ফন্ট সাইজ:
থিম:
The rogue pair

পর্ব 42

লেখক: Farjana and fatema

রাত প্রায় একটা।

দিনের বেলায় যে শহরের রাস্তা থামার নাম জানে না, রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই শহরটাই যেন নিজের আরেকটা রূপ ধারণ করেছে। দোকানপাট বন্ধ। রাস্তার দুপাশে সারি সারি ভবন অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছে। মাঝে মাঝে দূরে কোনো গাড়ির শব্দ শোনা যাচ্ছে, তারপর আবার সবকিছু আগের মতো নিস্তব্ধ।

সেই শুনশান রাস্তা ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো একটি সাদা গাড়ি।

কিছুক্ষণ পর শহরের মূল রাস্তা ছেড়ে গাড়িটি ঢুকে পড়ল অপেক্ষাকৃত নির্জন এলাকায়।

সামনে দাঁড়িয়ে আছে বহু বছর ধরে বন্ধ থাকা একটি পুরোনো ফ্যাক্টরি।

ভাঙা দেয়াল, মরিচা ধরা লোহার গেট আর চারপাশে জন্মানো আগাছা দেখে বোঝার উপায় নেই—এই জায়গাটির ভেতরে এখনও কোনো মানুষের আনাগোনা আছে।

ফ্যাক্টরির সামনে এসে গাড়িটি থামল।

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দুজন সুঠামদেহী লোক এগিয়ে এলো। একজন গাড়ির দরজা খুলে পাশে সরে দাঁড়াল।

ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো কালো ব্লেজার পরা একজন লম্বা পুরুষ।

আশপাশের আলো এতটাই কম যে তার মুখ স্পষ্ট বোঝা গেল না।

লোকটি একবার চারপাশে তাকাল।

তারপর কোনো কথা না বলে ফ্যাক্টরির ভেতরে ঢুকে গেল।

---

ভেতরের পরিবেশ আরও ভয়ংকর রকমের নীরব।

পুরোনো যন্ত্রপাতিগুলো ধুলোয় ঢাকা। দেয়ালের বিভিন্ন জায়গায় মাকড়সার জাল ঝুলে আছে। মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা কাঁচ আর মরিচা ধরা লোহার টুকরো।

লোকটি পকেট থেকে ফোন বের করে ফ্ল্যাশলাইট জ্বালাল।

সোজা সামনে না গিয়ে সে ফ্যাক্টরির একপাশের দেয়ালের দিকে এগিয়ে গেল।

সেখানে ঝুলে থাকা একটি পুরোনো, ভাঙা ছবির ফ্রেম সরাতেই দেয়ালের ভেতরে ছোট একটি ডিজিটাল প্যানেল দেখা গেল।

কয়েকটি সংখ্যা চাপার পর ক্ষীণ শব্দে দেয়ালের একটি অংশ সরে গেল।

অন্ধকার ফ্যাক্টরির ভেতরে লুকিয়ে থাকা আধুনিক একটি পথ।

লোকটি কোনো বিস্ময় প্রকাশ না করেই ভেতরে ঢুকে গেল।

কয়েক ধাপ এগোতেই দৃশ্যটা পুরোপুরি বদলে গেল।

পরিত্যক্ত ফ্যাক্টরির আড়ালে এমন একটি জায়গা থাকবে, বাইরে থেকে দেখে সেটা কল্পনাও করা সম্ভব নয়।

আধুনিক আলো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর সাজানো পরিবেশ।

একটি লম্বা টেবিলের চারপাশে বসে আছে বেশ কয়েকজন মানুষ।

কেউ মধ্যবয়সী।

কেউ বেশ তরুণ।

লোকটির ভেতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে টেবিলের চারপাশে থাকা প্রায় সবাই তার দিকে তাকাল।

মেহরাব ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে টেবিলের একটি খালি চেয়ারে বসে পড়ল।

তার মুখে কোনো তাড়াহুড়ো নেই।

কোনো অস্বস্তিও নেই।

কিন্তু বসার আগেই তার চোখ গিয়ে থামল টেবিলের একেবারে শেষ প্রান্তে বসে থাকা একজনের দিকে।

লোকটি অন্যদের থেকে একটু দূরে বসে আছে।

গায়ে কালো শার্ট।

বুকের কাছে কয়েকটি বোতাম খোলা।

চুলগুলো এলোমেলো।

মুখে একটি অদ্ভুত ধরনের মাস্ক।

লোকটি এতক্ষণ ধরে একবারও কারও কথার মাঝে অংশ নেয়নি।

শুধু চুপচাপ বসে আছে।

যেন সে এখানে আলোচনায় অংশ নিতে আসেনি।

শুধু দেখছে।

মেহরাব কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে থেকে অন্যদিকে চোখ ফিরিয়ে নিল।

তারপর শান্ত কণ্ঠে বলল,

—"আপনারা সবাই এসেছেন, তার জন্য ধন্যবাদ।"

টেবিলের চারপাশে নীরবতা নেমে এলো।

—"আপনারা কেউ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। তবে আপনাদের প্রত্যেকের ব্যাপারে আমার ধারণা আছে।"

মেহরাব সামান্য হেলান দিল।

—"তাই আগে নিজের পরিচয়টাই দিই। আমি মেহরাব রাফসান। Wear Wolf Group-এর বর্তমান মালিক।"

কয়েকজন একে অপরের দিকে তাকাল।

মেহরাব আবার বলল,

—"এই কোম্পানির মালিক ছিলেন আমার বাবা, মিস্টার কায়ের।"

একজন মধ্যবয়সী লোক ধীরে মাথা নাড়ল।

—"কায়েরকে কে না চিনত? আমাদের ভালো সম্পর্ক ছিল। তবে উনি তো তিন বছর আগে মারা গেছেন।"

মেহরাবের মুখের অভিব্যক্তি বদলাল না।

—"মারা যাননি। খুন হয়েছিলেন।"

কথাটা বলার পর কয়েক মুহূর্তের জন্য চারপাশটা অস্বস্তিকর রকমের চুপ হয়ে গেল।

মেহরাব ধীরে টেবিলের ওপর আঙুল রাখল।

—"যাই হোক। আমার পরিচয় তো হলো। এবার আপনাদের কথা বলি।"

তার দৃষ্টি একে একে সবার দিকে ঘুরল।

—"কারবার কেমন চলছে?"

একজন তরুণ তিক্ত হাসল।

—"কারবার?"

সে চেয়ারে হেলান দিল।

—"কারবার আছে। শান্তি নেই।"

—"কেন?"

—"কারণ এখন ভুল করার সুযোগ নেই।"

মেহরাব ভ্রু সামান্য তুলল।

—"কিসের ভুল?"

ছেলেটি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

—"আপনি অনেকদিন দেশের বাইরে ছিলেন, তাই না?"

—"জাপানে ছিলাম।"

—"তাহলে বুঝলাম।"

মেহরাব শান্ত গলায় বলল,

—"কী বুঝলে?"

ছেলেটি এবার একটু সামনে ঝুঁকল।

—"The Hell Group."

টেবিলের চারপাশের কয়েকজনের মুখের ভাব বদলে গেল।

—"Owner... Mahira Yerin।"

মেহরাবের চোখে ক্ষণিকের জন্য কিছু একটা খেলে গেল।

কিন্তু কণ্ঠস্বরে তার কোনো পরিবর্তন হলো না।

—"নামটা শুনেছি।"

—"শুধু নাম শুনলে হবে না।"

ছেলেটি তিক্ত কণ্ঠে বলল,

—"এই শহরে যারা আমাদের মতো কাজ করে, তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে ওর নাম শোনেনি"।

পাশ থেকে একজন মধ্যবয়সী লোক কঠিন গলায় বলল,

—"নামটা একটু সাবধানে বলো।"

ছেলেটি তার দিকে তাকাল।

—"কেন?"

—"কারণ তুমি জানো না কার কথা বলছ।"

ছেলেটি হালকা হেসে বলল,

—"একটা মেয়েকে নিয়ে এত ভয় পাওয়ার কী আছে?"

লোকটির মুখ শক্ত হয়ে গেল।

—"ওকে শুধু একটা মেয়ে ভেবে ভুল কোরো না।"

টেবিলের চারপাশে আবার নীরবতা।

মেহরাব ধীরে বলল,

—"তাহলে আমাকে একটু বোঝান।"

সবাই তার দিকে তাকাল।

—"Mahira Yerin কে?"

কয়েক সেকেন্ড কেউ উত্তর দিল না।

অবশেষে একজন বলল,

—"সমস্যা হলো... ওকে ঠিকভাবে কেউ চেনে না।"

—"মানে?"

—"ওর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। অনেক সন্দেহ আছে। কিন্তু কিছুই প্রমাণ করা যায় না।"

আরেকজন যোগ করল,

—"যারা ওর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে, তাদের বেশিরভাগই পরে আর আগের জায়গায় থাকেনি।"

মেহরাব শান্তভাবে শুনছিল।

—"প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন না কেন?"

এই প্রশ্নে কয়েকজন হেসে উঠল।

তবে সেই হাসিতে আনন্দ ছিল না।

ছিল অসহায়তা।

একজন বলল,

—"আপনি সত্যিই অনেক কিছু জানেন না।"

—"হয়তো।"

—"ওর বিরুদ্ধে তথ্য দেওয়া সহজ। কিন্তু তথ্য দেওয়ার পর কী হবে, সেটা কেউ জানে না।"

মেহরাব কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।

তারপর ধীরে বলল,

—"সবচেয়ে বড় সত্যিটা জানেন?"

সবাই তার দিকে তাকাল।

মেহরাবের কণ্ঠ এবার আগের চেয়ে কিছুটা নিচু।

—"আমার বাবার মৃত্যুর সঙ্গে ওর সম্পর্ক আছে।"

কথাটা শুনে চারপাশের পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল।

কয়েকজন বিস্ময়ে মেহরাবের দিকে তাকিয়ে রইল।

একজন বলল,

—"তাহলে এতক্ষণ ধরে কিছুই জানেন না এমনভাবে প্রশ্ন করছিলেন কেন?"

মেহরাব ঠান্ডা গলায় বলল,

—"কারণ আমি জানতে চেয়েছিলাম, আপনারা কতটা জানেন।"

টেবিলের একপাশ থেকে একজন বলল,

—"আমাদের এখানে ডেকেছেন কেন, সেটা বলুন।"

মেহরাব এবার সোজা হয়ে বসল।

—"ঠিক আছে। অনেক কথা হয়েছে।"

তার দৃষ্টি ধীরে ধীরে টেবিলের চারপাশে থাকা প্রত্যেকের ওপর দিয়ে গেল।

—"আমি Mahira Yerin-এর বিরুদ্ধে কাজ করতে চাই।"

কেউ কিছু বলল না।

মেহরাব আবার বলল,

—"শুধু ওর বিরুদ্ধে না।"

তার কণ্ঠ আরও ঠান্ডা হয়ে গেল।

—"The Hell Group-এর বিরুদ্ধেও।"

একজন হঠাৎ উঠে দাঁড়াল।

—"তুমি কি বুঝতে পারছ কী বলছ?"

—"খুব ভালোভাবেই।"

—"কার পেছনে লাগতে চাইছ তুমি জানো?"

—"জানি।"

—"না। জানো না,,ও ভয়ানক।"

লোকটি রাগে বলল,

—"তুমি যদি জানতে, তাহলে এই কথাটা বলার আগে অন্তত দুবার ভাবতে,,ও মানুষ না সাক্ষাৎ নরকের দূত।"

মেহরাব ও চেচিয়ে উঠে বলল,,

-" আমার সামনে গলার আওয়াজ নামিয়ে কথা বলুন,,  নাহলে গলা দিয়ে কথা বের হওয়ার আগে আটকে দেব,,  mind it.. "

সবাই চুপ হয়ে গেল মুহুর্তেই,,

মেহরাবের মুখে হালকা হাসি ফুটে উঠল।

—"তাহলে আপনারা ভয় পাচ্ছেন?"

কেউ উত্তর দিল না।

—"আমি আপনাদের কাউকে জোর করছি না।"

সে ধীরে উঠে দাঁড়াল।

—"যারা বিশ্বাস করেন এই শহরে Mahira Yerin এবং The Hell Group-এর প্রভাব কমানো দরকার, তারা আমার সঙ্গে থাকবেন।"

মেহরাব কয়েক সেকেন্ড থামল।

—"আর যারা চান না..."

সে দরজার দিকে তাকাল।

—"তাদের জন্য দরজা খোলা।"

চারপাশে নীরবতা।

মেহরাব আবার সেই মাস্ক পরা লোকটির দিকে তাকাল।

লোকটি এখনও চুপচাপ বসে আছে।

এতক্ষণ ধরে আলোচনার প্রতিটি কথা শুনেছে।

কিন্তু একবারও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

মেহরাবের চোখ সরু হয়ে এলো।

—"আর আপনি?"

প্রথমবারের মতো মাস্ক পরা লোকটি ধীরে মাথা তুলল।

ঘরের সব দৃষ্টি এবার তার দিকে।

সে কিছুক্ষণ মেহরাবের দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর খুব শান্ত কণ্ঠে বলল,

—"আপনি ভুল মানুষকে শত্রু বানাতে যাচ্ছেন, মিস্টার মেহরাব রাফসান।"

ঘরটা আবার নীরব হয়ে গেল।

মেহরাবের ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠল।

—"হয়তো। তবে আপনার গায়ে লাগল মনে হচ্ছে। "

ঘরের ভেতর কয়েক সেকেন্ডের জন্য সম্পূর্ণ নীরবতা নেমে এলো।

মেহরাব স্থির দৃষ্টিতে মাস্ক পরা লোকটার দিকে তাকিয়ে রইল।

লোকটার কথার মধ্যে কোনো ভয় ছিল না।

বরং অদ্ভুত এক ধরনের নিশ্চয়তা ছিল।

—"আপনি নিশ্চিত?"

মেহরাবের প্রশ্নে লোকটা চেয়ারে হেলান দিল।

—"খুব।"

—"আপনি কি Mahira Yerin-কে চেনেন?"

লোকটা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর ধীরে মাথা কাত করল।

—"চেনা আর জানা এক জিনিস না, মিস্টার মেহরাব রাফসান।"

মেহরাবের চোখ সরু হয়ে এলো।

—"ধাঁধা আমার পছন্দ না।"

—"ভালো কথা।"

লোকটা শান্ত কণ্ঠে বলল,

—"তাহলে সহজ করে বলি।"

সে ধীরে টেবিলের ওপর আঙুল রাখল।

—"আপনি যাকে আপনার বাবার মৃত্যুর জন্য দায়ী করছেন, তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগে অন্তত নিশ্চিত হোন... আপনার বাবা সত্যিই কার হাতে মারা গিয়েছিলেন।"

কথাটা শুনে মেহরাবের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।

—"আপনি কী বলতে চাইছেন?"

—"আমি কিছুই বলছি না।"

—"তাহলে?"

লোকটা সামান্য সামনে ঝুঁকল।

—"আমি শুধু বলছি, আপনি যে গল্পটা এতদিন ধরে বিশ্বাস করে এসেছেন, সেটা হয়তো পুরো গল্প না।"

টেবিলের চারপাশে থাকা কয়েকজন একে অপরের দিকে তাকাল।

মেহরাব ধীরে বসে পড়ল।

তার চোখ এবার পুরোপুরি লোকটার ওপর স্থির।

—"আপনি অনেক কিছু জানেন বলে মনে হচ্ছে।"

—"হতে পারে।"

—"আপনি কে?"

এই প্রশ্নে লোকটা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকল।

তারপর ধীরে হাসল।

মাস্কের কারণে হাসিটা পুরোপুরি দেখা গেল না।

কিন্তু চোখের কোণে তার ছাপ স্পষ্ট।

—"আজ আমার পরিচয় জানাটা আপনার জন্য প্রয়োজনীয় না।"

মেহরাবের কণ্ঠ এবার একটু কঠিন হলো।

—"কিন্তু আমার জন্য প্রয়োজনীয়।"

লোকটা মাথা নাড়ল।

—"না।"

সে উঠে দাঁড়াল।

—"এখনও না।"

মেহরাবের সঙ্গে থাকা দুজন লোক এক মুহূর্তে সতর্ক হয়ে গেল।

কিন্তু মাস্ক পরা লোকটা সেদিকে তাকালও না।

সে ধীরে ধীরে দরজার দিকে হাঁটতে শুরু করল।

হঠাৎ মেহরাবের কণ্ঠ শুনে থেমে গেল।

—"আপনি কোথায় যাচ্ছেন?"

লোকটা পিছন ফিরে তাকাল না।

—"আপনার মিটিং শেষ।"

—"আমি তো বলিনি।"

—"বলতে হবে না।"

লোকটির কণ্ঠ এবার আগের চেয়েও শান্ত।

—"আপনি যাদের নিয়ে Mahira Yerin-এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চাচ্ছেন, তাদের অর্ধেক প্রথম বিপদ দেখলেই পালাবে।"

সে সামান্য থামল।

—"আর বাকিরা বুঝতেই পারবে না কখন তারা ভুল জায়গায় পা দিয়েছে।"

এই কথায় টেবিলে বসে থাকা কয়েকজনের মুখ শক্ত হয়ে গেল।

একজন রাগে উঠে দাঁড়াল।

—"এই ছেলে, তুমি আমাদের ভয় দেখাচ্ছ?"

লোকটা এবার ধীরে পিছনে ফিরল।

মাস্কের আড়ালে থাকা চোখ দুটি একবার তার দিকে তাকাল।

শুধু একবার।

লোকটি আর কোনো কথা বলল না।

কিন্তু সেই ছোট্ট নীরবতার পর মধ্যবয়সী লোকটি নিজেই ধীরে বসে পড়ল।

মেহরাব সবকিছু লক্ষ্য করছিল।

মাস্ক পরা লোকটা আবার দরজার দিকে হাঁটতে শুরু করল।

দরজার কাছে গিয়ে হঠাৎ থেমে গেল।

—"ওহ, আরেকটা কথা।"

মেহরাব তাকাল।

লোকটা এবার ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।

—"Mahira Yerin-এর বিরুদ্ধে পরিকল্পনা করার আগে..."

সে কয়েক সেকেন্ড থামল।

—"নিজের আশেপাশের মানুষদের চিনে নেবেন। বলা   তো যায় না দুধভাত দিয়ে কালসাপ  পুষে সেই সাপের কাছেই যদি আবার ছোবল  খান। "

মেহরাবের ভ্রু কুঁচকে গেল।

—"এর মানে?"

লোকটা উত্তর দিল না।

শুধু দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে গেল।

দরজাটা বন্ধ হওয়ার শব্দের পরও কিছুক্ষণ কেউ কোনো কথা বলল না।

মেহরাবের চোখ এখনও দরজার দিকে স্থির।

তার মাথার ভেতরে শুধু একটি কথাই ঘুরছিল।

"নিজের আশেপাশের মানুষদের চিনে নেবেন।"

---

ফ্যাক্টরির বাইরে রাত আরও গভীর হয়ে গেছে।

মাস্ক পরা লোকটি ধীরে ধীরে অন্ধকারের দিকে এগিয়ে গেল।

বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একজন লোক তাকে দেখে মাথা নিচু করল।

—"সব ঠিক আছে?"

ছেলেটা হাঁটতে হাঁটতেই বলল,

—"না।"

লোকটি কিছুটা অবাক হলো।

—"তাহলে?"

মাস্ক পরা লোকটা থেমে গেল।

ধীরে ধীরে নিজের মুখ থেকে মাস্কটা খুলল।

কিন্তু অন্ধকারের কারণে মুখটা এখনও স্পষ্ট দেখা গেল না।

—"মেহরাব রাফসান তার বাবার মৃত্যুর পেছনের সত্যিটা জানে না।"

লোকটি পিছন ফিরে ফ্যাক্টরির দিকে তাকাল।

তার ঠোঁটে অদ্ভুত এক হাসি ফুটে উঠল।

—"আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো..."

সে আবার হাঁটতে শুরু করল।

—"সে এখন এমন একজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে যাচ্ছে যে নিজেই একজন যমদূত। "

কিছু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কালো গাড়িটির দরজা খুলে গেল।

লোকটি গাড়িতে ওঠার আগে একবার আকাশের দিকে তাকাল।

তারপর খুব নিচু কণ্ঠে বলল,

—"খেলা শুরু হবে এবার।"

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 42 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন