[ বি : দ্র : হিংস্রতা আছে ]
--------------
হাসপাতালে আজ রাফিয়ানের বেশ ব্যস্ত সময় যাচ্ছে।
ইসরাতের আবদার রাখতে সামনে সপ্তাহে তাদের সাথে আবার ঘুরতে যেতে হবে।
তবে ছুটি ম্যানেজ করতে তেমন সমস্যা হয়নি কারণ রাফিয়ান হাসপাতাল থেকে ছুটি নেয় খুব কমই মাঝে মাঝে ঈদেও নিজের ডিউটি চালু রাখে তাই ছুটি পাওয়াটা তেমন কঠিন ছিলো না।
তবে এত সব কিছুর মাঝেও যেন তার একটা পরিচিত রুটিন আছে।
রোগী দেখা শেষ করে রাফিয়ান নিজের কেবিনে বসে ফোনে কিছু দেখছিলো
এমন সময় তার এক ফ্রেন্ড ভেতরে এসে বললো,,
-"কি ভাই রাফি আজকাল কোথায় ডুবে থাকছিস? আগে তো ডিউটি শেষ হলেই গল্প করতে চলে যেতি এখন তো খোঁজও নেস না ভাই।"
-"আরে রাহিম আয় বস। আসলে তেমন কোনো বিষয় না আজকাল কাজ একটু বেশি এই যা।"
-"থাক ভাই আমাকে ওত বোঝাতে হবে না সুযোগ পেলেই যে তুমি ফোনের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে মুচকি হাসো ওটা আর কেউ না দেখুক আমি ভালোই দেখি।এবার বলতো মেয়েটা কে?"
-"তোর আর ফালতু কথা গেলো না এত কাজের চাপ খাওয়ার সময় পাই না আবার মেয়ে।"
-"চুপ শালা তোকে আমি হাড়ে হাড়ে চিনি। "
-"বাব্বাহ্ কিন্তু তুই তো হাড়ের ডাক্তার না হার্টের ডাক্তার। "
-"হুম ব্রো এজন্যই তো তোমার হার্ট থেকে আমি লাভ লাভ গন্ধ পাচ্ছি। "
-"সেসব বাদ দে তুই বল তোর কাজ কেমন চলছে?"
-"হুম ভালোই, শুনলাম তুই ছুটি নিয়েছিস কোথায় নাকি বাইরের দেশে ঘুরতে যাবি?"
-"হুম ঠিকই শুনেছিস।"
-"তা হঠাৎ? "
-"আরে এমনিই কয়েকটা ফ্রেন্ড এর সাথে যাবো। "
-"ওহ্ আচ্ছা, তাহলে থাক আমার আবার ডিউটি আছে।"
-"হুম যা।"
--------------
-"এই রিন শোন তুই আগে আমাকে বল কোন পার্টি কিসের পার্টি নয়তো আমি যাচ্ছি না।"
-"ওকে যাস না আমি একাই চলে যাবো।"
-"রিন এমন করিস না প্লিজ বল,নয়তো আমার আজ খাবার হজমই হবে না।"
-"ফাহিম কে বলে হজমের ঔষধ আনিয়ে নে না।"
-"ওফ্ তোর এই ফালতু কথায় আমার মাথা ব্যাথা করছে।"
-"তো নিজের কেবিনে যা?"
-"বলনা কিসের পার্টি? "
-"মাফিয়াদের পার্টি স্পেশাল invitation আছে।"
-"ওহ্ আচ্ছা এটা আগে বললেই হতো।"
-"হুম যা তোর তো রেডি হতে দিন শেষ হয়ে যায় অলরেডি বিকেল হয়ে গেছে।"
-"তুই যাবি কখন? "
-"আমার কিছু কাজ আছে আপাতত তুই প্যালেসে যা আমি গিয়ে তোকে নিয়ে আসবো।"
-"ওক্কে ব্রো বাইইইইইই।"
ইয়েরিন হালকা হেসে বললো,,
-" দেবযানী যদি জানে তুই সারা দিন রাত ওর ডায়লগ দিয়ে বেড়াস তাহলে বেচারি হার্ট এটাক করবে। "
ইফরা যেতে যেতে চেঁচিয়ে বললো,,
-"করবে না রে আমার মত বড় ডিজাইনার ওর ফ্যান জানলে ও কান্না করে দিবে।"
প্যালেসের চারপাশে তখন অস্বাভাবিক নীরবতা।
ইয়েরিন নিজের রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আয়নায় শেষবারের মতো নিজেকে দেখছিল।
কালো রঙের লং ড্রেসের ওপর একটি ডার্ক ওভারকোট। কোমর পর্যন্ত নেমে আসা চুলগুলো খোলা।
তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল ইফরাও।
সেও সম্পূর্ণ রেডি।
তার পোশাকটাও ইয়েরিনের সঙ্গে একদম ম্যাচ করা। দুজনকে একসাথে দেখলে মনে হচ্ছিল, তারা যেন একই অন্ধকারের দুই ভিন্ন ছায়া।
ইসরাত নিজের রুমে আছে। প্যালেসের চারপাশের কঠোর নিরাপত্তা এবং সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা নিশ্চিত হয়ে ইয়েরিন ও ইফরা ধীরে ধীরে নিচে নেমে এলো।
কিছুক্ষণ পর প্যালেসের সামনে একটি কালো গাড়ি এসে দাঁড়ালো।
ইয়েরিন আর ইফরা ধীরে ধীরে গাড়ির দিকে এগিয়ে গেলো।
ইফরা গাড়িতে ওঠার আগে বললো,
—" রিন... ব্যাপারটা কি সত্যিই শুধু একটা পার্টি?"
ইয়েরিন এবার তার দিকে তাকালো।
তারপর ঠান্ডা হেসে বললো,
— "যেখানে আন্ডারওয়ার্ল্ডের মানুষ একসাথে হয়..."
সে ধীরে গাড়িতে উঠে বসলো।
— "সেখানে কিছুই শুধু পার্টি হয় না।"
ইফরা কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে ইয়েরিনের পাশেই গিয়ে বসলো।
কিছুক্ষণ পর কালো গাড়িটা রাতের অন্ধকারে প্যালেস ছেড়ে বেরিয়ে গেলো।
তাদের গাড়ির সামনে ছিল আরও কয়েকটি গাড়ি এবং পেছনেও প্রায় দশটার মতো কালো গাড়ি সারিবদ্ধভাবে চলছিল।
সবকিছুর মাঝখানে ছিল ইয়েরিন ও ইফরার গাড়ি।
তাদের গাড়ির ঠিক সামনের গাড়িটিতে ছিল ফাহিম আর রাহিদ।
ইয়েরিন ও ইফরার সবচেয়ে বিশ্বস্ত দুই বডিগার্ড।
সবার মধ্যে এই দুজনের বুদ্ধিমত্তা ছিল সবচেয়ে তীক্ষ্ণ।
পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া, বিপদ আঁচ করা কিংবা যেকোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা ছিল আলাদা।
সামনের ও পেছনের গাড়িগুলোতেও ছিল অন্যান্য বডিগার্ডরা।
তারাও যথেষ্ট দক্ষ।
পুরো গাড়িবহরটা দেখে দূর থেকে মনে হচ্ছিল...
রাতের অন্ধকার চিরে কোনো সাধারণ অতিথি নয়, বরং শক্তিশালী কারও আগমন ঘটছে।
প্রায় এক ঘণ্টা পর গাড়িগুলো ধীরে ধীরে একটি বিশাল ভবনের সামনে এসে থামলো।
বাইরের পরিবেশ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, জায়গাটা সাধারণ কোনো পার্টির আয়োজনের জন্য নয়।
চারপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য কালো গাড়ি।
ভবনের সামনে কঠোর নিরাপত্তা।
ইয়েরিনের গাড়ি থামতেই সামনের গাড়ি থেকে প্রথমে ফাহিম ও রাহিদ নেমে এলো।
চারপাশে একবার সতর্ক দৃষ্টিতে তাকিয়ে তারা ইয়েরিনের গাড়ির দুই পাশে এসে দাঁড়ালো।
এরপর একে একে অন্য গাড়িগুলো থেকেও বডিগার্ডরা নেমে এলো।
কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তারা দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে গেলো।
তারপর ধীরে গাড়ির দরজা খুললো।
প্রথমে নেমে এলো ইয়েরিন।
কালো পোশাকে তার উপস্থিতি যেন রাতের অন্ধকারের সঙ্গেই মিশে গেছে।
তার ঠিক পরেই গাড়ি থেকে নামলো ইফরা।
ইয়েরিন একবারও পেছনে তাকালো না।
কারণ সে জানে...
ইফরা সবসময় তার পাশেই আছে।
দুজন ধীরে ধীরে ভবনের প্রবেশপথের দিকে এগিয়ে গেলো।
ফাহিম ও রাহিদ সামান্য সামনে, আর বাকি বডিগার্ডরা তাদের চারপাশে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চলতে লাগলো।
ভেতরে প্রবেশ করতেই মুহূর্তের জন্য পরিবেশটা যেন বদলে গেলো।
কথাবার্তার শব্দ ধীরে ধীরে কমে এলো।
চারপাশে থাকা অনেকের দৃষ্টি গিয়ে থামলো প্রবেশপথের দিকে।
কারণ সেখানে দাঁড়িয়ে আছে...
Mahira Yerin.
তার ঠিক পাশে, তার ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে আছে ইফরা।
ইফরা চারপাশে একবার তাকালো।
তারপর কোনো কথা না বলে আবার ইয়েরিনের পাশে এসে দাঁড়ালো।
ইয়েরিনের উপস্থিতির মাঝেই যেন পুরো পার্টির কেন্দ্রবিন্দু বদলে গেলো।
অনেক পরিচিত মুখ।
অনেক অচেনা মুখ।
কেউ তাদের দিকে তাকিয়ে শান্তভাবে হাসছে।
আবার কেউ দূর থেকেই ইয়েরিনকে পর্যবেক্ষণ করছে।
তবে ইয়েরিনের মুখে কোনো পরিবর্তন নেই।
তার ঠোঁটের কোণে শুধু সেই পরিচিত, হালকা ঠান্ডা হাসি।
ইফরা ধীরে তার দিকে ঝুঁকে ফিসফিস করে বললো,
— "রিন... আমার মনে হচ্ছে সবাই আমাদের দিকেই তাকিয়ে আছে।"
ইয়েরিন সামনের দিকে তাকিয়েই বললো,
— "কারণ তারা জানে আমরা এখানে এসেছি।"
কিছুক্ষণ থেমে সে আবার বললো,
— "আর আজ রাতে কেউ না কেউ অবশ্যই নিজের আসল উদ্দেশ্যটা প্রকাশ করবে।"
ইফরা চুপ করে রইলো।
ইয়েরিন ধীরে সামনে এগিয়ে গেলো।
আর তার ছায়ার মতোই...
ইফরা এগিয়ে গেলো তার পাশে।
কারণ সবাই জানে—
ইয়েরিনকে একা দেখা যেতে পারে।
কিন্তু ইফরা কখনোই তার থেকে খুব দূরে থাকে না।
হাতে একটা জুসের গ্লাস নিয়ে সোফায় বসে আছে ইয়েরিন, তার পাশে বসে আছে ইফরা।
ফাহিম আর রাহিদ সোফার দুই পাশে দাঁড়িয়ে আছে।
হঠাৎ পাশের টেবিল থেকে ভেসে এলো দুজন ছেলের কথাবার্তা।
প্রথম ছেলেটা বেশ গোপনীয় ভঙ্গিতে তার বন্ধুর দিকে ঝুঁকে বলল,
—“জানস দোস্ত, ইফরা অর্থীকে চিনস?”
অন্যজন হেসে বলল,
—“চিনব না মানে? ওনাকে কে না চেনে! নামই তো যথেষ্ট।”
প্রথম ছেলেটা এবার একটু উঁচু গলায়ই বললো,
—“ওরে তো আমি খাইয়া দিছি।”
কথাটা শুনেই ইয়েরিনের হাত থেমে গেল।
ইফরা নাম টা শুনতেই তার মস্তিষ্ক তীক্ষ্ণ হয়ে উঠলো।
অন্য ছেলেটা অবাক হয়ে বলল,
—“কী বলস! তুই?”
—“হুম, আমি।”
—“কেমনে মামা?”
ছেলেটা এবার এমন একটা হাসি দিল, যেন খুব বড় কোনো রহস্য সে একাই জানে।
—“কেমনে খাইছি, ওইটা কি আর বলা যায় নাকি পাগলা?”
দুজনেই হেসে উঠল।
ইয়েরিন সোফায় গা এলিয়ে বসে মুচকি হাসলো।
পার্টিতে থাকা সবাই ইতিমধ্যে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
তবে ইয়েরিন আয়েসি ভঙ্গিতে বসে তাদের কথা শুনতে লাগলো।
ইফরা বিরক্ত চোখে ইয়েরিনের দিকে তাকালো কিন্তু তার এমন ঠান্ডা মুখায়ব দেখে আর কিছু বললো না।
অন্য ছেলেটা আবার জিজ্ঞেস করল,
—“তোর সঙ্গে ওর সত্যিই প্রেম ছিল?”
—“প্রেম? আরে ভাই, প্রেম তো করছিই।”
—“ইফরা রাজি ছিল?”
ছেলেটা এবার গ্লাসে চুমুক দিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
—“সব কথা কি আর তোদের বলা যায়? আমার আবার লজ্জা শরম বেশি।
"-ওরেেে মামা খাওয়ার সময় লজ্জা লাগে নাই,,"
-"ধুর কি সব বলস।"
পার্টিতে উপস্থিত সবার মাঝে চাপা গুঞ্জন শুরু হলো।
আর ছেলেগুলোর কথা ক্রমশ খারাপ দিকে যেতে লাগলো।
ইফরার চোখে পানি টলমল করছে ইয়েরিন কেন চুপ করে বসে আছে? সে কেন কিছু বলছে না? নাকি সেও এসব সত্যি ভাবছে?
সবাই ছেলে দুটোকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে।
হঠাৎ একটা ঠান্ডা কন্ঠস্বর বলে উঠলো,
-"তুই যা বলছিস ভেবে বলছিস তো?"
আওয়াজ টায় কোনো রাগ ছিলো না তবে এতটাই ভারী ছিলো যে না চাইতেও সবার চোখ গিয়ে পড়লো ইয়েরিনের উপর।
ইয়েরিন সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে চেহারা বরাবরের থেকেও বেশি শান্ত যেমন ঝড়ের পূর্বে পরিবেশ টা ঠান্ডা হয়ে যায় ঠিক তেমন।
ওভার কোটের পকেটে হাত গুজে ইয়েরিন ছেলে দুটোর দিকে এগিয়ে গেলো।
আশেপাশের সবাই সামান্য দূরত্ব রেখে সরে গেল।
তবে ছেলেগুলো পিছিয়ে গেল না।
-"যা বলছি একদম ভেবে বলছি, যা সত্যি তাই বলছি।"
ছেলেটা কোনো ভণিতা ছাড়াই উত্তর দিলো।
-"তুই ওকে স্পর্শ করেছিলি? "
-"সন্দেহ আছে?"
-"সোজা কথা বল।"
ছেলেটা এবার কুৎসিত একটা হাসি দিয়ে বললো,
-"হ্যাঁ ছুঁয়েছি, কোথায় কোথায় ছুঁয়েছি সেটাও বলবো নাকি?"
-"রাইই এদিকে আয়।"
ইয়েরিনের ডাকে ইফরা সোফা ছেড়ে উঠে এসে তার পাশে দাঁড়ালো।
ইয়েরিন ইফরাকে দেখিয়ে ছেলেটাকে আবার ও জিজ্ঞেস করলো,,
-" ওর সাথে তোর সম্পর্ক ছিলো?"
-"অবশ্যই। "
-"তুই ওকে ছুঁয়েছিলি?"
ছেলেটা একটু বিরক্ত হয়ে বললো,,
-"হ্যাঁ ছুঁয়েছি আর কতবার বলবো?"
-"আচ্ছা তাহলে এখন ওকে টাচ কর,"
-"হ্যাঁ?"
-"বললাম এখন ওকে টাচ কর।"
ছেলেটা একবার কুৎসিত নজরে ইফরাকে আপাদমস্তক দেখে নিলো।
তারপর তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো।
ইফরা সরে গেলো না কারণ সে জানে এখন ছেলেটার সাথে কি হতে পারে।
ছেলেটার হাত ইফরার দিকে এগিয়ে আসতেই ইয়েরিন এক ঝটকায় তার হাত মুচড়ে ধরে ছেলেটার চোখে একটা কাটা চামচ ঢুকিয়ে দিলো।
হঠাৎ আক্রমণে ছেলেটা তাল হারিয়ে পড়ে যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠলো।
চারপাশের সবাই ভয়ে সরে গেল।
তবে ইয়েরিন থামলো না কাটা চামচ টা টেনে বের করে একই ভাবে ছেলেটার অন্য চোখে ঢুকিয়ে দিলো।
যন্ত্রণায় ছেলেটা ছটফট করতে লাগলো।পুরো হল রুম ছেলেটার চাপা আর্তচিৎকারে ভরে উঠলো।
ইয়েরিন থেমে নেই সে প্রচন্ড রাগে কাঁপছে,
আর বার বার ছেলেটার গলে যাওয়া চোখে আঘাত করে বলছে,,
-"এই চোখ দিয়ে বাজে নজরে দেখছিলি ওকে তাই না? এই চোখ দিয়ে?"
তারপর নিজের ধারালো নখ ওয়ালা হাত দিয়ে ছেলেটার জিভ টেনে ধরলো,,
-"এই জিভ দিয়ে এতক্ষণ ওর নামে নোংরা কথা বলছিলি তাই না? "
বলতে বলতে ইয়েরিন অন্য হাত দিয়ে ওভার কোটের পকেট থেকে একটা ছুরি বের করে এক টানে জিভ টা কেটে এনে ছুড়ে মারলো ফ্লোরে।
ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটলো ছেলেটার মুখ থেকে।
সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো কেউ নিজের জায়গা থেকে নড়তে পারলো না।
আর ইফরা দাঁড়িয়ে আছে শান্ত ভাবে যেন এসব কিছুই স্বাভাবিক।
ছুরির একের পর এক আঘাতে ছেলেটার মুখ ক্রমশ বিকৃত হয়ে উঠলো।
পাশে থাকা ছেলেটা এমন নৃশংস দৃশ্য দেখে জ্ঞান হারিয়েছে আগেই।
রক্তে ইয়েরিনের গায়ের পোশাক ভিজে উঠেছে তার সারা মুখে রক্ত।
ছটফট করতে করতে এক সময় ছেলেটার দেহ নিথর হয়ে যেতেই ইয়েরিন থেমে গেল।
তারপর ছেলেটার বুকের দিকে তাকিয়ে বললো,,
-"তোর কলিজাটা দেখার ক্রেভিংস হচ্ছে কি করি বল তুই। অহহ তুই তো মরেই গেছিস একটু দেখেই নেই ওকে?"
বলেই ছুরিটা বুকের মধ্যে গেঁথে হেঁচকা টান দিলো,মাংস ছিড়ে হাড় বেরিয়ে এলো তাতে,পরপর বেশ কয়েকবার আঘাত করে ইয়েরিন হাত ঢুকিয়ে দিলো বুকের ভেতর।
তারপর কাঙ্ক্ষিত জিনিস খুঁজতে লাগলো,পেয়েও গেলো, পৈশাচিক হাসি ফুটে উঠলো ইয়েরিনের মুখে।
এক টানে ছেলেটার হৃৎপিণ্ড বের করে এনে বিস্তর হাসলো ইয়েরিন তারপর মুখের রক্ত মুছে উঠে দাঁড়ালো।
তার হাতে থাকা হৃৎপিণ্ডটা এখনো লাফাচ্ছে।
সেদিকে তাকিয়ে ইয়েরিন ঘাড় কাত করে হেসে বললো,
-"Mess with Ifra… then meet a different Yerin,,,"
বলেই হৃদপিণ্ড টা ফ্লোরে ফেলে পায়ের স্টিলেটো হিল দিয়ে কয়েকবার সজোরে আঘাত করে তা ছিন্ন ভিন্ন করা শেষ করে উঠে দাঁড়ালো।
আশেপাশের সবাই ইয়েরিনের দিকে তাকিয়ে আছে।
প্রত্যেকের চোখে চরম বিস্ময় সাথে ভয়।
সেসব পাত্তা না দিয়ে ইয়েরিন উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলো,
-"So ladies and gentleman,, opppps sorry gentle কেন বলছি। "
কন্ঠ স্বরটা এতটাই ভারী ছিলো যে তা শুনে সবাই না চাইতেও ইয়েরিনের দিকে তাকাতে বাধ্য হলো।
ইয়েরিন আবার বলতে লাগলো,
-"আপনাদের সবার এখানে আসার আর আমাকে স্পেশাল ইনভিটিশন কার্ড পাঠিয়ে সাথে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড কে আনতে বলার বিষয়টা কি আপনারা ক্লিয়ার করবেন নাকি আমাকে আরও কিছু করতে হবে? "
সবাই চুপ থাকলেও রহিম নামের একজন মধ্য বয়স্ক লোক এগিয়ে এসে বললো্
-"তাহলে এতক্ষণে তুমি আমাদের এই পার্টি রাখার কারণটা জেনেই গেছো,,তবে তুমি যে মেজাজ হারিয়ে একটা ভুল করে ফেললে The Mafia Of Mafias,, "
বলে লোকটা সামান্য হাসলো।
-"তুমি নাকি খুব বুদ্ধিমতী, মাফিয়া লিডার, বড় বড় মাফিয়ারাও তোমাকে দেখে ভয়ে থাকে,তাহলে সব জেনেও এমন কাজ করলে কীভাবে? তোমার এই এতক্ষণ ধরে করা কার্যকলাপ গুলো যে হিডেন ক্যামেরায় বন্দী হয়ে গেলো এবার তোমার কি হবে?"
তবে লোকটাকে অবাক করে দিয়ে ইয়েরিন ভয় না পেয়ে অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো,,হাসির দমকে তার শরীর টা কেঁপে কেঁপে উঠলো।
তারপর হাসি থামিয়ে নাটকীয় ভঙ্গিতে বললো,,
-"হিডেন ক্যামেরা? কোথায় ক্যামেরা? কে লাগিয়েছে ক্যামেরা?"
বলেই আবার হাসলো।
লোকটা এবার বেশ বিব্রত হলো চেহারায় ফুটে উঠলো সামান্য ভয়।
সে দৌড়ে গিয়ে পাগলের মতো হিডেন ক্যামেরা গুলো খুঁজতে লাগলো তবে একটাও না পেয়ে সে ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠলো।
বাঁকিরা নিজেদের ফোন চেক করতে লাগলো, না! কোনো ইন্টারনেট কানেকশন নেই সব বন্ধ।
তা দেখে ইয়েরিন শব্দ করে হাসতে লাগলো।
লোকটার কান্ড দেখে এবার আর ইফরাও চুপ থাকতে পারলো না।
সেও ইয়েরিনের সাথে তাল মিলিয়ে হেসে উঠলো।
এতক্ষণ সবাই শান্ত থাকলেও এবার সবার মনেই ভয় জন্ম নিলো তারা কি আদও এই মেয়েটার সাথে পেরে উঠবে?
যেখানে এত চেষ্টা করে কৌশলে লাগানো হিডেন ক্যামেরা গুলো এই মেয়েটা সরিয়ে ফেলেছে সমস্ত ইন্টারনেট কানেকশন বন্ধ করে দিয়েছে সেখানে বোঝাই যাচ্ছে এই মেয়ের বুদ্ধিমত্তা কতটা তীক্ষ্ণ।
হাসি থামিয়ে ইয়েরিন দ্রুতই নিজের গম্ভীর স্বভাবে ফিরে গিয়ে বললো,,
-"আপনাদের কি মনে হয়?
আমার রাজত্বে এসে আমার বিরুদ্ধে মিটিং করবেন, আমাকে মারার প্ল্যান করবেন, আর সবকিছুই আমার অজানা থাকবে?"
সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো, তার মানে কি? ইয়েরিন আগে থেকেই সব জানতো?তাহলে সে এখানে এসেছে কেন?
ইয়েরিন আবার বলতে লাগলো,
-"আপনারা হয়তো আমার বিষয়ে কিছুই জানেন না আর জানলেও ভালো মতো জানেন না।
I'am The leader of The Hell Group,,
I'am the Mafia Leader Sheikh Mahira Yerin,,
And Ifra is my best friend a part of my life, a piece of my heart.."
তারপর কিছুটা চিৎকার করে বলে উঠলো
-"How dare you create such a toxic atmosphere about her in front of me?"
পরিবেশ টা এতটা কঠিন হতোই না, আমি শুধু দেখতে চেয়েছিলাম আপনারা আমার কি করতে পারেন।
-"তবে খুবই দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে আপনারা হাত টা ভুল দিকে এগিয়েছেন।
So no one will leave here alive today,"
এতক্ষণে সবাই বুঝতে পারলো যে তারা কত বড় ভুল করেছে এখানে এসে।
তারা যার বিরুদ্ধে কাজ করতে এসেছে সে কোনো সাধারণ মেয়ে না।
ইয়েরিনের সম্পর্কে তারা যতটা শুনেছে সে তার থেকেও হাজার গুণ বেশি ভয়ানক।
তবে এখন কিছু করার নেই মৃত্যু তাদের সামনে বাঁচতে হলে তাদের একটা শেষ চেষ্টা করতেই হবে।
সবটুকু সাহস একত্র করে সবাই একে অপরের দিকে তাকিয়ে কিছু ইশারা করলো।
তারপর একসাথে বললো,
-"আমরা শুধু চেয়েছিলাম তোমার ঔদ্ধত্য শেষ করতে,একটা মেয়ে হয়েও তোমার এমন ঔদ্ধত্য মানা যায় না।
তোমার জন্য কেউ শান্তি মতো ব্যবসা করতে পারে না ৫০% লাভ তোমাকেই দিয়ে দিতে হয় এসব মেনে নেওয়া যায় না।আর আজ হয় তুমি বাঁচবে নয়তো আমরা বাঁচবো।। "
,বলেই সবাই একসাথে বন্দুক বের করে ইয়েরিনের দিকে তাক করলো।
তা দেখে ইয়েরিন ঘাড় কাত করে একটা বিশ্রি হাসি দিলো।
আর ইফরা আরো একটু আয়েশ করে দাঁড়ালো।
ইয়েরিন ঠান্ডা কন্ঠে বললো,
-"Wanna kill me? Look around yourselves first"...
তার কথা শুনে সবাই নিজের আশেপাশে তাকালো,
এতক্ষণে তাদের খেয়াল হলো ইতোমধ্যেই তারা ইয়েরিনের অসংখ্য গার্ড দ্বারা ঘেরাও হয়ে গেছে,বাঁচার আর কোনো আশা নেই,মৃত্যু নিশ্চিত।
সেখানে ভীড়ের মাঝে কোট পড়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটা ছেলের দিকে ইশারা করে ইয়েরিন বললো,
-"রাহিদ ওকে যেতে দাও। "
রাহিদ ভ্রু কুঁচকে বললো,-" কেন।"
-"ওকে তো গিয়ে ওর বস কে বলতে হবে যে তার প্ল্যান ফ্লপ হয়ে গেছে। "
-"ওকে ম্যাম।"
-"হুম।"
একটু থেমে ইয়েরিন আবার হলের একটা কোণার দিকে তাকিয়ে বললো,,
-" আর ওকেউ বের করে দাও।"
হলের কোণায় অদ্ভুত মাস্ক পড়া একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে, হাতে জুসের গ্লাস, সে এমন ভাবে দাঁড়িয়ে আছে যেন এখানে কোনো মুভির সিন চলছে।
তবে রাহিদ অযথা প্রশ্ন করার সাহস দেখালো না,মাথা নিচু করে কেবল বললো,
-"ওকে ম্যাম ছেড়ে দিচ্ছি। "
দুজন গার্ড এসে তাদের দুজন কে বাইরে নিয়ে গেল।
ভেতরের সবাই বাঁচার কোনো উপায় না দেখে ইয়েরিনের সামনে হাঁটু মুড়ে বসে জীবন ভিক্ষা চাইতে লাগলো।
তবে ইয়েরিন একটা বার তাকিয়েও দেখলো না তাদের দিকে।
বাইরের দিকে যেতে যেতে সে বললো,,
-" বিষয়টা আমি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকলে কোনো সমস্যাই ছিলো না তবে তোদের সবচেয়ে বড় ভুল হলো এর মাঝে ইফরা কে টেনে আনা। ওর দিকে হাত বাড়ানোর শাস্তি একমাত্র মৃত্যু। "
হলের দরজার কাছে গিয়ে ইয়েরিন পেছন ঘুরে দাঁড়িয়ে গার্ডদের উদ্দেশ্যে বললো,
-"Kill everyone and then set the building on fire".
তারপর আর সে দাঁড়ালো না ইফরাকে সাথে নিয়ে দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে গেলো।
আর তাদের পেছনে ছায়ার মতো এগিয়ে গেলো ফাহিম আর রাহিদ।
পেছনে পড়ে রইলো নিস্তব্ধ বিল্ডিং এতক্ষণ ধরে ঘটে যাওয়া পৈশাচিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে।