১ম পর্ব—
-------------
চট্টগ্রামের এক শান্ত শহুরে এলাকায় ছোট্ট একটি পরিবার নিয়ে আভার বেড়ে ওঠা।
পরিবার বলতে মাত্র তিনজন—আভা, তার আব্বু আর আম্মু।
আভার আব্বুর নাম রাশেদ আহমেদ, আর আম্মুর নাম মাহমুদা বেগম। তাঁদের একমাত্র সন্তান আভা। তাই মেয়েটা যে তাঁদের কতটা আদরের, সেটা আলাদা করে বলার প্রয়োজন ছিল না।
ছোটবেলা থেকেই আভা ছিল ভীষণ শান্ত স্বভাবের। খুব বেশি কথা বলত না, কারও সঙ্গে অযথা মিশত না। নিজের মতো থাকতে আর নিজের ছোট্ট জগতটাকে নিয়েই ব্যস্ত থাকতে ভালোবাসত। পড়াশোনাতেও ছিল বেশ মনোযোগী।
শহরের জীবনেই কেটে যাচ্ছিল আভার ছোট্ট, নিরিবিলি পৃথিবী।
কিন্তু মানুষ ভাবে একরকম, আর জীবন কখনো কখনো লিখে রাখে অন্যরকম গল্প।
আভা তখন ক্লাস সেভেনে পড়ে। হঠাৎ একদিন তার আব্বু-আম্মু সিদ্ধান্ত নিলেন, তাঁরা গ্রামে চলে যাবেন—আভার দাদার বাড়িতে।
প্রথমে খবরটা শুনে আভা খুব একটা কিছু বলল না। শুধু চুপচাপ বসে ছিল।
নতুন জায়গা। নতুন মানুষ। নতুন স্কুল।
সবকিছুই তার কাছে অচেনা।
কয়েকদিনের মধ্যেই শহরের পরিচিত জীবন ছেড়ে আভা চলে গেল তাদের গ্রামের বাড়িতে।
বাড়িটা ছিল বেশ বড়। সেখানে থাকতেন আভার দাদা-দাদি, দুই জেঠা আর একজন চাচা। জেঠা-চাচাদের চার মেয়েরই বিয়ে হয়ে গেছে অনেক আগেই। তাই বাড়িটা আগের মতো সবসময় মানুষে ভরা না থাকলেও আত্মীয়স্বজনের আনাগোনা ছিল।
গ্রামে যাওয়ার পর আভাকে সেখানকার স্কুলে ক্লাস সেভেনেই ভর্তি করানো হলো।
প্রথম দিন স্কুলের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আভা কিছুক্ষণ চুপ করে চারপাশ দেখেছিল।
সবকিছু নতুন।
অচেনা মুখগুলো তার দিকে তাকাচ্ছে।
আভা শুধু নিজের ব্যাগটা একটু শক্ত করে ধরে ধীরে ধীরে স্কুলের ভেতরে ঢুকে গেল।
সে তখনও জানত না—এই নতুন স্কুলটাই একদিন তার জীবনের এমন কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে, যারা তার গল্পের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে।
কেউ হবে তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।
কেউ লুকিয়ে রাখবে ভালোবাসা।
আর কেউ একজন…
একদিন তার পুরো পৃথিবীটাই বদলে দেবে।
তবে সেই গল্প তখনও শুরু হয়নি।