,,,,

তবুও চোখ মুখ খিঁচে উঠে দাঁড়ালো তারপর ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে বললো,,,
-" কিরে কি হয়েছে তোর চেঁচামেচি করছিস কেন?? মাথা ধরে গেলো একদম বেয়াদ্দব মহিলা,,"

ইফরাও ইসরাত কে বকতে বকতে নিচে নেমে এলো,,

ইসরাত বললো,,
-"দুটো তে আমাকে না বকে শুনবি তো কেন চেঁচাচ্ছি?"

ইয়েরিন বললো,,
-" হ্যাঁ বল আমার মা চেঁচাচ্ছিস কেন?"

-" আপনার যে সকাল ৭ টায় খাওয়ার পর কিছু ঔষধ খাওয়ার আছে সেটা ভুলে গেলেন? ব্যাথা টা কি আপনার নাকি আমার?? "

ইফরা বললো,,, -"ইস এত স্ট্রেস এর মধ্যে ভুলেই গেছি ভাগ্য ভালো ইসরাত তোর মনে আছে নয়তো এই খাটাশ মহিলা জীবনে নিজের ঔষধ নিজে খেয়াল করে খাবে না..."!"

ইসরাত মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বললো,, -"আমি সব মনে রাখি,, এই রিন এবার আয় খাবার খেয়ে নে তারপর ঔষধ খাবি আমি তোর জন্য রান্না করেছি..,"

ইয়েরিন জানে এখন তাকে খেতেই হবে নয় এই রাই আর রাত ওর মাথা খেয়ে ফেলবে তাই সে ডাইনিং এর দিকে গেল,,গিয়ে দেখলো তার প্রিয় স্যুপ নুডলস আর গরম গরম মোমো রাখা সে অবাক হয়ে  বললো -"এই রাত তুই ঘুমাস নি? এত রান্না করলি কখন? "

ইসরাত হেসে বললো-" না রে ঘুমাবো এখন এগুলো বানাবো বলে আর ঘুমাই নি,,।।"

-" What the hell রাত বাড়িতে এতগুলো মেইড থাকতে তুই না ঘুমিয়ে এসব করেছিস কেন,, "

-"কারণ তুই অসুস্থ তাই আমি তোর জন্য রান্না করেছি মেইড দের রান্না খাওয়ার জন্য সারাজীবন পড়ে আছে,,"

ইফরা বললো -"বাহ্ বাহ্ দুই বান্ধবীর কি ভালুপাছা আমাকে ভুলেই গেছে সবাই আমার জন্য কেউ সকাল সকাল এত রান্না করে না,,,।। "

ইসরাত মুখ ভেঙচিয়ে বললো,,, -"তুই অসুস্থ হ তোকেও আমি রান্না করে খাওয়াবো,,,।।"

ইফরা মুখ বাঁকিয়ে বললো,,, -"লাগবে না তোর এত যত্ন যার জন্য আমাকে অসুস্থ হতে হবে খাচ্চোর মহিলা,,।।"

তারপর তিন জনই হেসে উঠলো,,

ইসরাত দ্রুত এগিয়ে গেলো ইয়েরিন কে খাবার বেড়ে দিতে, ইয়েরিন বললো রাত এবার তুই ঘুমাতে যা আমি নিজে নিয়ে খেতে পারবো,,

ইসরাত জেদি স্বরে বললো,,,,,, -"না আগে তুই ঠিক মতো খাবার খাবি ঔষধ খাবি তারপর আমি ঘুমাবো,,"

ইয়েরিন জানে একে জোর করে লাভ নেই তাই চুপচাপ খেতে লাগলো ইয়েরিন এর খাওয়া দেখে ইফরাও লাফিয়ে টেবিলে চলে এলো,,তারপর বললো,,,-"এই রাত আমাকেও খেতে দে,,"

-"তুই নিজে নিয়ে খা প্রতিবন্ধী হয়ে গেছিস নাকি?"

-"রাতের বাচ্চা তুই দুই নজর করতেছস ইয়েরিন কে প্রিন্সেস ট্রিটমেন্ট দিয়ে আমাকে চাকরের মতো ট্রিট করছিস,,।।"

-"বেশ করেছি তুই নিজে নিয়ে খা না অসভ্য,,"

-"আমি তোকে বদদোয়া করলাম,,  তোর বাসর রাতে তোর জামাইয়ের পেট খারাপ হবে।। "

-"আর তোর জামাই তোকে লাত্থি দিয়ে খাট থেকে ফেলে দেবে।।,,,"

ওদের প্রায় ঝগড়া লেগেই যাচ্ছিলো তখনই ইয়েরিন খাওয়া বাদ দিয়ে রাগী চোখে তাকাতেই দুজন একদম চুপ করে গেলো,,

খাওয়া শেষে ইসরাত দায়িত্ব নিয়ে প্রতিটা ঔষধ ইয়েরিন কে খাইয়ে দিয়ে তবে ঘুমাতে গেলো,

আর ইফরা বসে বসে দেখলো ইসরাত এর এমন আদিখ্যেতা,,

হঠাৎ ইফরার মনে হলো, রাত আসলে ওদের অনেকটাই কেয়ার করে। ঝগড়াঝাঁটি তো বন্ধুত্বেরই অংশ। যত ঝগড়া, ততই যেন ভালোবাসা। তবে এসব অনুভূতি কি আর মুখে বলে প্রকাশ করা যায়?

রাত হয়ে গেছে চারিদিকে অন্ধকার হয়ে ঘনিয়ে নিকশ কালো রুপ ধারণ করেছে।।
ইফরা, ইয়েরিন আর রাত ঘুমাতে চলে গেল। শরীর দুর্বল থাকায় ইয়েরিন খুব দ্রুতই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল। ইফরাও চোখ বন্ধ করে শুয়ে ছিল। ঠিক তখনই দূর থেকে ভেসে এলো এক পরিচিত ডাক।

ডাকটা শুনেই ইফরার ঠোঁটে অজান্তেই হাসি ফুটে উঠল।

ওটা ছিল তাদের আদরের ঈগল—র‍্যাপ্টরের ডাক।

ইফরা খুব সাবধানে উঠে বসল। যেন ইয়েরিনের ঘুম না ভাঙে, সেজন্য নিঃশব্দে দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে আবার আলতো করে দরজাটা বন্ধ করে দিল। তারপর এক দৌড়ে ছাদের দিকে ছুটল।

দৌড়ে ছাদে উঠে তবেই থামল সে। হাঁপাতে হাঁপাতে দু'হাত হাঁটুর ওপর রেখে কয়েক সেকেন্ড শ্বাস নিল। মাথা তুলে তাকাতেই দেখল, র‍্যাপ্টর ডানা মেলে আকাশে গোল গোল করে উড়ছে, যেন শুধু ইফরাকেই ঘিরে নাচছে।

ইফরা দ্রুত পকেট থেকে একটি রুমাল বের করে ডান হাতে জড়িয়ে নিল। তারপর হাতটা সামনে বাড়িয়ে দিতেই বহুদিনের অভ্যাসমতো র‍্যাপ্টর এসে ঠিক রুমাল প্যাঁচানো হাতের ওপর গিয়ে বসল।

ইফরা মুচকি হেসে বলল,

— "কিরে রাপি, এই ষোলো দিন কোথায় ছিলি? তুই তো মাঝেমাঝেই উধাও হয়ে যাস। তাই ভাবছিলাম, নিশ্চয়ই কোথাও ট্যুরে গেছিস। হাহা!"

র‍্যাপ্টর গম্ভীর চোখে শুধু তার দিকে তাকিয়ে রইল।

ইফরা আবার বলল,

— "জানিস রাপি, একটা ব্যাড নিউজ আছে, আর একটা গুড নিউজ। কোনটা আগে শুনবি?"

র‍্যাপ্টর গলা উঁচু করে একবার বাজপাখির মতো তীক্ষ্ণ ডাক দিল।

ইফরা হেসে বলল,

— "আচ্ছা, ব্যাড নিউজটাই আগে বলি। রিনের কাঁধে গুলি লেগেছে।"

র‍্যাপ্টর যেন মুহূর্তেই শান্ত হয়ে গেল। মাথাটা একটু কাত করে ইফরার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।

ইফরা এবার হাসিমুখে বলল,

— "আর গুড নিউজ হলো... আমরা আমাদের দুলাভাইকে খুঁজে পেয়ে গেছি। কিন্তু সমস্যা কী জানিস? আমাদের শালী রিন তো দুলাভাইকেই দেখতে পারে না! মাইরি, একদম হেব্বি মাল!"

নিজেই হেসে উঠল সে।

— "যাই হোক, তোর জন্য একটা বাসা বানাবো, বুঝলি? এই ছাদেই বানাবো। বল তো, কোন পাশে বানালে তোর ভালো লাগবে?"

কথাটা শুনেই র‍্যাপ্টর ডানা মেলে উড়ে গেল। কয়েক সেকেন্ড আকাশে চক্কর দিয়ে ছাদের পেছনের উত্তর-পশ্চিম কোণের রেলিংয়ের ওপর গিয়ে বসল।

ইফরা সেদিকে তাকিয়ে মাথা নেড়ে বলল,

— "আচ্ছা, বুঝেছি। কাল না হয় পরশুই তোর নতুন আড্ডাখানা বানিয়ে দেব।"

র‍্যাপ্টর একবার ডানা ঝাপটাল, যেন সম্মতি জানাল। তারপর আলতো করে মাথা নাড়ল।

ইফরা মৃদু হেসে বলল,

— "আচ্ছা, এবার যাই। অনেক ঘুম পাচ্ছে। আবার দেখা হবে, বন্ধু।"

র‍্যাপ্টরও যেন নিজের মালিককে বিদায় জানিয়ে একবার তীক্ষ্ণ স্বরে ডাক দিল। তারপর বিশাল ডানা মেলে রাতের অন্ধকার আকাশ চিরে দূরে কোথাও উড়ে গেল।

আর ইফরা কিছুক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে নিঃশব্দে নিচে নেমে এল। সামনে কী অপেক্ষা করছে, তা সে জানত না। তবে আজ অনেকদিন পর তার মনটা অদ্ভুত এক শান্তিতে ভরে উঠেছিল।

সকালের নাস্তা শেষ করে ইফরা অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হলো। ইয়েরিনও উঠতে গিয়েছিল, কিন্তু ইফরা ধমক দিয়ে আবার শুইয়ে দিল। র‍্যাটও তাকে উঠতে দেয়নি। এখনও পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ইয়েরিনের শুধু বিশ্রামই দরকার।

ইফরা গাড়ি চালিয়ে অফিসের দিকে রওনা দিল। আর মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ বাকি।

হঠাৎই তার গাড়ির সামনে দিয়ে বিদ্যুৎগতিতে একটা কালো BMW ঝড়ের বেগে ছুটে গেল!

ইফরা তাড়াতাড়ি ব্রেক কষল। গাড়ি থেমে যেতেই সে বুক ভরে একটা শ্বাস নিল।

— "উফ... আর একটু হলেই তো..."

নিজেকে সামলে নিয়ে বিড়বিড় করে বলল,

— "আমি নিজেই হাই স্পিডে গাড়ি চালাতে ভালোবাসি, কিন্তু আমার পাশ দিয়ে আবার কোন সাইকো গেল রে?"

তারপর বিরক্ত মুখে আবার বলে উঠল,

— "কোন লুল্লু প্রাণী রে এভাবে গাড়ি চালায়! জানটাই তো পুরো কাঁপিয়ে দিয়ে গেল, মাইরি!"

বকবক করতে করতেই আবার অফিসের উদ্দেশে রওনা দিল।

অফিসে পৌঁছে কাউকে বিশেষ পাত্তা না দিয়ে সোজা নিজের কেবিনে ঢুকে পড়ল। একটু পরেই একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং থাকার কথা। ইয়েরিন আগেই তাকে সব বুঝিয়ে দিয়েছিল— কী কী করতে হবে, কোন ফাইল দেখতে হবে, সবই।

ঠিক তখনই একজন স্টাফ দরজায় নক করে ভেতরে ঢুকল।

— "ম্যাম, জাপানের কোম্পানিটা ই-মেইল করেছে। আজকের মিটিংটা ক্যানসেল করে ঠিক আগামী মাসে আজকের এই তারিখেই রাখা হয়েছে।"

ইফরা মাথা নেড়ে বলল,

— "ওকে, ঠিক আছে।"

স্টাফ চলে যেতেই ইফরা মুখ বাঁকিয়ে বিড়বিড় করল,

— "শালা! কোন হাবলার সাথে যে ডিল করছি! ছিঃ ছিঃ!"

তারপর সে অফিসের গ্রুপে একটা মেসেজ পাঠিয়ে দিল—

"আজ থেকে ঠিক সাত দিন পর ইয়েরিনের পুরোপুরি সুস্থ হওয়া উপলক্ষে অফিসে একটা পার্টির আয়োজন করা হবে। সবাই অবশ্যই উপস্থিত থাকবে।"

মেসেজটা দেখেই পুরো অফিসে খুশির হাওয়া বয়ে গেল। তবে ইফরার সামনে সেই আনন্দ প্রকাশ করার সাহস কারও হলো না।

শুধু ফাহিম আর চুপ থাকতে পারল না।

সে প্রায় লাফিয়ে উঠে বলে উঠল,

— "এইইই! তুমি কী দারুণ একটা খবর দিলে, ইফরা! আমার তো এখনই নাচতে ইচ্ছা করছে। দাঁড়াও, আমি তোমার কেবিনেই আসছি!"

কয়েক সেকেন্ড পরই ইফরার কেবিনে নক পড়ল।

— "Yes, come in."

অনুমতি পেয়েই ফাহিম দৌড়ে ভেতরে ঢুকল। ঢুকেই কোনো কথা না বলে উদ্ভট সব স্টেপে নাচ শুরু করে দিল।

ইফরা কয়েক সেকেন্ড অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল।

হঠাৎ সে চেয়ার ছেড়ে ধীর পায়ে উঠে দাঁড়াল। মুখে একদম গম্ভীর ভাব।

ফাহিমের মুখের হাসি মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল।

মনে মনে ভাবল,

— "আজকে মনে হয় চাকরিটা গেল!"

কিন্তু পরের মুহূর্তেই যা হলো, সেটা কল্পনাতেও ছিল না।

ইফরা হঠাৎ করেই ফাহিমের পাশে দাঁড়িয়ে একইভাবে নাচ শুরু করে দিল!

ফাহিম এক সেকেন্ড হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। তারপর হেসে ফেলল।

এরপর দু'জনের হাসি আর উদ্ভট নাচে পুরো কেবিনটাই জমে উঠল।ঠিক তখনই কেবিনের বাইরে দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন স্টাফ ভেতর থেকে ভেসে আসা হাসির শব্দ শুনে থেমে গেল।

একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,

— "আমরা কি ঠিক অফিসেই আছি?"

আরেকজন সাবধানে দরজার কাঁচ দিয়ে উঁকি দিতেই চোখ কপালে উঠে গেল।

— "আরে! বস... আর ফাহিম ভাই... নাচছে!"

কথাটা মুহূর্তের মধ্যেই পুরো অফিসে ছড়িয়ে পড়ল। সবাই অবিশ্বাসের চোখে একে অপরের দিকে তাকাতে লাগল।

এরই মধ্যে ইফরার চোখ দরজার দিকে পড়তেই সে কাশির ভান করে হঠাৎ থেমে গেল।

ফাহিম তখনও নিজের মতো নাচছে। কয়েক সেকেন্ড পর বুঝতে পেরে সে থেমে চারদিকে তাকাল।

ইফরা গম্ভীর গলায় বলল,

— "শেষ?"

ফাহিম শুকনো হাসি দিয়ে মাথা চুলকে বলল,

— "জি... আপাতত শেষ।"

— "তাহলে এখন কাজে যাও।"

— "জি ম্যাম।"

ফাহিম দরজা খুলতেই বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই তড়িঘড়ি করে যে যার ডেস্কে দৌড়ে চলে গেল, যেন কেউ কিছুই জানে না।

ফাহিম ঠোঁট কামড়ে হাসি চেপে নিজের ডেস্কে ফিরে গেল।

এদিকে ইফরা চেয়ারে বসে ল্যাপটপ খুলল। পার্টির জন্য একটা ছোট্ট প্ল্যান তৈরি করতে লাগল। সবার জন্য খাবার, ডেকোরেশন, মিউজিক—সবকিছুর একটা তালিকা বানিয়ে ফেলল।

অফিসের সব কাজ শেষে ইফরা দ্রুত প্যালেসে ফিরে এলো পুরো রাস্তা তার ভেতর এক চাপা উত্তেজনা ছিলো এত চাপে সে ভুলেই গেছে ইয়েরিনের থেকে সেদিনের সেই কাহিনির বিষয়ে জানতে, আজ তাকে জানতেই হবে সবটা,,

ইফরা প্যালেসে ফিরেই আগে গাড়ি টা নির্দিষ্ট জায়গায় রাখলো

তারপর গার্ডেন দিয়ে ভেতরে যাওয়ার সময় সে দেখলো সিফাত বেজমেন্টের দিকে যাচ্ছে

সে এক হাত কোমড়ে রেখে মুখে অন্য হাত বুলাতে বুলাতে বললো,,,
-"এই শালা সিফাত আবার ওই চিপায় যায় কেনো? ওখানে আবার কি কাহিনি ঘটাইছে, সব কাহিনি ওই রিন জানে আজ ওর পেট থেকে সব বের করে তবে ছাড়বো,,।।"

এসব ভেবে অদ্ভুত ভাব নিয়ে প্যালেসে ঢুকলো

দেখলো ইসরাত সিড়ি দিয়ে নামছে ওকে দেখেই ইফরা দুষ্টু হাসলো

তারপর বললো,,
-"ওওও মা রাত কই যাও?
আজ কাল দেখি তোমার চোখ খালি কাকে জানি খোঁজে প্রেম প্রেম বাতাসের ঘ্রাণ পাইতেছি।।।"

-" এই এসেই তোর উদ্ভট কথা বার্তা শুরু হলো! থাপ্পড় খেতে না চাইলে চুপ কর বেয়াদ্দব,,।। "

ইফরা সিড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে বললো,,,
-" হু হু জানি ওই পারো তুমি শালি ভুতনি পেত্নী,,।। "

-"ইফরার বাচ্চাাাাাাাাাাাাাা""

-"এই এমন চেঁচাস না আমি এখনো কানে ঠিক মতো শুনতে পাই,।।।"

বলেই ইফরা লাফিয়ে লাফিয়ে ইয়েরিনের কাছে চলে গেলো,,

ঘরে ঢুকে দেখলো ইয়েরিন ল্যাপটপে কিছু কাজ করছে কোনো কথা ছাড়াই ইফরা এক লাফে বিছানায় উঠে বসলো

ইয়েরিন ধমক দিয়ে বললো,,,
-"রাই এভাবে লাফাচ্ছিস কেন অসভ্য মহিলা অফিস থেকে ফেরার সময় কি ভুতে ধরছে নাকি তোকে??"

-"ধরতেই পারে যে চিপায় প্যালেস বানাইছস! আমি অসভ্য হলে তুই তো শালি খাঁড়া সাইকো,,।।"

-"এই ফালতু না বকে বল এভাবে লাফাচ্ছিস কেন??"

-"আরে ব্রোহ্ চাপ নিস না বলছি দাঁড়া আগে একটু পানি খেয়ে নেই,,"

-"হ্যাঁ খা বেশি করে খা যা গরুর মতো চেঁচাচ্ছিস,,।"

-"রিন একদম ফাও কথা বলবি না একদম তুলে আছাড় মারবো,,"

ইয়েরিন হো হো করে হেসে উঠলো তার এমন হাসি দেখে ইফরার গা জ্বলে উঠলো,,

ইয়েরিন হাসতে হাসতে পেট চেপে ধরে বললো,,,
-" আচ্ছা তুলতে পারলে মারিস আছাড়,,।।
এবার আসল কাহিনি বল,,

-"হুম হুম শোন তোর সুস্থ হওয়ার খুশিতে সাত দিন পর কোম্পানিতে একটা পার্টি রেখেছি আমি।।"

বলেই কপালে পড়ে থাকা চুল গুলো ফু দিয়ে উড়িয়ে দিলো,,

-"রাই, এসবের কি দরকার হ্যাঁ?? আমি তোকে বারণ করছি না তবে আমার মনে হয় এত কিছু করার দরকার নেই,,।। "

-"থাক তুই চুপ কর আমি জানি কি করা দরকার আর কি দরকার না,,।।।"

এরপর ইফরা নিজের মুখটা একদম সিরিয়াস বানিয়ে ইয়েরিনের সামনে এসে বসলো,

হঠাৎ তার এমন পরিবর্তন দেখে ইয়েরিনও ল্যাপটপ রেখে তার দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিলো।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 25 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন