আজকের দিনটা অস্বাভাবিক ভাবে শান্ত,,।
ইয়েরিন আজ বেশ ভোরে উঠেছে অফিসে কিছু মিটিং আছে।
ঘুম থেকে উঠে সে দ্রুত ফ্রেশ হতে গেলো যাওয়ার আগে ইফরাকে একটা ছোট্ট মেসেজ দিয়ে গেলো
-" রাই ফার্স্ট উঠে রেডি হ"
এটুকু লিখেই বিছানায় ফোন ছুড়ে মেরে চলে গেলো।
ওদিকে ঘুমে ঢুলু ঢুলু চোখে ইফরা ফোন হাতে নিয়ে দেখলো ইয়েরিনের মেসেজ তারপর চোখ কচলে উঠে বসে একদফা ইয়েরিনকে গালি দিলো।
-"শালি ভন্ডরে কইলাম বাল আজ অফিস যামু না আজ ছুটি দে না ওনি ছুটি দিবেন না শালি পেঁচা মুইখা মরবি শালি তুই তোর জামাই তোরে তিনবেলা ঝাড়ু নিয়া দৌড়াইবো দেহিস।"
-"এত গালি দিয়া লাভ নাই, আজ যে তোর নতুন ড্রেস প্রিপেয়ার করতে হবে সেটা কি আমি করে দিবো? "
ইফরা চমকে দরজার দিকে তাকালো।
ইয়েরিন দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইফরা এক লাফে বিছানা থেকে নেমে গেলো।
তারপর বোকার মতো বললো,,
-"এহ্ মনেই ছিলো না সরি সরি ত.. তুই য.. যা আ.. আমি আসছি।"
-"তা মনে থাকবে কেন তুই তো জাতে মাতাল তালেও মাতাল। "
বলেই ইয়েরিন গট গট পায়ে হেঁটে চলে গেলো,ইফরা যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলো নয়তো এক্ষুনি ফালতু কথা বকার জন্য মার খেতো।
ইয়েরিন আর ইফরা দ্রুত অফিস চলে গেলো ইসরাত আজ এখনো উঠেনি,,এখন তার দিন কাটছে আলসেমিতে।
যেখানে সেখানে তাকে মরার মতো পরে থাকতে দেখা যায় তাই নিয়ে ইফরা তাকে সারাদিন কি ক্ষেপানো টাই না ক্ষেপায়।
প্রায় ৮:৩৫ এ ইয়েরিন আর ইফরা কোম্পানিতে পৌঁছালো,
-"রাই তুই তোর কাজে যা আজ আমাকে একটু এয়ারপোর্টে যেতে হবে। "
-"কেন?"
-"কেন মানে কি আজ সিফাত আসবে ওকে আনতে যেতে হবে। "
-"ওহ্ কিন্তু ফাহিম কে পাঠিয়ে দিলেই তো হতো?"
-"ওদিকে আমারও কিছু কাজ আছে।"
-"আচ্ছা যাহ্।"
বলেই ইফরা হাত ঝেড়ে ভেতরে চলে গেলো।
ইয়েরিনও নিজের কেবিনে চলে গেলো সাড়ে নয়টার দিকে একটা মিটিং আছে তার।
অফিসে বসেই সে কিছু ফাইল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলো।
--------------
স্যার আপনার সাথে একজন দেখা করতে এসেছে,,
স্টাফ বয় এর কথা শুনে রাফিয়ান টেবিল থেকে মুখ তুলে তাকালো
-"কে এসেছে? "
-"একটা মেয়ে।"
-"নাম?"
-"ইসরাত জাহান,,"
-"ইসরাত? ও এখানে কেন?আচ্ছা ওকে পাঠিয়ে দাও।"
-"জ্বি স্যার।"
কিছুক্ষণ পর কেবিনে ইসরাত প্রবেশ করলো,,
-"কেমন আছো রাফিয়ান ভাইয়া?"
-"এইতো ভালো তুমি কেমন আছো? আর হঠাৎ এখানে?"
-"আমি ভালো আছি,, এমনি এসেছি কেন আসা বারণ?"
-"না না তেমন কিছু না আসলে তুমি বাড়িতে আসতে পারতে হাসপাতালে আসলে কেন?"
-"তোমার বাড়ি আমি চিনি নাকি?"
-"হ্যাঁ সেটাও কথা।"
-"হুম আচ্ছা কাজের কথা বলি?"
-"হুম? কি কাজের কথা?"
-"আছে আগে বলো শুনবে আমার কথা?"
-"আরে তুমি আগে বলো তো?"
-"হুম সামনে সপ্তাহে আমরা সবাই ট্রিপে যাচ্ছি বিদেশে,,আর আমাদের সাথে তুমিও যাবে প্লিজ?"
-"কি বলছো আমি কীভাবে যাবো আমার ডিউটি আছে আর তাছাড়া এভাবে যাওয়া যায় নাকি??"
-"না না আমি জানি না তুমি যাচ্ছো ব্যস তুমি রিনকে বাঁচিয়েছো এটা তোমার গিফ্ট। "
-"মানুষকে বাঁচানোই আমার কাজ তাই বলে এমন বাচ্চামো করার মানে হয়?আমার তো ছুটিও নেই।"
-"ওটা নিয়ে চিন্তা করো না রিন আছে না ও সব ম্যানেজ করে নিবে।"
-"ওনি কীভাবে? "
-"আরে যেভাবেই করুক তুমি কিন্তু যাবে,,"
-"আমি,, আচ্ছা দেখছি।পরে তোমাকে কনফার্ম করে জানাবো ওকে?"
-"ওক্কে এখন তাহলে আমি যাই কাউকেই বলে আসিনি না বলে বেরিয়েছি জানলে রিন পেটাবে।"
-"কিছু খেয়ে যাও চা কফি?"
-"আরে না পরে একদিন খাবো আজ যাই।"
ইসরাত চলে গেলো,,আর রাফিয়ান সেখানেই কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইলো।
ঘড়ির কাঁটায় দুপুর দুটো বাজতেই ইয়েরিন অফিস থেকে বেরিয়ে গেলো এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে।
সিফাত প্লেন থেকে নেমেছে অনেক্ক্ষণ আগেই এখনো ইয়েরিন আসেনি দেখে সে ভীষণ বিরক্ত হলো।
ঘড়িতে দেখলো বিকেল ৪:১০ কপালে হাত ঘষে সে আবার রাস্তার দিকে তাকালো গরমে সে ঘেমে নেয়ে একাকার,,
একটু পর একটা কালো গাড়ি এসে থামলো তার থেকে একটু দূরে গাড়ির কাঁচ নামিয়ে ইয়েরিন তাকে ইশারায় গাড়িতে উঠতে বললো।
তাতে সিফাত আরও বিরক্ত হলো এই মেয়েটা কি অদ্ভুত একেই তো লেট করে এসেছে তার উপর তিনটা লাগেজ এগুলো একটু গাড়িতেও তুললো না,,
-"এত ভাবার কিছু নেই আমি তোমার লাগেজ তুলতে আসিনি তাড়াতাড়ি আসো নয়তো আমি গেলাম। "
সিফাত অবাক হয়ে গেলো সে কি ভাবছে তা ইয়েরিন জানলো কি করে? ডেঞ্জারাস মেয়ে এটা।
সিফাত আর দাঁড়ালো না তাড়াতাড়ি গাড়িতে লাগেজ গুলো তুলে নিজেও উঠে পড়লো।
-"এত লেট করে এলে কেন?"
-"তো আমি এসে তোমার জন্য অপেক্ষা করবো নাকি তুমি অপেক্ষা করেছো এটাই ঠিক।ফালতু কোথাকার। "
-"এই একদম মেয়ে মানুষের মতো ন্যাকামি করবে না কিন্তু।"
-"না না আমি ন্যাকামি করবো কেন।প্যালেসে গিয়ে রেস্ট নিয়ে একবার বেজমেন্টে যেও।"
-"কেন?"
-"একজন মেহমান আছে ওনাকে সেবা দিও।"
-"আমি কেন তুমি দিলেই তো হতো? "
-"ওর মতো চুনোপুঁটি মারার রুচি নেই।"
-"আচ্ছা। "
-"হু। "
তারপর ইয়েরিন আর একটাও কথা বললো না ওদিকে সিফাত বকবক করেই যাচ্ছে এতদিন কি করলো কোথায় গেলো কি খেলো সব।
-"সিফাাাাত। "
ইয়েরিনের ধমকে সিফাত হা করে তাকিয়ে রইলো সে আবার কি করলো এভাবে চিল্লিয়ে উঠার কি হলো?
-"এই এমন মেয়ে মানুষের মতো প্যাঁক প্যাঁক করছো কেন হ্যাঁ?"
ধমক খেয়ে সিফাত মুখ ঘুরিয়ে বাইরে তাকিয়ে বললো,,
-" ধুর মনেই ছিলো না যে এটা খাড়া আজরাইল।"